তুলনামূলকভাবে কম তেল ও মশলায় রান্না করা যায় বলে রাইস কুকারের রান্না বেশ স্বাস্থ্যসম্মত। তবে রাইস কুকারে রান্না করার জন্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের প্রয়োজন। রান্না সম্পন্ন হওয়ার পূর্বে যদি বিদ্যুৎ চলে যায়, সেক্ষেত্রে রাইস কুকারের ঢাকনা না খুলে রেখে দিতে হবে। পুনরায় বিদ্যুৎ এলে আবার রাইস কুকার চালু করে দিতে হবে। এভাবেই খুব সহজে রাইস কুকারের উপযুক্ত ব্যবহারে অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে আপনার দৈনন্দিন জীবনের পথচলা।

ভাত ছাড়াও রাইস কুকারে যেসব রান্না করতে পারবেন

বর্তমানে বাসা-বাড়িতে গ্যাসের অসম্ভব সংকটের কারণে গৃহিণীদের অনেক সময় রান্নার দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। অনেককে ঘরের বাইরের খাবারের উপরও নির্ভর করতে হয়। কিন্তু তুলনামূলকভাবে কম তেল ও মশলায় রান্না করা যায় বলে রাইস কুকারের রান্না বেশ স্বাস্থ্যসম্মত। তবে রাইস কুকারে রান্না করার জন্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের প্রয়োজন। রান্না সম্পন্ন হওয়ার পূর্বে যদি বিদ্যুৎ চলে যায়, সেক্ষেত্রে রাইস কুকারের ঢাকনা না খুলে রেখে দিতে হবে। পুনরায় বিদ্যুৎ এলে আবার রাইস কুকার চালু করে দিতে হবে। এভাবেই খুব সহজে রাইস কুকারের উপযুক্ত ব্যবহারে অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে আপনার দৈনন্দিন জীবনের পথচলা।

রাইস কুকারে কেক: রাইস কুকারে কেক তৈরির কথা শুনে হয়তো অনেকেই অবাক হবেন। তবে এটি পুরোপুরি অসম্ভব নয়। কিন্তু এটি দেখতে ঠিক ওভেনে বেক করা কেকের মতো না হলেও স্বাদের দিক থেকে কোনো অংশে কম নয়। মজার ব্যাপার হলো, রাইস কুকারে সাধারণ ভ্যানিলা বা চকোলেট কেকও তৈরি করা সম্ভব।

ঝরঝরে পোলাও: সাদা ভাতের পাশাপাশি রাইস কুকারে খুব সুন্দর ঝরঝরে পোলাও রান্না করা যায়। তবে রাইস কুকারে রান্না করার জন্য ভালো পোলাওয়ের চাল হওয়া বাঞ্ছনীয়। চাল ভালো করে

খিচুড়ি: যারা শহরে একা একা থাকেন, তাদের কাছে রাইস কুকারে খিচুড়ি রান্না খুব পরিচিত একটি বিষয়। খুব অল্প সময়ে, অল্প উপকরণে এবং ঝঞ্ঝাটবিহীন রান্না এই খিচুড়ি।

মুরগির রোস্ট: মুরগি পছন্দমতো টুকরো করে লবণ, তেল, পেঁয়াজ, রসুন ও আদা বাটা, টক দই, মরিচ, হলুদ, জিরা ও গরম মশলার গুঁড়ো, তেজপাতা দিয়ে মাংস ভালোভাবে মাখিয়ে নিয়ে কিছু সময়ের জন্যে রেখে দিতে হবে। এবার রাইস কুকারের প্যানে হালকা তেল দিয়ে শুধু মুরগির টুকরোগুলো হালকা ভেজে নিতে হবে। এরপর বাকি মিশ্রণটি প্যানে ঢেলে দিয়ে পরিমাণ মতো পানি দিয়ে কুকারের ঢাকনা বন্ধ করে দিতে হবে।

