বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণ

‘এ স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত না পায়। এ স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি বাংলার মা-বোনেরা কাপড় না পায়। এ স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি এদেশের মানুষ, বিশেষ করে যুবক শ্রেণী যারা আছে, তারা যদি চাকরি না পায়।’

‘এ স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত না পায়। এ স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি বাংলার মা-বোনেরা কাপড় না পায়। এ স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি এদেশের মানুষ, বিশেষ করে যুবক শ্রেণী যারা আছে, তারা যদি চাকরি না পায়।’

স্বাধীন দেশে পা রেখে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তুলতে এভাবেই ভাষণ দিয়েছেন স্বাধীনতার স্থপতি, বাঙালির রাখাল রাজা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার পর বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। ২৯০ দিন পাকিস্তানে কারান্তরীণ থাকার পর জাতির জনক পাকিস্তান থেকে ছাড়া পান ১৯৭২ সালের ৭ জানুয়ারি ভোর রাতে, ইংরেজি হিসেবে ৮ জানুয়ারি। পরে লন্ডন ও ভারত হয়ে ১০ জানুয়ারি বেলা ১ টা ৪১ মিনিটে জাতির অবিসংবাদিত নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন।

বঙ্গবন্ধু ঢাকায় পৌঁছার পর আনন্দে আত্মহারা লাখ লাখ মানুষ ঢাকা বিমানবন্দর থেকে রেসকোর্স ময়দান পর্যন্ত তাঁকে স্বতঃস্ফূর্ত সংবর্ধনা জানান। বিকাল পাঁচটায় রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ১০ লাখ লোকের উপস্থিতিতে তিনি ভাষণ দেন। কান্নাজড়িতকণ্ঠে সশ্রদ্ধ চিত্তে তিনি সবার ত্যাগের কথা স্মরণ করেন, সবাইকে দেশ গড়ার কাজে উদ্বুদ্ধ করেন। জননন্দিত শেখ মুজিব সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দাঁড়িয়ে ঐতিহাসিক ধ্রুপদি বক্তৃতা করেন। যা পাঠকের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘আমি প্রথমে স্মরণ করি আমার বাংলাদেশের ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, বুদ্ধিজীবি, সেপাহি, পুলিশ, জনগণকে, হিন্দু মুসলমানকে- যাদের হত্যা করা হয়েছে। আমি তাদের আত্মার মঙ্গল কামনা করে আমি আপনাদের কাছে দু-এক কথা বলতে চাই। আমার বাংলাদেশ আজ স্বাধীন হয়েছে, আমার জীবনের সাধ আজ পূর্ণ হয়েছে, আমার বাংলার মানুষ আজ মুক্ত হয়েছে। আমি আজ বক্তৃতা করতে পারবো না, বাংলার ছেলেরা, বাংলার মায়েরা, বাংলার কৃষক, বাংলার শ্রমিক, বাংলার বুদ্ধিজীবি যেভাবে সংগ্রাম করেছে, আমি কারাগারে বন্দি ছিলাম, ফাঁসির কাষ্ঠে যাবার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু আমি জানতাম আমার বাঙালিকে দাবায় রাখতে পারবে না।

আমার যেই ভাইয়েরা আত্মাহুতি দিয়েছে, শহীদ হয়েছে, তাদের আমি শ্রদ্ধা নিবেদন করি তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। আজ প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ কে মেরে ফেলা হয়ে হয়েছে। ২য় মহাযুদ্ধে ১ম মহাযুদ্ধেও এত মানুষ এত সাধারন জনগণ মৃত্যুবরণ করে নাই, শহীদ হয় নাই যা আমার ৭ কোটির বাংলায় করা হয়েছে।

আমি জানতাম না আমি আপনাদের কাছে ফিরে আসবো। আমি খালি একটা কথা বলেছিলাম, তোমারা যদি আমাকে মেরে ফেলে দাও কোন আপত্তি নাই। মৃত্যুর পরে তোমরা আমার লাশটা আমার বাঙ্গালির কাছে দিয়ে দিও। এই একটা অনুরোধ তোমাদের কাছে।

