রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

ভুক্তভোগী বর্তমানে শরণার্থী শিবিরে নিজের বাড়িতে রয়েছেন। তবে তার আরো চিকিৎসার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন উসমান। তিনি বলেন, ‘‘হাসপাতালে ওর ভালো চিকিৎসা হয়নি। ও অসুস্থ, বিছানায় পড়ে আছে। ওর সারা শরীর ব্যথা করছে। ওকে যে ধর্ষণ করা হয়েছে এটাই প্রমাণ।’’

বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এক রোহিঙ্গাকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর বড় ভাইয়ের দাবি এ ঘটনায় সেনা সদস্যরা জড়িত। তবে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার বলছেন ধর্ষণের প্রমাণ মেলেনি। খবর ডয়চে ভেলের।

অভিযোগ ওঠার পর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দপ্তর বা আইএসপিআর জানিয়েছে, তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখাবার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

রোহিঙ্গাদের পরিচালিত একটি ওয়েবসাইট ‘রোহিঙ্গা ভিশন ডট কম’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ধর্ষণের এই অভিযোগ সম্পর্কে জানা যায়। প্রতিবেদনটিতে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটার সময় উল্লেখ করা হয়েছে গত ২৯শে সেপ্টেম্বর রবিবার, সন্ধ্যে সাড়ে সাতটা।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি টহল দলের তিন সদস্য কিশোরীকে তার ঘরের ভেতরে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছেন কিশোরীর বড় ভাই মোহাম্মদ উসমান।

তিনি বলেছেন, ‘‘একজন মুখ চেপে ধরে রেখেছে, আর দুই জন আমার বোনকে ধর্ষণ করেছে। ওর বয়স তের বছর।’’

ঘটনার পর ভুক্তভোগী কিশোরীকে প্রথমে শরণার্থী শিবিরের চিকিৎসাকেন্দ্র এবং পরবর্তীতে কক্সবাজার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বলেও জানিয়েছেন উসমান। তিনি বলেন, ‘‘হাসপাতালের সবগুলো পরীক্ষায় ধর্ষণ প্রমাণ হয়েছে। কিন্তু রিপোর্টগুলো তারা রেখে দিয়েছে।’’

ভুক্তভোগী বর্তমানে শরণার্থী শিবিরে নিজের বাড়িতে রয়েছেন। তবে তার আরো চিকিৎসার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন উসমান। তিনি বলেন, ‘‘হাসপাতালে ওর ভালো চিকিৎসা হয়নি। ও অসুস্থ, বিছানায় পড়ে আছে। ওর সারা শরীর ব্যথা করছে। ওকে যে ধর্ষণ করা হয়েছে এটাই প্রমাণ।’’

‘‘ওর যৌনাঙ্গ এবং স্তনের বোঁটায় দাগ রয়েছে’’ বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ধর্ষণের অভিযোগ তদন্তে সংশ্লিষ্ট শরণার্থী শিবিরের সরকারি কর্মকর্তারাসহ ব়্যাব ও সেনা সদস্যরা মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলেও জানান উসমান। তিনি বলেন, ‘‘আজকে বারোটার সময় আসছে ওরা। ঘটনা কিভাবে ঘটেছে জানতে চেয়েছে। আমার সঙ্গেও কথা বলেছে। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা বলেছেন যে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দেয়া হবে।’’

প্রসঙ্গত, ১৯৯২ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা এক রোহিঙ্গা পরিবারের সদস্য এই কিশোরী। তার জন্ম বাংলাদেশে। কিশোরীর পরিবার নয়াপাড়ার নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা। তার এক প্রতিবেশী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, (ধর্ষণের সময়) ওই কিশোরী গোঙ্গানির মতো শব্দ করলে আশেপাশের লোকজন টের পায়। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা চলে গেলে সেই কিশোরীকে তার প্রতিবেশীরা শিবিরের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায় বলেও জানান তিনি।

‘‘বলাৎকার বা ধর্ষণের শিকার মেয়েটির রক্তক্ষরণ হচ্ছিল,’’ বলেন প্রতিবেশী।

চিকিৎসা কেন্দ্রে কিশোরীকে দেখেছেন এমন এক রোহিঙ্গা নারী জানান, কিশোরী হাঁটতে পারছিল না। ‘‘তাকে দুই জন দুই দিক থেকে ধরে হাসপাতালের ডেলিভারি রুমে নিয়ে যায়,’’ বলেন তিনি।

রোহিঙ্গা শিবিরে কিশোরী ধর্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর মুখপাত্র জোসেফ ত্রিপুরা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত আছেন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘‘এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগী শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসাসেবাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়ার উপযুক্ত।’’ তবে সুনির্দিষ্ট কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে বেশি তথ্য দিতে রাজি নয় ইউএনএইচসিআর।

এই বিষয়ে উখিয়ায় সামরিক বাহিনীর শিবিরে যোগাযোগ করা হলে ধর্ষণের খবরটি ‘মিথ্যা, গুজব’ বলে দাবি করা হয়। আর শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোঃ মাহবুব আলম তালুকদার জানান, সেই কিশোরীকে কক্সবাজার ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে, তবে ‘ধর্ষণের প্রমাণ মেলেনি।’

তিনি বলেন, ‘‘ওটা ধর্ষণের ঘটনা নয়। ডাক্তারি পরীক্ষায় দেখা গেছে ওটা ধর্ষণের ঘটনা নয়।’’

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেদেশের সেনাবাহিনী ভয়াবহ অভিযান শুরু করলে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজার এলাকায় আশ্রয় গ্রহণ করেন। অতীতেও এভাবে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন আরো রোহিঙ্গা। সব মিলিয়ে দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে অবস্থান করছেন।

Download Best WordPress Themes Free Download
Download Nulled WordPress Themes
Download Nulled WordPress Themes
Free Download WordPress Themes
free download udemy paid course