রান্না হয়ে যাওয়ার পর ওয়ার্ম সুইচে আসলে ঢাকনা উল্টে দেখতে হবে। যদি ঝোলের পরিমাণ কমিয়ে আনতে চান, তাহলে ওয়ার্ম অবস্থায় আরো কিছু সময় রেখে দিতে হবে। একই পদ্ধতিতে গরু বা খাসির মাংসও রান্না করা যায়। তবে সেক্ষেত্রে মশলা মাখানো গরু বা খাসির মাংস দীর্ঘ সময় রেখে দিতে হবে।

বিভিন্ন ধরনের সবজি সেদ্ধ করা
রাইস কুকারের সাথে ঝাঁকার মতো একটি স্টিমার সাথে দেয়া থাকে। এই উপকরণটির সাহায্যে খুব সহজেই যেকোনো সবজি সিদ্ধ করে ফেলা যায়। নিজের ইচ্ছানুযায়ী সবজি ভালোভাবে ধুয়ে নিয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিতে হবে। কুকারে ভাত রান্না করার সময় অথবা প্যানে কিছু পানি দিয়ে স্টিমারে সবজিগুলো রেখে ঢাকনা বন্ধ করে দিলেই হলো। ভাতের সাথে সাথেই সবজি সেদ্ধ হয়ে রান্না হয়ে যাবে।

ভাজা খাবার
সাধারণ রাইস কুকারে এই রান্নাটি করা সম্ভব নয়। তবে বর্তমানে এমন একধরনের রাইস কুকার বা মাল্টি কুকার পাওয়া যায় যাতে ডুবন্ত তেলে ভাজা বা ফ্রাই করার সুবিধা থাকে। এই ধরনের রাইস কুকারের মূল্য সাধারণ কুকারের চাইতে কিছুটা বেশি হয়। কারো তেলে ভাজা খাবার খুব পছন্দ হলে এই কুকারটি সংগ্রহে রাখতে পারেন। এতে প্যানের সাথে একটি ঝাঁকার মতো থাকে, যার সাহায্যে ডুবো তেল হতে যেকোনো ভাজা করা খাবার খুব সহজে তুলে নেয়া যায়। তবে এতে সাধারণ রাইস কুকারের চাইতে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়।

বিভিন্ন ধরনের মাছ রান্না
রাইস কুকারে মাছ রান্না করার জন্য প্রথমে কয়েক টুকরো মাছ ধুয়ে এর সাথে হলুদ ও মরিচের গুঁড়ো মাখিয়ে কিছু সময় রেখে দিতে হবে। এর সাথে পেঁয়াজ ও রসুন বাটা, লবণ ও কয়েক চামচ তেল দিয়ে মিশিয়ে রাইস কুকারে বসিয়ে দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময় শেষে মাছ রান্না হয়ে আসলে ঢাকনা খুলে কয়েকটি কাঁচা মরিচ ও ধনেপাতা দিয়ে নামিয়ে নিতে হবে।

ডিমের নানা তরকারি
রাইস কুকারে খুব সহজে সকালের খাবার থেকে শুরু করে বিভিন্ন ডিমের তরকারি রান্না করা সম্ভব। সকালের নাস্তায় ডিমের অমলেট বানানোর জন্যে প্রথমে একটি বাটিতে ডিম, পেঁয়াজ কুচি, কাঁচা মরিচ ও লবণ দিয়ে ফেটে নিতে হবে। এরপর প্যানে কিছুটা তেল দিতে হবে। তেল গরম হয়ে আসলে মিশ্রণটি ঢেলে দিয়ে কুকারের ঢাকনা বন্ধ করে দিতে হবে। কিছুক্ষণ পর ঢাকনা উল্টে ডিম দেখে নিতে হবে। ডিম হয়ে আসলে রাইস কুকার বন্ধ করে দিতে হবে। এছাড়াও রাইস কুকারে খুব সহজে ডিম সেদ্ধ করে নেয়া সম্ভব।

Download WordPress Themes
Download WordPress Themes Free
Download WordPress Themes Free
Premium WordPress Themes Download
free online course