আমি মোবারকবাদ জানাই- ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীকে, আমি মোবারকবাদ জানাই ভারতবর্ষের জনগণকে, আমি মোবারকবাদ জানাই ভারতবর্ষের সামরিক বাহিনীকে, আমি মোবারকবাদ জানাই রাশিয়ার জনগণকে, আমি মোবারকবাদ জানাই ব্রিটিশ, জার্মানি, ফ্রান্সসহ সব জায়গার সরকার ও জনগণকে যারা আমাকে সমর্থন করেছে। আমি মোবারকবাদ জানাই আমেরিকার জনসাধারণকে, মোবারকবাদ জানাই সারা বিশ্বের মজলুম জনগণকে যারা আমার এই মুক্ত সংগ্রাম কে সাহায্য করেছে।

আমার বলতে হয়, ১ কোটি লোক এই বাংলাদেশ থেকে ঘর বাড়ি ছেড়ে ভারতবর্ষে আশ্রয় নিয়েছিলো। ভারতের জনসাধারণ মিসেস ইন্দিরা গান্ধী তাদের খাবার দিয়েছে, আশ্রয় দিয়েছেন তাদের আমি মোবারকবাদ না দিয়ে পারি না। যারা অন্যরা সাহায্য করেছেন তাদের আমার মোবারকবাদ দিতে হয়।

তবে মনে রাখা উচিত বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র। বাংলাদেশ স্বাধীন থাকবে। বাংলাদেশকে কেউ দমাতে পারবে না।বাংলাদেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করে লাভ নাই। আমি যাবার আগে বলেছিলাম ‘ও বাঙালি এবার তোমাদের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম।’ আমি বলেছিলাম ‘ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল’ তোমরা ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলে সংগ্রাম করছো। আমি আমার সহকর্মীদের মোবারক বাদ জানাই।আমার বহু ভাই বহু কর্মী আমার বহু মা-বোন আজ দুনিয়ায় নাই তাদের আমি দেখবো না।

আমি আজ বাংলার মানুষকে দেখলাম, বাংলার মাটিকে দেখলাম, বাংলার আকাশকে দেখলাম, বাংলার আবওহাওয়াকে অনুভব করলাম। বাংলাকে আমি সালাম জানাই। আমার সোনার বাংলা, তোমায় আমি বড় ভালোবাসি। বোধয় তার জন্যই আমায় ডেকে নিয়ে এসেছে।

দুনিয়ার সব রাষ্ট্রের কাছে আমার আবেদন- আমার রাস্তা নাই, আমার ঘাট নাই, আমার খাবার নাই, আমার জনগণ গৃহহারা সর্বহারা, আমার মানুষ পথের ভিখারী। তোমরা আমার মানুষকে সাহায্য করো মানবতার খাতিরে। তোমাদের কাছে আমি সাহায্য চাই। দুনিয়ার সকল রাস্ট্রের কাছে আমি সাহায্য চাই। তোমারা আমার বাংলাদেশকে তোমরা রিকোগনাইজ করো। জাতিসংঘের ত্রাণ দাও, দিতে হবে উপায় নাই, দিতে হবে। আমরা হার মানবো না, আমরা হার মানতে জানি না।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন- “সাত কোটি বাঙ্গালির হে মুগ্ধ জননী, রেখেছো বাঙালি করে মানুষ করো নাই” কবিগুরু তোমার কথা আজ মিথ্যা প্রমান হয়ে গিয়েছে। আমার বাঙালি আজ মানুষ।আমার বাঙালি আজ দেখিয়ে দিয়েছে। দুনিয়ার ইতিহাসে স্বাধীনতার সংগ্রামে এত লোক আত্মাহতি, এত লোক জান দেয় নাই। তাই আমি বলি আমায় দাবায় রাখতে পারবা না।

