কারাগারে খালেদা জিয়া

শুনানি শেষে কারাগারে খালেদা জিয়া

নাইকো দুর্নীতির মামলায় শুনানি শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে তার নির্ধারিত রুমে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।
dt008610

নাইকো দুর্নীতির মামলায় শুনানি শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে তার নির্ধারিত রুমে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে শুরু হয়ে শুনানি। যা শেষ হয় দুপুর সোয়া ১টার দিকে। পুরাতন ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্থায়ীভাবে স্থাপিত ঢাকার নয় নম্বর বিশেষ জজ মাহমুদুল কবীরের আদালতে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল থেকে আদালতে নেওয়া হয়। পরে বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে খালেদা জিয়াকে কারাগারের অস্থায়ী আদালতে হাজির করা হয়।

এর আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়াকে বহনকারী পুলিশের একটি কালো এসইউভি গাড়ি বেলা ১১টা ২০ মিনিটে হাসপাতাল থেকে বের হয়।

প্রসঙ্গত, কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন।

২০০৮ সালের ৫ মে এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক এস এম সাহেদুর রহমান। অভিযোগপত্রে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়। নাইকো ছাড়াও গ্যাটকো ও বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তা বাতিলের আবেদন জানিয়ে পৃথক পৃথক রিট করেছিলেন খালেদা জিয়া।

এসব রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি মামলাগুলোর কার্যক্রম স্থগিত ও রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। কয়েক বছর ধরে স্থগিত থাকার পর মামলাগুলো সচলের উদ্যোগ নিয়ে রুল নিষ্পত্তির আবেদন জানায় দুদক। পরে গত বছর আলাদা শুনানি শেষে মামলা তিনটি সচলের রায় দেন হাইকোর্ট।

নাইকো দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত অন্য আসামিরা হলেন— সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

গত ৬ অক্টোবর থেকে বিএসএমএমইউয়ের কেবিন ব্লকের ৬১২ নম্বর কক্ষে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়া। ৪ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি ও চিকিৎসাসেবা শুরু করতে পাঁচ সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পরে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডাদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। এরপর খালেদা জিয়াকে নাজিমুদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। গত ৩০ অক্টোবর এই মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

Free Download WordPress Themes
Free Download WordPress Themes
Download WordPress Themes Free
Download Nulled WordPress Themes
udemy paid course free download