ঘরের ভেতর উজ্জ্বল রঙ

পৃথিবীতে এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে রঙ নেই। মনে রাখতে হবে যেখানে রঙের অভাব সেখানেও সৃষ্টি হয় একটি রঙ যাকে আমরা কালো বলি। ঘর সাজাতেও রঙের ব্যবহার বিশ্বজুড়ে। তবে ঋতু বৈচিত্র্যের এ দেশে আমরা গ্রীষ্ম প্রধান বলে বেশির ভাগ সময় ঠাণ্ডা রঙ পছন্দ করি। জাতিগতভাবে আমাদের ভেতরে রঙের প্রভাব সবসময় কাজ করে না। তাই ঘরের ভেতর খুব বেশি রঙের ব্যবহার আমাদের ঐতিহ্যে নেই। তবে এখন আমরা যতো বেশি ইন্টেরিয়র সচেতন হচ্ছি ততো বেশি রঙের ব্যবহার বাড়ছে।

পৃথিবীতে এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে রঙ নেই।

মনে রাখতে হবে যেখানে রঙের অভাব সেখানেও সৃষ্টি হয় একটি রঙ যাকে আমরা কালো বলি। ঘর সাজাতেও রঙের ব্যবহার বিশ্বজুড়ে।

তবে ঋতু বৈচিত্র্যের এ দেশে আমরা গ্রীষ্ম প্রধান বলে বেশির ভাগ সময় ঠাণ্ডা রঙ পছন্দ করি।

জাতিগতভাবে আমাদের ভেতরে রঙের প্রভাব সবসময় কাজ করে না। তাই ঘরের ভেতর খুব বেশি রঙের ব্যবহার আমাদের ঐতিহ্যে নেই।

তবে এখন আমরা যতো বেশি ইন্টেরিয়র সচেতন হচ্ছি ততো বেশি রঙের ব্যবহার বাড়ছে।

ঘর সাজাতে হালকা রঙের ব্যবহার স্বীকৃত হলেও উজ্জ্বল রঙ যে ব্যবহার করা যাবে না তা কিন্তু নয়।

টিভি নাটক কিংবা সিরিয়াল দেখে আমাদের কল্পনাশক্তিতে ঘরের ভেতর এখন লাল, কমলা, নীল, সবুজ ইত্যাদি নানা উজ্জ্বল রঙ স্থান করে নিয়েছে।

শুধু দেয়ালের রঙে নয় বরং নতুন নতুন ফেব্রিক বাজারে আসছে চোখ ধাঁধানো রঙের বাহার নিয়ে।

ইন্টেরিয়রে কোন রঙ ব্যবহার করবেন এবং কেন করবেন তা নিয়ে আসুন খানিকটা ভেবে দেখি।

রঙের ধরন

ঘরের ভেতর রঙ ব্যবহারের আগে রঙের উত্তাপ সম্পর্কে জানা উচিত। ভাবতে পারেন রঙের আবার উত্তাপ হয় কিভাবে! রঙেরও ভাষা আছে।

কোনো কোনো রঙ দেখে মনে হয় এ যেন তাপদাহ, কখনো তা ঠাণ্ডা শীতল স্পর্শ। আমাদের চারদিকে যে রঙ তার কোনোটা গরম কোনোটা শীতল।

যেমন লাল, কমলা, হলুদ রঙ গরম অনুভূতি দেয় আর সবুজ ও নীল রঙ শীতল অনুভূতি দেয়।

নীল ও সবুজ রঙ দেখলেই খোলা নীল আকাশ আর খোলা মাঠের সবুজকে মনে পড়ে। তাই একটা ছায়াশীতল অনুভূতি আমাদের স্পর্শ করে যায়।

অন্যদিকে লাল, কমলা, হলুদ ইত্যাদি রঙ সূর্য কিংবা আগুনের স্পর্শ দেয়।

ঘরের ভেতর যদি শান্তিময় স্পর্শ দিতে চান তবে এই রঙের বিন্যাস নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে খানিকটা।

রঙের মেজাজ

ঘরে ঢুকেই যদি গিন্নির মেজাজ চড়া থাকে তবে দেয়ালের রঙ কিংবা ফেব্রিক তার মাঝে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।

আবার বাইরের হাওয়ার শীতল পরশ যদি ঘরের রঙে মেলে তবে যে কোনো উত্তপ্ত মস্তিষ্ক মুহূর্তেই ঠাণ্ডা হয়ে যেতে পারে।

আপনার ঘরের রঙ বাইরের মানুষকে আপনার মেজাজের জানান দিয়ে দেয়।

যদি আপনার ঘরের ইন্টেরিয়রে উজ্জ্বল রঙ প্রাধান্য পায় তবে ধরে নিতে হবে আপনি চলনে আধুনিক, বলনে আগ্রাসী, বসনে স্টাইলিস্ট আর অতিথি আপ্যায়নে রঙিন একজন।

মেজাজ তৈরি বা মেজাজ পরিবর্তনে রঙের যে একটা ভূমিকা আছে তা গবেষণাতেও প্রমাণ পাওয়া গেছে।

