দলটি আন্দোলন করবে, নাকি নির্বাচনে অংশ নেবে- এ প্রশ্নটি এখন বড় হয়ে উঠেছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আছে নানা জটিলতা ও সমীকরণ।

সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে বিএনপি

সংলাপ এবং নির্বাচন কমিশন তফসিল পেছানোর আবেদনে কী সিদ্ধান্ত নেয় সে বিষয় দেখতে চায় বিএনপি।

ঘনিয়ে আসছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার কথা। কিন্তু এখনও সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি। দলটি আন্দোলন করবে, নাকি নির্বাচনে অংশ নেবে- এ প্রশ্নটি এখন বড় হয়ে উঠেছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আছে নানা জটিলতা ও সমীকরণ। তাই বুঝেশুনে এগুতে হচ্ছে তাদের। সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্রমতে, বিএনপির নানা দাবি আছে ভোট নিয়ে। এর মধ্যে কিছু দাবি পূরণ করতে হলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। যেমন সংসদ ভেঙে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে হলে তাতে বাধা শাসনতন্ত্র। আর এসব দাবি মানা হবে না, সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এর বাইরে আরেকটি বড় দাবি আছে, এটি হলো খালেদা জিয়ার মুক্তি। এটিও আইনি বিষয় বলে প্রথম দিনের সংলাপে এড়িয়ে গেছেন সরকারপ্রধান। যদিও দ্বিতীয় দফা সংলাপে বসার আগে আসছে প্যারোলে মুক্তির প্রসঙ্গ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত নেয়াও বিএনপির জন্য সহজ নয়। কারণ, দুইবার আন্দোলনে নেমে খালি হাতে ঘরে ফিরতে হয়েছে তাদের। এই অবস্থায় তৃতীয়বার নেতাকর্মীরা আগ্রহী হবে কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন আছে। আবার ভোট বর্জন করলে নিবন্ধন আইনের মারপ্যাঁচেও পড়তে হতে পারে।

নিবন্ধন বাতিল হলে দলীয় প্রতীকে ভোটে অংশ নেয়া যাবে না আর। আবার সরাসরি ভোটে আসার ঘোষণা দিলে প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে পাঁচ বছর আগে কেন এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। এই অবস্থায় শীর্ষ নেতারা কী করবেন, সেদিকে তাকিয়ে কর্মী সমর্থকরাও।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘নির্বাচন এবং আন্দোলন দুই প্রস্তুতিই আমাদের আছে। তবে এ নিয়ে এখনো নতুন করে বলার কিছু নেই। কিছু হলে আপনারা জানাবেন।’

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, ‘আন্দোলন না নির্বাচন সে বিষয়ে কোনো ম্যাসেজ আমরা পাইনি। তবে চেয়ারপারসনের মুক্তির কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্যই বেশি বলা হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি।’

বিএনপি নেতারা জানান, তারা আশা করছেন, দলীয়প্রধান খালেদা জিয়া বা যুক্তরাজ্যে অবস্থানকারী তারেক রহমানের কাছ থেকে শিগগিরই বার্তা আসবে। আর এরপরই নেতাকর্মীদের কাছে বার্তা জানিয়ে দেয়া হবে।

গত শুক্রবার দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বৈঠকে নিজেদের করণীয় ঠিক করার জন্য আলোচনা হয়। এজন্য দ্রুত চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছ থেকে চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার কথাও বলা হয়। সে অনুযায়ী শিগগির আন্দোলন বা নির্বাচনের জন্য নিজেদের সাংগঠনিক পরিস্থিতিসহ সার্বিক অবস্থা নিয়ে কথা বলতে বৈঠক করবেন স্থায়ী কমিটি। তার আলোকেই খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।

দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি পাঁচ বছর আগের এই সময়ে ছিল নানা কর্মসূচিতে ব্যস্ত। হরতাল, অবরোধসহ নানাভাবে জানিয়ে যাচ্ছিল নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি। কিন্তু এবার রাজনৈতিক অঙ্গন অনেকটাই শান্ত। যদিও আছে চাপা উদ্বেগ।

আজ বৃহস্পতিবার ভোটের সময় জানিয়ে ঘোষণা করা হবে তফসিল। আর এর আগে ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কাছে সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের শরিক হিসেবে যোগ দেয় বিএনপিও। সেই বৈঠকে কাক্সিক্ষত ফল না আসায় আজ বুধবার সকালে আবার বৈঠক হবে দুপক্ষে। আর এই বৈঠকের ওপরও নির্ভর করছে অনেক কিছু।তারা বলছেন, সংলাপ এবং নির্বাচন কমিশন তফসিল পেছানোর আবেদনে কী সিদ্ধান্ত নেয় সে বিষয় দেখতে চায় বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা সংলাপে গেলেও কোনো ফল পাইনি। তারপরও চেষ্টা করছি সরকার বাস্তবতা বুঝবে। ছোট পরিসরে দ্বিতীয় দফা সংলাপ আছে, দেখি সেখানে কি হয়। আমরা ইসিকে চিঠি দিলাম দেখি তারা তফসিল পেছানোর বিষয়ে অবস্থান থেকে সরে আসে কি না।’

তবে আন্দোলনে গেলে হুট করে কর্মসূচি ঘোষণা না করে সময় দিয়েই ধীরে ধীরে কঠোর অবস্থানে যাবে বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, তারা জনগণকে দেখাতে চান, সমস্যার সমাধানে তাদের আন্তরিকতার অভাব ছিল না। কিন্তু সরকারই তাদের এই পথে ঠেলে দিয়েছে।

আবার পাঁচ বছর আগের আন্দোলনে নজিরবিহীন সহিংসতার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হচ্ছে দলটিকে। পেট্রল বোমা ও নাশকতার দায় এখনো তাদের ওপর দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। দেশের পাশাপাশি বিদেশেও এই বিষয়টি তুলে ধরছে তারা। এ কারণে এবার আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর চেষ্টা থাকবে বিএনপির। আবার তৃণমূলের নেতারা বারবার কেন্দ্রকে চাপ দিয়ে আসছেন, ঢাকায় আন্দোলন গড়ে তোলার বিষয়টিতে জোর দিতে। এ ক্ষেত্রেও চেষ্টা থাকবে দলের।

প্রসঙ্গত, আবার ভোটের প্রস্তুতিতেও পিছিয়ে থাকতে নারাজ বিএনপি। শেষমেশ নির্বাচনে এলে যেন দুই জোট ঐক্যফ্রন্ট এবং ২০ দলের মধ্যে সমন্বয়হীনতা না থাকে, সেই বিষয়টিও মাথায় রাখতে হচ্ছে। আগ্রহী নেতারা নিজ নিজ এলাকায় নানাভাবে তাদের কথা তুলে ধরছেন। এমনকি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও নিয়মিত এলাকায় যাচ্ছেন।

Download Nulled WordPress Themes
Download WordPress Themes Free
Download WordPress Themes Free
Download Nulled WordPress Themes
free download udemy course