কেউ সাংবাদিকতার সূত্রে শোবিজে এসেছেন, কেউ আবার তারকাখ্যাতির খাতিরে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এমন তারকাদের অনুসন্ধান করতে গিয়ে তালিকায় দেখা গেল অনেক জনপ্রিয় নামের ভিড়। আর সংখ্যাটাও কম নয়।

যে সব তারকারা সাংবাদিক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন

কেউ অভিনয় করে মুগ্ধতা ছড়িয়ে যাচ্ছেন আবার কেউ গান গেয়ে মন ভরাচ্ছেন। তারা আমাদের প্রিয় তারা। মজার ব্যাপার হলো এই মানুষগুলোর আরও একটি পরিচয় আছে। কোনো না কোনো কারেণ তারা সাংবাদিকতার সঙ্গেও জড়িয়েছেন।

কেউ সাংবাদিকতার সূত্রে শোবিজে এসেছেন, কেউ আবার তারকাখ্যাতির খাতিরে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এমন তারকাদের অনুসন্ধান করতে গিয়ে তালিকায় দেখা গেল অনেক জনপ্রিয় নামের ভিড়। আর সংখ্যাটাও কম নয়।

এমনই বেশ কজন তারকাকে নিয়ে সাজানো হয়েছে এই প্রতিবেদন-

আসাদুজ্জামান নূর
অভিনেতা, আবৃত্তিশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, মন্ত্রী- অনেক পরিচয়ে মহিমান্বিত একটি নাম আসাদুজ্জামান নূর। তিনি নব্বই দশকের শুরুতে হুমায়ূন আহমেদের ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকে ‘বাকের ভাই’ চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পান।

তবে হয়তো অনেকেই জানেন না একজন সাংবাদিক হিসেবেই নিজের কর্মজীবন শুরু করেছিলেন আসাদুজ্জামান নূর। তিনি ১৯৭২ সালে বহুল প্রচারিত সাপ্তাহিক চিত্রালীতে কাজ করার মধ্যদিয়ে কর্মে প্রবেশ করেন।

সঞ্জীব চৌধুরী
কথা প্রধান গান, আর গানে গানের মানুষের সুখ-দুঃখ ফেরী করে বেড়ানো এক শিল্পীর নাম সঞ্জীব চৌধুরী। ‘আমি তোমাকেই বলে দেব’, ‘ভাঁজ খোলো আনন্দ দেখাও’, ‘তোমার বাড়ির রঙের মেলায়’সহ বহু জনপ্রিয় গান তিনি উপহার দিয়েছেন।

প্রয়াত এই শিল্পী একজন খ্যাতনামা সাংবাদিকও ছিলেন। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র আজকের কাগজ, ভোরের কাগজ ও যায়যায়দিনে কাজ করেছেন তিনি। আমৃত্যু যুক্ত ছিলেন সাংবাদিকতার সঙ্গে।

হাসান মাসুদ
নিউ নেশান, ডেইলি স্টার ও বিবিসি সব মিলিয়ে ১৫ বছরের অধিক সময় সাংবাদিকতার সঙ্গে ছিলেন অভিনেতা হাসান মাসুদ। এর আগে ছায়ানট থেকে নজরুল সংগীতের উপর ৫ বছরের একটি কোর্স সম্পন্ন করেন।

১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৯২ সালে অধিনায়ক হিসাবে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি নিউ নেশনম এবং পরবর্তীতে ডেইলি স্টারে ক্রীড়া প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করেন।

মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পচিালিত ব্যাচেলর চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে তার পথচলা শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি মেড ইন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র এবং অনেক নাটকে অভিনয় করেন। তার প্রথম সংগূীত অ্যালবাম ‘হৃদয়ঘটিত’ ২০০৬ সালে প্রকাশ পায়। বর্তমানে অভিনেতা হিসেবেই অধিক পরিচিত তিনি।

তাজিন আহমেদ
গত ২২ মে বিকেল ৪ টা ৩৪ মিনিটে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাজিন। অভিনেত্রী হিসেবেই সবাই চেনেন তাকে। বিটিভির স্বর্ণালী সময়ে টিভিনাটকে অভিনয় করে দর্শকের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠেন তাজিন আহমেদ।

রেডিও এবং টেলিভিশনে উপস্থাপনাও করতেন তাজিন। লেখালেখিও করতেন তিনি। তাজিনের লেখা ও পরিচালনায় তৈরি হয় ‘যাতক’ ও ‘যোগফল’ নামে দুটি নাটক। তার লেখা উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হচ্ছে ‘বৃদ্ধাশ্রম’, ‘অনুর একদিন’, ‘এক আকাশের তারা’, ‘হুম’, ‘সম্পর্ক’ ইত্যাদি।

