শয্যাশায়ী মাকে স্ট্রেচারে গ্রাম দেখালেন চিকিৎসক সন্তান

শনিবার (২ জানুয়ারি) সকালে মাধবপুর উপজেলার গাজিপুরে তিনি তার মাকে বাবার কবরসহ সারা গ্রাম ঘুরে দেখান। দীর্ঘ ৭ মাস বিছানায় থাকার পর মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পেরে অনেকটা আবেগাপ্লুত হয়ে যান ৮৮ বছর বয়সী মা।

শয্যাশায়ী মায়ের ইচ্ছা পূরণ করতে স্ট্রেচারে করে সারা গ্রাম ঘুরিয়ে মায়ের প্রতি ভালবাসার অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক মুখলেছুর রহমান।

শনিবার (২ জানুয়ারি) সকালে মাধবপুর উপজেলার গাজিপুরে তিনি তার মাকে বাবার কবরসহ সারা গ্রাম ঘুরে দেখান।

দীর্ঘ ৭ মাস বিছানায় থাকার পর মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পেরে অনেকটা আবেগাপ্লুত হয়ে যান ৮৮ বছর বয়সী মা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ডা. মুখলেছুর রহমানের বাবা সাবেক জনপ্রতিনিধি মকসুদ আলী মারা যান ২০০১ সালে।

মা জোবেদা খাতুন বার্ধক্যজনিত কারণে দীর্ঘদিন থেকে শয্যাশায়ী। এর মধ্যে পড়ে গিয়ে ভেঙে যায় কোমরের হাড়।

এতে দীর্ঘ ৭ মাস যাবত ঘর থেকে বের হতে পারেননি তিনি। বাইরে গিয়ে স্বামীর কবর ও গ্রাম ঘুরে দেখতে ছটফট করছিলেন বৃদ্ধা মা।

মায়ের ইচ্ছে ও আকুতি পূরণ করতে বাইরে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেন ডাক্তার মুখলেছ।

প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে আনা একটি স্ট্রেচারে করে মাকে নিয়ে বের হয়ে যান নিজেই।

বাবার কবরসহ সারা গ্রাম ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মাকে দেখান ছেলে। দীর্ঘদিন পর বাইরে মুক্ত পরিবেশে বের হতে খুশিতে আধখানা তার মা।

আর মায়ের প্রতি ছেলের এ অকৃত্রিম ভালোবাসা দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন গ্রামের নারী-পুরুষরাও।

এ ব্যাপারে ডাক্তার মোহাম্মমদ মুখলেছুর রহমান জানান, মায়ের ইচ্ছা পূরণ করা আমার দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যেই পড়ে।

দীর্ঘদিন বিছানায় থাকতে থাকতে অনেকটা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। বাইরে যেতে ও বাবার কবর দেখতে ছটফট করছিলেন।

তাই আমি মাকে নিয়ে সারা গ্রাম ঘুরে বেড়িয়েছি। দীর্ঘদিন পর ঘরের বাইরে মুক্ত পরিবেশে ঝলমলে রোদ্দুরে প্রাণভরে নিঃশ্বাস নিতে পেরে মা অনেক আনন্দ পেয়েছেন।

মায়ের চোখে মুখে আনন্দ দেখে আমার সব কষ্ট নিমিষেই শেষ হয়ে যায়। আমি মনে করি আমাদের সকলেরই মা-বাবার প্রতি আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।

Download Nulled WordPress Themes
Download Nulled WordPress Themes
Download Nulled WordPress Themes
Download Best WordPress Themes Free Download
udemy course download free