ই-সিগারেট: অজানা কিছু ভয়ঙ্কর তথ্য

রিচার্জেবল ব্যাটারি চালিত একধরনের যন্ত্র, যার মাধ্যমে একজন ধূমপায়ী নিকোটিন গ্রহণ করে থাকে। তামাকজাত পণ্যের তালিকায় এধরনের পণ্যকে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট বলছে। দেখতে সাধারন সিগারেট, সিগার, ইউ এস বি ফ্ল্যাস ড্রাইভের মত আকর্ষনীয়। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা সাধারনত ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টকে দুইটি ভাগে ভাগ করেছে,

রিচার্জেবল ব্যাটারি চালিত একধরনের যন্ত্র, যার মাধ্যমে একজন ধূমপায়ী নিকোটিন গ্রহণ করে থাকে। তামাকজাত পণ্যের তালিকায় এধরনের পণ্যকে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট বলছে। দেখতে সাধারন সিগারেট, সিগার, ইউ এস বি ফ্ল্যাস ড্রাইভের মত আকর্ষনীয়। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা সাধারনত ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টকে দুইটি ভাগে ভাগ করেছে,

১. ই-সিগারেট, ভেইপ, পেনস, ই-হুক্কা, ই-পাইপ, ই-সিগার বা ইলেক্ট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারী সিস্টেম(এন্ডস) : এই ধরণের প্রোডাক্টে সাধারণত নিকোটিনযুক্ত গ্লিসারেল দ্রবণ থাকে যা ই-লিকুইড বা ই-জুস নামে পরিচিত।

রিচার্জেবল ব্যাটারিচালিত যন্ত্রের সাহায্যে বাষ্পীভূত করে শ্বাসের সাথে গ্রহণ করা হয়। এতে সরাসরি তামাকের বদলে তামাকের মূল উপাদান নিকোটিন থাকে। এগুলো সাধারণত তামাকের মূল উপাদান নিকোটিন গ্রহণের জন্য ব্যবহার করা হয়, তেমনিভাবে নিকোটিন ছাড়া শুধুমাত্র বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধি মিশ্রিত ধোঁয়া, এমনকি গাঁজার নির্যাস (টি এইচ সি) সেবনের জন্যও এটি ব্যবহার করা যায়।

২. হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি): তামাক পাতাকে বিশেষভাবে প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি সিগারেট সদৃশ শলাকাকে ব্যাটারিচালিত যন্ত্রের মাধ্যমে উত্তপ্ত করে সিগারেটের ধোঁয়ার মতো ধোঁয়া তৈরি করা হয়। মূল উপাদান তামাকপাতা হলেও সাধারণ সিগারেটের সাথে এর মৌলিক পার্থক্য ব্যবহার পদ্ধতিতে, যেখানে আগুনে পোড়ানোর বদলে উত্তপ্ত করে তৈরি ধোঁয়া সেবন করা হয়।

বিশ্বে ২০০০ সালের শুরুর দিকে বাজারে আসার পর থেকেই ই-সিগারেট বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। আগুন ধরাতে হয় না, তামাকের গন্ধ নিতে হয় না কিন্তু নিকোটিন ঠিকই পাওয়া যায় বলে অনেকেই একে বেছে নেন। বলা হচ্ছে এই ধরনের সিগারেটে কোন ধরনের ক্ষতিকর দ্রব্য নেই, যেমনটা সিগারেটে থাকে এবং এটা সিগারেট ছেড়ে দিতে সাহায্য করে। আধুনিকতার ছোয়ায় এই ধরনের সিগারেট দেখতে খ্বুই আকর্ষনীয়।

প্রথমে আসা যাক হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি) নিয়ে ক্ষতিকর কিছু কথা, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি) প্রকৃতপক্ষে তামাক পাতাতে বিশেষভাবে প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি সিগারেট সদৃশ শলাকাকে ব্যাটারিচালিত যন্ত্রের মাধ্যমে উত্তপ্ত করে ধোঁয়া তৈরি করা হয়।

সিগারেটেরই ভিন্ন রূপ, ফলে এতে সিগারেটের মতোই সব ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে। তার কারণ, মূল উপাদান তামাকপাতা হলেও সাধারণত সিগারেটের সাথে এর মৌলিক পার্থক্য ব্যবহার পদ্ধতি, যেখানে আগুনে পোড়ানোর বদলে উত্তপ্ত করে তৈরি ধোঁয়া সেবন করা হয়।