তবে কর্ম জীবন শুরু করেছিলেন তিনি সাংবাদিক হিসেবে। তাজিন আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর করে ভোরের কাগজের সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন। এরপর প্রথম আলোসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেছেন। আনন্দ ভুবন ম্যাগাজিনের কলামিস্টও ছিলেন তিনি।

মাহফুজ আহমেদ
ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা মাহফুজ আহমেদ। সিনেমাতে অভিনয় করেও মানুষের মন জয় করেছেন তিনি। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুুরস্কার। মজার ব্যপার হলো মাহফুজ আহমেদও তার কর্মজীবন শুরু করেছিলেন সাংবাদিকতা দিয়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াশোনাকালীন বিনোদন পাতায় লিখতেন। কাজ করেছেন তিনি পূর্ণিমা নামের একটি ম্যাগাজিনে। সেখানে কাজের সুবাদে ইমদাদুল হক মিলনের সঙ্গে পরিচয়। তারই পরামর্শে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘কোন কাননের ফুল’ এ ছোট্ট একটি চরিত্রে অভিনয় করার মধ্য দিয়ে টিভি নাটকে নাম লেখান।

এরপর হুমায়ূন আহমেদের বিখ্যাত ধারাবাহিক ‘কোথাও কেউ নেই’-এ বাকের ভাইয়ের বিরুদ্ধে সাক্ষী দেয়া মতি চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পান। নব্বই দশকে অনেক জনপ্রিয় অভিনেতার ভিড়ে তিনি মূলত পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করতেন।

তবে শেষের দিকে ‘সবুজ ছায়া’ ধারাবাহিকে অভিনয় করে বেশ আলোচিত হন, ততদিনে তিনি হয়ে উঠেন হুমায়ূন আহমেদের আস্থাভাজন অভিনেতা। বর্তমানে অভিনয় ও পরিচালনা দুই নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।

এলিটা
গানের জগতের জনপ্রিয় মুখ এলিটা করিম। নিয়মিতই গান গেয়ে যাচ্ছেন তিনি। বিভিন্ন কনসার্টে ও টেলিভিশনের গানের অনুষ্ঠানে নিয়মিত তার দেখা পাওয়া যায়। তিনি সাংবাদিক। ইংরেজি দৈনিক ‘ডেইলি স্টার’- এ দীর্ঘদিন ধরেই সাংবাদিকতা করছেন তিনি।

ফেরদৌস
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশুনা করেছেন ফেরদৌস। আনন্দ আলো ম্যাগাজিনেও সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই মডেলিং ও অভিনয়ের প্রতি টান ছিল তার। সেই টান থেকেই তিনি হয়ে উঠেছেন আজকের নায়ক ফেরদৌস।

তার চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে প্রয়াত নৃত্য পরিচালক আমির হোসেন বাবু’র হাত ধরে। তখন আমির হোসেন বাবু পরিচালক হিসেবে নাচভিত্তিক একটি চলচ্চিত্র ‘নাচ ময়ূরী নাচ’ নির্মাণের পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু আমির হোসেন বাবু সেই ছবির কাজ আর শুরু করতে পারেননি। তাই ফেরদৌস অভিনীত মুক্তি পাওয়া প্রথম চলচ্চিত্র প্রয়াত নায়ক সালমান শাহের অসমাপ্ত কাজ ‘বুকের ভিতর আগুন’। এটির পরিচালক ছিলেন ছটকু আহমেদ।

আসিফ আকবর
‘বাংলা গানের যুবরাজ’খ্যাত আসিফ আকবরও বেশ কিছুদিন সাংবাদিকতা করেছেন। কয়েক বছর আগে মানবজমিন প্রত্রিকায় বিশেষ সংবাদদাতা হিসেবে তার অনেক লেখা প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানেও তার তত্বাবধানে আর্ব নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম নামে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল রয়েছে। লেখালেখির প্রতি ভালোবাসা থেকেই এই পোর্টালটি করেন তিনি।

এছাড়া ক্রিকেটসহ নানা বিষয়ে নিয়মিত কলাম লেখেন তিনি। বলার অপেক্ষা রাখে না, গানের মতো লেখাতেও জনপ্রিয় এই সংগীত তারকা।

