নোবেল বিজয়ী ব্যাংকের এমডি পদের জন্য লোভী হয়ে উঠেছিলেন কেন: প্রধানমন্ত্রী

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার প্রশ্ন, একজন নোবেল বিজয়ী ব্যক্তি একটি ব্যাংকের এমডি পদের জন্য এতটা লোভী হয়ে উঠেছিলেন কেন?

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার প্রশ্ন, একজন নোবেল বিজয়ী ব্যক্তি একটি ব্যাংকের এমডি পদের জন্য এতটা লোভী হয়ে উঠেছিলেন কেন?

তিনি বলেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ী একজন এমডি কেবল ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত তার পদে থাকতে পারেন। অথচ সে সময়ে এই ব্যক্তির বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। বাংলাদেশ ব্যাংক যখন অবৈধভাবে পদ আঁকড়ে থাকায় বাধা সৃষ্টি করল, তখনই পদ্মা সেতুর কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল কারণ তিনি ছিলেন হিলারির বন্ধু।

সততার শক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার পদ্মা সেতুর বিষয়ে বিশ্ব ব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ মোকাবিলা এবং চ্যালেঞ্জে বিজয় লাভ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা সৎ পথে ছিলাম বলে এই অভিযোগ আমরা মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি। অবশেষে সত্য প্রমাণিত হয়েছে এবং কানাডার ফেডারেল কোর্ট রায় দিয়েছে যে, এই অভিযোগ ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য। সততার সঙ্গে অগ্রসর না হলে আমরা এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পারতাম না।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের কিছু লোকের উসকানির কারণে বিশ্বব্যাংক এসব অভিযোগ এনেছিল।

তিনি আরো বলেন, যারা বিশ্ব ব্যাংককে দিয়ে এসব অভিযোগ করিয়েছিল, তারা আমার হাত থেকে লাভবান হয়েছিল। আমি তাদের গ্রামীণফোনের ব্যবসা দিয়েছিলাম। আমি ১৯৮৫-৮৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলাম এবং আমার সরকার জাতিসংঘে গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণের ধারণার ওপর প্রস্তাব পেশ করেছিল এবং ১৯৯৬ সালে এটি পাস করতে সাহায্য করেছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই লোকই গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদের জন্য পদ্মা সেতুর জন্য বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন তহবিল বন্ধ করতে গিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের দু’জন খ্যাতিমান সম্পাদকও সে সময়ে পদ্মা সেতুর জন্য বিশ্ব ব্যাংকের অর্থসহায়তা বন্ধ রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আমি তখন এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়েছিলাম। আমি তখন বললাম, কোথায় দুর্নীতি হয়েছে, তা প্রমাণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার লক্ষ্যে সরকারের একটি সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিশ্বের মানুষের ধারণা বদলে গেছে। এই সিদ্ধান্ত নেয়ার পর তারা ধারণা করতে পেরেছে যে, বাংলাদেশ যদি ইচ্ছা করে তাহলে পারে এবং আমরা তাই করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বিসিএস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যাকাডেমিতে ১১৩, ১১৪ ও ১১৫তম বিসিএস প্রশাসন ও আইন কোর্স এর সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব বলেন।

দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে এবং দেশের উন্নয়নমূলক কাজে সরকারি অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করতে প্রশাসনের নতুন কর্মকর্তাসহ সব সরকারি চাকরিজীবীদের প্রতি নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ঘুষ ও দুর্নীতির ব্যাপারে আপনাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এসব ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি অনেক সময় আমাদের সমাজকে ধ্বংস ও উন্নয়নকে ম্লান করে দেয়। তাই আপনাদের এ ব্যাপারে গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি প্রশাসনের নতুন কর্মকর্তাদের বলব জনগণের ট্যাক্স এবং কৃষক-শ্রমিকের কঠোর পরিশ্রমের কল্যাণে আমরা একটি উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছি। তাই তাদের এই পরিশ্রমলব্ধ অর্থের যেন যথাযথ ব্যবহার হয় এবং সুপরিকল্পিত ও সাশ্রয়ীভাবে যেন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডগুলো সম্পন্ন হয় সেদিকে আপনাদের বিশেষ নজর দিতে হবে।’

শেখ হাসিনা দেশের আরো উন্নয়নের জন্য দেশপ্রেম ও কর্তব্যপরায়ণতার সঙ্গে কাজ করার জন্য নতুন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘আপনাদের এ কথা মনে রাখতে হবে যে এ দেশে আমাদের এবং আপনাদের সন্তানরা ভবিষ্যতে এখানেই বাস করবে। তাই আপনাদের এ কথাও মাথায় রাখতে হবে যে আপনারা আপনাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কী রেখে যাচ্ছেন। আপনারা যদি এই চিন্তা-চেতনা ও আদর্শ লালন করে কাজ করেন, তবে আমাদের দেশ আরো এগিয়ে যাবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদ ও মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির মূল উৎপাটনের জন্য অভিযান শুরু করেছে এবং এ ব্যাপারে বিশেষ নজর দিতে নতুন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি তাদের আরো বেশি উদ্ভাবনী পরিকল্পনার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, তারা তাদের এলাকার পরিবর্তন ঘটাতে পারেন এবং তাদের কাজের মাধ্যমে দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটাতে পারেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি জানি আপনারা প্রতিটি ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলার অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারেন। এলাকাগুলোর উন্নয়ন আপনাদের কাজের মাধ্যমে দৃশ্যমান হবে। তাই দেশের জন্য ভালোবাসা ও কর্তব্যপরায়ণতার সঙ্গে এই উদ্ভাবনী পরিকল্পনাগুলো কাজে লাগাতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে প্রশাসনের নবীন কর্মকর্তাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, জনগণই দেশের মালিক।

তিনি বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে যে, এই জনগণের জন্য আমাদের দায়িত্ব রয়েছে এবং তাদের জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। আমরা যেমন আমাদের পরিবারের জন্য দায়িত্বশীল, এই চিন্তা-চেতনা নিয়ে তেমনি দেশের জনগণের জন্য আমাদের কাজ করতে হবে।

শেখ হাসিনা নবীন কর্মকর্তাদের শপথকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করেন এবং নিয়মিতভাবে এ শপথ অনুসরণ করতে তাদের পরামর্শ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের মনে রাখতে হবে যে, শপথের প্রতিটি বাক্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এটি শুধু পাঠ করলেই চলবে না, এটি চর্চাও করতে হবে। আমরা চাই আপনারা তা করবেন।

শেখ হাসিনা সরকারি কর্মচারীদের কল্যাণে তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করে বলেন, তার সরকার তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করেছে এবং বাড়ি ও ফ্ল্যাট কেনার জন্য তাদের সুবিধা দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যারা ভালো কাজ করবে তাদের পুরস্কৃত করতে আমরা জনপ্রশাসন পদক চালু করেছি। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, আমরা চাই তারা দেশ ও দেশের জনগণের জন্য বেশি করে কাজ করুক, আমার জন্য নয়।’

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হাসেন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এইচএন আশিকুর রহমান এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহমেদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর কাজী রওশন আখতার শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। রেক্টর অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী তিন কোর্সের তিন তরুণ কর্মকর্তা তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন। বাসস

Download WordPress Themes
Download WordPress Themes
Premium WordPress Themes Download
Download Premium WordPress Themes Free
free download udemy course