প্রধানমন্ত্রীর কাছে পুলিশের যেসব চাওয়া

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পদের মর্যাদা বাড়ানো, বাধ্যতামূলক ছুটি, ঝুঁকিভাতা, ওভারটাইম চালু, আসামি বহনের ভাতাসহ অনেকগুলো চাওয়া রয়েছে পুলিশের। বছরে একদিনই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বসে খোলামেলাভাবে আলোচনা ও দাবি-দাওয়া উপস্থাপনের সুযোগ পান তারা। এবারও পুলিশ সপ্তাহের প্রথম দিন সোমবার পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কল্যাণ সভায় অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তুলে ধরা হবে পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ দাবি-দাওয়া।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পদের মর্যাদা বাড়ানো, বাধ্যতামূলক ছুটি, ঝুঁকিভাতা, ওভারটাইম চালু, আসামি বহনের ভাতাসহ অনেকগুলো চাওয়া রয়েছে পুলিশের। বছরে একদিনই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বসে খোলামেলাভাবে আলোচনা ও দাবি-দাওয়া উপস্থাপনের সুযোগ পান তারা। এবারও পুলিশ সপ্তাহের প্রথম দিন সোমবার পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কল্যাণ সভায় অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তুলে ধরা হবে পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ দাবি-দাওয়া।

পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই), সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এবং কনস্টেবল সমমর্যাদার কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে দাবি-দাওয়ার বিষয়ে কথা হয়। তারা বলেন, ছুটি জমা থাকলেও কর্মব্যস্ততা ও চাপের কারণে কাটানো সম্ভব হয় না। তাই কেউ যদি ছুটি না কাটাতে পারেন তাহলে তাকে বছরের শেষ সময়গুলোতে বাধ্যতামূলক ছুটির ব্যবস্থা করতে হবে।

পুলিশের এক কনস্টেবল বলেন, আমাদের ডিউটির সময় নির্ধারণ করা থাকলেও অনেক সময় অতিরিক্ত ডিউটি করতে হয়। যেমন গত বছর জঙ্গিবাদ-নির্বাচন নিয়ে অতিরিক্ত ডিউটি করতে হয়েছে। জাতীয় দিবস আর জাতীয় উৎসব তো আছেই। তাই আমাদের জন্য ওভারটাইম ও পুলিশভাতা চালুর প্রস্তাব দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

পুলিশ কর্মকর্তারা আরও বলেন, একজন আসামিকে থানা থেকে আদালতে আনা-নেয়ার জন্য সবসময় গাড়ি পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে সিএনজি অথবা গাড়ি ভাড়া করে নিয়ে যেতে হয়। এতে ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়। একজন এএসআইকে পাঁচটি এবং এসআইকে তিনটি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে হয়। একজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরে কোর্টে চালান করতে দেড় থেকে তিন হাজার টাকা লাগে। অথচ এজন্য অতিরিক্ত কোনো টাকা থাকে না। এ টাকাগুলো এএসআই এবং এসআইকে নিজের বেতন থেকে খরচ করতে হয়।

তারা বলেন, আসামি গ্রেফতার ও কোর্টে প্রেরণ বাবদ খরচকৃত টাকা সরকারি তহবিল হতে নগদ প্রদানের ব্যবস্থা করা হোক। এছাড়াও অনেকক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে সোর্সমানি দেয়া হলেও তা অপারেশন লেভেলের কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছায় না। এ বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য সোর্সমানি প্রদানপ্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করার দাবি জানাই। পাশাপাশি নিজস্ব মেডিকেল কলেজ করার দাবিও জানান তারা।

তবে তাদের দাবি-দাওয়ার মধ্যে কয়েকটি উঠবে কল্যাণ সভায় প্রধানমন্ত্রীর সামনে। এদের মধ্যে একটি আইজিপি পদ বদলে ফোর স্টার জেনারেল পদমর্যাদার ‘চিফ অব পুলিশ’ করা। এছাড়াও পুলিশের একাধিক আইজিপি পদ সৃষ্টি, মেডিকেল কলেজ স্থাপন, আরও এক লাখ পুলিশ নিয়োগ, বিভিন্ন দূতাবাসে পুলিশসহ একগুচ্ছ দাবি উঠছে প্রধানমন্ত্রীর সামনে।

গত ২১ জানুয়ারি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অনুষ্ঠিত ‘পলিসি গ্রুপ’র সভায় এসব দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়।

সভায় পুলিশ কর্মকর্তারা এই বাহিনীর জন্য পুলিশ লাইনসে ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল ও একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি জানায়। এ ছাড়া আবাসন সংকট দূর করা, থানাগুলোয় যানবাহন ও লোকবল বাড়ানোর দাবি জানানো হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি, মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) মো. সোহেল রানা  বলেন, ‘সোমবার পুলিশ সপ্তাহের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করে কল্যাণসভায় অংশগ্রহণ করবেন।’

Download Best WordPress Themes Free Download
Download WordPress Themes Free
Download Best WordPress Themes Free Download
Download WordPress Themes Free
online free course