করোনায় বন্ধ ফয়’স লেক এ্যামিউজমেন্ট পার্ক: প্রতিদিন লোকসান লাখ টাকা

২০০৫ সালে গড়ে তোলা আধুনিক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও রিসোর্টে ঈদ-পূজাসহ বছরের বিশেষ বিশেষ দিন গুলোতে পরিবার প্রিয়জন নিয়ে আনন্দে সময় কাটাতে অনেকেই ঘুরতে যেতেন। ছুটির দিনগুলোতে যেখানে পুরো পার্ক জুড়ে থাকতো বিনোদন প্রেমীদের উপচে পড়া ভিড় সেখানে করোনার দাপটে পহেলা এপ্রিল থেকে টানা এক  মাসের বেশি সময় ধরে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে পার্কটি।

করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় মন্দায় পড়েছে দেশের বিনোদন কেন্দ্র ও পার্কগুলো। একই অবস্থা বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ফয়’স লেক এ্যামিউজমেন্ট পার্কের। টানা বন্ধ থাকায় মালিক পক্ষকে গুনতে হচ্ছে লোকসান এবং পাশাপাশি বিকল হতে বসেছে পার্কের রাইডগুলোর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। চাকরি হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন তিন শতাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

২০০৫ সালে গড়ে তোলা আধুনিক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও রিসোর্টে ঈদ-পূজাসহ বছরের বিশেষ বিশেষ দিন গুলোতে পরিবার প্রিয়জন নিয়ে আনন্দে সময় কাটাতে অনেকেই ঘুরতে যেতেন। ছুটির দিনগুলোতে যেখানে পুরো পার্ক জুড়ে থাকতো বিনোদন প্রেমীদের উপচে পড়া ভিড় সেখানে করোনার দাপটে পহেলা এপ্রিল থেকে টানা এক  মাসের বেশি সময় ধরে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে পার্কটি।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১ এপ্রিল থেকে পার্কের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকায়  লোকসান গুনতে হচ্ছে মালিক পক্ষকে। চাকরি হারানো শঙ্কায় পড়েছেন পার্কের  কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

ফয়’স লেক এ্যামিউজমেন্ট পার্কের ডেপুটি ম্যানেজার (মার্কেটিং) বিশ্বজিৎ ঘোষ জানান, বিগত বছর লকডাউনে পার্কটি ১৯ মার্চ থেকে ২৫ অগাস্ট  প্রায়  পাঁচ মাসের বেশি সময় বন্ধ ছিলো। এসময় বিশাল অংকের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল কর্তৃপক্ষ। পরবর্তিতে লকডাউনের শেষে  সরকারী স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুলেছিলো। তখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্যানিটাইজ করে প্রত্যেক দর্শনার্থীকে প্রবেশ করানো হতো। কয়েকদিন পর পর ম্যাজিস্ট্রেট এসে তা দেখে যেতেন।

তিনি আরো বলেন, ৩৩৬ একর আয়তনের ফয়’স লেক কমপ্লেক্সের বর্তমান সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন, নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ মাসে প্রায় খরচ ৪৫ লক্ষ টাকা। ঈদ উপলক্ষে বোনাস সহ এখরচ বেড়ে দাঁড়াবে ৬৫ লক্ষ টাকার কাছাকাছি। যা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব সংকটে মুখে ফেলবে।

এই ভাবে যদি দীর্ঘদিন চলতে থাকে তা হলে আমাদের চাকরির অশ্চিয়তায় পড়তে হবে এবং কোটি কোটি টাকার সার্কাস সুইং, বাম্পার কার, বাম্পার বোট, ফ্যামিলি রোলার কোস্টার, জায়ান্ট ফেরিস হুইল, ড্রাই স্লাইড, ফ্যামিলি ট্রেইন, প্যাডেল বোট, ফ্লোটিং ওয়াটার প্লে, পাইরেট শিপের মতো রাইডগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। সরকার যেন খুব দ্রুত পার্কটি খুলে দেয় তা না হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরি হারাতে পারে এবং মালিকপক্ষ ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

সামনে ঈদ আসছে যা পর্যটন ব্যবসার মূল সময় বিবেচিত হয়। এ মুহূর্তে সরকারের কাছে আবেদন সরকারী স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিনোদন পার্কগুলো খোলার পথ যেন পরিসর করা হয় যাতে বিনোদন পার্ক প্রতিষ্ঠানগুলো টিকে থাকতে পারে এবং সকলের কর্মসংস্থানে ব্যাঘাত না ঘটে। সর্বোপরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে পার্ক চালুর অনুমতি চাই আমরা।

পর্যটন ও পার্ক মালিকদের সংগঠন বাপা’র হিসেব মতে করোনার কারণে দেশের প্রায় একশটি পার্ক বন্ধ থাকায় প্রতি মাসে পঁয়তাল্লিশ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

বাপার সভাপতি শাহারিয়ার কামাল বলেন ,আমাদের সেক্টরটা যেন ডুবে না যায় এবং আমাদের যে কর্মচারীরা আছে তারা যেনো অসহায় না হয়ে পড়ে। আমাদের আয় একদম শূন্যের কোঠায়। সামনে আবার কবে আয় হবে, লোকজন আসবে কি না এইগুলোর কিছুই আমরা জানি না। সরকার সবকিছু চিন্তা করে যেনো আমাদের দিকে নজর দেয় । এই সেক্টরের  ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে প্রণোদনার ব্যবস্থার আবেদন থাকবে।

এ খাতে কর্মরত প্রায় বিশ হাজার শ্রমিকের কথা বিবেচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে পার্ক গুলো খুলে দেওয়ার দাবি সংশ্লিষ্টদের।

Premium WordPress Themes Download
Premium WordPress Themes Download
Download Best WordPress Themes Free Download
Free Download WordPress Themes
download udemy paid course for free