আমার অনুরোধ- আজ থেকে আমার আদেশ, আমার হুকুম- ভাই হিসেবে, নেতা হিসেবে নয়, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, প্রেসিডেন্ট হিসেবে নয়, আমি তোমাদের ভাই, তোমরা আমার ভাই। এ স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত না পায়,এ স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি বাংলার মা-বোনেরা কাপড় না পায়,এ স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি এদেশের মানুষ, যারা আমার যুবক শ্রেণী আছে, যদি তারা চাকরি না পায়।

মুক্তিবাহিনী, ছাত্রসমাজ তোমাদের মোবারকবাদ জানাই, তোমরা গেরিলা হয়েছো, তোমরা রক্ত দিয়েছো, রক্ত বৃথা যাবে না, রক্ত বৃথা যায় নাই। একটা কথা- আজ থেকে বাংলায় যেন আর চুরি ডাকাতি না হয়। বাংলায় যেন আর লুটতরাজ না হয়। বাংলায় যারা অন্য দেশের লোক আছে, পশ্চিম পাকিস্তানের লোক বাংলায় কথা বলে না, তাদের বলছি- তোমরা বাঙালি হয়ে যাও।আর আমি আমার ভাইদের বলছি, তাদের উপর হাত তুলো না, আমরা মানুষ ,মানুষ ভালোবাসি।

তবে যারা দালালি করেছে, যারা আমার লোকদের ঘরে ঢুকে হত্যা করছে। তাদের বিচার হবে এবং শাস্তি হবে। তাদের বাংলার স্বাধীন সরকারের হাতে ছেড়ে দেন, একজনকেও ক্ষমা করা হবে না। তবে আমি চাই স্বাধীন দেশে স্বাধীন নাগরিকের মত স্বাধীন আদালতে বিচার হয়ে এদের শাস্তি হবে। আমি দেখিয়ে দিতে চাই দুনিয়ার কাছে, শান্তিপূর্ণ বাঙালি রক্ত দিতে জানে, শান্তিপূর্ণ বাঙালি শান্তি বজায় রাখতেও জানে।

আমায় আপনারা পেয়েছেন আমি আসছি। আসতে পারবো জানতাম না। আমার ফাসির হুকুম হয়ে গেছে। আমার সেলের পাশে আমার জন্য কবর খোড়া হয়েছিলো। আমি প্রস্তুত হয়েছিলাম, বলেছিলাম, আমি বাঙালি আমি মানুষ, আমি মুসলমান, একবার মরে ২ বার মরে না। আমি বলেছিলাম, আমার মৃত্যু আসে যদি আমি হাসতে হাসতে যাবো। আমার বাঙালি জাত কে অপমান করে যাবো না। তোমাদের কাছে ক্ষমা চাইবো না। এবং যাবার সময় বলে যাবো, জয় বাংলা, স্বাধীন বাংলা, বাঙ্গালি আমার জাতি, বাংলা আমার ভাষা, বাংলার মাটি আমার স্থান।

ভাইয়েরা আমার, যথেষ্ট কাজ পরে রয়েছে। আমার সকল জনগণকে দরকার যেখানে রাস্তা ভেঙে গিয়েছে নিজেরা রাস্তা করতে শুরু করে দাও। আমি চাই জমিতে যাও ধান বুনো। কর্মচারীদের বলি একজন ও ঘুষ খাবেন না। মনে রাখবেন তখন সুযোগ ছিলো না, আমি দোষ ক্ষমা করবো না।

ভাইয়েরা আমার, যাওয়ার সময় আমাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। তাজউদ্দীন, নজরুলেরা আমাকে ছেড়ে যায়। আমি বলেছিলাম, ৭ কোটি বাঙালির সাথে মরতে দে তোরা। আমি আশীর্বাদ করছি, ওরা কাঁদছিল। আমি বলি- তোরা চলে যা, আমার আস্থা রইলো, আমি এই বাড়িতে মরতে চাই। এটাই হবে বাংলায় জায়গা, এখানেই আমি মরতে চাই। ওদের কাছে মাথানত করে আমি পারবো না।

