জুতা মেরে গরু দান

ছোটবেলায় স্কুলে ‘গরু মেরে জুতা দান’ বাগধারা হয়তো অনেকে পড়েছেন ‘জুতা মেরে গরু দান’। জুতা মারা খাওয়া যথেষ্ট অপমানের। এর বিনিময়ে গরু পেলেও ওই অপমানের মূল্য পরিশোধ হওয়ার কথা না। ভুল করে হলেও এই বাগধারা দিয়ে আমরা বুঝেছি-অর্থের চাইতে সম্মান অনেক বড়। কিংবা বড় ক্ষতি করে সামান্য ক্ষতিপূরণ মোটেও মানানসই নয়। মাশরাফি বিন মুর্তজার বেলায় তেমন কিছু হচ্ছে না তো!

ছোটবেলায় স্কুলে ‘গরু মেরে জুতা দান’ বাগধারা হয়তো অনেকে পড়েছেন ‘জুতা মেরে গরু দান’। জুতা মারা খাওয়া যথেষ্ট অপমানের। এর বিনিময়ে গরু পেলেও ওই অপমানের মূল্য পরিশোধ হওয়ার কথা না। ভুল করে হলেও এই বাগধারা দিয়ে আমরা বুঝেছি-অর্থের চাইতে সম্মান অনেক বড়। কিংবা বড় ক্ষতি করে সামান্য ক্ষতিপূরণ মোটেও মানানসই নয়। মাশরাফি বিন মুর্তজার বেলায় তেমন কিছু হচ্ছে না তো!

ক্রিকেটপাড়ার গত কয়েক দিনকার বচন ভাণ্ডার শোনার পর অনেকের এই বাগধারাটি আবারও মনে পড়ার কথা। কেননা এক এক করে ক্রিকেটের প্রায় সিংহভাগ লিস্ট থেকে মাশরাফির নাম কাটা যাওয়ার পর এখন বিসিবি বোধ হয় অপেক্ষা করছে তাকে বেশ আদর-যত্ন করেই বিদায় জানাতে।

এই তো একদিন আগেও মিরপুরের সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপন বলেছিলেন মাশরাফিকে ফুল দিয়ে, অনেকটা স্বরণীয়ভাবে বিদায় দেওয়ার কথা। কেবল যে সম্প্রতি এমনটা বলেছেন তিনি তাও কিন্তু নয়। গত বছরের মাঝামাঝি থেকেই তিনি এমন পরিকল্পনা আঁটছেন।

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলা শেষ হওয়ার পর লন্ডনে বসেই বিসিবি সভাপতি বলেছিলেন, ‘মাশরাফিকে বীরের মর্যাদায় বিদায়ী সংবর্ধনা দেয়া হবে।’

ঠিক এই জায়গায় আবার দুই জনের মধ্যে বিস্তর একটা ফারাক দেখা গেল। মাশরাফি তার উল্টোটা চাচ্ছেন। যেখানে বিসিবি প্রেসিডেন্ট ভাবছেন বাংলাদেশ দলের অন্যতম সফল দলনেতাকে ঘটা করে বিদায় দিতে, সেখানে মাশরাফি নিজেই বলছেন দরকার নেই। সোমবার (১৩ জানুয়ারি) এও বলেন, ‘মাঠ থেকে কেন বিদায় নিতে হবে। এসবের কোনো প্রয়োজন নেই।’

বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে নেই মাশরাফি। নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন মাশরাফি নিজ থেকেই তার নাম কাটতে অনুরোধ করেছে। যেহেতু মাশরাফি বলেছেন, তাই বিসিবিও তার কথা ফেলেনি।

টি২০ আর টেস্টে আগে থেকেই নেই মাশরাফি। বাকি ছিল ওয়ানডে। যেহেতু কেন্দ্রীয় চুক্তিতে নেই, সেহেতু একদিনের ক্রিকেটে এখন তার দলে সুযোগ পাওয়াও কঠিন হয়ে গেল। মাশরাফি কিন্তু বিষয়টি টের পেয়েছেন ইতিমধ্যে। তাইতো বলেছেন, ‘আমি আমার খেলা চালিয়ে যাব। নির্বাচকরা যদি সুযোগ দেয় তাহলে জাতীয় দলে খেলবো, না হলে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলবো। আসলে ঘরোয়া ক্রিকেট আমি উপভোগ করছি। আর বিসিবি যদি চায় আমি ওয়ানডে অধিনায়কত্বও ছেড়ে দেব।’

অর্থাৎ অবশিষ্ট থাকা মাশরাফির দলনেতার চেয়ারও এখন তার জন্য নিশ্চিত নয়। যে কোনো সময় ওই চেয়ারেও অন্য কাউকে দেখা যেতে পারে। যেখানে ২২ গজ থেকে ধীরে ধীরে মাশরাফির ছায়াও সরে যাচ্ছে। সেখানে আবার বেলুন উড়িয়ে, ফুল দিয়ে কিংবা মালা ঝুলিয়ে বিদায় সংবর্ধনা মাশরাফির কাছে কী বিষের মতোই মনে হচ্ছে? নাকি জুতা মেরে গরু দানের মনোভাবটা একেবারে পছন্দ নয় টাইগার অধিনায়কের।

Download Best WordPress Themes Free Download
Download WordPress Themes
Download Best WordPress Themes Free Download
Premium WordPress Themes Download
free online course