এবার ক্যাপসুল দিয়ে হবে করোনা পরীক্ষা!

করোনা রোগীর কাছে গিয়ে থুতু-লালার নমুনা সংগ্রহ করার ঝামেলা থাকবে না। রক্ত নিয়ে অ্যান্টিবডি টেস্ট করাতেও হবে না। ক্যাপসুলের সাহায্যেই করোনা রোগীকে শণাক্ত করার নতুন পদ্ধতি বের করে ফেলেছেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা।

করোনা রোগীর কাছে গিয়ে থুতু-লালার নমুনা সংগ্রহ করার ঝামেলা থাকবে না। রক্ত নিয়ে অ্যান্টিবডি টেস্ট করাতেও হবে না। ক্যাপসুলের সাহায্যেই করোনা রোগীকে শণাক্ত করার নতুন পদ্ধতি বের করে ফেলেছেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা।

দুই আঙুলের ফাঁকে ক্যাপসুল ভেঙেই হবে পরীক্ষা। সংক্রমণ কতটা গভীরে গেছে, রোগী সঙ্কটাপন্ন কিনা, তাও বোঝা যাবে এই ক্যাপসুল-টেস্টেই, এমনটাই দাবি গবেষকদের।

লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এই ক্যাপসুল-টেস্টের পদ্ধতি সামনে এনেছেন। ‘রয়্যাল সোসাইটি ইন্টারফেস’ জার্নালে এই গবেষণার খবর সামনে এসেছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, কোভিড সংক্রমণের প্রাথমিক দুটি উপসর্গ হল স্বাদ ও গন্ধ চলে যাওয়া। অন্যান্য জটিল উপসর্গ ধরা না দিলেও এই দুটি সমস্যায় ভুগছেন বেশিরভাগ করোনা রোগীই। মৃদু সংক্রমণের ক্ষেত্রেও প্রাথমিকভাবে জ্বর, স্বাদহীনতা ও আচমকা নাকের গন্ধ নেওয়ার ক্ষমতা চলে যাচ্ছে রোগীদের। স্মেল-টেস্ট করিয়ে রোগের জীবাণু আছে কিনা তা পরীক্ষা করছেন ডাক্তাররা। এই স্মেল-টেস্টেরই আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি বের করেছেন কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির গবেষকরা।

এই পরীক্ষা হবে একটি ক্যাপসুল দিয়ে। এই ক্যাপসুলের ভেতরে থাকবে সুগন্ধযুক্ত তেল (Aromatic Oil)। রোগী যদি তেলের গন্ধ পায়, তাহলে বুঝতে হবে শরীরে কোনও সংক্রমণ নেই। আর যদি গন্ধ না পায়, তাহলে বুঝতে হবে করোনা সংক্রমণ রয়েছে। সংক্রমণ কতটা ছড়িয়েছে সেটাও বোঝা যাবে এই পরীক্ষাতে।

এই গবেষণার দায়িত্বে থাকা বিজ্ঞানী আহমেদ ইসমাইল বলছেন, একটি স্ট্রিপের গায়ে লাগানো থাকবে ক্যাপসুল। এই স্ট্রিপটি দুই আঙুলে মাঝে ধরে চাপ দিলেই ক্যাপসুল ভেঙে যাবে। ভেতর থেকে অ্যারোমা তেলের সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়বে। রোগী কতটা গন্ধ নিতে পারছে, কেমন অনুভূতি হচ্ছে ইত্যাদি পরীক্ষা করে সংক্রমণ কী পর্যায়ে রয়েছে তা ধরা যাবে।

তিনি আরও বলছেন, পারকিনসন্স ও অ্যালঝাইমোর্স রোগীদের ক্ষেত্রেও এই ক্যাপসুল স্মেল-টেস্ট কাজে লাগে। করোনা রোগীদের জন্য এই পদ্ধতি নতুনভাবে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হয়েছে।

করোনা সংক্রমণ হলে এই গন্ধ না পাওয়া বা স্বাদ চলে যাওয়ার রোগকে বলা হয় অ্যানোসমিয়া (গন্ধ না পাওয়া)। করোনাভাইরাস মানুষের শ্বাসযন্ত্রকে পুরোপুরি বিকল করে দেওয়ার চেষ্টা করে। যার ফল তীব্র শ্বাসকষ্ট এবং নাকের গন্ধ নেওয়ার ক্ষমতা পুরোপুরি চলে যাওয়া। গন্ধের অনুভূতি আসে কয়েকটা ধাপে। কোনও বস্তু থেকে নির্গত উপাদান মানুষের শরীরের স্নায়ু কোষকে (Olfactory Cells) উদ্দীপিত করে। স্নায়ু কোষের মাধ্যমে সেই বার্তা পৌঁছয় মস্তিষ্কে, যেখানে যেই বস্তুকে শণাক্ত করা হয়। করোনাভাইরাস এই প্রক্রিয়াকেই বিগড়ে দেয়। যার ফল অ্যানোসমিয়া। কোনও রকম গন্ধই আর পাবে না আক্রান্ত রোগী।

দ্বিতীয়ত, স্বাদহীনতা বা অ্যাগিউসিয়া। জিভের স্বাদকোরকের ক্ষমতা পুরোপুরি চলে যাওয়া। ফলে মিষ্টি, ঝাল, তেতো কোনও স্বাদই আর পাবেন না আক্রান্ত রোগী। ভাইরাসের সংক্রমণে অ্যানোসমিয়া ও অ্যাগিউসিয়া সাত দিন থেকে ১৪ দিনের মধ্যে ধরা পড়ে। অর্থাৎ ভাইরাল স্ট্রেনের ইনকিউবেশন পিরিয়ড থাকার সময়েই দেখা দেয় এই সমস্যা।

ভাইরাসের কণা এই সময়টা নাক ও গলার কোষেই বসে থাকে। ফলে গলা ব্যথা, দম নেওয়ার সমস্যা, স্বাদ-গন্ধ চলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

গবেষকরা বলছেন, এই সময়ের মধ্যেই যদি ক্যাপসুল টেস্ট করানো যায়, তাহলে সুফল মিলবে। ভাইরাস ফুসফুসে পাড়ি দেওয়ার আগেই চিকিৎসা শুরু করে সংক্রমণ কমিয়ে ফেলা সম্ভব হবে।

Download Nulled WordPress Themes
Download Nulled WordPress Themes
Free Download WordPress Themes
Download Best WordPress Themes Free Download
online free course