ডাঃ কামাল কে নিয়ে ৩ মাস জেরা করছে আমার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিতে। কয়েকজন বাঙালি আমার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিয়েছে। তাদের আমরা জানি চিনি এবং তাদের বিচারও হবে।

আপনারা বুঝতে পারেন- “নম নম নম সুন্দরী মম জননী জম্নভুমি গঙ্গার তীর সিন্ধ সুমীর জীবনও জুড়ালে তুমি”

আজ আমি যখন ঢাকায় নামছি, আমি আমার চোখের পানি ধরে রাখতে পারি নাই। যে মাটিকে আমি এত ভালোবাসি,যে মানুষ কে আমি এত ভালোবাসি,যে জাত কে আমি এত ভালোবাসি,আমি জানতাম না সে বাংলায় আমি যেতে পারবো কিনা। আজ আমি বাংলায় ফিরে এসেছি বাংলার ভাইয়েদের কাছে,মায়েদের কাছে,বোনদের কাছে।বাংলা আমার স্বাধীন,বাংলাদেশ আজ স্বাধীন।

পশ্চিম পাকিস্তানের ভাইদের বলি, তোমরা সুখে থাকো। তোমাদের বিরুদ্ধে আমাদের ঘৃণা নাই। তোমাদের আমরা শ্রদ্ধা করতে চেষ্টা করবো। তোমার সামরিক বাহিনীর লোকেরা যা করেছে, আমার মা বোন্দের রেপ করেছে,আমার ৩০লক্ষ লোককে মেরে ফেলে দিয়েছে। যাও সুখে থাকো। তোমাদের সাথে আর না, শেষ হয়ে গেছে। তোমরা স্বাধীন থাকো,আমিও স্বাধীন থাকি।

তোমাদের সাথে স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে বন্ধু হতে পারে। তাছাড়া বন্ধু হতে পারেনা। তবে যারা অন্যায়ভাবে অন্যায় করেছে, তাদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট ব্যবস্থা করা হবে। আপনাদের কাছে আমি ক্ষমা চাই, আমি আরেকদিন বক্তৃতা করবো। একটু সুস্থ হয়ে লই। আপনারা চেয়ে দেখেন আমি সেই মুজিবুর রহমান আর নাই। আমার বাংলার দিকে চেয়ে দেখেন সমান হয়ে গেছে জায়গা, গ্রাম এর পর গ্রাম পুড়ে গেছে। এমন কোন পরিবার নাই যার মধ্যে আমার লোককে হত্যা করা হয় নাই।

কতবড় কাপুরুষ যে নিরপরাধ লোককে এভাবে হত্যা করে সামরিক বাহিনীর লোকেরা, আর তারা বলে কি- আমরা পাকিস্তানের মুসলমান সামরিক বাহিনী। ঘৃণা করা উচিত। জানানো উচিত দুনিয়ার মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার পরে বাংলাদেশই ২য় মুসলিম দেশ। ভারত ৩য় ও পশ্চিম পাকিস্তান ৪র্থ। বলে আমরা মুসলমান, মুসলমান মা বোনদের রেপ করে।

আমার রাষ্ট্রে হবে সমাজতন্ত্র ব্যবস্থা।এই বাংলাদেশে হবে গণতন্ত্র, এই বাংলাদেশে হবে ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র। যারা জানতে চান, আমি বলে দিবার চাই আসার সময় দিল্লিতে শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর সাথে কথা হয়েছে আমি আপনাদের বলতে পারি তাকে জানি। আমি তাকে আমি শ্রদ্ধা করি সে পন্ডিত নেহেরুর কন্যা, সে মতিলাল নেহেরুর ছেলের মেয়ে। তারা রাজনীতি করেছে, ত্যাগ করেছে, তারা আজকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছে। যেদিন আমি বলবো, সেইদিন ভারতের সৈন্য বাংলার মাটি ছেড়ে চলে যাবে। এবং তিনি আস্তে আস্তে কিছু সরিয়ে নিচ্ছেন। তবে যে সাহায্য তিনি করেছেন, আমি আমার ৭কোটি বাঙালির পক্ষ থেকে ইন্ধিরা গান্ধীকে, তার সরকারকে ভারতের জনগণকে মোবারকবাদ জানাই, অন্তরের অন্তস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাই।

