অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সভাপতি কে এই আনিশা?

বাংলাদেশি আনিশা ফারুক অক্সফোর্ড স্টুডেন্ট ইউনিয়নের (ছাত্র সংসদ) সভাপতি নির্বাচিত হলেন । প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত; যিনি গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্বে নির্বাচিত হলেন।

বাংলাদেশি আনিশা ফারুক অক্সফোর্ড স্টুডেন্ট ইউনিয়নের (ছাত্র সংসদ) সভাপতি নির্বাচিত হলেন । প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত; যিনি গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্বে নির্বাচিত হলেন।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি অক্সফোর্ডের ওয়েস্টন লাইব্রেরিতে আনিশা ফারুককে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি লেবার ক্লাব তাকে এই পদে ভূষিত করে।

ভোটের তথ্যমতে, তিন দফায় অনুষ্ঠিত ছাত্রদের প্রতিনিধিত্বশীল এই সংগঠনে চুড়ান্ত পর্বে ১৫২৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন আনিশা ফারুক। ৪৭৯২ জন ভোটার নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। আনিশা এর আগে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের লেবার পার্টির কো চেয়ার হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

আনিশার বাড়ি বাংলাদেশের ভোলা জেলার চর ফ্যাশন উপজেলায়। তার বাবা ফারুক আহামেদ একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর ফারুক আহামেদ। মেয়ের এই সাফল্যে বাবা বলেন, আনিশা শুধু পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করেনি, সে বাংলাদেশের মুখও উজ্জ্বল করেছে।

আনিশা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিষয়ে স্নাতক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি লেবার ক্লাবের কো চেয়ারম্যান ছিলেন।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় নানা কারণে বিশ্বে স্বনামধন্য। বিশ্বে যুগান্তকারী অবদানের শীর্ষ স্বীকৃতি নোবেল বিজয়ীদের ২৮ জন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এটিকে বিশ্বের দ্বিতীয় প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে মনে করা হয়।

আনিশা ফারুক অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় শাখা লেবার ক্লাবের (লেবার পার্টির আদর্শে বিশ্বাসী শিক্ষার্থীদের সংগঠন) কো-চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্টুডেন্টস ইউনিয়নের স্ক্রুটিনি কমিটি মেম্বার ছিলেন। ডিবেট সোসাইটি অক্সফোর্ড ইউনিয়নের স্ট্যান্ডিং কমিটিতে কাজ করেছেন। পাশাপাশি স্থানীয় কাউন্সিলগুলোর সঙ্গে নানা নীতি প্রণয়নে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তাঁর।

নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের সঙ্গে সরাসরি বিতর্কের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আনিশা ফারুক বলেন, শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রার্থীর তুলনায় বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন বলেই তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়ে আনিশা বলেন, তাঁর চেয়ে ভালো কোনো প্রার্থী থাকলে তিনি আর প্রার্থীই হতেন না।

প্রেসিডেন্ট এবং চারজন ভাইস প্রেসিডেন্ট নিয়ে স্টুডেন্ট ইউনিয়নের সাব্বাটিকেল টিম বা শীর্ষ কমিটি। এরপর আছে ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব স্টুডেন্টস (এনইউএস) ডেলিগেটস এবং স্টুডেন্ট ট্রাস্টি। সব কমিটিতেই আনিশার নেতৃত্বাধীন গ্রুপ অক্সফোর্ড ইমপ্যাক্টের প্রার্থীরা ভালো ফল করেন। এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা একটি চ্যারিটি সংগঠনকেও ভোটের মাধ্যমে বাছাই করেন, যার জন্য তাঁরা কাজ করবেন।

অক্সফোর্ড স্টুডেন্ট ইউনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি প্রণয়নে শিক্ষার্থীদের পক্ষে ভূমিকা রাখে। জাতীয় উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম নীতিবিষয়ক বিতর্কেও এই সংগঠন সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

প্রসঙ্গত, অক্সফোর্ড স্টুডেন্ট ইউনিয়ন এবং অক্সফোর্ড ইউনিয়ন দুটি ভিন্ন সংগঠন। অক্সফোর্ড ইউনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়টির একটি ডিবেটিং সোসাইটি, যারা বৈশ্বিক নানা বিষয়ে বিতর্কের আয়োজন করে। আর অক্সফোর্ড স্টুডেন্ট ইউনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে।

Premium WordPress Themes Download
Download Nulled WordPress Themes
Download WordPress Themes
Premium WordPress Themes Download
udemy paid course free download