স্বজন হারাবার বেদনা নিয়েই আমার যাত্রা শুরু: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বজন হারাবার বেদনা নিয়েই কিন্তু আমার যাত্রা শুরু। আমি বাবা-মা, ভাই সব হারিয়ে যখন এ মাটিতে ফিরে আসি, আমার চারিদিকে শুধু অন্ধকার। কিন্তু একটাই আলোকবর্তিকা পেয়েছিলাম, সেটা হলো বাংলাদেশের জনগণ। সেই জনগণের ভালোবাসা পেয়েছি। জনগনের আস্থা পেয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বজন হারাবার বেদনা নিয়েই কিন্তু আমার যাত্রা শুরু। আমি বাবা-মা, ভাই সব হারিয়ে যখন এ মাটিতে ফিরে আসি, আমার চারিদিকে শুধু অন্ধকার। কিন্তু একটাই আলোকবর্তিকা পেয়েছিলাম, সেটা হলো বাংলাদেশের জনগণ। সেই জনগণের ভালোবাসা পেয়েছি। জনগনের আস্থা পেয়েছি।

বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের ভারতেশ^রী হোমসে আয়োজিত কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট এর দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা স্বর্ণপদক বিতরণ ও কুমুদিনীর ৮৬তম বর্ষপূর্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সকাল থেকেই জাতির জনকের দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে স্বাগত জানাতে মির্জাপুরে আয়োজন ছিল বর্ণাঢ্য আর উৎসবমুখর। ছোটবোন শেখ রেহানাকে নিয়ে সবুজ চাদরে ঢাকা কুমুদিনী কমপ্লেক্সে যখন প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন দৃষ্টিনন্দন কুচকাওয়াজে তাদের বরণ করে নেয় ভারতেশ্বরী হোমসের শিক্ষার্থীরা।

কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা রণদা প্রসাদ সাহার সম্মানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম এবং শিল্পী শাহবুদ্দীনকে স্বর্ণপদক দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা মানুষের কল্যাণে কাজ করতেন। তিনি এক হাতে যেমন অর্থ আয় করতেন অন্য হাতে সাধারণ মানুষকে তা বিলিয়ে দিতেন। সারা জীবন নির্যাতিত মানুষের কথা তিনি ভেবেছেন।

তিনি বলেন, জনগনের সেবার জন্য আমার বাবা যে বাংলাদেশ স্বাধীন করে গেছেন এবং এই বাংলাদেশকে তিনি একটি ক্ষুদা মুক্ত, দারিদ্র মুক্ত সমাজ উপহার দেবেন। বাংলাদেশকে তিনি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলবেন। ক্ষুদা মুক্ত, দারিদ্র মুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলবেন সেই আকাঙ্খা নিয়েই তিনি তার সারাটা জীবন যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আর তারই পাশে ত্যাগ স্বীকার করেছেন আমার মা। কাজেই আমি সেই কথাটাই সব সময় মনে রেখেছি আমার বাবা কি করতে চেয়েছিলেন। তাই তার সেই কাজ, যে কাজ ছিল অসমাপ্ত, তিনি করে যেতে পারেন নি। সম্পন্ন করতে পারেননি। ঘাতকের বুলেট আমাদের মাঝ থেকে তাকে কেড়ে নিয়ে গেছে। তার সেই কাজের একটু যদি আমি করতে পারি, তাহলেই আমি মনে করবো এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

বাংলাদেশকে আজ আর কেউ দরিদ্র দেশ হিসেবে অবহেলা করতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন. বাংলাদেশকে আজ আর কেউ করুণার চোখে দেখে না। বরং সারা বিশ^ আজ বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে দেখে। বাংলাদেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে, ১০ বছরের মধ্যে এই পরিবর্তন আনতে পেরেছি। বাংলাদেশকে নিয়ে আমরা আরো অনেক দূর এগিয়ে যেতে চাই। আর এই সমাজকে গড়ে তুলতে চাই, এই দেশকে গড়ে তুলতে চাই আগামীর ভবিষ্যত কর্ণদারদের জন্য সুন্দর জীবন, সুন্দর ভবিষ্যৎ।

ট্রাস্টের পরিচালক (শিক্ষা) ভাষা সৈনিক প্রতিভা মুসুদ্দী এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহেনাসহ মন্ত্রী পরিষদ সদস্য ও স্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩১টি উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন। পরে তাকে কুমুদিনী কমপ্লেক্সে ভারতেশ^রী হোমসের শিক্ষার্থীরা মনোমুগ্ধকর শারীরিক কসরত প্রদর্শন করেন। পরে তিনি স্বর্ন পদকপ্রাপ্ত খ্যতিমান ব্যক্তিদের ও পরিবারের সদস্যদের পদক তুলে দেন।

Premium WordPress Themes Download
Free Download WordPress Themes
Download Premium WordPress Themes Free
Download Best WordPress Themes Free Download
free online course