জাতীয় সব নির্বাচনেই রাজধানীর থাকে আলাদা গুরুত্ব। নির্বাচনী হাওয়া কোন দিকে তা দেখা ও জানার জন্য সারা দেশ তাকিয়ে থাকে ঢাকার ২০টি সংসদীয় আসনের দিকে। ঢাকা জেলার আসনগুলোর মধ্যে দুই সিটি কর্পোরেশনে পড়েছে ১৫টি আসন।

ঢাকার ২০ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী যারা

জাতীয় সব নির্বাচনেই রাজধানীর থাকে আলাদা গুরুত্ব। নির্বাচনী হাওয়া কোন দিকে তা দেখা ও জানার জন্য সারা দেশ তাকিয়ে থাকে ঢাকার ২০টি সংসদীয় আসনের দিকে। ঢাকা জেলার আসনগুলোর মধ্যে দুই সিটি কর্পোরেশনে পড়েছে ১৫টি আসন।

১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা জেলার মোট ১৩টি আসনের সবক’টিতেই জয় পায় বিএনপি, প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে সবক’টি আসন পায় আওয়ামী লীগ, সরকার গঠন করেন শেখ হাসিনা। ২০০১ সালের নির্বাচনে ১৩টির মধ্যে ৭টি আওয়ামী লীগ এবং ৬টি আসন পায় বিএনপি। ২০০৮ সালে আসন বেড়ে হয় ২০টি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৯টিতে জিতে সরকার গঠন করে। একটি আসন পায় তাদের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি। আর ২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপি বর্জন করেছিল।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে এরই মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। রোববার থেকে বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়নের চিঠি দেয়া হচ্ছে। তবে নির্বাচনী জোটের মনোনয়ন এখনও বাকি আছে। রাজপথের বিরোধীদল বিএনপি মনোনয়ন না করলে ঢাকার ৩০টি আসনে প্রার্থী নির্বাচন প্রায় চুড়ান্ত করেছে।

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনায় সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার ২০ আসনে প্রায় চুড়ান্ত হওয়া প্রার্থীদের নামের তালিকা।

ঢাকা-১ (দোহার ও নবাবগঞ্জ) আসনে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নানের ধানের শীষের প্রার্থী হচ্ছেন। এর আগে তিনি ঢাকা থেকে তিনবার এমপি হয়েছেন।

ঢাকা-২ (কেরানীগঞ্জ-কামরাঙ্গীচর) বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমান মনোনয়ন নিশ্চিত। আসন ভাগ হওয়ার আগে ঢাকা-৩ থেকে তিনি দু’বার এমপি হয়েছেন।

ঢাকা-৩ (কেরানীগঞ্জ) আসনে মনোনয়ন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় । তবে তার বিরুদ্ধে মামলা থাকায় আদালতের রয়ে তিনি নির্বাচন করতে না পারলে, তার পুত্রবধূ দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় প্রার্থী হবেন।

ঢাকা-৪ (শ্যামপুর-কদমতলী) আসনে বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদকেই ধানের শীষ দেওয়া হবে। তবে তারও রয়েছে মামলাজনিত জটিলতা। তাই বিকল্প হিসেবে তার ছেলে তানভির আহমেদ রবিনকেও রাখা হয়েছে।

ঢাকা-৫-(ডেমরা-যাত্রাবাড়ী) আসনে ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপির ভাইস-চেয়ারপাম্যান সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে প্রকৌশলী ইসরাক হোসেন মনোনয়ন পাচ্ছেন। তবে তার বিরুদ্ধে দুদক চার্জশিট দাখিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিকল্প হিসেবে ঢাকা মহানগর বিএনপি দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারকে রাখা হয়েছে।

ঢাকা ৬- (সুত্রাপুর-কোতয়ালী) আসনটি বিএনপি জাতীয় ঐক্যজোটের শরিক গণফোরামকে ছেড়ে দিচ্ছে। এ আসনে গণফোরামের কার্যকরি সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী প্রাথী হচ্ছেন।

ঢাকা-৭ (লালবাগ-চকবাজার) আসনে দলের প্রয়াতনেতা নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনাকে মনোনয়ন দিতে চায় বিএনপি। তবে ঐক্যফ্রন্টের প্রত্যাশিত আসনের মধ্যে এটি অন্যতম। শেষমুহূর্তে কল্পনার পরিবর্তে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু প্রার্থী হতে পারেন।

ঢাকা-৮ (রমনা-মতিঝিল) আসনে হাবীব-উন নবী খান সোহেল মনোনয়ন প্রায় চুড়ান্ত। তবে তিনিও মামলাজনিত সমস্যায় জর্জরিত। মামলায় বেড়াজালে বাদ পড়লে ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতা হাবীবুর রশিদ হাবীবকে বিকল্প প্রার্থী রাখা হয়েছে।

ঢাকা-৯ (মুগদা-সবুজবাগ) আসনে মির্জা আব্বাসের মনোনয়ন চুড়ান্ত।

ঢাকা-১০ (ধানমন্ডি-হাজারীবাগ) আসনে বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসিমকে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা-১১ (বাড্ডা-ভাটারা) ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এমএ কাইয়ুম (কমিশনার) মনোনয়ন পাাচ্ছেন। যদিও তিনি দেশে ফিরতে পারছেন না। আইনগত জটিলতায় তার স্ত্রী শামীম আরা বেগমকে প্রার্থী করা হতে পারে।

ঢাকা-১২ (তেজগাঁও) বিএনপির মনোনয়ন পাচ্ছেন যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব।তবে শেষপর্যন্ত এটিও ঐক্যফ্রন্টকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। এ আসনে ড. কামাল হোসেনের মেয়ে ব্যারিস্টার সারা হোসেন নির্বাচন করতে চান।

ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর) আসনে বিএনপি চেয়াপার্সনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আবদুস সালাম মনোনয়ন দেওয়া হবে। তবে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকীকে শরিক দলের প্রার্থী হিসেবে দেখা যেতে পারে।

ঢাকা-১৪ (মিরপুর-শাহআলী) আসনে সাবেক এমপি এসএ খালেকের ছেলে এসএ সিদ্দীক সাজুর মনোনয়ন দেওয়া হবে।

ঢাকা-১৫ (কাফরুল) আসনে দলের বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন এবং যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান দুজনই বিবেচনায় আছেন।

ঢাকা-১৬ (পল্লবী) আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া। তিনি সম্প্রতি তিন বছরে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারান্তরীণ হওয়ায় বিকল্প হিসেবে তার স্ত্রী চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. শাহিদা রফিককে প্রাথী করা হবে।

ঢাকা-১৭(গুলশান-ক্যান্টনমেন্ট) আসনে মেজর (অব.) রুহুল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী করা হচ্ছে।

ঢাকা- ১৮ (উত্তরা-খিলক্ষেত) এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাচ্ছেন ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর। তবে ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল জেএসডির তানিয়া রবকে এ আসনটি ছেড়ে দেওয়ার কথাও উঠেছে।

ঢাকা-১৯ (সাভার) আসনে ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান সালাউদ্দিন বাবু বিএনপির টিকিট পাচ্ছেন। এর আগে তিনি ঢাকা-১৩ (পুরাতন) থেকে দু’বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনে ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান পাচ্ছেন ধানের শীষের টিকিট।

Download WordPress Themes Free
Download WordPress Themes Free
Download WordPress Themes
Download WordPress Themes Free
download udemy paid course for free