করোনাভাইরাসে আতংক ও মৃত্যুভয় নয়, যেসব সতর্কতা নিতে হবে

বিশ্বজুড়ে ত্রাস তৈরি করা প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্ত দেশগুলো তালিকায় যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। করোনা আক্রান্ত তিন রোগী শনাক্ত করেছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। আক্রান্তদের দুইজন ইতালি ফেরত এবং একজন দেশে ছিলেন। এদের মধ্যে দু’জন আবার একই পরিবারের। রোগীদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে ত্রাস তৈরি করা প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্ত দেশগুলো তালিকায় যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। করোনা আক্রান্ত তিন রোগী শনাক্ত করেছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। আক্রান্তদের দুইজন ইতালি ফেরত এবং একজন দেশে ছিলেন। এদের মধ্যে দু’জন আবার একই পরিবারের। রোগীদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

আইইডিসিআরের পরমার্শ

দেশে প্রথমবারের মতো করোনা আক্রান্তের সন্ধান মিললেও এখনই এটা নিয়ে আতঙ্ক বা আশঙ্কার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা ।

তিনি বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে দুইজন ইতালির দুটি শহর থেকে সম্প্রতি দেশে ফেরেন। দেশে আসার পর তাদের শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দেয়। আইইডিসিআরের হটলাইনে ফোন দিলে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীাগারে পাঠানো হয়। তাদের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে।

আইইডিসিআরের পরিচালক জানান, ইতালি ফেরত এই দুজনের সংস্পর্শে থাকা আরও চারজনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। তদের মধ্যে একজন নারীর শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া যায়। আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তারা বর্তমানে ভালো আছেন। এ মুহূর্তেই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

করোনা নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহবান জানিয়ে সরকারি এই প্রতিষ্ঠানে প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর বলেন, করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়া মানে এই নয় যে পুরো দেশ করোনাভাইরাসে ছেয়ে গেছে। এতে সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। করোনার সংক্রমণ থেকে দূরে থাকতে হলে আমাদের আরও সচেতন হতে হবে। সাবধানতার জন্য দুই হাতে মুখ চেপে হাঁচি-কাশি ও সাবান কিংবা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে ভালো করে হাত ধুতে হবে। এটাই মূলত করোনা থেকে সুরক্ষার মন্ত্র।

তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাস আক্রান্ত হলেই যে তার মৃত্যু অবধারিত, এই ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। করোনা আক্রান্তদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি এক হাজার রোগীর মধ্যে এই ভাইরাসের কবলে মাত্র ৯ জনের মৃৃত্যু হয় । অর্থাৎ মৃত্যুহার মাত্র এক শতাংশের কাছাকাছি। মৃত্যুর বিষয়টি আবার নির্ভর করে বয়স, লিঙ্গ, স্বাস্থ্যগত অবস্থার উপর।

ডা. আলমগীর বলেন, যে কোনো সংকটে গুজব ডানাপালা মেলে। এজন্য সংবাদের নির্ভরযোগ্য উৎস দেখে, সংবাদের মূল্য বুঝে পড়বেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আইইডিসিআরসহ বেশ কয়েকটি দায়িত্বশীল ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য পাওয়া যাবে। প্রয়োজনে সেসব দেখার পরামর্শ দেন তিনি

আইইডিসিআর-এর হট লাইন

যদি কেউ গত ১৪ দিনের মধ্যে বিদেশ থেকে এসে সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হন, তাহলে আইইডিসিআর এর হট লাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শও দিয়েছেন ডা. আলমগীর (হটলাইন নম্বরগুলো ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৩৭০০০০১১ এবং ০১৯৩৭১১০০১১)।

অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহর আহ্বান

দেশে করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হওয়ার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহর।

শুরুতেই তিনি আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভয় পাবেন না। যাদেরকে শনাক্ত করা হয়েছে তাদের অবস্থা ভালো আছে। তারা নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। চিকিৎসায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে উঠেন। আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এই রোগের সবচেয়ে বড় প্রতিকার হচ্ছে সতর্ক থাকা। সতর্কতা বিষয়ে যেসব পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে সেগুলো সাধ্যমত মেনে চলার চেষ্টা করবেন।

করোনা থেকে মুক্ত থাকার কিছু উপায় উল্লেখ করে ডা. আবদুল্লাহ বলেন, করমর্দন থেকে বিরত থাকবেন। নিয়মিত ভালোভাবে হাত ধুতে হবে। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খাবেন। সম্ভব হলে গণপরিবহন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। যতোটা সম্ভব জনসমাগম আপাতত এড়িয়ে চলতে হবে।পারত পক্ষে ঘরে থাকুন। প্রয়োজন না হলে ঘরের বাইরে যাবেন না।

