জন্মদিনে অতিমানবীয় জ্যাকি চ্যানের অজানা ২০ তথ্য

১৯৫৪ সালের ৭ এপ্রিল হংকং এ জন্মগ্রহণ করেন জ্যাকি চ্যান। তিনি একাধারে মার্শাল আর্টিস্ট, অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, গায়ক এবং স্টান্ট ম্যান। তিনি অনন্য মার্শাল আর্ট এবং উদ্ভাবনী স্টান্টের মাধ্যমে হলিউডে বেশ শক্ত একটি জায়গা দখল করে রেখেছেন। 

১৯৫৪ সালের ৭ এপ্রিল হংকং এ জন্মগ্রহণ করেন জ্যাকি চ্যান। তিনি একাধারে মার্শাল আর্টিস্ট, অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, গায়ক এবং স্টান্ট ম্যান। তিনি অনন্য মার্শাল আর্ট এবং উদ্ভাবনী স্টান্টের মাধ্যমে হলিউডে বেশ শক্ত একটি জায়গা দখল করে রেখেছেন।

১৯৬০ সালে তিনি চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন এবং প্রায় ১৫০ টির মত চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। বিনোদন জগতের এই বিশাল ক্যারিয়ারে সাফল্য এবং অবদান নেহাতই কম নয় তার। নিজের ঝুলিতেও অর্জন করেছেন একাডেমিক এওয়ার্ড এর মত বড় বড় পুরস্কার।

জ্যাকি চ্যানকে ভক্তরা পছন্দ করে তার অ্যাকশান স্টাইলের জন্য,তার শ্বাস বন্ধ করে দেয়া স্টান্টস এর জন্য এবং তার চমৎকার কমেডির জন্য। আজ জ্যাকি চ্যানের ৬৫ তম জন্মদিনে জেনে নেই তার ক্যারিয়ার এবং অল্প সংখ্যক কিছু ব্যাক্তিগত জীবন এবং স্টান্টসের ২০ টি তথ্য।

১. জ্যাকি চ্যানের যখন জন্ম হয় তখন তার বাবার আর্থিক অবস্থা অনেক খারাপ ছিল,যেকারনে তার বাবা জ্যাকি চ্যানকে বিক্রি করে হসপিটালের টাকা পেইড করার সিদ্ধান্ত নেয়,কিন্তু জ্যাকি চ্যানের বাবার একজন বন্ধু এসে তাকে বাধা দেয়।

২. Drunken Master (1978) মুভিতে জ্যাকি চ্যান তার বাম চোখ প্রায় হারিয়ে ফেলেছিল,ঝ্যাং লির একটি কিকে। কিন্তু ভাগ্যবসত সে অল্পের জন্য বেচে যায়।

৩. Project A II (1987)  মুভির এক দৃশ্যে দেখায় জ্যাকি চ্যান লাল মরিচ খায়,সেই দৃশ্য টা ১০০ ভাগ বাস্তব ছিল।

৪. জ্যাকি চ্যান মুভির সম্পর্কিত সবচেয়ে বেশি কাজ করতে পারে,যেমন পরিচালনা, প্রযোজনা, স্টান্ট পারফর্মার সহ মোট ১৫ টি কাজ করতে পারে, যেকারনে সে গিনেজ রেকর্ড করেছে এবং জীবিত অভিনেতাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্টান্টস করেও সে গিনেজ রেকর্ড করেছে।

৫. জ্যাকি চ্যানের মতে তার সবচেয়ে বড় ইঞ্জুরি হচ্ছে Armour Of God (1986) মুভির সময়ে। পাহাড় থেকে পরে গিয়ে তার মাথার পিছনের অনেক অংশ ফেটে যায় এবং ৩ মিনিট পর অজ্ঞান হয়ে যায়। সেই ইঞ্জুরির ঘটনা ঘটে ৩৩ বছর আগে, কিন্তু এখনো সেই ইঞ্জুরির স্ক্র্যাচ জ্যাকি চ্যানের মাথায় আছে,এবং মাঝে মধ্যেই তার মাথায় অনেক সমস্যা দেখা যায়।

৬. জ্যাকি চ্যান তার প্রত্যেকটা মুভির থীম সং তিনি নিজেই গেয়ে থাকেন। এবং সে হংকং,চায়না এবং জাপানে অনেক জনপ্রিয় সিঙ্গার।

৭. ১৯৭৩ সালের মুভি Police Woman প্রথম এমন মুভি যেখানে বড় পর্দায় জ্যাকি চ্যানকে স্পষ্ট দেখা যায়,ঐ মুভিতে জ্যাকি চ্যান ভিলেইন হিসেবে রোল প্লে করে। এর পরে ১৯৭৭ সালে Killer Meteors মুভিতে জ্যাকি চ্যান ভিলেইন হিসেবে রোল প্লে করে। তবে দুইটার ইংলিশ রিলিজে কভারে জ্যাকি চ্যানকেই প্রাধান্য দেয়া হয়।

৮. জ্যাকি চ্যান  Dragon Lord (1982) মুভির শাটাল কক ম্যাচের একটি ১০ মিনিটের দৃশ্যের জন্য জ্যাকি চ্যান মোট ২৯০০ টি শট নিয়েছিল। যা যেকোন পরিচালকের নেয়া সবচেয়ে বেশি শটস।

