যেভাবে গ্রেফতার হলেন দাড়ি-গোঁফওয়ালা ওসি মোয়াজ্জেম

গোয়েন্দারা জানান, নুসরাত হত্যার পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় মোয়াজ্জেম হোসেনের যে ছবি ছড়িয়েছিল, আজকে গ্রেফতার হওয়া মোয়াজ্জেমের সঙ্গে সেই চেহারার মিল খুঁজতে তাদের বেগ পেতে হয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ২০ দিন পর রোববার ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের কিছুক্ষণ আগেও তিনি জামিন আবেদনের জন্য হাইকোর্টে গিয়েছিলেন।

তবে সেখানে তাকে দেখে চিনতে পারেননি কেউ। হাইকোর্টে কর্মরত গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অবাক হন দাড়ি-গোঁফ ওয়ালা মোয়াজ্জেমকে দেখে।

গোয়েন্দারা জানান, নুসরাত হত্যার পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় মোয়াজ্জেম হোসেনের যে ছবি ছড়িয়েছিল, আজকে গ্রেফতার হওয়া মোয়াজ্জেমের সঙ্গে সেই চেহারার মিল খুঁজতে তাদের বেগ পেতে হয়েছে।

রোববার (১৬ জুন) দুপুরে তিনি যখন হাইকোর্টে আগাম জামিন নিতে আসেন তখন থেকেই তাকে গ্রেফতারে তৎপর ছিলেন গোয়েন্দারা।

দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সকালে ওসি মোয়াজ্জেম জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে আসার পর প্রথমে সুপ্রিম কোর্টের ১১১ নম্বর কক্ষে বসেন। এরপর শাহবাগ থানার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে থানায় নেয়।

তবে পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ‘শাহবাগ থানাধীন কদম ফোয়ারার সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমাদের কাছে গোপন তথ্য ছিল তিনি সেখানে থাকতে পারেন। সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম দুপুরে কৌশলে জামিন আবেদন করেন। এ বিষয়ে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল গাজী মো. মামুনুর রশিদ জাগো নিউজকে বলেন, বেলা ১টার দিকে আইনজীবী সালমা সুলতানা একটি জামিন আবেদন শুনানি করতে সংশ্লিষ্ট আদালতে উপস্থাপন (ম্যানশন) করেন। কিন্তু তিনি তখন বলেননি যে ফেনীর সোনাগাজীর সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমের জামিন আবেদন।

তিনি জানান, আজ আদালতে একমাত্র জামিন আবেদন ছিল এটি। যখন আপনারা (সাংবাদিকরা) আমাকে ফোন দেন তখনই আমার মনে সন্দেহ হয় এটা ওসি মোয়াজ্জেমের জামিন আবেদন। এর আগে ওসির পক্ষে অ্যাডভোকেট সালমা সুলতানা হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জামিন আবেদন করেছিলেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ জামিন আবেদন শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হয়েছিল।

এর আগে ফেনীতে হত্যাকাণ্ডের শিকার মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দির ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানোর অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহানকে গত ৬ এপ্রিল পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তার দিন দশেক আগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ জানাতে সোনাগাজী থানায় যান নুসরাত। থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন সে সময় নুসরাতকে আপত্তিকর প্রশ্ন করে বিব্রত করেন এবং তা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

ওই ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হলে আদালতের নির্দেশে সেটি তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই গত ২৭ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে ওইদিনই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়।

এ বিষয়ে পিবিআইয়ের এএসপি রিমা সুলতানা বলেছিলেন, ‘তদন্তের সব তথ্য উপাত্ত যাচাই বাছাই শেষে ওই ওসির বিরুদ্ধে থানায় বক্তব্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়াসহ প্রত্যেকটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।’

পরোয়ানা জারির দুইদিন পর মোয়াজ্জেম হোসেন হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেফতারে বিলম্ব নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সরকারের নানা রকম সমালোচনা চলছিল।

Premium WordPress Themes Download
Download WordPress Themes Free
Download Premium WordPress Themes Free
Download WordPress Themes
free download udemy paid course