সামনের বছর হজ পালনের বিষয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের চুক্তি হবে আগামী ১৩ ডিসেম্বর। তবে সৌদি আরবে পরিবহন ও আবাসন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে হজের খরচ কিছুটা বাড়বে।

হজের খরচ বাড়ছে

সামনের বছর হজ পালনের বিষয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের চুক্তি হবে আগামী ১৩ ডিসেম্বর। তবে সৌদি আরবে পরিবহন ও আবাসন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে হজের খরচ কিছুটা বাড়বে। গতকাল ধর্ম মন্ত্রণালয় আয়োজিত রাজধানীর ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে হজ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়।

ধর্ম বিষয়ক সচিব মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘আগামী ১৩ ডিসেম্বর হজচুক্তি হবে। গেল বছরের তুলনায় এ চুক্তি একমাস আগেই হচ্ছে। ফলে হজ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের সুযোগ পাওয়া যাবে। আমাদের হজনীতিমালাও প্রায় চূড়ান্ত, যা মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করা হবে আগামী জানুয়ারিতে। ২০১৯ সালের হজ প্যাকেজে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের বাড়তি টাকা গুণতে হবে।’ তবে কত টাকা বাড়তে পারে, সেটি তিনি উল্লেখ করেননি।

সচিব বলেন, ‘গেল বছর দ্বিতল খাট ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আমরা অভ্যস্ত নই বিধায় তা বাতিলের অনুরোধ করেছিলাম এবং বাতিলও করা হয়েছিল। তবে পাকিস্তান এবং ভারতের হাজিরা দ্বিতল খাট ব্যবহার করেছেন। এটা এবার বাংলাদেশিদেরও মেনে নিতে হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতি বছর আমাদের দেশ থেকে সোয়া লাখেরও বেশি মুসলিম হজ করেন। এতো বিশাল সংখ্যক মানুষের হজ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আমাদের জনবলেরও অভাব।’

ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, জেদ্দা হজ অফিসের কনসাল জেনারেল এফএম বোরহানউদ্দিন, বিয়াম ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক শেখ মুজিবুর রহমান, কাউন্সেলর হজ (মক্কা) মাকসুদুর রহমান ও হজ এজেন্সি অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব শাহাদাত হোসেন তসলিমও কর্মশালায় বক্তব্য দেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘মন্ত্রী হিসেবে গত পাচ বছর সততা ও নিষ্ঠার সাঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। কোনো আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। হজের আগে যদি কোনো ভুলক্রটি থাকে, সেটার সমাধান আগেই করতে হবে। হজ ব্যবস্থাপনায় কোনো ভুলক্রুটি হলে জানাবেন, তা সংশোধনে উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাহলে হজযাত্রীরা উপকৃত হবেন। হাজিদের যাত্রা নিরাপদ করতে হবে। সৌদিতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, দিকটাও দেখতে হবে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম বলেন, ‘প্রতি বছর হজ মৌসুমে কিছুসংখ্যক হজযাত্রী সৌদিআরব গিয়ে পকেটমারের কবলে পড়েন। তারা পাসপোর্ট ও রিয়ালসহ কাগজপত্র হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন। এসব হজযাত্রীর আপদকালীন ফান্ডের অর্থ ব্যয় করে কাগজপত্রগুলো তৈরি ও রিয়াল প্রদান করা হলে তারা উপকৃত হবেন। তাছাড়া হজগাইড নিয়োগের ক্ষেত্রে কারো রেফারেন্স বা সুপারিশ গ্রহণ করা উচিত নয়।’

জেদ্দার কনসাল জেনারেল এফএম বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘মিনায় হজযাত্রীদের অনেক কষ্ট হয়। হজকর্মী হিসেবে যাদের পাঠানো হয়, তারা শুধুমাত্র সরকারি হজযাত্রীদের নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। এ ছাড়া যারা মেডিক্যাল টিমে সহায়ক হিসেবে যান, তারা মেডিক্যাল সহায়ক নন। এমনকি অসুস্থ হজযাত্রীকে ওষুধ খাওয়ানো বা অন্য কোনো কাজ দিলে তারা করতে চান না। আবার পুরানো হজ গাইডদের অনেকেই দায়িত্ব পালন করে না। আবার নতুন হজগাইডরা রাস্তাঘাট চেনেন না।’

কর্মশালায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নূরী। তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালে ২৩ লাখ ৭১ হাজার ৬৭৫ জন হজ পালন করেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। হজ পালনকারী দেশের মধ্যে বাংলাদেশ চার নম্বরে। এ ছাড়া হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে গত মৌসুমে ১৫৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে অব্যবস্থাপনার ২৮.২ শতাংশ, প্রতারণা ১৬.৬৭ শতাংশ, আবাসন সমস্যার ১৯.৭ শতাংশ, খাদ্য সংক্রান্ত ১৯.২৩ শতাংশ এবং সেবা সংক্রান্ত ১৬.৩ শতাংশ অভিযোগ রয়েছে।’

Download WordPress Themes Free
Download WordPress Themes Free
Download WordPress Themes Free
Download WordPress Themes Free
udemy course download free