৯. ব্রুস লির মুভি  Enter The Dragon (1973) এর একটি দৃশ্যে ব্রুস লি লাঠি দিয়ে জ্যাকি চ্যানকে আঘাত করে। কিন্তু লাঠির জোড় বেশি থাকায় ব্যাথা পায় জ্যাকি, তারপর শট শেষে দৌড়ে গিয়ে ব্রুস লি জ্যাকি চ্যানকে বুকে নিয়ে বলতে থাকে “I’m sorry, i’m sorry”। সেটা জ্যাকি চ্যানের মতে তার জীবনের সবচেয়ে ভালো মুহুর্ত।

১০. ২০১২ সালে ৫৮ বছর বয়সী জ্যাকি চ্যান ঘোষনা দেয় Chinese Zodiac তার শেষ মেজর অ্যাকশন মুভি। এরপর অ্যাকশন মুভি করলেও অতিমানবিয় স্টান্টস আর করবে না। কিন্ত কথা রাখতে পারেননি।

১১. জ্যাকি চ্যানের একটি কার্টুন সিরিজও আছে। নাম Jackie Chan Adventure সেই কার্টুনে জ্যাকির চরিত্রকে ঠিক তার মুভির মত অ্যাকশান-কমেডি দিয়ে সাজানো হয়েছে।

১২. জ্যাকি চ্যানের সাথে একদিন কয়েকজন বাইকারের সাথে ফাইট হয়। ফাইট শেষে আঘাত পায় জ্যাকি। ২ দিন ধরে জ্যাকির হাতে প্রচন্ড ব্যাথা হয়,একদিন জ্যাকি হাতের মধ্যে চাপ দিয়ে দেখে তার হাতের ভিতরে একজনের দাত।

১৩. Project A (1983)  মুভির এক স্টান্ট,যেখানে ৪২ ফুট উচু থেকে পরে যাওয়ার দৃশ্য তৈরি করতে হবে। শুরুতে জ্যাকি ৪২ ফীট  উচু থেকে লাফ দেয়, ঐদিক থেকে পরে গিয়ে কাধে ব্যাথা পায়, সব কিছুই ঠিক ঠাক হয়। কিন্তু জ্যাকির মতে এই দৃশ্য তার ভক্তদের আনন্দ দেয়ার জন্য যথেষ্ট না। তাই আবারো সে ঐ দৃশ্য টা করে, কিন্তু মাঝে রডে বাড়ি খেয়ে বুকে আঘাত পেয়ে এবং মাথায় আঘাত পেয়ে সাথে সাথে জ্যাকির শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তাও সন্তুষ্ট ছিলেন না জ্যাকি। তাই কিছুটা সুস্থ হয়ার পর সেই দৃশ টা আবারো করে জ্যাকি চ্যান। শেষে এসে সে মনের মত করে দৃশ্য টা শ্যুট করতে পারে।

১৪. জ্যাকি চ্যান তার জীবনে যা টাকা আয় করেছে সে তার ১ ভাগও তার ছেলে জেসি চ্যানের জন্য রাখবে না, জ্যাকি মতে যদি আমার ছেলের যোগ্য হয় তাহলে সে নিজেই তার পথ তৈরি করে নিতে পারবে,আর যদি সে নিজে কিছু করতে না পারে আর আমার টাকার প্রয়োজন হয় তার মানে সে আমার টাকা নষ্ট করে ফেলবে, তার চেয়ে ভালো আমি আমার সব টাকা অসহায় শিশুদের পিছনে ব্যয় করবো।

১৫. জ্যাকি চ্যান এমন একটা মানুষ যে সে পাহাড়ের থেকে লাফ দিয়ে হেলিকপ্টারে ঝুলে থাকার স্টান্টস ও করতে পারে।

১৬. Who Am I? (1998) মুভির  Willemswerf building এর প্রতিটি দৃশ্য সত্যি ছিল,এবং জ্যাকির নিজের করিওগ্রাফি ছিল।

১৭. জ্যাকি চ্যানের স্টেজ নাম ছিল শিং লুং যার অর্থ “ইতিমধ্যেই ড্রাগন” কিন্তু পরে একদিন এক বিল্ডিং এ জ্যাকি লেখা দেখতে পায় জ্যাকি চ্যান,পরে চ্যান যুক্ত করে সে তার নাম দেয় জ্যাকি চ্যান

১৮.  জ্যাকি চ্যান এবং সিলভেস্টার স্ট্যালোন দুইজনেই অনেক ভালো বন্ধু। এবং দুইজনেই একে অপরের সাথে একসাথে কাজ করার ইচ্ছা আছে,কিন্তু  দুইজনকে সমান গুরুত্ব দেয়া কোন স্ক্রিপ্ট না পাওয়ায় জ্যাকি চ্যান স্ট্যালোনের থেকে মোট ৩ টি অফারের ৩ টিই প্রত্যাখান করে দেয়,এবং বলে আমি চাই যে এমন মুভি তৈরি হবে যেখানে আমি এবং স্ট্যালোন একে অপরের সাথে ফাইট করবো,অথবা আমরা দুইজন মিলে খারাপ মানুষদের সাথে ফাইট করবো।

১৯. জ্যাকি চ্যান কোন নির্দিষ্ট স্টাইলে ফাইট করে না,সে কয়েকটি স্টাইলকে নিজের মত মিক্স করে আসবা-পত্র ব্যবহার করে ফাইট করে।

২০. জ্যাকি চ্যানের আসল নাম কং স্যাং ফাং

Download WordPress Themes
Download Nulled WordPress Themes
Free Download WordPress Themes
Download WordPress Themes Free
free download udemy paid course