এবার ই-সিগারেট, ভেইপ, পেনস, ই-হুক্কা, ই-পাইপ, ই-সিগার বা ইলেক্ট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারী সিস্টেম (এন্ডস) নিয়ে কিছু কথা বলা যাক,

১. ই-সিগারেট বাষ্প ক্ষতিকর। ই-সিগারেট একটি তরল মিশ্রণকে উত্তপ্ত করে এবং বাষ্প তৈরি করে। এই তরলের মধ্যে থাকে নিকোটিন, লেড, ফ্লেভারিং এবং প্রপাইলিন গ্লাইকল, গিøসারিন এর মতো পদার্থ। গবেষণায় দেখা যায়, এই তরলে ফর্মালডিহাইড ছাড়াও ভারী ধাতব পাওয়া যায়। প্রপাইলিন গ্লা্ইকল (পিজি)-এটা দিয়ে কৃত্রিম ধোঁয়া তৈরী করা হয়, যা কনসার্ট অনুষ্ঠানে দেখা যায়।

ফুসফুসে এবং চোখে এটা জ্বালাতন করে। এটা ক্রনিক ফুসফুসে রোগ যেমন, এজমা হতে সহায়তা করে, দীর্ঘ সময় ব্যবহারে মানুষের শ্বাসকষ্ট হয়। তরল মিশ্রণকে উত্তপ্ত করার ফলে নিকোটিন এর মাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে, সাথে সাথে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের মাত্রাও বৃদ্ধি পায়। তাই আমরা বলতে পারি যিনি ই-সিগারেটের বাষ্প গ্রহণ করছেন তিনি নিজের ক্ষতি করছে এবং সাথে সাথে পরোক্ষ ক্ষতিও করছেন।

২. ই-সিগারেট নিরাপদ নয়। ই-সিগারেটে বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধি ব্যবহার করা হয়। সুগন্ধিযুক্ত ই-সিগারেট ব্যবহার করা হলেও এতে নিকোটিন থাকার কারণে ধীরে ধীরে এর উপর আসক্তি বাড়াতে থাকে। তার কারণ নিকোটিন আসক্তি তৈরি করে। যখন লিকুইড হিট দেওয়া হয়, তখন নিকোটিন গ্রহনের পরিমান বেড়ে যায়। ২০১৪ সালের এক গবেষণায় দেখা যায় ই-সিগারেটে পাওয়া ফর্মালডিহাইড যা চোখ, গলা এবং নাকের ক্ষতি করতে সক্ষম।

প্রপাইলিন গ্লাইকল পর্দাথ একই ক্ষতি করে মানুষের শরীরে। সময়ের সাথে এসব পদার্থ কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করে। তামাকজাতপণ্য ব্যবহার করায় সবচেয়ে শারীরিক ক্ষতি হচ্ছে শরীরে ক্যান্সার তৈরি করা। সিগারেটে থাকা অনেক ক্ষতিকর উপাদান যেমন টার, অ্যামোনিয়া এবং ডিডিটি ই-সিগারেটে থাকে না বটে। কিন্তু ই-সিগারেটে থাকে উচ্চ মাত্রায় ফর্মালডিহাইড, যা কিনা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়াও আছে ভারী পদার্থ যেমন: নিকেল, টিন ও লেড। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের গবেষণায় দেখা যায়, ই-সিগারেট ব্যবহারে স্ট্রোকের ঝুঁকি ৭০%, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ৫৯% এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এছাড়া ২০০ পাউন্ড বা ৯০ কিলোগ্রাম ওজনের একজন মানুষের মৃত্যুর জন্য এক চা-চামুচ তরল নিকোটিনই যথেষ্ট।

৩. ধূমপান ছাড়তে ই-সিগারেট সাহায্য করে না। তার বড় কারণ হলো, ই-সিগারেটে যথেষ্ট পরিমাণে নিকোটিন থাকে। নিকোটিন আসক্তি তৈরি করে। বলা হয়ে থাকে ধূমপানে ছাড়তে ই-সিগারেটকে ব্যবহার করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, নিকোটিন থাকার কারণে ব্যবহার ছাড়তে না বরং ধূমপানে আসক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। নিকোটিন “স্টিমুলেট” ধরণের ড্রাগ যা উচ্চ মাত্রায় আসক্তি সৃষ্টি করে। এই ধরনের সিগারেটে লিকুইড নিকোটিন ব্যবহার করা হয়। সুতরাং আমরা বলতে পারি ই-সিগারেট ধূমপান ছাড়তে নয়, বরং ব্যবহার বাড়তে সাহায্য করে। একসময় দেখা যায় ব্যবহারকারীরা সিগারেট ও ই-সিগারেট দুটোই ব্যবহার শুরু করে।

