চট্টগ্রামে অধিকাংশ ক্লিনিক হাসপাতাল বন্ধ

বৃহস্পতিবার নগরীর শেভরণ, সিএসসিআর, মেডিক্যাল সেন্টার, ম্যাক্স, মেট্রোপলিটন, রয়েল ও বেলভিউ হাসপাতালে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, এসব হাসপাতালে অবস্থিত চিকিৎসকদের চেম্বারে রোগী দেখা বন্ধ।

করোনাভাইরাসের প্রভাবে চট্টগ্রামের অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক ‘অঘোষিত’ভাবে বন্ধ। যদিও অনেক হাসপাতালের মূল ফটক খোলা রয়েছে।

তবে নেই চিকিৎসাসেবা দেয়ার কেউ। ফলে চিকিৎসা নিতে গেলেও এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরছেন রোগীরা। চিকিৎসা না পেয়েই ফিরে আসতে হচ্ছে তাদের।

চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে পিপিই সরবরাহ হওয়ায় এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এমনটাই জানিয়েছেন চট্টগ্রাম হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক মালিক সংগঠনের নেতারা।

এদিকে করোনাভাইরাস ঝুঁকিতে হাসপাতালে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ জ্বর ও সর্দি-কাশির রোগীরা। করোনার উপসর্গ মনে করে এসব রোগী থেকে দূরত্বে থাকছেন দায়িত্বরতরা।

রোগ যদি জ্বর-সর্দি হয় তাহলেই ‘করোনা সাসপেকটেড’ লিখে জেলার সীতাকুণ্ড থানায় ফৌজদারহাটে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি) পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। নগরীর বেশ কয়েকটি নামি-দামি বেসরকারি হাসপাতাল ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

চট্টগ্রাম হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, নগরীতে ছোট-বড় ৫০টি বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে। পাশাপাশি রোগ নিরূপণে আরও ৫০-৫৫টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে।

এসব চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ব্যক্তিগত চেম্বার আছে। কোনো কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অর্ধশত চেম্বারও রয়েছে। তবে করোনাভাইরাসের প্রভাবে চিকিৎসকদের এসব চেম্বার বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের সামনে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক জর, সর্দি-কাশি রোগীর চিকিৎসায় নির্দিষ্ট হাসপাতালের তালিকা ঝুলিয়ে রাখতে দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার নগরীর শেভরণ, সিএসসিআর, মেডিক্যাল সেন্টার, ম্যাক্স, মেট্রোপলিটন, রয়েল ও বেলভিউ হাসপাতালে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, এসব হাসপাতালে অবস্থিত চিকিৎসকদের চেম্বারে রোগী দেখা বন্ধ।

শুধু তাই নয়, ফ্লু এবং শ্বাসকষ্টজনিত কোনো রোগী এলেই তাদেরকে বিআইটিআইডি কিংবা চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে যেতে বলা হচ্ছে রিসিপশন থেকেই।

তবে হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সহযোগীরা বলছেন, জরুরি রোগী থাকলে ডাক্তার আসবেন। এছাড়া যারা আছেন তারা রোগীদের কাউন্সেলিং করেন।

রোগী নিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল লিমিটেডে যান আমিরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। তবে ডাক্তার দেখাতে না পেরে ফিরে আসতে হয় তাকে।

তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে আমার মা জ্বরে ভুগছেন। এখানে এসেছিলাম ডাক্তার দেখাতে। এসে দেখি ডাক্তারের চেম্বার বন্ধ। এর আগে শেভরণে গিয়েও ডাক্তার পাইনি।

এখন কী করব বুঝতে পারছি না।’ চট্টগ্রাম হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও ম্যাক্স হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. লিয়াকত আলী খান বলেন, করোনা আতঙ্কে সর্দি-কাশির রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছেন না চিকিৎসকরা।

এতদিন চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রীর সরবরাহ ছিল না। কারণ একজন চিকিৎসক যদি করোনা আক্রান্ত হন তাহলে তো ‘মেসাকার’ হয়ে যাবে।

তাছাড়া চিকিৎসকদের প্রাইভেট চেম্বারগুলোতেও মানুষের সমাগম বেশি হয়। করোনা প্রতিরোধে তারা আপাতত চিকিৎসা সেবা দেয়া থেকে বিরত রয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে বিভিন্ন মাধ্যমে চিকিৎসকদের জন্য পিপিই সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে এ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে যাবে। হাসপাতালগুলোতে এখন রুটিন অপারেশনগুলো আপাতত হচ্ছে না। শুধু জরুরি অপারেশন হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘হাসপাতালে রোগী ভর্তি নিশ্চিত করেতে বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার নেতাদের সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ’

Download WordPress Themes
Premium WordPress Themes Download
Download Best WordPress Themes Free Download
Download Nulled WordPress Themes
download udemy paid course for free