লিবিয়ায় যেভাবে হত্যা করা হয় ২৬ বাংলাদেশিকে

আশরাফুল ইসলাম জানান, অপহরণকারীদের সঙ্গে আটক হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তিপণ নিয়ে দর কষাকষি চলছিল। আটককৃতদের অনেকেই পরিবারের সাথে যোগাযোগ করলেও কাঙ্ক্ষিত মুক্তিপণ দিতে ব্যর্থ হন তারা।

লিবিয়ায় মানব পাচারকারী চক্রের কাছ থেকে অপহৃত হওয়ার পর ২৬ বাংলাদেশি

অপহরণকারীদের হাতে খুন হন বলে জানিয়েছে লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস।

হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া আহত এক বাংলাদেশির বক্তব্যের ভিত্তিতে লিবিয়ায় নিযুক্ত

বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম বিষয়ক কাউন্সিলর আশরাফুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে এ কথা জানান।

অবশ্য লিবিয়ার জাতিসংঘ সমর্থিত সরকার দাবি করেছে, লিবিয়ার একজন মানব

পাচারকারীকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে ২৬ জন বাংলাদেশিসহ ৩০ জন অভিবাসন

প্রত্যাশীকে হত্যা করে ওই পাচারকারীর পরিবারের সদস্যরা।

বাংলাদেশি ছাড়া মারা যাওয়া বাকি চারজন আফ্রিকান বংশোদ্ভূত।

আশরাফুল ইসলাম জানান, মারা যাওয়া ২৬ জনসহ মোট ৩৮ জন বাংলাদেশি ও

কিছু সুদানি নাগরিক প্রায় ১৫ দিন ধরে ওই অপহরণকারী চক্রের হাতে আটক ছিলেন।

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলি থেকে ১৮০ কিলোমিটার

দক্ষিণের শহর মিজদায় আটক করে রাখা হয়েছিল তাদের।

আশরাফুল ইসলাম জানান, সেখানেই ২৮ মে সকালে বন্দীদের ওপর গুলি চালায় অপহরণকারীরা।

তিনি বলেন, যুদ্ধকবলিত লিবিয়ায় একাধিক সরকার থাকায় ত্রিপলি হয়ে যুওয়ারা যাওয়ার

প্রচলিত পথে নানা রকম তল্লাশি হয়। সেই পথ এড়িয়ে কম ব্যবহৃত মরুভূমির

মধ্যকার রাস্তা দিয়ে অভিবাসীদের নিয়ে যুওয়ারা যাচ্ছিলেন পাচারকারীরা।

ওই মরুভূমির পথ সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণাধীন, যারা সরকারহীনতার সুযোগ

নিয়ে অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে অনেকদিন ধরে।

বেনগাজি থেকে মরুভূমির রাস্তায় যুওয়ারা যাওয়ার পথে তারা অপহরণকারীদের কবলে পড়েন।

অপহরণের পর মিজদাতেই প্রায় ১৫ দিন অপহরণকারীদের

জিম্মায় ছিলেন অভিবাসন প্রত্যাশী বাংলাদেশি ও সুদানি নাগরিকরা।

আশরাফুল ইসলাম জানান, অপহরণকারীদের সঙ্গে

আটক হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তিপণ নিয়ে দর কষাকষি চলছিল।

আটককৃতদের অনেকেই পরিবারের সাথে যোগাযোগ

করলেও কাঙ্ক্ষিত মুক্তিপণ দিতে ব্যর্থ হন তারা।

তিনি বলেন, মুক্তিপণ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আাটককৃতদের

ওপর নির্যাতন চালাতে থাকে অপহরণকারীরা।

একপর্যায়ে বাংলাদেশিদের সঙ্গে থাকা সুদানি নাগরিকরা

অপহরণকারী চক্রের এক সদস্যকে মেরে ফেলেন।

এই দূতাবাস কর্মকর্তা বলেন,

‘এরপর অপহরণকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা

চালালে ৩৮ জন বাংলাদেশির সবাই গুলিবিদ্ধ হন। মারা যায় ২৬ জন।’

তিনি বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত অবস্থায় কয়েকজন ভেতরেই পড়ে ছিলেন।

দু-একজন আহত অবস্থায় বের হয়ে আসেন।

তাদের দেখে স্থানীয় লোকজন সেনাবাহিনীকে খবর দেয় এবং

সেনাবাহিনী তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে।’

আশরাফুল ইসলাম আরও জানান,

আহত বাংলাদেশিদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে লিবিয়ার সংবাদমাধ্যম আল-ওয়াসাত এক প্রতিবেদনে বলেছে,

মোহাম্মদ আবদুল রহমান নামে এক

মানবপাচারকারী অজানা কারণে শুরু হওয়া এক ‘বিদ্রোহে’ মারা যান।

এরপর তার পরিবারের সদস্যরা ওই ভবনটি ঘেরাও করে

এবং মরদেহ ফিরে পাওয়ার জন্য আলোচনা শুরু করে।

এক পর্যায়ে ওই ভবনে উপস্থিত ১০০ জন অভিবাসী আত্মসমর্পণ করেন।

কিন্তু ৪০ জন ভবন ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান।

এরপর ওই ভবনে ভারী অস্ত্রশস্ত্র ও রকেট

দিয়ে হামলা করার পর ভবনের ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা নিহত হন।

তবে অন্য কোনো সূত্র থেকে এই তথ্যের

সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি বাংলা।

Download Premium WordPress Themes Free
Download WordPress Themes
Download WordPress Themes
Download Premium WordPress Themes Free
free download udemy course