খুলনার এই হিন্দু পরিবার ভারতের এক মসজিদের আমানতদার

পরিবারটি হিন্দু। তবে এর সদস্যরা রমজানে নিয়মিত রোজা রাখেন, ইফতার করেন। প্রতিদিন সকাল-বিকেল মসজিদে যান। সকালে মসজিদ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেন। পানি ঢেলে মসজিদ মোছেন। পানির অভাব হলে তারা নিজে বালতি করে পানি এনে মুসল্লিদের অজুর ব্যবস্থা করেন। এই হিন্দু পরিবারটিই মসজিদটি রক্ষণাবেক্ষণ করেন।

পরিবারটি হিন্দু। তবে এর সদস্যরা রমজানে নিয়মিত রোজা রাখেন, ইফতার করেন। প্রতিদিন সকাল-বিকেল মসজিদে যান। সকালে মসজিদ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেন। পানি ঢেলে মসজিদ মোছেন। পানির অভাব হলে তারা নিজে বালতি করে পানি এনে মুসল্লিদের অজুর ব্যবস্থা করেন। এই হিন্দু পরিবারটিই মসজিদটি রক্ষণাবেক্ষণ করেন।

বলা হচ্ছে, ভারতে দেশান্তরী খুলনার বসু পরিবারের কথা। এ পরিবারটির সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জাড়িয়ে গেছে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতের পশ্চিম ইছাপুরের সেই ‘আমানতি মসজিদ’।

দীপক বসুর বয়স এখন ৭০। খুলনার ফুলতলার আলকা গ্রামে তার আদিবাস। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাক যুদ্ধের সময় পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাতে তিনি চলে যান।

সে সময় ওই জায়গার মালিক ছিলেন মোড়ল শেখ ওয়াজি উদ্দিন মোল্লা। তার সঙ্গে জমি বিনিময় করেন দীপক বসুর বাবা নীরদ কৃষ্ণ বসু। তিনি এক সময় চট্টগ্রামে সরকারি চাকরি করেছেন।

তিনিই খুলনার গ্রামের ৭০ বিঘা জমির বিনিময়ে বারাসাতের ১৬ বিঘা জমি পান। আর এই জমিতেই ছিল শত বছরের পুরনো একটি মসজিদ। দীপক বসুর পরিবার মসজিদটি রক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন।

বারাসাত ডাকবাংলোর মোড় থেকে মসজিদটিতে যেতে ১০ মিনিটের মতো সময় লাগে। আশপাশে কোনো মুসলমানও নেই। মসজিদের পাশে চলতে-ফিরতে কপালে হাত ঠেকান অমুসলমানরা। কেউ কেউ মসজিদের পাশের পুরনো বাদামগাছটার বাঁধানো বেদিতে মোমবাতি জ্বালান। আবার অনেকে ইফতারের আগে রাস্তার কল থেকে পানি ভরে আনেন।

খুলনার ফুলতলার আলকাগ্রামের বোসেদের জীবনে গভীর ঘা রেখে গিয়েছিল তখনকার এক ঘটনা। নিজেদের বাঁচাতে টানা ১১ দিন দফায় দফায় পুকুরে ডুব দিয়ে মুখটুকু তুলে লুকিয়ে ছিলেন এ বাড়ির ছেলে মৃণালকান্তি। নীরদকৃষ্ণের সেজ ছেলে নারায়ণকৃষ্ণকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল রাজাকাররা।

এ ঘটনায় গলায় দড়ি দেন তার স্ত্রী গৌরী। নীরদকৃষ্ণ ও তার ভাই বিনোদবিহারীর সন্তানরা এরপরই বারাসাতের ওয়াজুদ্দিন মোড়লের বিশাল সম্পত্তি পাল্টাপাল্টি করে এপারে চলে আসেন।

বসুদের পারিবারিক সংস্কৃতির সঙ্গেও এ মসজিদ জড়িয়ে রয়েছে। বাড়ির কেউ মারা গেলে তাকে মসজিদে নিয়ে আসা হয়। শ্মশানে শেষযাত্রার আগে আজান দেন ইমাম। এছাড়া বিয়ের পরে নতুন বউকেও শ্বশুরবাড়ি ঢোকার আগে মসজিদে এসে দোয়া নেন।

আর এ বাড়িতে নবজাতকের অন্নপ্রাশনের দস্তুর নেই। তার বদলে মসজিদে ইমাম সাহেবের হাতে একটু পায়েস খাওয়ার রীতি প্রচলিত রয়েছে। সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ও বিদ্বেষের উসকানির কাছে হার না মানা পারিবারিক মূল্যবোধেরও আমানত এই মসজিদ প্রাঙ্গণ।

দীপক বসুর ছেলে পার্থ সারথী বসু পিতার পথেই হাঁটছেন। সেও মসজিদটির দারুণ ভক্ত। প্রতিবছরই রোজা রাখেন। প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজে হাজির থাকেন। রমজানে সবার সঙ্গে ইফতারও করেন। মাথায় রুমাল বেঁধে যথারীতি প্রার্থনাও করেন আর সব রোজদারের সঙ্গে।

Download WordPress Themes Free
Free Download WordPress Themes
Free Download WordPress Themes
Download WordPress Themes Free
online free course