ইতালিতে এমবিবিএস ডাক্তার বাংলাদেশি রাসেল

জানা গেছে, ২০০৩ সালে রাসেল কিশোর বয়সে মা-বাবার সঙ্গে ইতালি পাড়ি জমান। বাংলাদেশ থেকে আসার পর ইতালি ভেনিসের একটি স্কুলে সেকোনদা মেডিয়া (উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়) ভর্তি হয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। এরপর কলেজ শেষ করে পাদভা ইউনিভার্সিটিতে মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগে ভর্তি হলে গত মাসে একজন এমবিবিএস ডাক্তার হন।

ইতালিতে এমবিবিএস ডাক্তার হলেন বাংলদেশি যুবক রাসেল মিয়া। তার ডাক্তার হওয়ার খবর ইতালিজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

সোমবার ইউনিভার্সিটি অব পাদোভা থেকে মেডিসিন ও ল্যাবরেটরি বিভাগের প্রফেসর মারিও পেলেবানি আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে এমবিবিএসের সার্টিফিকেট তুলে দেন।

গত মাসে মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগ থেকে তিনি পাস করেন। এর ফলে তার সুদীর্ঘ ছয় বছরের স্বপ্ন সাধনার সমাপ্তি ঘটে।

এদিকে বাংলাদেশিসহ ইতালিয়ানদের মাঝে এই খবর এখন টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে। এরই মধ্যে ইতালিয়ান গণমাধ্যমে খবরটি বেশ গুরুত্বসহ ছাপায়।

জানা গেছে, ২০০৩ সালে রাসেল কিশোর বয়সে মা-বাবার সঙ্গে ইতালি পাড়ি জমান। বাংলাদেশ থেকে আসার পর ইতালি ভেনিসের একটি স্কুলে সেকোনদা মেডিয়া (উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়) ভর্তি হয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। এরপর কলেজ শেষ করে পাদভা ইউনিভার্সিটিতে মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগে ভর্তি হলে গত মাসে একজন এমবিবিএস ডাক্তার হন।

এ প্রসঙ্গে সদ্য ডাক্তার রাসেল বলেন,আমি খুবই আনন্দিত প্রবাসে একজন ডাক্তার হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে পেরে। প্রথমে আমার বাবা মাকে ধন্যবাদ জানাই। তাদের সহযোগিতা ছাড়া আমি কখনো ডাক্তার হতে পারতাম না।

রাসেল বলেন, মানুষের ইচ্ছে আর প্রচেষ্টা সঠিক থাকলে লক্ষ্যে পৌঁছানো সময়ের ব্যাপার মাত্র। একটা ম্যাসেজ দিতে চাই ইতালি প্রবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য। শুধু লন্ডনে ভালো লেখাপড়া হয় তা কিন্তু নয়, ইতালিতেও ভালো লেখাপড়া করে নিজেকে গর্বিত শিক্ষার্থী হিসেবে গড়ার সুযোগ রয়েছে। সে জন্য পড়াশোনায় অনেক বেশি মনোনিবেশ করতে হবে।

রাসেল আরও বলেন,ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু করার পরিকল্পনা রয়েছে একজন ডাক্তার হিসেবে। সে তার নিজ গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরে অসহায় মানুষদের চিকিৎসাসেবা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

রাসেলের দেশের বাড়ি ফরিদপুর জেলার ভাঙা থানায়। তার মা রওশন আরা বেগম একজন গৃহিণী বাবা সুলতান মিয়া একজন ব্যাবসায়ী। তিন ভাইয়ের মধ্যে সে সবার বড়। তার এক ভাই রুবেল মিয়া বর্তমান ফার্মাসিস্ট হিসেবে পড়াশোনা করছেন। ছোট ভাই রিফাত মিয়া চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ছে।

পর্যটননগরী ভেনিসের মেসরে ১৬ বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছেন।

এ ব্যাপারে তার মা রওশন আরা বেগম বলেন, ছেলের এই কৃতিত্বে নিজেকে একজন গর্বিত মা হিসেবে ভাবতে ভালোই লাগছে। সে আমার লালিত স্বপ্নকে পূরণ করেছে। প্রবাসীরা মনে করেন রাসেলের এই অর্জন শুধু তার একার নয়, সমগ্র বাংলাদেশের।

Download Nulled WordPress Themes
Download WordPress Themes
Download WordPress Themes
Download Nulled WordPress Themes
free download udemy course