নারীর এগিয়ে যাওয়ার বার্তা নিয়ে বাস্তবধর্মী সিনেমা ‘ন-ডরাই’

সাগরপাড়ের মেয়ে আয়েশা, সমবয়েসী দশজন তরুণী থেকে আলাদা সে, রান্নাবান্নার নেশা নেই, সাগরের কাছে যাওয়াটাই তার আনন্দের উপকরণ। সাগর ডাকে, সেই ডাক অগ্রাহ্য করতে পারে না আয়েশা। পরিবার আর সমাজ-সংসারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে শিখতে শুরু করে সার্ফিং। কিন্ত পুরুষবাদী এই সমাজ একজন নারীর এই একরোখা মনোভাবকে মেনে নিতে পারেনা, তানিম রহমান অংশু পরিচালিত ন-ডরাই।

তাপস বড়ুয়া

দেশের প্রথম নারী সার্ফার নাসিমার উঠে আসার বাস্তব গল্প নিয়ে সিনেমা ‘ন-ডরাই’। সামাজিক, পারিবারিক প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে সার্ফিংয়ের আইকন হয়ে ওঠার অদম্য জীবনের গল্প আছে এই ছবিতে। ছবির অন্যতম দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুনেরা বিনতে কামাল ও শরিফুল রাজ।

সাগরপাড়ের মেয়ে আয়েশা, সমবয়েসী দশজন তরুণী থেকে আলাদা সে, রান্নাবান্নার নেশা নেই, সাগরের কাছে যাওয়াটাই তার আনন্দের উপকরণ। সাগর ডাকে, সেই ডাক অগ্রাহ্য করতে পারে না আয়েশা। পরিবার আর সমাজ-সংসারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে শিখতে শুরু করে সার্ফিং। কিন্ত পুরুষবাদী এই সমাজ একজন নারীর এই একরোখা মনোভাবকে মেনে নিতে পারেনা, তানিম রহমান অংশু পরিচালিত ন-ডরাই।

ছবিটি মূলত এদেশের অবহেলিত একটি পেশা সার্ফিং এর গল্প। পায়ে ওয়্যাক্স পরিহিত থাকলেও উত্তাল সমুদ্রে সার্ফিং করতে হলে অকুতোভয় সাহসের অধিকারী হতে হয়। সাগর এবং সাগরের বিশালাকার ঢেউকে আপন করে নিতে হয়। “ন-ডরাই” মূলত চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার দুটি শব্দ, যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায় “ভয় পাই না” । অত্যন্ত রক্ষণশীল, গোড়া, গরিব পরিবারের মেয়ে আয়েশা। পরিবার এবং সমাজ তার সমুদ্রে গিয়া সার্ফিং করা পছন্দ করে না। বড় ভাইয়ের খুব কড়া শাসন , কথায় কথায় মারধর করে। ছবির নায়ক সোহেলের সাথে আয়েশার ভাইয়ের শত্রুতা ।কিছুদিনের মধ্যে আয়েশা-সোহেলের সম্পর্ক কিছুটা, আয়েশার পরিবারের কাছে স্পষ্ট হয় এবং আয়েশার সাগরে সার্ফিং করাটা তাদের সহ্যের সীমা অতিক্রম করলে, এক পর্যায়ে আয়েশাকে প্রচুর মারধর করে গৃহবন্দী করে এবং তার চাইতে ‘তিনগুণ”বয়সের একটা বয়স্ক লোকের সাথে তার বিয়া দেয়া হয়। টিপিক্যাল অত্যাচারী শ্বশুরবাড়ি পায় আয়েশা। তারা নানারকম অত্যাচার শুরু করে আয়েশার উপর। শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে একদিন আশেয়া হয়ে উঠে একঅদম্য সার্ফার।

নগরীর সিলভার স্ক্রিনে প্রদর্শিত এই সিনেমা দেখতে এসে আহসান উল্লাহ তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, ছবিটি দেখে মনে হলো ‘সিনেমাটি নতুন ধারার। এমন সিনেমা নিয়মিত হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। তবে ছবির ভাষা নিয়ে অনেকেই দুনোমনা ভাব প্রকাশ এবং আপত্তি জানাতে দেখেছি। এছাড়া সর্বোপরি সিনেমাটি সবাই মিলে উপভোগ করেছি।

দর্শকের ব্যাপক সাড়া পাওয়ার কথা জানিয়ে সিলভার স্ক্রিন সিনেমা হলের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ আয়েশা মজুমদার বলেন, মূলত চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় সিনেমাটি নির্মিত হওয়ায় আমরা দারুন সাড়া পাচ্ছি। গত ২৯ নভেম্বর (শুক্রবার) থেকে সিলভার স্ক্রিনে শুরু হওয়া সিনেমাটি, চলবে ৫ নভেম্বর (বৃহঃবার) বার পর্যন্ত।

Free Download WordPress Themes
Free Download WordPress Themes
Download Best WordPress Themes Free Download
Premium WordPress Themes Download
free download udemy course