আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় ৬ নাম

আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের দিন যত এগিয়ে আসেছে ততোই আলোচনা তীব্র হচ্ছে কেন হবেন দলটির সাধারণ সম্পাদক। তবে এ বিষয়ে কারো কাছে পরিষ্কার কোনো ধারণা নেই। আগামী ২০-২১ ডিসেম্বর দলটির ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের দিন যত এগিয়ে আসেছে ততোই আলোচনা তীব্র হচ্ছে কেন হবেন দলটির সাধারণ সম্পাদক। তবে এ বিষয়ে কারো কাছে পরিষ্কার কোনো ধারণা নেই। আগামী ২০-২১ ডিসেম্বর দলটির ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

এমনকি দলটির কোনো কেন্দ্রীয় নেতারাও বলতে পারছেন না দলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন কেউ আসছেন নাকি বর্তমান সাধারণ সম্পাদকই বহাল থাকছেন। তবে ৮১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির বড় অংশ পরিবর্তন হতে পারে তা সব কেন্দ্রীয় নেতারা জানেন।

দলের কেন্দ্রীয় দুই নেতা জানান, দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাকে তারা বলতে শুনেছেন, কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের মধ্যে কাজের লোক মাত্র ১৫ জন। যারা সবসময় রাজনীতিটাই করছে। দলীয় কাজে পাওয়া যায় তাদের। সে ধারণা থেকে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির অনেকেই বাদ যেতে পারেন বলে মনে করেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান বলেন, ‘কে হবেন দলের সাধারণ সম্পাদক তা নিয়ে সারা দেশের মানুষের যেমন কৌতূহল আছে তেমনি আওয়ামী লীগের নেতাদেরও আছে। তবে এই দলে সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নেতা হয়। তাই সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’

সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশা ও দলের জন্য রাজনীতির জন্য যিনি সব থেকে যোগ্য হবেন তাকেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হবে। এখানে যোগ্যতাই একমাত্র মাপকাঠি।’

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, সাধারণ সম্পাদক পরিবর্তন হতে পারে এমন খবর সর্বত্র ঘুরপাক খেলেও কে হচ্ছেন পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক সে সম্পর্কে এবার কোনো ধারণা করাই যাচ্ছে না। তবে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের অসুস্থতা নিয়ে অনেকবার প্রধানমন্ত্রীকে কথা বলতে শুনেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। কে হচ্ছেন সাধারণ সম্পাদক তা অস্পষ্ট থেকে যাওয়ার ফলে কেন্দ্রীয় নেতা ও নতুন নেতা হতে চান যারা তারা সবাই সাবধানতা অবলম্বন করে চলাফেরা করছেন। কার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াবেন তা বুঝে উঠতে পারছেন না।

নেতারা আরো জানান, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ও বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা যাতায়াত করলেও কারো পেছনেই তেমন ‘প্রটোকল’ দেখা যায় না। বর্তমান ও সম্ভাব্য নেতারা মনে করছেন, প্রটোকল দিতে গিয়ে আবার কার না কপাল পোড়ে। তাই আগে থেকেই ‘শিওর’ হতে চান ও সম্ভাবনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে চান পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক কে হচ্ছেন।

জানা গেছে, কেন্দ্রীয় নেতারাও একে অন্যকে প্রায় প্রতিদিনই জিজ্ঞাসা করেন ‘বোঝা গেল কে হচ্ছেন সাধারণ সম্পাদক?’

কেন্দ্রীয় নেতারা আরো জানান, বর্তমান কমিটির ৪০-৫০ নেতা পদ হারাচ্ছেন তা অনেকটাই নিশ্চিত। তবে দলের নেতাদের ভেতরে সবচেয়ে আকাঙ্খার যে পদ সাধারণ সম্পাদক সে গুরুদায়িত্ব শেখ হাসিনা কার হাতে তুলে দেবেন এখনো পরিষ্কার হয়নি তা।

কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, এর আগের সম্মেলনগুলোতে কে হচ্ছেন সাধারণ সম্পাদক তা আঁচ করা গেলেও এবার সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা এই নিয়ে কারো সঙ্গে এখন পর্যন্ত আলোচনা করেননি। তবে দলের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে বিভিন্ন নেতাদের দলে ‘কন্ট্রিবিউশন’ নিয়ে কথা বলেছেন বলে জানান সম্পাদকমণ্ডলীর তিন নেতা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ দুজন জানান, নানা দিক থেকে দলের অন্তত ছয়জন নেতাকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হতে শুনেছেন তারা। এর মধ্যে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, মাহবুব-উল-আলম হানিফ, আবদুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী রয়েছেন। গণভবন, আওয়ামী লীগ কার্যালয়, বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও তাদের নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন। কেন্দ্রীয় নেতারা হিসাব কষছেন এদের মধ্যে কে আবার বেশি যোগ্য। কার দলের জন্য কী অবদান রয়েছে সেগুলো নিয়ে।

গত সপ্তাহে স্বল্প পরিসরে কয়েকজন ঘনিষ্ঠজনকে নিয়ে গণভবনে একটি চা-চক্রে শেখ হাসিনা দুজন সম্পাদকমণ্ডলীর নেতা নিয়ে মন্তব্য করেন, এরা কখনো ছাত্রলীগ করেনি। তবুও তাদের আমি এতদূর এনেছি। নেতা বানিয়েছি। সম্পাদকমণ্ডলীর আরেকজন নেতাকে নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ওই নেতা দুর্দিনে ছাত্রলীগ করেছে, পথেঘাটে ঘুরে বেরিয়েছে কিন্তু তাকে কিছু দিতে পারিনি আমি। পরে শেখ হাসিনা যোগ করেন, কী বলো তাকে এবার বড় নেতা বানিয়ে দেব নাকি?

সম্পাদকমণ্ডলীর আরেক নেতার বিভিন্ন মহলে যোগাযোগের ব্যাপারটি উঠে এলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অসুবিধা কোথায়, নেতা হলে যোগাযোগ বেড়ে যাবে।’

সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য নিয়ে কথা উঠলে সে সম্পর্কে বলেন, ‘পারবে তো?’

চলমান শুদ্ধি অভিযানে বিতর্কিত আরেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নিয়ে কথা উঠলে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘তাকে আমি এত ক্ষমতা দিলাম, সুযোগ দিলাম সে সবকিছুর অপব্যবহার করেছে। তাকে সামনে আর কোনো সুযোগ দেয়া হবে ভুল সিদ্ধান্ত।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলী ও সম্পাদকমণ্ডলীর দুই সদস্য জানান, ক্ষমতার এ মেয়াদে শেখ হাসিনা দলকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাই তারুণ্যনির্ভর, যোগ্য, মেধাসম্পন্ন ও ত্যাগীদের মূল্যায়ন করবেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, ক্লিন ইমেজের কেন্দ্রীয় কমিটিই হবে এবার। পাশাপাশি দলের পদ-পদবি ব্যবহার করে যারা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন, দলের দুর্নাম করেছেন সেসব নেতাকে পদ থেকে সরিয়ে দেবেন। এটাই হলো শেখ হাসিনার চ্যালেঞ্জ।

ওই দুই নেতা আরো জানান, সম্পূর্ণ ক্লিন ইমেজের নেতা দিয়ে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা মুজিববর্ষ উদযাপন করবেন বলেই দলের সর্বস্তরে মনোনিবেশ করেছেন তিনি।

Premium WordPress Themes Download
Free Download WordPress Themes
Download Best WordPress Themes Free Download
Download WordPress Themes
free download udemy course