নয়া আরব বসন্তের ছোঁয়া কুয়েতেও

মিসর থেকে মরক্কো, আলজেরিয়া থেকে সুদান, লেবানন থেকে ইরাক, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোয় সত্যিকার নাগরিক অধিকারের দাবিতে যে আন্দোলন, এর আবেদন এখনও শেষ হয়ে যায়নি।

মিসর থেকে মরক্কো, আলজেরিয়া থেকে সুদান, লেবানন থেকে ইরাক, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোয় সত্যিকার নাগরিক অধিকারের দাবিতে যে আন্দোলন, এর আবেদন এখনও শেষ হয়ে যায়নি।

নয় বছর আগের সেই আরব বসন্তই আবার নতুন করে ডালপালা ছাড়ছে গোটা আরব মুল্লুকে।

কোথাও কোথাও আরও গভীর হয়েছে। আন্দোলন-বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় তিউনিশিয়া, আলজেরিয়া ও সুদানে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসকের পতন হয়েছে। মাত্র দুই সপ্তাহের বিক্ষোভে সরকার পতন হয়েছে লেবাননে।

ইরাকেও পতনের পথে। তারই ছোঁয়া এখন কুয়েতেও। দুর্নীতি, বেকারত্ব ও মৌলিক অধিকারের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে কুয়েতি জনগণ।

বুধবারই প্রথমবারের মতো রাজধানী কুয়েত সিটিতে পার্লামেন্টের বিপরীতে ইরাদা স্কয়ারে বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়। স্পিকার মারজুক আল গানিম পদত্যাগের আহ্বান জানায় বিক্ষোভকারীরা।

আরব বসন্ত মূলত শুরু হয়েছিল তিউনিশিয়ায় ২০১০ সালে। ওই বছরের ১৭ ডিসেম্বর নিজের গায়ে আগুন দিয়ে বিপ্লবের মশাল জ্বেলে দেন রাস্তার সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ বুয়াজিজি। দেশটির সরকারের ঘুষ, দুর্নীতি, বেকারত্ব, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে তা ছিল এক জ্বলন্ত বিদ্রোহ।

গণঅভু্যত্থানে শেষ পর্যন্ত দেশটির তিন দশকের স্বৈরশাসক প্রেসিডেন্ট জয়নুল আবেদিন বেন আলির পতন ঘটে। স্বৈরশাসনের দীর্ঘ অন্ধকার শেষে উদিত হয় সত্যিকার গণতনে্ত্রর সোনালি সূর্য। এরপর বিদ্রোহের আগুন ছড়িয়ে পড়ে আরববিশ্বের অন্যান্য দেশেও।

লিবিয়া, ইয়েমেন, বাহরাইন, ফিলিসি্তন, সিরিয়াসহ কয়েকটি দেশে। তিউনিশিয়ার পর মিসরেও গণবিদ্রোহ সফল হয়। পতন হয় আরেক স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে গণতনে্ত্রর পথে যাত্রা শুরু হলেও ফের স্বৈরশাসনের জাঁতাকল চেপে ধরেছে দেশটিকে।

তিউনিশিয়ায় আরব বসন্ত যত তাড়াতাড়ি ও মসৃণভাবে সফল হয়েছে, অন্য দেশগুলোয় তেমনটা হয়নি।

বেশ কয়েকটি দেশে বিপ্লবের প্রতিবিপ্লব হয়েছে। সংঘটিত হয় সরকার বদলের যুদ্ধ। এর মধ্যে বিদেশি হস্তক্ষেপ ও সামরিক অভু্যত্থানও প্রত্যক্ষ করেছে কয়েকটি দেশ।

নজিরবিহীন আঘাত সত্ত্বেও আরববিশ্ব তার আত্মমর্যাদা ও গেৌরব নিয়ে ফিরে এসেছে।

স্বাধিকার আন্দোলনে-সংগ্রামে নজির সৃষ্টি করেছে ফিলিসি্তনিরা। ২০১৮ সাল থেকে ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে যাচ্ছে অধিকৃত গাজার অধিবাসীরা।

যেই আন্দোলনে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছে ৩৩০ জন। আহত হয়েছে অন্তত ৪২ হাজার। অসম এই লড়াইয়ে কোনো ইসরাইলিই মারা যায়নি কিংবা আহতও হয়নি।

আরব বসনে্তর স্পিরিট নিয়ে গত বছরই বিক্ষোভ শুরু হয় সুদানে। গণঅভু্যত্থানের মুখে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে সাবেক প্রেসিডেন্ট ওমর আল বসির। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিশ্ব প্রত্যক্ষ করে আলজেরীয় বিপ্লব।

নজিরবিহীন অসহযোগ আন্দোলনে পদত্যাগের ঘোষণা আসে ২০ বছর ধরে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা প্রেসিডেন্ট আবদেল আজিজ বুতেফ্লিকার পক্ষ থেকে।

দীর্ঘ ছয় বছর পর সেপ্টেম্বরে মিসরে স্বৈরশাসক প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আল সিসির পুলিশি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জনতার বিক্ষোভ শুরু হয়। কিন্তু ব্যাপক ধরপাকড় ও দমনপীড়নে সেই বিক্ষোভ নস্যাত্ করে দেয় নিরাপত্তা বাহিনী।


About us

DHAKA TODAY is an Online News Portal. It brings you the latest news around the world 24 hours a day and 7 days in week. It focuses most on Dhaka (the capital of Bangladesh) but it reflects the views of the people of Bangladesh. DHAKA TODAY is committed to the people of Bangladesh; it also serves for millions of people around the world and meets their news thirst. DHAKA TODAY put its special focus to Bangladeshi Diaspora around the Globe.


CONTACT US

Newsletter

Premium WordPress Themes Download
Download Premium WordPress Themes Free
Download Best WordPress Themes Free Download
Download Best WordPress Themes Free Download
udemy course download free