বার বার কপাল চাপড়াচ্ছেন তূর্ণা নিশীথার চালক তাহের

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার পর ওই ট্রেনের চালকসহ তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় ১৬ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছে। দুর্ঘটনায় সময় ঘুমিয়ে থাকা তূর্ণা নিশীথার চালক তাহের উদ্দিন ও সহঃ চালক অপু দে ঘটনার পর থেকে কপাল চাপড়াচ্ছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার পর ওই ট্রেনের চালকসহ তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় ১৬ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছে। দুর্ঘটনায় সময় ঘুমিয়ে থাকা তূর্ণা নিশীথার চালক তাহের উদ্দিন ও সহঃ চালক অপু দে ঘটনার পর থেকে কপাল চাপড়াচ্ছেন।

এদিকে দুর্ঘটনার পর ওই চালক ও সহকারী গোপনে আখাউড়ায় চিকিৎসা নেওয়ার সময় কপাল চাপড়াতে দেখা গেছে। আহত যাত্রীর বেশে এ্যাম্বুলেন্সে করেই আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলে আসেন আন্তঃনগর মহানগর তূর্ণা নিশীথার চালক (লোকোমাস্টার) তাহের উদ্দিন (৫৫) ও সহকারী চালক অপু দে (৩৫)। হাসপাতালের কেবিনেই অবস্থান করছিলেন তারা।  পরে সুযোগ বুঝে হাসপাতাল ছেড়ে যান উভয়েই।

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) রাতেই তারা ঢাকায় ফিরে তদন্ত কমিটির মুখোমুখী হন।  আজ (বুধবার) সকালে পূর্বাঞ্চলীয় রেলের তদন্ত কমিটির কাছে জবানবন্দি দিতে চট্টগ্রামের পথে ঢাকা ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।

বুধবার (১৩ নভেম্বর) সকালে ঢাকা থেকে ছেড় আসা চট্টগ্রামগামী কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ট্রেনের (ঢাকা) চালক শরীফুল ইসলাম (৪৫), আবু তাহের (৫০), সহকারী চালক মো. ইদ্রিস আলী (৪০) তূর্ণা নিশীথা ট্রেনের চালক তাহের উদ্দিন ও সহকারী চালক অপু দে’র ছবি দেখে নিশ্চিত করেন।

মঙ্গলবার ট্রেন দুর্ঘটনায় হতাহতদের খোঁজে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে জানা যায়, পুরুষ কেবিনে দু’জন ব্যক্তি ভর্তি রয়েছেন। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, একই বেডে দু’জন ব্যক্তি শুয়ে আছেন।

আপনারা কি ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন।  এমন প্রশ্নে প্রথমে কোন জবাব মিলেনি।  একই প্রশ্ন একাধিকবার করার পর মেলে উত্তর।
একপর্যায়ে অপু দে বলেন, ‘প্লীজ আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, আমাদেরকে একা থাকতে দিন।’

নাম ঠিকানা জানতে চাইলে অপু দে বলেন, ‘তিনি ভোলার বাপদা গ্রামের বাসিন্দা কৃপাচার্য্য দে’র ছেলে।  অপরজন তার বাড়ি মানিকগঞ্জ বলে জানান।’ এ সময় তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে বলেন, ‘ওই ট্রেনের যাত্রী ছিলেন তারা।  চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন।’ এর বেশি কথা বলতে নারাজ উভয়ই।

তবে কথা বলার সময় তাহের উদ্দিন তার হাত দিয়ে বার বার কপাল চাপড়াচ্ছিলেন।  তখন তাদের ভীষণ হতাশাগ্রস্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মনে হচ্ছিল।

দুর্ঘটনাস্থল থেকে তাদেরকে বহনকারী আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ্যাম্বুলেন্স চালক মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত একাধিক ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেয়ার উদ্দেশ্যে এ্যাম্বুলেন্সে করে আখাউড়ায় নিয়ে আসা হয়।  এদের মধ্যে পাঁচজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।  কিন্তু ওই দু’জন আখাউড়া হাসপাতালে ছিলেন।  তবে ওরা যে তূর্ণা নিশীথার চালক (লোকোমাস্টার) তাহের উদ্দিন ও সহকারী চালক অপু দে আমি বুঝতে পারিনি।  হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়ার পর ওদের নাম ঠিকানা মিডিয়াতে জানাজানি হলে পরে তা বুঝতে পারি।’

এ বিষয়ে ঢাকা লোকোসেড ইনচার্জ (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) প্রকৌশলী মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘তূর্ণা নিশীথা ট্রেনের দুই চালক তাহের উদ্দিন ও অপু দে মঙ্গলবার রাত ১০টায় তদন্ত কমিটির নিকট হাজির ছিলেন।  বুধবার সকাল ১০টায় তাদের দু’জনকে চট্টগ্রাম তদন্ত কমিটি ডেকে পাঠিয়েছে।  চট্টগ্রামের উদ্দেশ্য সকালেই ঢাকা ছেড়েছেন তারা।’

মঙ্গলবার ভোর রাত পৌনে ৩টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দবাগ এলাকায় রেলওয়ে স্টেশনে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর তূর্ণা নিশীথা ও সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের সংঘর্ষ হয়।  এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত শিশুসহ ১৬ জন নিহত হয়েছেন।  আহত হয়েছে শতাধিক যাত্রী।

Download Nulled WordPress Themes
Download WordPress Themes
Download Premium WordPress Themes Free
Download WordPress Themes
online free course