করোনার নেগেটিভ রিপোর্ট ছাড়া বিদেশ থেকে যাত্রী বহন নয়

যাত্রার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করোনার আরটি-পিসিআর পরীক্ষার নেগেটিভ রিপোর্ট ছাড়া বিদেশ থেকে কোন যাত্রীকে পরিবহন না করার জন্য সব এয়ারলাইনসকে পরামর্শ দিয়েছে কভিড নিয়ন্ত্রণে গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। কমিটি বলেছে, এ নিয়ম কঠোরভাবে পালন করতে হবে।

যাত্রার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করোনার আরটি-পিসিআর পরীক্ষার নেগেটিভ রিপোর্ট ছাড়া বিদেশ থেকে কোন যাত্রীকে পরিবহন না করার জন্য সব এয়ারলাইনসকে পরামর্শ দিয়েছে কভিড নিয়ন্ত্রণে গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। কমিটি বলেছে, এ নিয়ম কঠোরভাবে পালন করতে হবে।

কারিগরি কমিটি আরও বলেছে, ছাত্রছাত্রীরা ভ্যাকসিন না পেলে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ খোলা কঠিন। আঠারো বছরের ঊর্ধ্বে ছাত্রছাত্রীদের ভ্যাকসিন দেওয়ার সম্ভাব্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

রবিবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. সহিদুল্লা এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান। শুক্রবার অনলাইনে অনুষ্ঠিত কমিটির ২২তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের মাধ্যমে কভিড-১৯ সংক্রমণ দেশে প্রবেশ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে দেশে আসার পূর্ববর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কভিড নেগেটিভ রিপোর্টসহ আসার বিধান রয়েছে। কিন্তু অনেক যাত্রী টেস্ট ও রিপোর্ট ছাড়া আসছেন।

এদের কোয়ারেন্টাইনে রাখার জন্য প্রতিদিন এক হাজার টাকা করে যাত্রী প্রতি ১৪ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে সরকারের।

যাত্রীদের জন্যও ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন কষ্টকর হচ্ছে। সরকারি প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাবাহিনী বিভাগ এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি কভিড রিপোর্ট ছাড়া বিদেশ থেকে আসা যাত্রী বহন না করতে আহ্বান জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে কমিটির অন্য সিদ্ধান্তগুলো হলো- ১. এয়ারপোর্ট (বিশেষত ঢাকা), সীপোর্ট ও ল্যান্ডপোর্টগুলোতে রিপোর্ট চেক করা বাধ্যতামূলক করতে হবে। ভুয়া রিপোর্ট সম্বন্ধে সতর্ক থাকতে হবে। ২. কোন কারণে রিপোর্ট ছাড়া যাত্রী আসলে তাকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে।

এটা যাত্রীর নিজ খরচে করা যেতে পারে। এক বা দুই দিনের মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় টেস্ট করে নেগেটিভ রিপোর্ট হলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন থেকে ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে।

তবে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে তাদের বাড়িতে কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে হবে। রিপোর্ট পজিটিভ হলে তাকে হাসপাতালে আইসোলেশনে রাখতে হবে। ইতিমধ্যে যারা কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন তাদের পরীক্ষার ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেয়া হয়।

কমিটি এসব সুপারিশ জোরালোভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন ও ব্যত্যয়কারীদের জরিমানা করা যেতে পারে বলেও মত দেয়।

কমিটি সরকারের করেনা ভ্যাকসিন কেনার উদ্যোগকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানায়। এ ব্যাপারে কমিটি বলে, সরকার ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অক্সফোর্ড ও এ্যাস্ট্রা জেনিকার ৩ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন কেনার জন্য ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করেছে।

এ জন্য অর্থ বরাদ্দও হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্যাকসিন বিতরণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন।

বৈঠকে কমিটি বিভিন্ন পেশা ও জনগোষ্ঠীকে ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য সরকারি উদ্যোগে তৈরি জাতীয় ভ্যাকসিন প্রয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে পর্যালোচনা করে এবং প্ল্যানটি সম্পূর্ণ ও যথাযথ বলে মতামত প্রদান ও সমর্থন করে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি জানায়, সরকারি হাসপাতালগুলোতে কভিড-১৯ রোগীদের ভর্তি, চিকিৎসাব্যবস্থা (বিশেষত- অক্সিজেন সরবরাহ ও হাই ফ্লো ক্যানুলা) নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কভিড-১৯ রোগীদের সেবা নিশ্চিতকরণে প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।

কভিড-১৯ চিকিৎসায় সরকার কর্তৃক প্রণীত জাতীয় গাইডলাইন অনেক হাসপাতালেই যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে না বলে কমিটি উদ্বেগ প্রকাশ করে। কমিটি বলে, এতে অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে মানবদেহে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে।

এতে করোনা চিকিৎসায়ও বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন।

কভিড-১৯ প্রতিরোধে সরকার মাস্ক পরিধানসহ অন্যান্য সামাজিক ব্যবস্থা গ্রহণের যে প্রচারণা চালাচ্ছে, সেটা অব্যাহত থাকা প্রয়োজন বলে মত দেয় কমিটি।

Download WordPress Themes
Download Best WordPress Themes Free Download
Download Nulled WordPress Themes
Premium WordPress Themes Download
download udemy paid course for free