আ.লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও বাদ পড়ার আতঙ্কে!

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ পদের কয়েকজন নেতাও দলীয় পদ থেকে বাদ পড়ার আতঙ্কে আছেন। আগামী ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে নানা কারণে বিতর্কিত ও অভিযুক্তদের বাদ পড়ার বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলে আলোচনা আছে। কেন্দ্রীয় কমিটিতে আগামীতে পরিবর্তন আসছে- এমন আভাস ইতোমধ্যে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে দেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ পদের কয়েকজন নেতাও দলীয় পদ থেকে বাদ পড়ার আতঙ্কে আছেন। আগামী ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে নানা কারণে বিতর্কিত ও অভিযুক্তদের বাদ পড়ার বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলে আলোচনা আছে। কেন্দ্রীয় কমিটিতে আগামীতে পরিবর্তন আসছে- এমন আভাস ইতোমধ্যে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে দেওয়া হয়েছে।

দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি সপ্তাহে দলের যে কারো বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে আরো কঠোর অবস্থানে থাকার বার্তা দেওয়ার পর থেকে দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অনেকের মধ্যে বাদ পড়ার আতঙ্ক বেড়েছে। শুধু কেন্দ্রীয় কমিটিই নয়, দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় কয়েক নেতাও পদ হারানোর ভয় ও আতঙ্কে আছেন।

শুধু দলীয় পদ থেকে বাদ পড়া নয়, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগে সাংগঠনিক ব্যবস্থার মুখোমুখি হওয়ার পাশাপাশি গ্রেপ্তার আতঙ্কেও আছেন কেউ কেউ। টানা সাড়ে দশ বছরের বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত এমন কয়েকজনকেও গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে দলে গুঞ্জন আছে। বিতর্কিত কারো পাশে আইনি লড়াইয়ের জন্য দলীয়ভাবে না দাঁড়াতে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে নির্দেশ দেওয়া আছে। ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সূত্র এসব তথ্য জানায়।

সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দুই নেতাকে চাঁদাবাজি, পদবাণিজ্য ও মাদকসেবনের অভিযোগে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে দল ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতৃত্বের প্রতি হুশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন। ছাত্রলীগের দুই নেতাকে সরানোর পর যুবলীগের কয়েক নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

দলের দুই থেকে তিনটি সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও বলেছেন, প্রচলিত আইনে সবাইকে সমান দেখতে হবে। এরপর থেকে সংগঠনগুলোর নেতাদের মধ্যে গ্রেপ্তার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

সূত্রমতে, চলতি বছরের ২০ ও ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের সময় দলের সভাপতি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা দলের শীর্ষপদে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারেন। সভাপতি ছাড়া দলের অন্যান্য পদে পরিবর্তন আসতে পারে বলে আলোচনা আছে। দলকে যথাসম্ভব বিতর্কমুক্ত করে আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে এমন পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা চলছে।

আগামী সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নতুনদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন পদে জনপ্রিয় নেতাদের দায়িত্ব দিয়ে চমক সৃষ্টির পরিকল্পনা চলছে দলটিতে। ফলে তখন কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ পড়তে পারেন বেশ কয়েকজন। এর জন্য কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত তদারকি করছে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার গঠিত আটটি বিভাগীয় টিম।

দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে আরো গতি আনতে নতুন পরিকল্পনা করছে আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুর গড়া ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া এ দলকে সাংগঠনিকভাবে আরো শক্তিশালী করতে চায় দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব।

আগামী ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবে এ দলের নেতৃত্বের সরকার। এর আগেই দলকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দলকে নতুন সরকার থেকে যতটুকু সম্ভব আলাদা করার পরিকল্পনা আছে দলটির। আগামী ২৩ অক্টোবর শেষ হচ্ছে সরকারি দলের তিন বছরমেয়াদি বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ।

দলীয় সূত্রমতে, রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে ছাত্রলীগের সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়াকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতারা দেখছেন ‘কড়া বার্তা’ হিসেবে। টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগের নেতাদের কেউ কেউ নিজেদের আইন-আদালতের ঊর্ধ্বে মনে করছেন উল্লেখ করে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের আশা, দলের প্রধান শেখ হাসিনার কঠোর অবস্থান ওইসব নেতার ‘কাজে’ লাগাম টানবে।

এরপর কার বা কোন সংগঠনের পালা— দল ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাদের অনেকের মধ্যে এখন এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। এরই মধ্যে বেশি আলোচনায় রয়েছে যুবলীগ। গত শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে শেখ হাসিনা ঢাকা মহানগর যুবলীগের কয়েকজন নেতার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। যুবলীগসহ দলের অন্য সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতার বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ প্রসঙ্গে গতকাল বুধবার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অপরাধ করে পার পাবার প্রবণতা আওয়ামী লীগে নেই। দলের যারা দুর্নীতিতে জড়িত, তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই আমলে অপকর্ম হয় না, এটা আমরা বলি না; কিন্তু অপকর্ম হলেই আওয়ামী লীগে শাস্তির ব্যবস্থা আছে। এটা অন্য দলে নেই।’

দলের আসন্ন কেন্দ্রীয় সম্মেলন প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে ১২টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্মেলন ২০ ও ২১ ডিসেম্বর। প্রস্তাবিত ১২টি উপ-কমিটি দলীয় সভাপতির অনুমোদন পেলে তখন তালিকা প্রকাশ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘আগামী সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন মুখ এলে স্বাগত জানাব। এ পদে আরেকবার আমি থাকব কি-না, তা নির্ভর করে নেত্রীর ওপর। তিনি নতুন কিছুও ভাবতে পারেন বা নতুন কিছু চাইতে পারেন। তিনি যেটা চাইবেন, সেটাই হবে। আমাকে যদি বলেন, তুমি নতুন দায়িত্ব পালন করো, তাতে আমার কোনো অসুবিধা নেই।’

Download WordPress Themes
Download WordPress Themes Free
Download WordPress Themes
Premium WordPress Themes Download
free online course