‘মাফ করে দিস ভাই, আমারে সবাই মাফ কইরা দিস’

আবরারের মতোই বুয়েটের শেরে বাংলা হলে থাকেন আরাফাত ও মহিউদ্দিন। আবরার ফাহাদকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা পিটিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রেখে যাওয়ার পর মহিউদ্দিন তাকে দেখেন কাতরানো অবস্থায়। আর আরাফাত যখন আবরারকে দেখেন, তখন তার পুরো শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে।

বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড নিয়ে একের পর এক বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। হত্যার অভিযোগে গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবরারকে মারধরের কথা স্বীকার করেছেন।

তবে তাদের একজনের ভূমিকা ছিল একেক রকমের। তাদের মধ্যে কেউ কেউ লাঠি দিয়ে প্রহার করে। কেউবা উপস্থিত থেকে মারপিটের দৃশ্য উপভোগ করেছেন।

লাঠি, স্ট্যাম্প দিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে পিটুনির পর রক্তাক্ত হয়ে যায় আবরার ফাহাদের পুরো শরীর। বিরামহীন পিটুনিতে নেতিয়ে পড়া জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা আবরারের গোঙানিও যায়নি খুনিদের মনে।

আবরারের মতোই বুয়েটের শেরে বাংলা হলে থাকেন আরাফাত ও মহিউদ্দিন। আবরার ফাহাদকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা পিটিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রেখে যাওয়ার পর মহিউদ্দিন তাকে দেখেন কাতরানো অবস্থায়। আর আরাফাত যখন আবরারকে দেখেন, তখন তার পুরো শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে।

নিহত আবরারের শেষ সময়ের প্রত্যক্ষদর্শী এই দুজন ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। আজ বুধবার বেলা দেড়টার দিকে এই দুই ছাত্র বিক্ষোভে অংশ নিয়ে ওই ঘটনার বর্ণনা দেন। তখন ওই দুই ছাত্রসহ অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

আরাফাত বলেন, পড়া শেষে রাতে নিচে খাবার আনতে বেরিয়েছিলেন তিনি। তখনই দেখেন তোশকের মধ্যে একজন পড়ে আছেন। তখনো তার চিন্তায় আসেনি এ রকম হতে পারে। তার ধারণা হয়েছিল, হয়তো কেউ মাথা ঘুরে পড়ে গেছে।

আরাফাত বলেন, ‘খোদার কসম, এক সেকেন্ডের জন্যও মাথায় আসে নাই এভাবে কাউকে মারা হতে পারে।’ তিনি বলছিলেন, যখন আবরারের হাত ধরেন তখন হাত পুরো ঠান্ডা, পা ঠান্ডা। শার্ট-প্যান্ট ভেজা। তোশক ভেজা। মুখ থেকে ফেনা বের হয়েছে।

তিনি বলছিলেন, ‘তখন ওকে বাঁচানোর জন্য বুকে চাপ দিই। হাতে চাপ দিই। আশপাশের সবাইকে বলি, কেউ একজন ডাক্তারকে ম্যানেজ কর। এরপর ডাক্তার আসল। ডাক্তার দেখে বলেন, ১৫ মিনিট আগেই সে (আবরার) মারা গেছে।’

আফসোস করে কাঁদতে কাঁদতে আরাফাত বলছিলেন, ‘তিন-চারটা মিনিট আগে যদি খাবার আনতে যাইতাম, তাহলে পোলাডারে বাঁচাইয়া রাখতে পারতাম। এই তিন মিনিটের আফসোসে তিন দিনে তিন ঘণ্টাও ঘুমাইতে পারি নাই।’

আরাফাত এ বক্তব্য দেওয়ার পরপরই মহিউদ্দিন বলছিলেন, ‘আরাফাতের তো তিন মিনিটের আফসোস আছে, আর আমার আছে অনুতাপ।’

তিনি ফেলে রাখার দৃশ্য দেখার বর্ণনা দিয়ে বলেন, তখন আড়াইটার মতো বাজে। তিনি খেতে বের হয়েছেন। তখন দেখেন আবরার কাতরাচ্ছেন। তখনো ছাত্রলীগ নেতা জিয়ন বলছিলেন, ‘ও (আবরার) নাটক করতাছে।’

নিষ্ঠুরতার এই বর্ণনা দিতে দিতে মহিউদ্দিন আবারও কেঁদে ফেলে বলেন, ‘আমি ওরে বাঁচাইতে পারি নাই। মাফ করে দিস ভাই। আমারে সবাই মাফ কইরা দিস। আমি জীবিত দেইখাও ওরে বাঁচাইতে পারি নাই।’

Premium WordPress Themes Download
Premium WordPress Themes Download
Download Nulled WordPress Themes
Download Nulled WordPress Themes
udemy course download free