তারেককে দেশে পাঠানো: বাংলাদেশের অনুরোধে কী বলছে যুক্তরাজ্য?

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে লন্ডন থেকে দেশে ফেরাতে অনেকদিন ধরেই তোড়জোর চালাচ্ছে সরকার। তবে ব্রিটিশ সরকারের অনাগ্রহ ও নানা জটিলতায় সরকারের সেই চেষ্টা বারবারই বিফল হচ্ছে। বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের এই উদ্যোগ নিয়ে সম্প্রতি ব্রিটেনের এক মন্ত্রী ঢাকা সফরে এসে যা বলে গেলেন তাতে স্পষ্ট যে, তারেককে দেশে ফেরানোর ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধের যথেষ্ট সাড়া মেলেনি।

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে লন্ডন থেকে দেশে ফেরাতে অনেকদিন ধরেই তোড়জোর চালাচ্ছে সরকার। তবে ব্রিটিশ সরকারের অনাগ্রহ ও নানা জটিলতায় সরকারের সেই চেষ্টা বারবারই বিফল হচ্ছে। বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের এই উদ্যোগ নিয়ে সম্প্রতি ব্রিটেনের এক মন্ত্রী ঢাকা সফরে এসে যা বলে গেলেন তাতে স্পষ্ট যে, তারেককে দেশে ফেরানোর ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধের যথেষ্ট সাড়া মেলেনি। আর সেই সাড়া না মেলার ইঙ্গিতটিও বিভিন্ন সভা-সেমিনারে উঠে আসছে বিএনপি নেতাদের মুখেও। বিএনপিও বলছে, আওয়ামী লীগ সরকার গত এক দশক ধরে চেষ্টা চালিয়েও তারুণ্যের গর্ব তারেক রহমানকে দেশে ফেরাতে পারেনি। তারেক রহমান ফিরবেন তবে আসামি হিসেবে নয়, ১৬ কোটি মানুষের নেতা হিসেবে।

ব্রিটেনের ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ কার্যালয়ের ওই মন্ত্রী মার্ক ফিল্ড লন্ডন থেকে তারেককে দেশে ফেরানোর বিষয়ে দুদেশের মধ্যে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন। তবে বাংলাদেশ সরকার চায়- নতুন করে এ চুক্তি করে হলেও তারেককে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করতে।

অন্যদিকে দুদেশের মধ্যে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকার বিষয়টি তারেক রহমানকে ফেরত আনার পথে মূল বাধা হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

আর সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে ব্রিটিশ মন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইমিগ্রেশন বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির কেসের ব্যাপারে আমরা কথা বলি না। তবে তারেককে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশের দিক থেকে একটি অনুরোধ আমরা পেয়েছি।’

একাধিক মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির এই শীর্ষ নেতাকে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ সরকারের করা অনুরোধের বিষয়ে কী ভাবছে ব্রিটিশ সরকার? এমন প্রশ্নে মার্ক ফিল্ড সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রথমত: বিষয়টি ব্রিটেনের হোম অফিস এবং আদালতের ব্যাপার, তারা স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং আইন অনুযায়ীই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। দ্বিতীয়ত: বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের মধ্যে যে কোনও বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। অতএব চাইলেই যখন তখন যাকে খুশি ফেরত পাঠানো যায় না।’

এ নিয়ে ব্রিটিশ সরকারকে পাঠানো চিঠিতে বাংলাদেশ কী অনুরোধ করেছিল- জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম গণমাধ্যমকে বলেন, যেসব মামলায় তারেক রহমান দণ্ডপ্রাপ্ত সেই মামলাগুলো ব্রিটিশ সরকারের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের যেসব তথ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপিত হয়েছে আমরা সেগুলোই ব্রিটিশ সরকারকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। সেইসঙ্গে আমরা তারেক রহমানকে বাংলাদেশে ফেরত চেয়েছি।’

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ও আদালতের রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাজ্যকে অনুরোধ করেছে বলেও জানান শাহরিয়ার আলম।

তবে তারেককে ফেরত পাঠাতে ‘হোম অফিসের বিষয় কিংবা এটা এখতিয়ার বহির্ভূত’- যুক্তরাজ্যের এসব কথাকে অজুহাত বলে মনে করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। আর যুক্তরাজ্য যদি বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি করতেই চায় তবে বাংলাদেশ সরকার প্রস্তুত আছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে বিএনপি বলছে, আইনের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন থেকে নয়- রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়েই সরকার বারবার তারেক রহমানকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে ব্রিটিশ সরকারকে অনুরোধ করছে। তাদের কাছে গিয়ে ধর্না দিচ্ছে।

এ নিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিবিসিকে বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে আওয়ামী লীগ সরকার এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে। ১৬ কোটি মানুষের প্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়া ও তারুণ্যের প্রতীক তারেক রহমানের ওপর প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ এ ধরনের অমানবিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে।’

মির্জা ফখরুল এ বিষয়ে আরও বলেন, ‘তারেক রহমান লন্ডনে চিকিৎসার জন্য আছেন। আমরা জানি যে, নিয়মিত তাকে থেরাপি নিতে হয়। আর তার দেশে ফেরার বিষয়টি আইনি হলে আমরা আইনগত ভাবেই পদক্ষেপ নেবো। কিন্তু এভাবে বারবার অনুরোধ করে ধর্না দিয়ে ব্রিটেন থেকে তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।’

প্রসঙ্গত, প্রায় ১১ বছরেরও বেশি সময় ধরে লন্ডনে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন তারেক রহমান। ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দীনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ১৩ মামলা দায়ের করা হয়। ২০০৭ সালের ৭ মার্চ একটি দুর্নীতি মামলায় তারেক রহমানকে তার ঢাকা ক্যান্টমেন্টস্থ মইনুল রোডের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রায় ১৮ মাস কারান্তরীণ থাকার পর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সবগুলো মামলায় তারেক রহমান জামিন লাভ করেন ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুক্তি লাভ করেন।

তবে ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জিতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর পুরোনো মামলাগুলোর ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলাসহ আরও কিছু মামলা যুক্ত করা হয়।

২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বিশেষ কারাগার থেকে বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাওয়ার পর তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পুত্র তারেক রহমানকে দেখতে যান। সেদিন রাতেই তারেক রহমান উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা হন।

বর্তমানে লন্ডনের সাউথ ওয়েলিংটন হসপিটাল ও লন্ডন হসপিটালে তার চিকিৎসা চলছে এবং চিকিৎসার সুবিধার্থে তিনি সেন্ট্রাল লন্ডনের এডমন্টনে সপরিবারে বসবাস করছেন।

এদিকে তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতেই এরই মধ্যে তিনটি মামলায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে দণ্ড দেয়া হয়েছে।


About us

DHAKA TODAY is an Online News Portal. It brings you the latest news around the world 24 hours a day and 7 days in week. It focuses most on Dhaka (the capital of Bangladesh) but it reflects the views of the people of Bangladesh. DHAKA TODAY is committed to the people of Bangladesh; it also serves for millions of people around the world and meets their news thirst. DHAKA TODAY put its special focus to Bangladeshi Diaspora around the Globe.


CONTACT US

Newsletter

Premium WordPress Themes Download
Download WordPress Themes Free
Download Premium WordPress Themes Free
Download Premium WordPress Themes Free
udemy course download free