মৌসুমী
প্রিয়দর্শিনী অভিনেত্রী মৌসুমী। ঢাকাই সিনেমা তিনি মাতিয়ে রেখেছেন সৌন্দর্য আর অভিনয়ে। ৩ নভেম্বর ছিল তার জন্মদিন। এই দিনে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের সম্পাদক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন তিনি। নিউজ পোর্টালটির নাম ‘ইয়েসনিউজবিডিডটকম’।

এখানে কেবলমাত্র শোবিজের খবর পাওয়া যাবে। মৌসুমী বলেন, ‘সাংবাদিকতার প্রতি অনেক আগে থেকেই আগ্রহ ছিল। পেশাজীবনে অনেক সাংবাদিকের সঙ্গে মিশেছি। সেই জন্য এই পেশার প্রতি ভালো লাগা আরও বেশি। আশা করি অভিনয়ের মতো সাংবাদিক ক্যারিয়ারেও সবাইকে পাশে পাবো।’

মৌসুমী বেশ কয়েক বছর আগে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ‘প্রিয়জন’-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

ইলিয়াস কাঞ্চন
বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যবসা সফল ‘বেদের মেয়ে জোছনা’ সিনেমার নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। অংখ্য জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজ সেবক হিসেবেও তিনি খ্যাতিমান।

২৫ বছর ধরে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন করে আসছেন। পেয়েছেন একুশে পদক। আরও একটা পরিচয় আছে তারা। নিরাপদ নিউজ নামের একটি অনলাইন নিউপোর্টালের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

শবনম বুবলী
অনার্স পড়েছেন ইকোনোমিক্সে। এরপর মার্কেটিংয়ে এমবিএ। টেলিভিশনে অন্যদের খবর পড়া দেখতে দেখতেই এই পেশার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তার। বুবলীর বোনও নিউজ প্রেজেন্টার ছিলেন। তাকে দেখেই অনুপ্রাণিত হন বুবলী।

অনার্স সেকেন্ড ইয়ার পার হওয়ার পরেই নিউজ প্রেজেন্টের উপর কোর্স করেন। এরপর বাংলাভিশনে সংবাদপাঠিকা হিসেবে কর্ম জীবন শুরু করেন। বেশ সফলতার সঙ্গেই চলছিল তার এই পেশা।

এরই মধ্যে শাকিব খানের সঙ্গে অভিনয় করার সুযোগ পান। তার পরের গল্পটা সবার জানা। এখন নায়িকা হিসেবেই সবাই চেনেনে তাকে।

এছাড়াও সৈয়দ হাসান ইমাম মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন দৈনিক ইত্তেফাকসহ বাংলাদেশ বেতারে নানাভাবে সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন। মামুনুর রশীদ মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আলী যাকেরও মুক্তিযুদ্ধের সময় বিবিসিতে যুদ্ধ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন।

অভিনেত্রী শমী কায়সার বড় হয়েছেন সাংবাদিকতার আবহে। নিজেও লিখতে ভালোবাসেন। ভোরের কাগজে একসময় নিয়মিতই দেখা যেত তার কলাম। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে গায়ক বাপ্পা মজুমদার ও জয়া আহসানও ভোরের কাগজে ফিচার লিখেছেন। সাম্প্রতিককালে কণ্ঠশিল্পী ফাহমিদা নবীও কলাম লিখছেন বেশ কিছু গণমাধ্যমে।

আফজাল হোসেন, বিপাশা হায়াত ও তৌকীর আহমেদ লেখা নিয়ে সাংবাদিকতার সঙ্গে না থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা বিভিন্ন পত্রিকায় কার্টুন, গ্রাফিক্স, ইলাস্ট্রেটরের কাজ করেছেন।

নির্মাতা ও নাট্যকার অরুণ চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ম্যাগাজিন আনন্দধারার। চ্যানেল আইতে এখন কাজ করছেন তিনি।

মুশফিকুর রহমান গুলজার ১৯৮৭ সালে ‘বাংলার বাণী’ পত্রিকায় কাজ শুরু করেন বিনোদন সাংবাদিক হিসেবে। বিনোদন সাংবাদিকতা করতে গিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহী হন।

অভিনেতা সুমন পাটোয়ারি গানের মানুষ হিসেবেও পরিচিত। তবে তিনি সাংবাদিক হিসেবেও কাজ করেছেন অনেকদিন। দৈনিক প্রথম আলোতে সাংবাদিকতা করেছেন তিনি।

Download Premium WordPress Themes Free
Free Download WordPress Themes
Download WordPress Themes Free
Download Best WordPress Themes Free Download
free download udemy course