পাবলিক তো ‘চোরের মায়ের বড় গলা’ বলেই বিবেচনা করছে

আসামীর সাথে কথা বলবে পুলিশ বা যে তদন্তকারী সংস্থা তদন্তের দায়িত্বে থাকেন একমাত্র তারাই। তাদের দেয়া তদন্ত প্রতিবেদন বা চার্জশিটের উপরে ভিত্তি করেই মামলা পরিচালনা করেন রাষ্টপক্ষের আইনজীবী। এর বাইরে আসামীর সাথে কোনো কথা বলার এখতিয়ারই নেই রাষ্টপক্ষের আইনজীবীর।

নিজেকে আত্মপক্ষ সমর্থন করে একেরপর এক স্ট্যাটাস দিয়েই যাচ্ছেন ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ।

২৫ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে কি হয়নি সেটা অনেক পরের কথা। রাস্ট্রপক্ষের কোন আইনজীবী আসামীর সাথে কথা বলাটাই গুরুতর পেশাগত অসদাচরণ।

আসামীর সাথে কথা বলবে পুলিশ বা যে তদন্তকারী সংস্থা তদন্তের দায়িত্বে থাকেন একমাত্র তারাই। তাদের দেয়া তদন্ত প্রতিবেদন বা চার্জশিটের উপরে ভিত্তি করেই মামলা পরিচালনা করেন রাষ্টপক্ষের আইনজীবী। এর বাইরে আসামীর সাথে কোনো কথা বলার এখতিয়ারই নেই রাষ্টপক্ষের আইনজীবীর।

এটাই ফ্যাক্ট। অকারণে নিজের ঢোল নিজে বাজালেই তো হবেনা। পেশাগত “কোড অব কণ্ডাক্ট ” বলেতো একটা কথা আছে। যেটা লোয়ার কোর্ট থেকে শুরু করে সুপ্রীমকোর্ট পর্যন্ত সকল আইনজীবীকেই মেনে চলতে হয়। পেশাগত অসদাচরণ হলে সনদ বাতিলের নজিরও আছে ভুরি ভুরি। সেটা আমার মতো বটতলার উকিলের ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, সমভাবে প্রযোজ্য উনার মতো উচ্চ আদালতের ব্যারিস্টারের ক্ষেত্রেও।

মাননীয় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক স্পষ্টভাবেই বলেছেন যে , অডিও রেকর্ডস এ পাওয়া কন্ঠস্বরটি উনারই।

একজন সুদক্ষ আইনজীবী হিসেবে এডভোকেট আনিসুল হক অত্যন্ত সুপরিচিত সারা দেশেই। তাঁর সততা নিয়ে আজ পর্যন্ত একটি প্রশ্নও উত্থাপিত হয়নি বিরোধী রাজনৈতিক মহল থেকেও। তাঁর পিতা মরহুম এডভোকেট সিরাজুল হক ছিলেন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার প্রধান কৌসুলী। দুই জেনারেশনের লিগ্যাল প্র্যাকটিস থাকা একজন মানুষ বেআইনীভাবে উনাকে অপসারণ করেছেন , এসব কথা বিশ্বাস করতে আসলেই কস্ট হয়।

ম্যাডাম এর বিরুদ্ধে লিখতে আসলে ভয়ই হয়। উনার বিরুদ্ধে যারাই কথা বলেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের স্ক্রিনশট দিয়ে দিয়ে মনের ঝাল ঝাড়ছেন সমানে। আরেক ভদ্রলোকের ইনবক্সের স্ক্রিনশট দিয়ে মজা নিচ্ছেন, অনলাইনের স্ক্রিনশট কন্যাদের মতোই। যাদের কাজই হলো ছুতানাতায় এর ওর স্ক্রিনশট ফাস করে দিয়ে ব্যাপক মজা নেয়া। কিন্তু এটাও যে সিরিয়াস প্রাইভেসির লংঘন এবং মানহানির পর্যায়ে পড়ে সেটা আমরা অনেকেই খেয়াল রাখিনা মজা পাওয়ার লোভে।

ম্যাডাম তুরিনের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো ভয়াবহ। তিনি যদি মনে করেন, তাঁর সাথে অন্যায় করা হয়েছে আর তিনি নির্দোষ , তাহলে তিনি স্বাভাবিকভাবেই মহামান্য আদালতের কাছে তার প্রতিকার চাইতেই পারেন।

কিন্তু সেসব না করে ফেসবুকে এর ওর পারসোনাল স্ক্রিনশট ফাস করে দিয়ে লাভটা আসলে কি হচ্ছে ম্যাডাম??

পাবলিক তো ‘চোরের মায়ের বড় গলা” বলেই বিবেচনা করছে।

উনার বিরুদ্ধে যারাই লিখেছেন তাদেরকেই যুদ্ধাপরাধীদের আত্মীয়, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার শয্যাসংগিনী ইত্যাদি বলে ট্যাগ দিয়েছেন তিনি। এগুলোও কিন্তু মারাত্মক মানহানিকর বক্তব্য। চাইলে উনারাও কিন্তু এসব লেখার কারণে উনার বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ সহজেই দায়ের করতে পারেন। একজন বড় মাপের আইনজীবী হিসেবে সেটাও নিশ্চয়ই তাঁর অজানা নয়।

আইনমন্ত্রী মহোদয়েরও আসলে উচিৎ হবে সবার সামনে পুরো ব্যাপারটা ক্লিয়ার করে বলা। কিন্তু সেখানেও আছে আরেক সমস্যা। কারণ ৬০০ সাওতালকে নৃশংসভাবে ব্রাশফায়ারে হত্যা করার মামলাটি এখনো আদালতে বিচারাধীন। আর বিচারাধীন মামলার কোনো ম্যাটারই জনসমক্ষে প্রকাশ্যে আলোচনা করার প্রচলিত বিধান নেই।

কাজেই ম্যাডাম যদি আসলেই মনে করে থাকেন যে , অন্যায়ভাবেই তাঁকে অপসারণ করা হয়েছে , তিনি সরাসরি মহামান্য আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন। খামোখা ফেসবুকে মানুষের স্ক্রিনশট ফাস করে লোক. হাসিয়ে লাভটা কি?

আর যদি যেকোন কারণেই হউক , আসামীর সাথে একবার হলেও ফোনে কথা বলে থাকেন , তাহলে উনার এখনই অফ যাওয়াটাই শ্রেয়।

কারণ , ২৫ কোটি টাকার কথা বাদই দিলাম ,

রাষ্ট্রের উকিলের যে আসামীর সাথে সিম্পল “কেমন আছেন ” কথাটাও বলার এখতিয়ারও যে নেই !!

ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

লেখক: আইনজীবী

Download Nulled WordPress Themes
Free Download WordPress Themes
Download Premium WordPress Themes Free
Free Download WordPress Themes
online free course