৪. ই-সিগারেট, সিগারেটের মতো পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি করে থাকে। বলা হয়ে থাকে, ই-সিগারেটে অতি সামান্য ক্ষতিকর পর্দাথ থাকে সেহেতু এটা পরোক্ষ ধূমপানে বেশি ক্ষতি করে না। কিন্তু ই-সিগারেটের ধোঁয়াতে সিগারেটের মতই পর্দাথ পাওয়া যায় এবং ক্ষুদ্রাকারে ভারী ধাতু ব্যবহার হয় সেকারণে ই-সিগারেট পরোক্ষ ধূমপানে প্রভাবে ফুসফুস নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

আমেরিকার ফুড এন্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ই-সিগারেট ব্যবহারের কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তার কারণ ই-সিগারেট একটি তামাকজাত দ্রব্য। বাষ্পের মাধ্যমে যেসব কেমিক্যাল নি:সরিত হয় সেগুলো অনেক ক্ষুদ্রাকৃতির ভারি পদার্থ যার মাধ্যমে ফুসফুসের ক্ষতি হয়ে থাকে। তাই আমরা বলতে পারি ই-সিগারেটের মাধ্যমে যারা পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন তারাও নিরাপদ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ডে প্রিভেনশন (সিডিসি) এবং ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) এখন পর্যন্ত দেশটির ৫৩০ জনের ফুসফুসজনিত রোগের সঙ্গে ভ্যাপিংয়ের ব্যবহারের যোগসূত্র থাকার কথা নিশ্চিত করেছে। পরোক্ষ ক্ষতিতে ই-সিগারেট সাহায্য করছে। ই-সিগারেটের নিকোটিন শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য ভয়াবহ বিপদজনক। উচ্চমাত্রার এই নিকোটিন ¯œায়ুতন্ত্রের স্টেম সেলকে ধ্বংস করে অকাল বার্ধক্যসহ স্নায়ুতন্ত্রের বিভিন্ন রোগের কারণ।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে সারা বিশ্বে এসব পণ্যের ব্যবহার দিনদিন আগ্রাসীভাবে বেড়েই চলেছে। ইউরোপ, আমেরিকাসহ বেশ কিছু দেশে এসব পণ্যের ব্যবহার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আমেরিকায় পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে মাত্র একবছরের ব্যবধানে আমেরিকায় স্কুল পড়–য়া (বিশেষত মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক) তরুণদের মধ্যে ই-সিগারেট ব্যবহার ৭৮% বৃদ্ধি পেয়েছে।

বর্তমানে প্রতি ৫ জনে একজন এতে আসক্ত। বিশ্বের অনেক দেশের মত বাংলাদেশে ই-সিগারেটের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। গ্যাটস-২০১৭ অনুযায়ী বাংলাদেশে ই-সিগারেটের ব্যবহার পর্যালোচনা করলে দেখা যায় ই-সিগারেট ব্যবহারকারী ০.২ শতাংশ অর্থাৎ চার লক্ষ মানুষ কমপক্ষে একবার ব্যবহার করেছে। যা প্রচলিত তামাকপণ্য ব্যবহারকারীর তুলনায় অতি সামান্য হলেও এর ব্যবহার বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষনীয় এবং সেই সাথে ই-সিগারেট সম্পর্কে শুনেছেন ৬.৪ শতাংশ জনগোষ্ঠি। তবে এই গবেষণা কেবলমাত্র ১৫ বছর এবং তদুর্ধ্ব জনগোষ্ঠির মধ্যে। কিন্তু ১৫ বছরের নিচের জনগোষ্ঠির মধ্যে এর ব্যবহারের তথ্য আমাদের কাছে নেই।

বিভিন্ন শপিংমলে, রাস্তার পাশে দোকানে, সোশ্যাল মিডিয়া এবং অনলাইনভিত্তিক শপ-এ এই ধরনের পণ্যের বিক্রি হচ্ছে খুব সহজেই। তাই আমাদের এখনই উচিত হবে এই ধরনের তামাকজাতদ্রব্য চিহ্নিত করা এবং আমদানি, বাজারজাত ও বিপণন বন্ধের পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এখনই বন্ধের প্রদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে ধূমপানে আসক্ত অসুস্থ তরুণদেরকে নিয়ে ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা অর্জনে সবার জন্য সুস্বাস্থ্য ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জন করা সম্ভব হবে না।

Download WordPress Themes Free
Download Premium WordPress Themes Free
Download WordPress Themes
Download Best WordPress Themes Free Download
free online course