কাপ্তাই কায়াক ক্লাবের নিজস্ব ছয়টি রিক্রিয়েশনাল তথা বিনোদনমূলক কায়াক আছে। আগ্রহীরা নির্ধারিত মূল্যে এসব কায়াকে চড়তে পারেন।

কাপ্তাইয়ের স্বচ্ছ জলে রোমাঞ্চকর কায়াকিং

19989238-859965777512821-986167786918005514-n-221603256

নৌকার মতো দেখতে ছোট নৌযান কায়াক। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জল-জঙ্গল, হ্রদ, নদী, সমুদ্রপ্রিয় মানুষরা ছোট এই নৌযানে চড়ে এক প্রান্ত অন্য প্রান্তে যান। একে কায়াকিং বলে।

বাংলাদেশে কায়াকের ব্যবহার বেশির দিন নয়। আমজনতার কাছে এটি পরিচিতও নয়। এরপরও ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিকভাবে একে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করছে। তেমনই একটি সংগঠন ‌কাপ্তাই কায়াক ক্লাব। এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ কাপ্তাইয়ের স্বচ্ছ জলে দিচ্ছে রোমাঞ্চকর কায়াকিংয়ের সুযোগ। উদ্দেশ্য, নদীমাতৃক বাংলাদেশে কায়াকিংয়ের পরিসর বাড়ানো, কায়াকিংয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ সৃষ্টি, একে একটি খেলা বা প্রতিযোগিতার পর্যায়ে উন্নীত করা।

কাপ্তাই কায়াক ক্লাবের নিজস্ব ১০টি রিক্রিয়েশনাল তথা বিনোদনমূলক কায়াক আছে। আগ্রহীরা নির্ধারিত মূল্যে এসব কায়াকে চড়তে পারেন। পাশাপাশি দূর-দুরান্ত থেকে কায়াকিং করতে যাওয়া অতিথিদের জন্য রাতে থাকারও বন্দোবস্ত করেছে ক্লাবটি।

‘প্রশান্তি পার্ক ও পিকনিক স্পট’ নামের একটি বিনোদনকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে ক্লাবের উদ্যোগে, যেখানে পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী ফ্যামিলি কটেজ, জুমঘর, কাপল ও ব্যাচেলর রুম আছে। তিনটি কায়াক দিয়ে কায়াকিং করে বাকিটা সময় এই পার্কে পর্যটকদের গল্প করা, সময় কাটানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের মাচা, কুঁড়েঘর, দোলনা, বাগান রয়েছে। রাতে ক্যাম্পিংয়ের ব্যবস্থাও আছে।

পার্কটা কর্ণফুলী নদীর পাড়ে। আশপাশে হৃদয়জুড়ানো পাহাড় ও বাগান। পার্কের পাশে পাহাড়ের চূড়ায় একটা ওয়াচ টাওয়ার আছে, যেখান থেকে গোটা কাপ্তাইয়ের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

কায়াকিংয়ের পাশাপাশি বনভোজন, জন্মদিন, বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম), প্রাতিষ্ঠানিক বৈঠক, গান-বাজনাসহ স্বল্প খরচে নানা ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন ও উপভোগের ব্যবস্থা রয়েছে পার্কে। যারা রান্না করে খেতে চান, তাদের জন্য খড়ি ও চুলার ব্যবস্থা আছে। বার বি কিউ করার জন্য কয়লার হিটার আছে। পর্যটকদের আকর্ষণ করতে জিপ লাইন ও রিভার ক্রসিংসহ নানা ধরনের অ্যাডভেঞ্চারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

কাপ্তাই কায়াক ক্লাবের মাধ্যমে কায়াকিংয়ে আগ্রহীদের মধ্যে অনেক জিজ্ঞাসা থাকে। সেসব জিজ্ঞাসা ও উত্তর দেওয়া হলো।

প্রশ্ন: কায়াকিং কখন শুরু ও বন্ধ হয়?

উত্তর: শীতকালে সকাল ৬টায় কায়াকিং শুরু হয়, আর সন্ধ্যায় মাগরিবের আজানের সাথে সাথে তা বন্ধ হয়ে যায়।

প্রশ্ন: সাপ্তাহিক বন্ধের দিন কি বার?

উত্তর: সাপ্তাহিক কোনো বন্ধ নেই। ৭ দিনই খোলা থাকে।

প্রশ্ন: বর্তমানে প্রতি ঘণ্টা কায়াকিংয়ে ভাড়া কত? একটা কায়াকে কতজন চড়তে পারেন?

উত্তর: সাধারণত প্রতি ঘণ্টা কায়াকিংয়ে ৩০০ টাকা দরকার। একটা কায়াকে দুজন বসা যায়। বর্তমানে প্রতি ঘণ্টায় ২৫০ টাকা রাখা হচ্ছে। ছাত্রদের জন্য বিশেষ অফারে ঘণ্টায় ২০০ টাকা রাখা হয়।

প্রশ্ন: ছাড় পেতে ছাত্রদের পরিচয়পত্র দেখানো কি বাধ্যতামূলক? এক কায়াকে একজন পরিচয়পত্র দেখালে হবে?