ব্যক্তিগতভাবে এমন কোন রাষ্ট্র প্রধান নাই, যার কাছে তিনি আপিল করেন নাই শেখ মুজিব কে ছেড়ে দাও। তিনি নিজে ব্যক্তিগত ভাবে দুনিয়ার সকল রাষ্ট্রে কাছে বলেছে- তোমরা ইয়াইয়া খান কে বল শেখ মুজিব কে ছেড়ে দিতে, একটা রাজনৈতিক সমাধান করতে। ১কোটি লোক নিজের মাতৃভূমি ছেড়ে অন্য দেশে চলে গেছে? এমন অনেক দেশ আছে যেখানে লোক সংখ্যা ১০ লাখ, ১৫লাখ, ২০লাখ, ৩০লাখ, ৪০লাখ, ৫০লাখ। শতকরা ৬০ভাগ দেশ। লোক্সংখ্যা ১ কোটির কম আর আমার বাংলা থেকে ১ কোটি লোক মাতৃভূমির মায়া ত্যাগ করে ভারতে স্থান নিয়েছিলো কত অসুস্থ হয়ে মারা গেছে,কত না খেয়ে কষ্ট পেয়েছে,কত ঘর বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে এই পাষাণদের দল।

ক্ষমা কর আমার ভাইয়েরা ক্ষ্মা কর। আজ আমার কারো বিরুদ্ধে প্রতিহিংসা নাই একটা মানুষকে তোমরা কিছু বলো না অন্যায় যে করেছে তাকে সাজা দিবো আইন নিজের হাতে তুলে নিও না। মুক্তিবাহিনীর ছেলেরা তোমরা আমার সালাম গ্রহন করো, ছাত্রসমাজ তোমরা আমার সালাম গ্রহন করো, শ্রমিক্সমাজ তোমরা আমার সালাম গ্রহন করো, বাংলার হতভাগ্য হিন্দু-মুসল্মামান আমার সালাম গ্রহন করো।

আর আমার কর্মচারী পুলিশ, ইপিআর যাদের উপর মেশিনগান চালিয়ে দেয়া হয়েছে, যারা মা বোন ত্যাগ করে পালিয়ে গিয়েছে তার স্ত্রীদের ধরে কুলমিটোলা নিয়ে যাওয়া হয়েছে তোমাদের আমি সালাম জানাই,তোমাদেরকে আমি শ্রদ্ধা জানাই।

নতুন করে গড়ে উঠবে এই বাংলা,বাংলার মানুষ হাসবে বাংলার মানুষ খেলবে বাংলার মানুষ মুক্ত হয়ে বাস করবে বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত খাবে এই আমার সাধনা এই আমার জীবনের কাম্য আমি যেন এই কথা চিন্তা করেই মরতে পারি এই আশীর্বাদ এই দোয়া আপনার আমাকে করবেন।এই কথা বলে আপনাদের কাছে থেকে বিদায় নিবার চাই।

আমার সহকর্মী দের আমি ধন্যবাদ জানাই যাদের আমি যে কথা বলে গিয়েছিলাম তারা সকলে একজন একজন করে প্রমাণ করে দিয়ে গেছে মুজিব ভাই বলে গিয়েছে তোমরা সংগ্রাম করো,তোমরা স্বাধীন করো,তোম্রা জান দাও বাংলার মানুষ কে মুক্ত করো।

