আটকেপড়া প্রবাসীদের চাকরি হারানোর শঙ্কা

এই প্রবাসীদের দাবি- বিশ্বের অন্য বিমানবন্দরগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আটকেপড়াদের মধ্যে শুধু ইতালি প্রবাসী রয়েছেন হাজারের ওপরে। যারা বলছেন, জুনের শুরুতে কাজে যোগ দিতে না পারলে তাদের বেকার হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা চান জুনের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ বিমানবন্দর খুলে দেওয়া হোক। সেটা সম্ভব না হলে এই প্রবাসীরা যাতে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে পারেন সেজন্য পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

করোনা পরিস্থিতিতে ঢাকার সঙ্গে দুই মাস ধরে বন্ধ রয়েছে ১৭টি রুটের যাত্রীবাহী আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।

ফলে দেশে এসে আটকা পড়েছেন অসংখ্য প্রবাসী বাংলাদেশি।

সময়মতো কর্মস্থলে ফিরতে না পারলে চাকরিচ্যুতিসহ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

অনেককে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজে যোগ দেওয়ার জন্য আলটিমেটামও দিয়েছেন ওইসব দেশের সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এই প্রবাসীদের দাবি- বিশ্বের অন্য বিমানবন্দরগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

আটকেপড়াদের মধ্যে শুধু ইতালি প্রবাসী রয়েছেন হাজারের ওপরে।

যারা বলছেন, জুনের শুরুতে কাজে যোগ দিতে না পারলে তাদের বেকার হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তারা চান জুনের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ বিমানবন্দর খুলে দেওয়া হোক।

সেটা সম্ভব না হলে এই প্রবাসীরা যাতে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে পারেন সেজন্য পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার এনায়েত হোসেন জানান, তার জানামতে

শুধু নড়িয়া উপজেলার এমন ৬০০ প্রবাসী কর্মস্থলে ফেরার জন্য প্রতীক্ষায় আছেন।

এদের অনেকেই ইতালির রোম ও ভেনিসে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছেন।

আবার অনেকে রয়েছেন রেস্টুরেন্টের কর্মচারী।

ইতালি সরকার ৩ জুন সব বিনামবন্দর খুলে দিচ্ছে। শহরের দোকানপাট সব চালু হয়ে গেছে।

বাংলাদেশে এসে আটকেপড়ার কারণে তাদের দোকানগুলো বন্ধ।

তিন মাসের বেশি ভাড়া বকেয়া পড়ার কারণে দোকানের মালিকরা তাদের খুঁজে বেড়াচ্ছেন।

রেস্টুরেন্টের কর্মচারীরা কর্মস্থলে যোগ না দিলে অন্য লোক নিয়োগ দেবেন মালিকরা-

এমন আলটিমেটামও দিয়েছেন। তাই এই শ্রমিকদের বেকার হয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

একইভাবে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট আনিসুজ্জামান আনিস জানান,

তিনি এক আত্মীয়ের অপারেশনের জন্য ১৮ ফেব্রুয়ারি ইতালি থেকে দেশে ফিরেছিলেন।

ওই সময়ে তিনি চলে যেতে চাইছিলেন।

কিন্তু ১১ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের নির্বাচনে ভোটে অংশ নিতে গিয়ে দেরি করেন।

ইতালিতে তার স্ত্রী ও সন্তানরা রয়েছে। তার মানি ট্রান্সফারের ব্যবসা আছে।

জুনের শুরুতে তিনি পৌঁছাতে না পারলে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। তার লাইসেন্সও বাতিল হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

আটকেপড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের আরেকজন নোয়াখালীর আরমান চৌধুরী বলছেন,

বিমানবন্দর বন্ধের সময় কোনো কারণে আবারও বাড়ানো হলে তারা ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বেন।

তার দাবি- আটকেপড়া সবাই করোনার ভয়ে দেশে পালিয়ে আসেননি।

অনেকেই নিয়মিত ছুটিতে এসেও আটকা পড়েছেন।

এখন বিমাবন্দর খুলে দেওয়ার নির্দিষ্ট সময় জানতে না পেরে তারা দফায়

দফায় বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের টিকিট কাটছেন, আবার বাতিল করছেন।

এই হয়রানি থেকে রেহাই পেতে বিমানবন্দর খুলে দেওয়ার সময়টা আগেই ঘোষণা করা উচিত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ফারুক খান বলেন,

এককভাবে বাংলাদেশের বিমানবন্দর খুলে দেওয়া বা আটকে রাখার সুযোগ নেই।

কারণ বাংলাদেশে খুলে দিল, কিন্তু অন্য বিমানবন্দর খুলল না। তখন কী হবে।

ফারুক খান বলেন, সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩০ মে পর্যন্ত বিমানবন্দর বন্ধ রাখার কথা রয়েছে।

সিভিল এভিয়েশন জানিয়েছে, ৩০ মের আগেই তারা এ নিয়ে মিটিং করে সিদ্ধান্ত জানাবেন।

বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান বলেন,

দেশে করোনা সংক্রমণের পরিস্থিতি উন্নতি হলে তারা দ্রুত বিমানবন্দর খুলে দিতে চান।

বিষয়টি পুরো সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

বিমানবন্দর বন্ধের সময়সীমা আরও বাড়ানো হবে

কিনা ঈদের ছুটির পরপরই বৈঠকে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Download Nulled WordPress Themes
Download WordPress Themes Free
Download WordPress Themes Free
Download Nulled WordPress Themes
udemy course download free