উত্তর: পরিচয়পত্র অবশ্যই দেখাতে হবে। পরিচয়পত্র ছাড়া কোনোভাবে স্টুডেন্ট অফার প্রযোজ্য নয়। এক কায়াকে চড়তে দুজন ছাত্রকে পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। তা না হলে একজন পাবে, আর অন্যজন বঞ্চিত হবে।

প্রশ্ন: আগে বুকিং দিয়ে আসতে হয় নাকি এসে বুকিং দেওয়া যায়?

উত্তর: আগেও বুকিং দিতে পারেন বা এসেও হতে পারে। আগে বুকিং দিয়ে এলে ভালো। সে ক্ষেত্রে আসার পরপরই সিরিয়াল পাওয়া যায়। অন্যথায় বড় কোনো দল এলে বা সাপ্তাহিক বা বিশেষ বন্ধের দিনগুলোতে ভিড় থাকলে এসে সিরিয়ালের জন্য বসে থাকতে হয়। দুপুরের পর বা বিকেলে এলে অনেক সময় সিরিয়াল পাওয়া যায় না।

প্রশ্ন: অগ্রিম বুকিং দেওয়ার জন্য কী করতে হয়?

উত্তর: অগ্রিম বুকিং দেওয়ার জন্য কাপ্তাই কায়াক ক্লাবের পরিচালক ইউসুফ রানার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। তার সাথে কথা বলে বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানোর পর সেই নম্বরে (কয়জন, কত তারিখ, কোন সময় করবেন ও যে নম্বর থেকে বিকাশ করেছেন বিস্তারিত) একটা মেসেজ পাঠিয়ে দিলে বুকিং নিশ্চিত হয়ে যাবে। যোগাযোগ করতে চাইলে ০১৮৭৩-২২২২৮৬ নম্বরে কল দেওয়া যাবে।

প্রশ্ন: লোকেশন কোথায়? যাওয়ার সহজ উপায় কী?

উত্তর: লোকেশন হচ্ছে ওয়াজ্ঞা, শিলছড়ি, কাপ্তাই, রাঙামাটি। জুম রেস্টুরেন্ট ও ফ্লোটিং প্যারাডাইজের মাঝামাঝি অবস্থিত। ঢাকা থেকে সরাসরি কাপ্তাইয়ের বাস আছে। ভাড়া ৫৫০ টাকা। বাস সরাসরি কাপ্তাই নতুন বাজার চলে যায়। নতুন বাজারের ৭ কিলোমিটার আগে কাপ্তাই কায়াক ক্লাব। জুম রেস্টুরেন্টের টার্নিং পার হওয়ার সাথে সাথে কায়াক ক্লাবের সাইন বোর্ড/ বিল বোর্ড দেখবেন। সেখানে নামলে হবে।

চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে বাসে যাওয়া যায়। ৫০ কিলোমিটারের ভাড়া ৬৫ টাকা। কাপ্তাই রাস্তার মাথা বা অক্সিজেন মোড় থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে রিজার্ভ বা কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে লোকালে যাওয়া যায়।

রাঙামাটি থেকে দুটি সড়কপথ ও নৌপথে বোট নিয়েও যাওয়া যায়। লোকাল বাসে ঘাঘড়া-বড়ইছড়ি হয়ে কায়াক ক্লাবে যেতে পারেন। ভাড়া পড়বে ৫০ টাকা। আসাম বস্তি-কাপ্তাই নেভি রাস্তা দিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় লোকালে বা রিজার্ভে যাওয়া যায়। এ ছাড়া রাঙামাটি রিজার্ভ বাজার থেকে বোটে করে কাপ্তাই নতুন বাজার এসে সেখান থেকে লোকাল সিএনজিতে যাওয়া যায়।

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে সরাসরি বড়ইছড়ি যাওয়া যায়। বাস ভাড়া ১০০ টাকা। সেখান থেকে হেঁটে বা লোকাল সিএনজিতে ৫ টাকা দিয়ে কায়াক ক্লাবে যাওয়া যায়। বান্দরবান থেকে রিজার্ভ সিএনজি বা মোটরসাইকেল নিয়েও যাওয়া যায়।

প্রশ্ন: জুম রেস্টুরেন্ট ও কাপ্তাই কায়াক ক্লাব কি একই প্রতিষ্ঠান নাকি ভিন্ন?

উত্তর: দুটি আলাদা প্রতিষ্ঠান। জুমের মোড় পার হয়ে একটু সামনে গেলে কাপ্তাই কায়াক ক্লাবের সাইনবোর্ড/বিলবোর্ড/ব্যানার দেখা যায়। নতুন নির্মিত পাকা সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে যেতে হবে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে প্রথম কায়াকিং করার ব্যবস্থা চালু করেছে কি কাপ্তাই কায়াক ক্লাব?

উত্তর: হ্যাঁ, বাংলাদেশে সর্বপ্রথম বাণিজ্যিকভাবে কায়াক চালানোর ব্যবস্থা করেছে কাপ্তাই কায়াক ক্লাব।

প্রশ্ন: এই ক্লাবের কি আর কোনো শাখা আছে?

উত্তর: হ্যাঁ, প্রশান্তি পার্কে কায়াকিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া আর কোনো শাখা নাই। কেউ যদি কাপ্তাই কায়াক বলে পরিচয় দেয়, তবে সেটা জালিয়াতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Free Download WordPress Themes
Download WordPress Themes Free
Download Premium WordPress Themes Free
Premium WordPress Themes Download
free online course