সবজির সঙ্গে বেড়েছে আদা-রসুনের দাম

রাজধানীতে একদিনের ব্যবধানে বেশিরভাগ সবজির দাম বেড়েছে। তবে রমজানের মধ্যে আদা-রসুনের দাম কম থাকলেও ঈদের পর থেকেই টানা বেড়েই চলেছে আদা ও রসুনের দাম। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে মাছ ও মাংসের দাম।

রাজধানীতে একদিনের ব্যবধানে বেশিরভাগ সবজির দাম বেড়েছে। তবে রমজানের মধ্যে আদা-রসুনের দাম কম থাকলেও ঈদের পর থেকেই টানা বেড়েই চলেছে আদা ও রসুনের দাম। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে মাছ ও মাংসের দাম।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ানবাজার, শান্তিনগর, সেগুনবাগিচা, রামপুরা, মালিবাগ হাজীপাড়া, খিলগাঁও, শ্যামবাজার, মিরপুর-১, শেওড়াপাড়া, কল্যাণপুর ও কচুক্ষেত এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, ঢেঁড়সের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, যা গতকাল ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা। গতকাল ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজির মধ্যে বিক্রি হওয়া ঝিঙার দাম বেড়ে হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা।

দাম বাড়ার এই তালিকায় আরো রয়েছে- করলা, কাকরল, পটল, উসি, বেগুন, গাজর, শসা, পেঁপে। গতকাল ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া উসি বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। একই দামে বিক্রি হচ্ছে পটল। গতকাল বিভিন্ন বাজারে পটল ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।

গতকাল ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া করলার দাম বেড়ে হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। কাকরল বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি, যা গতকাল ছিল ২০ থেকে ৩০ টাকা। বেগুনের কেজি পাওয়া যাচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে, যা গতকাল ২০ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে।

এছাড়া গতকাল ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পেঁপের দাম বেড়ে হয়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া বরবটির দাম বেড়ে হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া শসার দাম বেড়ে হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে গাজর। পাকা টমেটো পাওয়া যাচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে, যা গতকাল ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি।

একদিনের ব্যবধানে সবজির এমন দাম বাড়ার বিষয়ে কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী মহিন বলেন, শুক্রবার হওয়ার কারণে সবজির দাম কিছুটা বেশি। তবে সার্বিকভাবে রোজার মাসের তুলনায় এখন সবজির দাম তুলনামূলক কম। আজ যেসব সবজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে, আগামীকাল দেখবেন এর বেশিরভাগ ২০ টাকায় বিক্রি হবে।

অপরদিকে বাজার ঘুরে দেখা গেছে রমজান থেকে কেজিতে প্রায় ৩০-৪০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে আদা ও রসুন।

প্রতি কেজি চায়না আদা মানভেদে বিক্রি হয়েছে ১৪০-১৪৫ টাকা কেজি। যা ঈদের আগে বিক্রি হয়েছে ৯০-১০০ টাকা কেজি দরে। দেশি আদা মানভেদে বিক্রি হয়েছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা। আর ঈদের আগে বিক্রি হয়েছে ১৩০-১৪০ টাকা কেজি দরে। একইভাবে বাজারে দেশি রসুন বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। যা ঈদের আগে বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। আর আমদানিকৃত রসুন মানভেদে বিক্রি হয়েছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়। আর ঈদের আগে যা বিক্রি হয়েছে ১১০-১২০ টাকা কেজি দরে।

আদা-রসুনের দাম বাড়ার বিষয়ে ব্যবসায়ী বাবু বলেন, দেশের বেশিরভাগ আদা ও রসুন আমদানি হয় ভারত ও চায়না থেকে। মূলত চায়নার বাজারে আদা রসুনের দাম বাড়ায় আমাদের দেশে আদা-রসুনের আমদানি কমে গেছে এ কারণেই দাম বেড়েছে পেঁয়াজ-রসুনের।

তবে কোরবানি ঈদের আগে আর নতুন করে দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই জানিয়ে আরেক ব্যবসায়ী রাসেল শিকদার বলেন, ঈদের আগে আদা-রসুনের আমদানি হবে তাই দাম না কমলেও বাড়ার সম্ভাবনা নেই।

এদিকে রোজার মাসের তুলনায় কিছুটা কমেছে মুরগির দাম। ব্যবসায়ীরা ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি করছেন ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি, যা রোজার মাসে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ছিল। মুরগির দাম কিছুটা কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে গরু ও খাসির মাংস এবং ডিমের দাম। গরুর মাংস বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫২৫ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে। আর খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি। আর ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৬ টাকা।

এদিকে কয়েক মাস ধরে চড়া দামে বিক্রি হওয়া মাছের দাম এখনো রয়েছে বেশ চড়া। তেলাপিয়া মাছ আগের মতো বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি। পাঙাশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি। রুই মাছ ২৮০ থেকে ৬০০ টাকা, পাবদা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, টেংরা ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, শিং ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং চিতল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি।

Download WordPress Themes
Free Download WordPress Themes
Premium WordPress Themes Download
Premium WordPress Themes Download
udemy paid course free download