ভিকারুননিসা নূন স্কুল যার নামে

রাজধানীর খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ চেনে না, দেশে এমন মানুষ খুবই কম! বিশেষ করে বিভিন্ন বোর্ড পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সময় প্রতিষ্ঠানটির নাম সবার সামনে আসে। বর্তমান প্রজন্মের শহরমুখী বেশিরভাগ তরুণীরই স্বপ্ন থাকে এই স্কুলে পড়ার। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি যার নামে নামকরণ করা হয়েছে তাকে ক’জনই-বা চেনে।

রাজধানীর খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ চেনে না, দেশে এমন মানুষ খুবই কম! বিশেষ করে বিভিন্ন বোর্ড পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সময় প্রতিষ্ঠানটির নাম সবার সামনে আসে। বর্তমান প্রজন্মের শহরমুখী বেশিরভাগ তরুণীরই স্বপ্ন থাকে এই স্কুলে পড়ার। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি যার নামে নামকরণ করা হয়েছে তাকে ক’জনই-বা চেনে।

ভিকার উন নিসা নূন বা বেগম নুন জন্মসূত্রে অস্ট্রিয়ান ছিলেন। এটা কিন্তু তার আসল নাম নয়! পাকিস্তানের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী (১৬ ডিসেম্বর ১৯৫৭ – ৭ অক্টোবর ১৯৫৮) ফিরোজ খান নুনের সঙ্গে অস্ট্রিয়ান এই নারী ১৯৪৫ সালে বিবাহে আবদ্ধ হন। সে সময় তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ভিক্টোরিয়া নাম পরিবর্তন করেন। ফিরোজ খানই তার নাম রাখেন ভিকার উন নিসা নূন।

ফিরোজ খানের রাজনৈতিক জীবনেরও সক্রিয় সঙ্গী ছিলেন বেগম নুন। স্বামীর সঙ্গে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ভারতের ভাইসরয়ের মন্ত্রীপরিষদ থেকে পদত্যাগ করে স্ত্রীকে নিয়ে লাহোর চলে আসেন ফিরোজ খান। তারপর ফিরোজ খানের পাশাপাশি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন ভিকার উন নিসা। তিনি ছাত্রী এবং অন্যান্য নারীর স্বেচ্ছাসেবকদের একটি গোষ্ঠীকে সংগঠিত করেন এবং মুসলিম লীগের প্রচারের জন্য বিভিন্ন জেলা ভ্রমণ করেন।

পাঞ্জাবের আইন অমান্য করার আন্দোলনে বেগম নূন ছিলেন নেতৃস্থানীয় মহিলা নেত্রীদের অন্যতম। তিনি ব্রিটিশদের দ্বারা পরিচালিত খিজার মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে সফলভাবে মিছিল ও বিক্ষোভের আয়োজন করে তিনবার গ্রেফতার হয়। এরপরেও দমে যাননি তিনি। শুধু রাজনীতি নয়, বেগম নুন বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজে জড়িয়ে পড়েন।

১৯৫২ সালের ১৪ জানুয়ারি ঢাকায় মেয়েদের জন্য মানসম্পন্ন ও আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুরু করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করেন ভিকারুননিসা স্কুল। প্রতিষ্ঠার কয়েকমাস পরই ভিকারুননিসা সিনিয়র কেমব্রিজ স্কুল হিসেবে পরিবর্তিত হয়। যা থেকে উচ্চশিক্ষা লাভে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গমনের জন্য বৃত্তিসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দান করা হতো। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এটি একটি সম্পূর্ণরুপে বাংলা মাধ্যম স্কুল হিসাবে পরিচিত হয়। ১৯৭৮ সালে স্কুলটি মাধ্যমিক পর্যায় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে উন্নীত করা হয়।

দেশ বিভাজনের পর তিনি বিভিন্ন শরণার্থী কমিটি এবং ক্যাম্পে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন বেগম। তিনি ঘনিষ্ঠভাবে রেডক্রসের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং বিভিন্ন সময়ে পাকিস্তানকে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। তিনি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের নিকটবর্তী রাওয়ালপিন্ডিতেও মেয়েদের জন্য একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। দীর্ঘ অসুস্থতার পর ভিকার উন নিসা নূন ২০০০ সালের ১৬ জানুয়ারি ইসলামাবাদে মারা যান।

Download Nulled WordPress Themes
Download Nulled WordPress Themes
Download WordPress Themes Free
Download Premium WordPress Themes Free
download udemy paid course for free