মায়ের মৃত্যু হওয়ায় ডাক্তারের কান ফাটিয়ে দিলেন যুবলীগ নেতা

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় চিকিৎসকের অবহেলায় এক যুবলীগ নেতার মায়ের মৃত্যুতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র, দরজা, জানালা ও ভাঙচুর করা হয়েছে।

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় চিকিৎসকের অবহেলায় এক যুবলীগ নেতার মায়ের মৃত্যুতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র, দরজা, জানালা ও ভাঙচুর করা হয়েছে।

এ সময় হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল চিকিৎসককেও (আরএমও) মারধর করা হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ১১টার শিবগঞ্জ হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিবগঞ্জ পৌর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস ইসলাম, তার বাবা দুদু মিয়াসহ তিনজনকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার বিকেল ৩টার দিকে শিবগঞ্জ পৌর এলাকার লালদহ মহল্লার ব্যবসায়ী দুদু মিয়ার স্ত্রী ও পৌর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াছ ইসলামের মা ডলি বেগম (৫২) অসুস্থ হলে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

রাত ১১টার দিকে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুতে তার ছেলে-মেয়েসহ গ্রামের লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতালে ছুটে যান। এ সময় তারা উত্তেজিত হয়ে জরুরি বিভাগে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। পরে তারা দোতলায় গিয়ে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) চিকিৎসক দেলোয়ার হোসেন নয়নের ওপর হামলা চালিয়ে তাকেও মারধর করে গুরুতর আহত করেন। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) চিকিৎসক দেলোয়ার হোসেন নয়ন বাদী হয়ে বাবা-ছেলেসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) চিকিৎসক দেলোয়ার হোসেন বলেন, রোগী ভর্তি হয়েছিল মাথা ব্যথার কথা বলে। রোগী ঘুমের মধ্যে সম্ভবত হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। কিন্তু রোগীর লোকজন ভুল বুঝে অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমাকে মারধর করে আহত করেন। আমি এখন ডান কানে কিছুই শুনতে পারছি না। আমার কান ফাটিয়ে দিয়েছেন যুবলীগ নেতা।

নিহত ডলি বেগমের ছেলে ও পৌর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াছ ইসলাম বলেন, আমার মাকে সঠিক চিকিৎসা দেয়া হয়নি। চিকিৎসার অভাবে আমার মা মারা গেছেন।

চিকিৎসকের ওপর হামলা সম্পর্কে তিনি বলেন, উত্তেজিত জনগণ এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। কারণ রাত সাড়ে ১০টায় দিকে অসুস্থ মাকে নিয়ে যখন হাসপাতালে যাওয়া হয় তখন জরুরি বিভাগে কোনো চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে চিকিৎসককে ডেকে নিয়ে আসতে হয়। এ হাসপাতালে চিকিৎসকরা সঠিকভাবে রোগীদের চিকিৎসাসেবা না দেয়ার কারণে মাঝেমধ্যেই এ ধরনের ঘটনা ঘটে।

শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা চিকিৎসক সলিমুল্লাহ আকন্দ বলেন, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে সরকারি সম্পদ নষ্ট করা ও চিকিৎসককে মারপিটের ঘটনার সঠিক বিচারের জন্য মামলা করেছি আমরা।

শিবগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি মিজানুর রহমান বলেন, চিকিৎসককে মারপিট ও হাসপাতালে হামলা, সরকারি কাজে বাধা দেয়ায় তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হবে।

Download WordPress Themes Free
Download Premium WordPress Themes Free
Download Best WordPress Themes Free Download
Download WordPress Themes Free
free download udemy paid course