একটা একটা করে ধরে আনা হবে: হেফাজতকে কড়া হুঁশিয়ারি নওফেলের

মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘জাতির পিতার ভাস্কর্য অপমানিত করার পর থেকে, এদের স্পর্ধার শুরু, এখন ১৭টি লাশের ওপরে চলছে এদের “রিফ্রেশমেন্ট” জীবন।’

‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিতে যারা হাত দিয়েছে, এদের একটা একটা ধরে আনা হবে, আইনের সম্মুখীন করা হবে।’ এমন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক স্ট্যাটাসে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

শিক্ষা উপমন্ত্রী স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘খেলাফতে মজলিশ নামক একটি দলের এক নেতা এই কুলাঙ্গার মামুনুল হকের পক্ষে যেভাবে সাফাই গাইল, এতে বোঝা যায় দ্বীনে ইসলাম শুধুই এদের বেঁচে থাকার জন্য একটি মাধ্যম।’

এদের কীভাবে শায়েস্তা করতে হবে তা আমাদের জানা আছে উল্লেখ করে নওফেল বলেন, ‘ধর্ম ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর মনে রাখা প্রয়োজন স্বাধীনতা যুদ্ধে এই দেশের জনগণ এদের প্রত্যাখ্যান করেছে। এদের ছাড়াই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে, আওয়ামী লীগসহ প্রগতিশীল শক্তির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল। কিছু এতিম শিশুকে রাখে বলে এরা অনেকের সহানুভূতি পায়। এরা দেশের প্রচলিত সরকার কাঠামো, শিক্ষাব্যবস্থা, প্রশাসন ও আইনের অধীনে না আসলে, এদের কীভাবে শায়েস্তা করতে হবে তা আমাদের জানা আছে।’

মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘জাতির পিতার ভাস্কর্য অপমানিত করার পর থেকে, এদের স্পর্ধার শুরু, এখন ১৭টি লাশের ওপরে চলছে এদের “রিফ্রেশমেন্ট” জীবন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগুন যারা জ্বালিয়েছে, পিতার ছবিতে হাত যারা দিয়েছে, এদের একটা একটা করে ধরে আনা হবে, আইনের সম্মুখীন করা হবে। সামাজিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক, সর্ব পর্যায়ে এই কাঠমোল্লা গোষ্ঠীকে প্রতিহত করতে হবে। আওয়ামী লীগ বানের জলে ভেসে আসে নাই। গণতান্ত্রিক সমাজে রাজনীতি করতে চায় করবে, কিন্তু ধর্ম ব্যবসা করে মানুষের ঘরবাড়ি জ্বালানোর পরিণাম এদের বোঝাতে হবে। আগুন সন্ত্রাস করে বিএনপি-জামায়াত ছাড় পায় নাই, এই ধর্ম ব্যবসায়ীরাও ছাড় পাবে না। ইনশাআল্লাহ।’

উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে মোদিবিরোধী বিক্ষোভে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে নামাজ শেষে সংঘর্ষে জড়ায় হেফাজতে ইসলাম। সে সংঘর্ষে আহত হন সাংবাদিক, পুলিশসহ অর্ধশতাধিক সাধারণ মুসল্লিরা।

এরপর ৩ এপ্রিল বিকেলে নারায়ণগঞ্জের রয়াল রিসোর্টের পঞ্চম তলার ৫০১ নম্বর কক্ষে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে এক ‘নারীসহ’ অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা।

পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। মামুনুল হকের দাবি, সঙ্গে থাকা নারীর নাম আমিনা তৈয়বা। তিনি মামুনুল হকের দ্বিতীয় স্ত্রী। আমিনাকে সঙ্গে নিয়ে রিসোর্টে ঘুরতে গিয়েছিলেন তিনি।

মাওলানা মামুনুল হক ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে নাম বলেন আমিনা তৈয়বা। যদিও জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার নাম জান্নাত আরা ঝর্না। ঝর্নার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশের গণমাধ্যম।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রচারের পর বিষয়টি জানাজানি হয় সেই নারীর গ্রামেও। তবে, ঝর্নার আগে আরেকটি বিয়ে হয়েছে; দুটি সন্তান আছে। এ কথা সবাই জানলেও দ্বিতীয় বিয়ের খবর জানেন না এলাকাবাসী।

ঝর্নার বাবা ওলিয়ার রহমান বলেন, ‘জান্নাত আরা ঝর্নার নয় বছর বয়সে বিয়ে হয়েছিল হাফেজ শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদুল্লাহ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। তার বাড়ি বাগেরহাটের চিতলমারীর চর-কচুড়িয়া গ্রামে। শহীদুল্লাহ ও ঝর্না দম্পতির আব্দুর রহমান (১৭) ও তামীম (১২) নামে দুই পুত্রসন্তান রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পারিবারিক কলহের জেরে আড়াই বছর আগে শহীদুল্লাহ ও ঝর্নার ডিভোর্স হয়ে যায়। দুই বছর আগে পরিবার থেকে পাত্র দেখে মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরে নিজেই বিয়ে করেছে ঝর্না। তবে কাকে বিয়ে করেছে তা আমাদের জানায়নি।’


About us

DHAKA TODAY is an Online News Portal. It brings you the latest news around the world 24 hours a day and 7 days in week. It focuses most on Dhaka (the capital of Bangladesh) but it reflects the views of the people of Bangladesh. DHAKA TODAY is committed to the people of Bangladesh; it also serves for millions of people around the world and meets their news thirst. DHAKA TODAY put its special focus to Bangladeshi Diaspora around the Globe.


CONTACT US

Newsletter

Download WordPress Themes
Free Download WordPress Themes
Download Nulled WordPress Themes
Download WordPress Themes Free
udemy course download free