এর মাধ্যমে অভিজ্ঞ টেলিকম ইঞ্জিনিয়াররা চাকরি ক্ষেত্রে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে যাচ্ছেন। ৬০০ কর্মীর চাকরি বাঁচাতে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে গ্রামীণফোনের জেনারেল এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন।

গ্রামীণফোনে সিডিসি প্রজেক্ট আতঙ্ক: চাকরি হারাতে পারেন ৬০০ কর্মী

সিডিসি নামে নতুন একটি প্রজেক্ট চালু করতে যাচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে টেকনোলজি বিভাগের প্রায় ছয় শতাধিক কর্মীকে অন্য একটি আইটি কোম্পানিতে ট্র্যান্সফার করার কথা চলছে।

এর মাধ্যমে অভিজ্ঞ টেলিকম ইঞ্জিনিয়াররা চাকরি ক্ষেত্রে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে যাচ্ছেন। ৬০০ কর্মীর চাকরি বাঁচাতে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে গ্রামীণফোনের জেনারেল এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন।

এরই অংশ হিসেবে শনিবার গ্রামীণফোনের সাধারণ চাকরিজীবীদের সম্মিলিত উদ্যোগে ইঞ্জিনিয়ার ইন্সটিটিউটের প্রেসিডেন্ট মো. আবদুস সবুর, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী খন্দকার মঞ্জুর মোরশেদ ও সহসভাপতি প্রকৌশলী এস এম মঞ্জুরুল হকসহ কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে গ্রামীণফোনের টেকনোলজি ডিভিশিনের চাকরিজীবীদের চাকরির নিশ্চয়তা ও অধিকার বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গ্রামীণফোন সাধারণ চাকরিজীবীদের পক্ষে সিডিসি প্রজেক্ট নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন জেনারেল এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের সভাপতি এবং ইউনাইউটেড টেকনোলজি ডিভিশনের আহবায়ক আহমেদ মঞ্জুরুদ্দৌলা।

প্রকৌশলী আতিকুজ্জামান মির্জা, প্রকৌশলী মীর ইফতিয়ার হোসেন ইফতি ও জেনারেল এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত দাশ খোকন, জিপিপিসির চেয়ারম্যান মিয়া মাসুদ এবং প্রকৌশলী রুহুল আজম উক্ত মতবিনিময় সভায় গ্রামীণফোনের সাধারণ চাকরিজীবীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা গ্রামীণফোনের সিডিসি প্রজেক্টের বাস্তবতা তুলে ধরে বলেন, সিডিসি প্রজেক্ট বাস্তবায়িত হওয়া মানে গ্রামীণফোনের টেকনোলজি ডিভিশনের কর্মরত ছয় শতাধিক প্রকৌশলীর চাকরি চলে যাওয়া।

কারণ সিডিসি প্রজেক্টের মাধ্যমে গ্রামীণফোন টেকনোলজি ডিভিশনের কাজ অন্যকোন কোম্পানিকে দিয়ে দিবে। অথচ আজকের গ্রামীণফোন তৈরি হয়েছে প্রকৌশলীদের দুই দশকের অক্লান্ত পরিশ্রমে।

গ্রামীণফোনের এই সিডিসি প্রজেক্ট কর্মরত প্রকৌশলীদের চাকরির অনিশ্চয়তার তৈরি করেছে। সিডিসি প্রজেক্টের মাধ্যমে চাকরিচ্যুত করার প্রচেষ্টা বাংলাদেশ শ্রম আইনের পরিপন্থী। কারণ শ্রম আইনে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির চাকরিজীবীকে অন্যকোন কোম্পানিতে স্থানান্তরের বিধান আইনে নেই।

তাছাড়া গ্রামীণফোন ব্যবসা সফল প্রতিষ্ঠান। কোন যুক্তিতেই গ্রামীণফোন চাকরিচ্যুত করতে পারবে না তার কর্মীদের। অথচ ২০১২ সাল থেকে বিভিন্ন পন্থায় গ্রামীণফোন কর্মীদের চাকরিচ্যুত করে চলেছে বলে অভিযোগ করা হয়। ২০১২ সালে গ্রামীণফোনে কর্মী ছিল পাঁচ হাজারের বেশি কর্মী অথচ ২০১৮ সালে এসে কর্মী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র দুই হাজার ৩০০ জন।

সিডিসি প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করতে পারলে গ্রামীণফোনের শুধু কর্মী সংখ্যা কমবে না, এই প্রজেক্ট সার্বিকভাবে দেশের রাজস্ব কমবে বলে উল্লেখ করেন তারা। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান হওয়ায় বাকী সকল বেসরকারি তথা কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবেই এই মডেল অনুসরণ করবে।

যেখানে স্থায়ী প্রকৃতির কাজ চলে সেখানে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কাজ করাবে কোম্পানিগুলো। বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে যা কোনভাবেই কাম্য নয় বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।

সিডিসি প্রজেক্ট বন্ধে বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের অভিভাবক সংগঠন বাংলাদেশে ইঞ্জিনিয়ার ইন্সটিটিউটের প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর নেতৃতবাধীন নির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দের সাহায্য সহযোগিতা কামনা করেন গ্রামীণফোনের কর্মরত প্রকৌশলীরা।

ইঞ্জিনিয়ার ইন্সটিটিউটের সভাপতি তাঁর বক্তব্যে গ্রামীণফোনে কর্মরত প্রকৌশলীদের অভিনন্দন জানান তাঁদের টেলিকম শিল্পের অবদান রাখার জন্য। ইঞ্জিনিয়ার ইন্সটিটিউটের সভাপতি প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর বলেন, আমি এবং আমাদের কার্যনির্বাহী কমিটি সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবো গ্রামীণফোনের চাকরিজীবীদের চাকরি রক্ষায়।

প্রকৌশলীদের অধিকার রক্ষায় ইঞ্জিনিয়ার ইন্সটিটিউট সবসময়ই প্রকৌশলীদের চাকরি রক্ষায় অবদান রাখবে বলেও প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর উল্লেখ করেন।

Download Best WordPress Themes Free Download
Download WordPress Themes
Download Best WordPress Themes Free Download
Download Nulled WordPress Themes
udemy paid course free download