প্রভাবশালীদের যোগসাজশে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন অধ্যক্ষ সিরাজ

ফেনীর সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানির অভিযোগে আটক হওয়ার পর থেকেই একের পর এক বেরিয়ে আসছে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার নানা অপকর্মের কাহিনী। জানা গেছে, মাদ্রাসার লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন তিনি। ফেনী শহরের তিন তলা বাড়ি ও নামে-বেনামে কয়েক একর জমি রয়েছে তার। এছাড়া, রাফির আগেও বেশ কয়েকজন ছাত্রীর শ্লীলতাহানীর অভিযোগ থাকলেও বরাবরই পার পেয়ে গেছেন তিনি। আর এসবের পেছনে মদদ দিয়েছেন স্থানীয় ১০-১২ জন প্রভাবশালী।

ফেনীর সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানির অভিযোগে আটক হওয়ার পর থেকেই একের পর এক বেরিয়ে আসছে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার নানা অপকর্মের কাহিনী। জানা গেছে, মাদ্রাসার লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন তিনি। ফেনী শহরের তিন তলা বাড়ি ও নামে-বেনামে কয়েক একর জমি রয়েছে তার। এছাড়া, রাফির আগেও বেশ কয়েকজন ছাত্রীর শ্লীলতাহানীর অভিযোগ থাকলেও বরাবরই পার পেয়ে গেছেন তিনি। আর এসবের পেছনে মদদ দিয়েছেন স্থানীয় ১০-১২ জন প্রভাবশালী।

জানা যায়, সোনাগাজীর সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার সামনে বাজার সংলগ্ন তিন তলা মার্কেট রয়েছে। এই মার্কেটে ব্যাংক, বীমা এবং বিভিন্ন দোকান থেকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা জমা হয় মাদ্রাসার ফান্ডে। জমা করা টাকাগুলো ভাগাভাগি করে নিতেন অধ্যক্ষসহ মাদ্রাসা কমিটির প্রভাবশালী সদস্যরা। এই সুযোগে মাদ্রাসার ছাত্রীদের বছরের পর বছর ধরে হয়রানি করে আসছেন সিরাজ উদ দৌলা। তার কমিটির ভয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা কোনোদিন প্রতিবাদ করার সাহস পাননি।

সূত্র জানায়, মাদ্রাসার আয়-ব্যয়, ব্যাংক হিসাব, শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকাসহ আরো কিছু বিষয় নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। এ নিয়ে অনিয়ম তদন্তে একটি কমিটি করে দেওয়া হয় ফেনী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে। কমিটির তদন্তে ৩৬ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩৮ টাকার একটা অনিয়মের চিত্র পাওয়া যায়। এরপর ২০১৭ সালের অক্টোবরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ দেওয়া হয় অধ্যক্ষ সিরাজকে।

এছাড়া, ফেনীতে উম্মুল কুরা ডেভেলপার্স নামের একটি কথিত সমবায় প্রতিষ্ঠান আছে, যার চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সিরাজ। প্রতিষ্ঠানটির নাম করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে জমা পাওয়া টাকা তিনি আত্মসাৎ করেন। এ ঘটনায় চেক প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৪ হাজার টাকার মামলা হয়। এ বিষয়ে আদালতে দায়ের হওয়া মামলায় (সিআর ৯৪/১৮ নম্বর) আদালত গত বছরের ১০ জুলাই তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। পরে জামিনে মুক্ত হন তিনি।

এছাড়াও, ২০১৪ সালে নাশকতা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় সিরাজ উদ দৌলা ২০১৭ সালে কারাভোগ করেন।

স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে সিরাজ উদ দৌলার সম্পর্ক বিষয়ে ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রহমান বিকম বলেন, মাওলানা সিরাজদ্দৌলা মাদ্রাসার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ফেনী শহরতলীর ফালাহিয়া মাদ্রাসার কাছে একটি বহুল তল ভবন এবং এলাকায় কয়েক একর সম্পত্তির মালিক হয়েছেন এই অধ্যক্ষ।

তিনি বলেন, সিরাজদ্দৌলার সঙ্গে ওই মাদ্রাসার সহ-সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহল আমিন ওরফে গুজা রুহুলের যোগসাজশের কথা শুনেছি। তিনি অধ্যক্ষের বিভিন্ন অপকর্মকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টায় ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক আবুল কাশেম বলেন, অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে মাদ্রাসা পরিচালনা করেন। এ জন্য কেউ তাঁর অপকর্মের কথা বলতে সাহস পান না।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, রাফির ঘটনার ১৫ দিন আগে ওই অধ্যক্ষ একটি মেয়েকে শ্লীলতাহানি করেন। এতে মেয়েটির বাবা-মা অধ্যক্ষের গিয়ে কার্যালয়ে এর প্রতিবাদ করেন। এসময় অধ্যক্ষ মেয়েটি বাবা-মাকে ঘুষি-থাপ্পড় মেরে লাঞ্ছিত করেন। অসহায় বাবা মা তার কার্যালয়ে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে বিচার দিয়ে বাড়ি ফিরে যান। এই ঘটনার ১৫ দিন পরেই নুসরাত জাহান রাফির ঘটনায় অধ্যক্ষ গ্রেফতার হন।

প্রভাষক আবুল কাশেম জানান, অধ্যক্ষকে কোনো বিষয়ে পরামর্শ দিলে কিংবা শোধরাতে বললে রোষানলে পড়তে হয়। গত বছরের অক্টোবরে এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। মাদ্রাসার ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকতে অধ্যক্ষের কাছে তাঁর ঘনিষ্ঠ লোকদের মাধ্যমে বার্তা পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু এতে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর চিঠি দেন, যার মধ্যে আমিও আছি।

ওই মাদ্রাসার নৈশপ্রহরী মো. মোস্তফা বলেন, অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা পরপর দুটি শ্লীলতাহানির ঘটনায় ধরা পড়েছেন। এর আগেও নিজ দপ্তরে তাঁকে একাধিকবার মেয়েদের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখেছি। দেখে ফেলায় তিনি আমাকে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেন।

অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা অসৎ চরিত্রের জন্য ফেনী সদরে গোবিন্দপুর মাদ্রাসার ও ধলিয়া মাদ্রাসা এবং সালামতিয়া দাখিল মাদ্রাসার অভিভাবকদের হাতে লাঞ্ছিত হয়ে সেখান থেকে বিতাড়িত হন বলে জানা গেছে।

Download WordPress Themes
Premium WordPress Themes Download
Download WordPress Themes
Download WordPress Themes
online free course