দেখা গেছে আনন্দ, আশা, হতাশা, আকাক্সক্ষা, দুঃখবোধ ইত্যাদি আবেগের নানা শ্রেণীবিভাগ জাগিয়ে তুলিতে সক্ষম রঙের নানা ব্যবহার।

তাই ঘরের ভেতর রঙ ব্যবহার করতে হলে আবেগের মূল্য দিয়ে তা যাচাই করে নিতে হবে।

অন্দর সজ্জার সময় মনে রাখবেন হলুদ রঙ এবং হলুদের অধিকাংশ শেড নিয়ে আসে খুশির আমেজ।

সোনালি রঙেও একই এফেক্ট পাওয়া যায়, একই সঙ্গে থাকে ঐশ্বর্যের ধারা। কমলা রঙ আনন্দ আনে একই সঙ্গে আনে একটা গরম অনুভূতি।

এসব রঙ খুশির অনুভূতির পাশাপাশি নিউট্রাল কালার হিসেবেও কার্যকরী। অন্যদিকে লাল রঙ আদিম প্যাশনের প্রতীক।

প্রেম, আকাক্সক্ষা দুনির্বার ইচ্ছাশক্তির সবটুকুই আছে লাল রঙের প্রতিটি কণায়। লাল আনন্দ আনে তাই শান্তি আনে না।

যদি লালের প্রতি আপনার ভক্তি থাকে তবে লাল রঙ ব্যবহার করুন অন্য রঙের সঙ্গে সহায়ক শক্তি হিসেবে।

যেমন লালের সঙ্গে গোলাপির বসবাস আপনাকে দেবে শক্তির সঙ্গে রোমান্সের সম্পর্ক। আপনি হয়ে উঠবেন আরো বেশি রোমান্টিক।

আর লালপ্রেমী নন কিন্তু রহস্যময়ী তাদের জন্য বেগুনি কিংবা বেগুনির নানা শেড কাজ করবে আরো ব্যাপকভাবে।

এছাড়াও রঙের আছে আরো ভুবন। যেমন নীল রঙ মানেই শান্ত ও রোমান্টিক পরিবেশ। সবুজ আনে তাজা ও ঝরঝরে অনুভূতি।

বাদামির বিভিন্ন শেড, চকোলেট, কাঠের নিজস্ব রঙ আনে প্রকৃতি আর রুচির সমন্বয়।

সাদাকালো এবং ধূসর রঙ ঠাণ্ডা আমেজ নিয়ে আসে এবং নিউট্রাল কালার হিসেবে পরিচিতি দেয়। কালো রঙের ব্যবহারে রহস্যময়তা তৈরি হয়।

বুদ্ধির সঙ্গে কালো রঙ ব্যবহার করলে ঘরের পরিবেশে নাটকীয় পরিবর্তন নিয়ে আসা যায়।

সাদা, অফ হোয়াইট, ক্রিম রঙের ব্যবহার ক্লাসিক, অভিজাত, বিলাসী ইত্যাদি নানা মিশ্র অনুভূতি দেয়।

রঙের বাহার

রঙ সম্পর্কে একটি ধারণা তৈরি হওয়ার পর যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায় তা হচ্ছে রঙ ছড়িয়ে দেয়া।

ঘরের ভেতর রঙ ব্যবহৃত হয় এমন উপাদান অনেকগুলো, যেমন ফ্লোরিং, জানালা, দরজা, পর্দা, দেয়াল, বেড কাভার, ফার্নিচার সবকিছুর জন্য রঙ হতে পারে ভিন্ন ভিন্ন স্বপ্নের সন্ধান দানকারী।

রঙ বাছাইয়ের পূর্বে রঙ কতোগুলো নেবেন তাই নিয়ে ভাবতে হবে।

কেননা ঘরের ভেতর রঙের বাজার বসিয়ে আপনার লাভ নেই যদি না এশিয়ান পেইন্ট কিংবা বার্জারের ডিরেক্টর তা দেখতে আসেন।

আপনার ঘর আপনার, তবুও আপনার ঘরে অন্যের রুচির প্রভাব ফেলে।

তাই রঙ করতে হলে একটি দুটি কিংবা তিনটির বেশি রঙের উপাদান ভাববেন না।

মনে রাখবেন রঙের সমন্বয় যেমন গ্রামার মেনে হয় তেমনি রুচি মেলালেও গ্রামার তৈরি হয়।

আপনার মুড, ঘরের আসবাবের ধরন, ঘরের সাইজ, টাইলস বা দেয়ালের ধরন ইত্যাদি আপনার রঙ সিলেকশনে ভূমিকা রাখবে।

ফ্ল্যাট বা বাড়ি যাই হোক না কেন রঙ বাছাইয়ে তার মাপের ওপর খেয়াল রাখতে হবে।

যেকোনো স্থান আয়তনে কিছুটা বড় দেখায় বারবার একই রঙের ব্যবহারে।

আবার শীতল রঙ ব্যবহার করলে স্পেস কিছুটা হলেও চোখের আয়তনে বেড়ে যায়।

Download WordPress Themes Free
Download Best WordPress Themes Free Download
Download WordPress Themes Free
Premium WordPress Themes Download
udemy course download free