বিশ্ব পরিস্থিতি

বিশ্বের অন্তত ১০০টি বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা। এতে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশেও। সারাবিশ্বে এই ভাইরাসে ইতিমধ্যে তিন হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আক্রান্ত অবস্থায় আছেন এক লাখেরও বেশি। অবশ্য অনেক গবেষক মনে করছেন, আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা ১০ গুণ হতে পারে। নিরাপত্তার কারণে অনেক দেশই আক্রান্ত রোগীদের প্রকৃত সংখ্যা গোপন রাখে।

এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ১ থেকে ২ শতাংশ মানুষ মারা যায়। অনেকের কাছে এই তথ্য বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ, হাজার হাজার মানুষ এখনো চিকিৎসাধীন, যাঁদের মধ্যে কেউ কেউ মারা যেতে পারেন। তাই মৃতের হার আরও বাড়তে পারে। আবার কত মানুষের শরীরী হালকা লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। সেগুলো বিবেচনায় নিলে মৃতের হার আরও কমতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ৪৪ হাজার রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে বলছে, আক্রান্ত ব্যক্তিদের ৮১ শতাংশের শরীরে হালকা লক্ষণ দেখা দেয়। ১৪ শতাংশের শরীরের লক্ষণ দেখা দেয় এর চেয়ে মাঝারি আকারে। অন্যদিকে মাত্র ৫ শতাংশ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসটি শরীরে ঢোকার পর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিতে প্রায় পাঁচ দিন লাগে। প্রথম লক্ষণ হচ্ছে জ্বর। তার পর দেখা দেয় শুকনো কাশি। এক সপ্তাহের মধ্যে দেখা দেয় শ্বাসকষ্ট। এসব লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির লক্ষণ প্রকাশ পেতে ১৪ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এটাকে ইনকিউবেশন পিরিয়ড বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ রোগীর লক্ষণ প্রকাশের আগে এই ভাইরাস ব্যক্তির শরীরে এ সময় পর্যন্ত সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে।

আক্রান্তদের চিকিৎসা

এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি। তবে এর টিকা আবিষ্কারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। আশা করা হচ্ছে, চলতি বছরের শেষের দিকে এই টিকা মানুষের শরীরে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা যাবে।

যেহেতু ভাইরাসটি ফুসফুস ও শ্বাসকষ্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সে হিসেবে বর্তমানে আক্রান্ত ব্যক্তিদের এ–সংক্রান্ত চিকিৎসা দেওয়া হয়। আক্রান্ত ব্যক্তিদের আলাদা করে রাখা হয়। শ্বাসকষ্ট কমাতে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসকেরা নিজেদের মতো করে ভাইরাস প্রতিরোধী ওষুধ প্রয়োগ করে থাকেন।

করোনা থেকে সুরক্ষা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কোভিড-১৯ থেকে রক্ষা পেতে সাবান দিয়ে বারবার হাত ধুতে হবে, হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় টিস্যু বা রুমাল দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে ফেলতে হবে, হাঁচি-কাশি দেওয়ার পরপরই হাত ধুয়ে ফেলতে হবে, পারতপক্ষে নাক, মুখ ও চোখে হাতের স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ, এতে এ ধরনের ভাইরাস হাত থেকে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। হাঁচি-কাশি বা জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি পরিপূর্ণভাবে সুস্থ হতে পারেন। কারণ, এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অনেকেই জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টের মতো সাধারণ সমস্যা অনুভব করে থাকেন। ফলে আশা করা যাচ্ছে, এই ভাইরাসে আক্রান্ত বেশির ভাগ ব্যক্তিই সুস্থ হয়ে যাবেন। তবে বয়স্ক, ডায়াবেটিস ও ক্যানসারের মতো রোগী বা যাঁদের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা কম, তাঁদের জন্য এই ভাইরাস বিশেষ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য বলছে, এই ভাইরাস ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির কাছে থাকা পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের মতো রোগগুলোর কোনো টিকা নেই। তবে টিকা আবিষ্কারে গবেষকেরা চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কারণ এ ধরনের ভাইরাস এর আগে দেখা যায়নি। ফলে চিকিৎসকেরা এর আগপর্যন্ত এ ধরনের ভাইরাস সম্পর্কে অজ্ঞাত ছিলেন।

Download Nulled WordPress Themes
Free Download WordPress Themes
Download Best WordPress Themes Free Download
Download Best WordPress Themes Free Download
free download udemy paid course