খেলনা পাতিলে ‘খিচুড়ি রেঁধে’ মায়ের জন্য কাঁদছে তুবা

রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় ‘ছেলেধরা’সন্দেহে গণপিটুনিতে হত্যার শিকার তাসলিমা বেগম রেনুর ছোট্ট মেয়ে তাসমিন মাহিরা তুবার ঈদ করেছে মাকে ছাড়াই। চার বছর বয়সী তুবা ঈদের দিন মায়ের জন্য খিচুড়ি রেঁধেছে। খেলনা পাতিলে রান্না করা ওই খিচুরি নিয়ে মায়ের অপেক্ষায় প্রহর গুণেছে। দিনভর মায়ের আশায় বসে থেকে খিচুরি না খাওয়াতে পেরে কান্না করেছে বারে বারে। তুবার চোখের পানিতে বুক ভিজেছে তার স্বজনদেরও।

রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় ‘ছেলেধরা’সন্দেহে গণপিটুনিতে হত্যার শিকার তাসলিমা বেগম রেনুর ছোট্ট মেয়ে তাসমিন মাহিরা তুবার ঈদ করেছে মাকে ছাড়াই। চার বছর বয়সী তুবা ঈদের দিন মায়ের জন্য খিচুড়ি রেঁধেছে। খেলনা পাতিলে রান্না করা ওই খিচুরি নিয়ে মায়ের অপেক্ষায় প্রহর গুণেছে। দিনভর মায়ের আশায় বসে থেকে খিচুরি না খাওয়াতে পেরে কান্না করেছে বারে বারে। তুবার চোখের পানিতে বুক ভিজেছে তার স্বজনদেরও।

তুবা এর আগে প্রতিটি ঈদ করেছে মায়ের সঙ্গে। এবারই প্রথম ঈদে মায়ের স্নেহ বঞ্চিত হয়েছে সে। তাই তার কষ্টের শেষ নেই।

ছোট্ট শিশুটি মায়ের মৃত্যুর খবর এখনও জানে না। জানবে কি, মৃত্যু কি সে তো এখনই বুঝেই না। সে জানে মা যুক্তরাষ্ট্র গেছে। সেখান থেকে তার জন্য খেলনা ও চকলেট নিয়ে আসবে। তাই ঈদের দিনে খেলনা বাটিতে খিচুড়ি রান্না করে মায়ের অপেক্ষায় কাটিয়ে দিয়েছে দিন।

সোমবার সন্ধ্যায় মহাখালীর ওয়ারলেস গেট এলাকায় রেনুদের বাসায় খেঁাজ নিয়ে জানা গেছে, খেলনা চুলায় ছোট্ট রান্নার হাঁড়ি চড়িয়ে ব্যতিব্যস্ত ছিল সে। কী রাঁধছ কেউ জানতে চাইলে জবাব দেয়, ‘খিচুড়ি’। তুবার বিশ্বাস মা আমেরিকা থেকে এসে তার রান্না করা খিচুড়ি খাবে।

তুবার খালা নাজমুন নাহার নাজমা জানান, খেলনা ফোনটা কানে দিয়ে মায়ের সঙ্গে একা একাই কথা বলে তুবা। ওর এমন আচরণে বুকটা ছিড়ে যায়। কিন্তু ছোট্ট মেয়ের সামনে কাঁদতেও পারি না।

ছোট্ট তুবাকে ভর্তির জন্য বাড্ডার একটি স্কুলে খোঁজ নিতে গিয়েই ২১ জুলাই ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তাসলিমা বেগম রেনু (৪০)। রোববার লক্ষ্মীপুরের রায়পুরার সোনাপুর গ্রামে তার দাফন হয়েছে। মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি ঠিকই টের পেয়েছে তাহসিন। কিন্তু নাছোড়বান্দা তুবা। মায়ের কথা মনে পড়লেই ঢুকরে কাঁদছে।

প্রসঙ্গত শনিবার সকালে বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসেন তাসলিমা বেগম। তার দুই সন্তানের ভর্তির বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে স্কুলের গেটে কয়েকজন নারী তাসলিমার নাম-পরিচয় জানতে চান। পরে লোকজন তাসলিমাকে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নেন। কিছুক্ষণের মধ্যে বাইরে কয়েকশ লোক একত্র হয়ে তাসলিমাকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ থেকে বের করে নিয়ে যায়। স্কুলের ফাঁকা জায়গায় এলোপাতাড়ি মারপিট করে গুরুতর জখম করে। পরে উদ্ধার করে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন তিনি মারা যান। এ ঘটনায় তাসলিমার বোনের ছেলে সৈয়দ নাসিরউদ্দিন বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় অজ্ঞাতনামা চারশ থেকে পাঁচশ মানুষকে আসামি করে মামলা করেন।

Premium WordPress Themes Download
Download Premium WordPress Themes Free
Download Nulled WordPress Themes
Download WordPress Themes
free download udemy course