আমার কথা চিন্তা করো না আমি চললাম যদি ফিরে আসি আমি জানি আমি ফিরে আসতে পারবো না আজ আল্লাহ আছে তাইআজ আমি আপনাদের কাছে ফিরে এসেছি। তোমাদের আমি মোবারকবাদ জানাই আমি জানি কি কষ্ট তোমরা করছো। আমি কারাগারে ছিলাম ৯ মাস আমাকে কাগজ দেয়া হয় নাই।এ কথা সত্য আসার সময় ভুট্টো আমায় বললেন শেখ সাব দেখেন ২ অংশের কোন একটা বাঁধন রাখা যায় নাকি আমি বললাম আমি বলতে পারি না আমি বলতে পারবো না আমি কোথায় আছি বলেত পারি না আমি বাংলায় গিয়ে বলবো আজ বলছি ভুট্টো সাহেব সুখে থাকো বাঁধন ছিঁড়ে গেছে আর না। তুমি যদি কোন বিশেষ শক্তির সাথে গোপন করে আমার বাংলার স্বাধীনতা হরণ করতে চাও মনে রেখ দলের নেতৃত্ব দিবে শেখ মুজিবুর রহমান মরে যাব স্বাধীনতা হারাতে দিবো না।

ভাইয়েরা আমার,আমার ৪লক্ষ বাঙালি আছে পাকিস্তানে। তবে একটা জিনিস আমি বলতে চাই, ইন্টারন্যাশনাল ফোরামে জাতিসংঘের মাধ্যমে অথবা ওয়ার্ল্ড জুরির পক্ষ থেকে ১টা ইনকোয়ারি হতে হবে কি পাশবিক অত্যাচার কিভাবে হত্যা করা হয়েছে আমার লোকেদের! এ সত্য দুনিয়ার মানুষকে জানতে হবে।আমি দাবী করবো জাতিসংঘকে বাংলাদেশকে আসন দাও এবং ইনকোয়ারি করো। ভাইয়েরা আমার যদি কেউ চেষ্টা করেন ভুল করবেন, আমি জানি ষড়যন্ত্র শেষ হয় নাই, সাবধান বাঙালিরা ষড়যন্ত্র শেষ হয় নাই।

একদিন বলেছিলাম ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলো,একদিন বলেছিলাম যার যা কিছু আছে তা নিয়ে যুদ্ধ করো,বলেছিলাম এ সংগ্রাম সাব্ধিনতার সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম এ জায়গায় ৭ মার্চ। আজ বলছি তোমরা ঠিক থাকো একতাবদ্ধ থাকো,কারো কথা শুনো না। ইনশাল্লাহ স্বাধীন যখন হয়েছি স্বাধীন থাকবো একজন মানুষ এই বাংলাদেশে বেঁচে থাকতে এই সংগ্রাম চলবে। আজ আমি আর বক্তৃতা করতে পারছি না, একটু সুস্থ হলে আবার বক্তৃতা করবো।আপনারা আমাকে মাফ করে দেন। আপনারা আমাকে দোয়া করেন, আপনারা আমার সাথে সকলে একটা মুনাজাত করেন।

এসময় সমস্ত মাঠ জুড়ে মানুষ মুনাজাত করছেন। অসংখ্য সাংবাদিক দেশি বিদেশি সাংবাদিক তাদের ক্যামেরা নিয়ে ব্যস্ত। মুনাজাত শেষে বঙ্গবন্ধু নিজেই স্লোগান দেন। জয় বাংলা, বাংলাদেশ-ভারত ভাই ভাই, শহীদের স্মৃতি-অমর হোক, স্বাধীন বাংলাদেশ-জিন্দাবাদ,জিন্দাবাদ স্লোগান দেন।


About us

DHAKA TODAY is an Online News Portal. It brings you the latest news around the world 24 hours a day and 7 days in week. It focuses most on Dhaka (the capital of Bangladesh) but it reflects the views of the people of Bangladesh. DHAKA TODAY is committed to the people of Bangladesh; it also serves for millions of people around the world and meets their news thirst. DHAKA TODAY put its special focus to Bangladeshi Diaspora around the Globe.


CONTACT US

Newsletter

Download Nulled WordPress Themes
Download Best WordPress Themes Free Download
Download Nulled WordPress Themes
Download Best WordPress Themes Free Download
udemy course download free