খাল দখল করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পাঁচ ভবন

সম্প্রতি নকশাবহির্ভূত ভবনের তালিকা তৈরি করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এই তালিকায়ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নাম রয়েছে। নকশা অনুমোদন না নিয়ে নগরের কোতোয়ালি থানার জামালখান খালের ওপর তিনতলা ভবন নির্মাণ করেছে তারা। ভবনের একাংশে গণশৌচাগার নির্মাণ করে ইজারা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দোতলা ও তৃতীয় তলা ভাড়া দেওয়া হয়েছে একটি রেস্তোরাঁকে।

সামান্য বৃষ্টিতেই কোমরপানি জমে যাচ্ছে চট্টগ্রাম নগরে। এর জন্য নগরের খাল-নালা অবৈধভাবে দখল হওয়াকে দায়ী করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। খাল-নালা সংরক্ষণের দায়িত্ব যাদের, সেই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পাঁচটি স্থাপনা গড়ে উঠেছে খাল-নালা দখল করে। এসব স্থাপনা সরিয়ে নিতেও কোনো উদ্যোগ নেই তাদের। এর মধ্যে নগরের পানি নিস্কাশনের প্রধান মাধ্যম চাক্তাই খাল দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বাজার ও বহুতল ভবন। জলাবদ্ধতা নিরসনে এসব স্থাপনা উচ্ছেদ জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ প্রসঙ্গে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা বলেন, ‘সিটি করপোরেশন খাল ভরাট করে স্থাপনা করেছে- এমন কিছু আমাদের জানা নেই। খালের জায়গায়  যদি সিটি করপোরেশনের ভবন থেকে থাকে তাহলে সরিয়ে নেওয়া হবে।’

২০১৪ সালের ১৬ জুলাই নদী সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের এক বৈঠকে চাক্তাই খালের সীমানা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই বছরের ২০ অক্টোবর সীমানা নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করে জমা দেয় চাক্তাইখাল সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত গঠিত কমিটি। ওই তালিকায় দখলদার হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনেরও নাম রয়েছে। নগরের চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট এলাকায় চাক্তাই খাল ভরাট করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন গড়ে তুলেছে চারতলা ভবন। বর্তমানে রাজস্ব সার্কেল-২-এর কার্যালয় রয়েছে এখানে। এ ছাড়া চাক্তাই খালের ১৩ হাজার ১২৫ বর্গফুট জায়গা ভরাট করে গড়ে উঠেছে বহদ্দারহাট বাজার। বাজারটির পরিচালনায়ও রয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।

সম্প্রতি নকশাবহির্ভূত ভবনের তালিকা তৈরি করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এই তালিকায়ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নাম রয়েছে। নকশা অনুমোদন না নিয়ে নগরের কোতোয়ালি থানার জামালখান খালের ওপর তিনতলা ভবন নির্মাণ করেছে তারা। ভবনের একাংশে গণশৌচাগার নির্মাণ করে ইজারা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দোতলা ও তৃতীয় তলা ভাড়া দেওয়া হয়েছে একটি রেস্তোরাঁকে।

নগরের নন্দনকানন পাহাড় থেকে উৎপত্তি বদরখালী খাল। কোরবানীগঞ্জের বাঁশঘাটায় খালটি চাক্তাই খালের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। খালের মোহনায় সেতু। দু’পাশে খালের ওপর দ্বিতল দুটি ভবন। দেখে বোঝার জো নেই এর নিচ দিয়ে বয়ে গেছে প্রায় ২০ ফুট চওড়া একটি খাল। খাল দখল করে ভবনগুলো নির্মাণ করেছে স্বয়ং সিটি করপোরেশন। মোহনায় ভবন তৈরি করায় উজানে খালটি সরু নালায় পরিণত হয়েছে। করপোরেশনের নথিপত্রে এটি এখন উত্তর বদরখালী নালা। খাল সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকা সিটি করপোরেশনের এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

কোরবানিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, ‘বকশিরহাট এলাকায় ঘাট ছিল। গঞ্জের ব্যবসায়ীরা মালামাল বোঝাই করে নৌকায় নিয়ে যেতেন। তাছাড়া আন্দরকিল্লা, হাজারীলেন, টেরিবাজার, বক্সিরহাট, কোরবানিগঞ্জ, খাতুনগঞ্জ- এসব এলাকার পানি চলাচলের পথও এটি। সিটি করপোরেশন ভবন তৈরি করে পানি চলাচলের পথটা বন্ধ করে দিয়েছে নিজেরাই।’

এ প্রসঙ্গে নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী আলী আশরাফ বলেন, ‘খাল সংরক্ষণের দায়িত্ব চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের। তারাই যদি খালের ওপর ভবন তৈরি করে, তাহলে অবৈধ দখলদাররা আরও উৎসাহিত হবে। শিগগির খাল থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা না হলে একদিন খালগুলো চট্টগ্রামের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।’

তবে নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)। প্রকল্পটির পরিচালক ও চউকের নির্বাহী প্রকৌশলী আহমদ মঈনুদ্দিন বলেন, ‘প্রকল্পের আওতায় এখন আমরা খালগুলো পরিস্কারের কাজ করছি। যখন খালের দুই পাশে প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ ও সড়কের কাজ শুরু করা হবে, তখন অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে।’

Download Best WordPress Themes Free Download
Download Nulled WordPress Themes
Download WordPress Themes Free
Download WordPress Themes Free
free download udemy paid course