যারা মেঘ, পাহাড়, পর্বত এবং ঝরনা ভালোবাসেন তাদের জন্য মেঘালয় আদর্শ গন্তব্য।

ঘুরে আসুন মেঘালয়

jafolong

১৬ কোটি মানুষের ছোট্ট এই দেশে ভ্রমণ গন্তব্য সীমিত। অনেকেই কক্সবাজার, রাঙামাটি, সুন্দরবন আর সিলেট ঘোরা শেষ করে বেড়াতে যাওয়ার মতো গন্তব্য খুঁজে পান না। অনেকের পক্ষেই আবার সম্ভব হয় না দেশের পাহাড়ি অঞ্চলে দুর্গম ঝরনাগুলোতে গা ভেজাবার। তাই প্রতিবেশী দেশের মেঘালয় ইদানীং বেশ জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলং জনপ্রিয় একটি পর্যটন শহর। প্রায় ৬,০০০ ফিট উচ্চতায় অবস্থিত শিলং শহর এবং তার আশপাশে দেখার জন্য অনেক সুন্দর জায়গা আছে। বিশেষত যারা পুরো পরিবার নিয়ে স্বল্প খরচে দেশের বাইরে ঘুরতে যান, তারা শিলংকে বেছে নিতে পারেন। পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয় চেরাপুঞ্জিতে, যা মেঘালয় রাজ্যের অন্তর্গত। যারা মেঘ, পাহাড়, পর্বত এবং ঝরনা ভালোবাসেন তাদের জন্য মেঘালয় আদর্শ গন্তব্য।

মেঘালয় বা শিলং যাওয়ার জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক স্থলবন্দর হচ্ছে তামাবিল-ডাউকি বন্দর। বন্দর পার হলেই ডাউকি বাজার। এখান থেকে আপনি শেয়ার জিপে মাত্র ১২০ রুপিতেই যেতে পারবেন শিলং শহরে। আবার ডাউকি বন্দর বা ডাউকি বাজার—উভয় জায়গাতেই গাড়ি ভাড়া পাবেন। চারজন সদস্যের দল হলে গাড়ি ভাড়া করাই ভালো।

শিলংয়ের আশপাশে দেখতে পাবেন

  • শিলং পিক
  • লেডি হায়দারী পার্ক
  • ওয়ার্ডস লেক
  • গলফ কোর্স
  • স্টেট মিউজিয়াম
  • উমিয়াম লেক
  • এলিফ্যান্ট ফলস ইত্যাদি

শিলং থেকে এক দিনের জন্য ঘুরে আসতে পারেন সোহরা বা চেরাপুঞ্জি। শিলং থেকে সারাদিনের জন্য ট্যাক্সি ভাড়া নেবে ১৮০০ থেকে  ২৫০০ রুপি । আপনাদের কাঙ্ক্ষিত জায়গাগুলো ঘুরিয়ে আবার শিলং শহরে ফেরত নিয়ে আসবে।

সোহরাতে দেখতে পাবেন

  • দেওয়ান সিং সিয়াম ভিউ পয়েন্ট
  • ওয়াহকাবা ফলস
  • রামকৃষ্ণ মিশন
  • নুহকালিকাই ফলস
  • মুহসেমাই গুহা
  • আরাওয়া গুহা
  • সেভেন সিস্টার্স ফলস
  • কিনরেম ফলস
  • ডাবল ডেকার লিভিং রুট ব্রিজ
  • রেইনবো ফলস ইত্যাদি

ডাবল ডেকার লিভিং রুট ব্রিজ এবং রেইনবো ফলস দেখতে চাইলে একটা রাত সোহরাতে থাকা সুবিধাজনক। সোহরাতে অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য রয়েছে জিপ লাইনের ব্যবস্থা। গাড়ির ড্রাইভাররা অনেক সময় ধূর্ততার আশ্রয় নেন এবং সব দর্শনীয় জায়গায় নিয়ে যান না। তাই যাওয়ার আগে জেনে যান কোথায় যেতে চাচ্ছেন।

শিলং থেকে দেশে ফেরার দিন একটা গাড়ি ভাড়া করে নিয়ে ঘুরতে পারেন ডাউকি। যা যা দেখতে পারেন ডাউকিতে—

  • মাওলিংনং, যা এশিয়ার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম হিসেবে পরিচিত
  • লিভিং রুট ব্রিজ
  • উমঙ্গট বা ডাউকি নদীর ধারে সোনেংপেডেং গ্রাম
  • বরহীল ঝরনা, যা আমাদের দেশে পান্তুমাই নামে পরিচিত।

মেঘালয়ের ঝরনাগুলোতে ভালো পানি পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই বর্ষার সময় যেতে হবে। অন্য সময় বেশির ভাগ ঝরনাই শুকনো খটখটে থাকে। মেঘালয় ভ্রমণের আগে দর্শনীয় জায়গাগুলো সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন এবং গুগল ম্যাপে অবস্থানগুলো ভালোভাবে বুঝে নিন, তাহলে মেঘালয় ভ্রমণ অনেক সহজ আর উপভোগ্য হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Download WordPress Themes
Premium WordPress Themes Download
Download Best WordPress Themes Free Download
Download WordPress Themes Free
free online course