নুসরাত হত্যাকাণ্ড

‘১২ জনের সভায় হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত ও দায়িত্ব বণ্টন করা হয়’

১২ জনের সভায় ফেনীর সোনাগাজীতে আগুনে পুড়িয়ে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত ও দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শরাফ উদ্দিন আহমেদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে আবদুর রহিম ওরফে শরিফ। এ নিয়ে তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিল।

১২ জনের সভায় ফেনীর সোনাগাজীতে আগুনে পুড়িয়ে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত ও দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শরাফ উদ্দিন আহমেদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে আবদুর রহিম ওরফে শরিফ। এ নিয়ে তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিল।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, আবদুর রহিম স্বীকারোক্তিতে জানায়, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার নির্দেশে ও পরামর্শে নুসরাতকে হত্যার জন্য গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগানো হয়। এ জন্য ২৮ ও ৩০ মার্চ দুই দফা কারাগারে থাকা মাদ্রাসার অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করা হয়। ৪ এপ্রিল সকালে ‘অধ্যক্ষ সাহেব মুক্তি পরিষদের’ সভা করা হয়। রাতে ১২ জনের এক সভায় হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত ও দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। তার (রহিম) দায়িত্ব পড়ে মাদ্রাসার গেটে। সেখানে নুর উদ্দিন, আবদুল কাদেরও ছিলেন। মাদ্রাসার ছাদে বোরকা পরে ছিলেন শাহাদাত, জোবায়ের ও জাবের। এ ছাড়া ছাদে ছিলেন মণি ও পপি।

বুধবার ভোরে ফেনী শহর থেকে মোহাম্মদ আবদুর রহিম ওরফে শরিফকে গ্রেফতার করে পিবিআই। একইদিন বিকেল ৪টায় ফেনীর আদালতে হাজির করা হয় তাকে। সেখানে সে দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

নুসরাত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত শেষ আসামি হাফেজ আবদুল কাদেরসহ আরও দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর মিরপুরের একটি বাসা থেকে পলাতক আবদুল কাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক ও একই মাদ্রাসার ফাজিল দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবদুল কাদের অধ্যক্ষ সিরাজের অনুগত হিসেবে মাদ্রাসার হোস্টেলে থাকত। সেই হোস্টেলেই নুসরাত হত্যার পরিকল্পনার বৈঠক হয়। নুসরাতকে আগুন দেওয়ার পরদিন মালপত্র নিয়ে হোস্টেল ত্যাগ করে সে। এ ছাড়া বুধবার ভোরে ফেনী শহর থেকে মোহাম্মদ আবদুর রহিম ওরফে শরিফকে গ্রেফতার করে পিবিআই। এরই মধ্যে বিকেলে শরিফকে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সরাফ উদ্দিন আহম্মেদের আদালতে তোলা হয়। একই আদালত গ্রেফতার আরেক আসামি কামরুন্নাহার মণিকে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ নিয়ে এজাহারভুক্ত ও এজাহারের বাইরে ১৯ জন গ্রেফতার হলো।

গ্রেফতার আবদুল কাদের ফেনীর আমিরাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব সফরপুর গ্রামের মনছুর খান পাঠানবাড়ীর আবুল কাসেমের ছেলে। গত ৬ এপ্রিল নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার পরদিন মালপত্র নিয়ে মাদ্রাসার হোস্টেল ছেড়ে বাড়ি চলে যায় সে। ৮ এপ্রিল কাদেরসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান মামলা করার পর সে আত্মগোপনে চলে যায়। এর পর থেকেই সে মিরপুরে তার এক ভাইয়ের বাসায় লুকিয়ে ছিল। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে মিরপুরের ৬০ ফিট এলাকার ছাপড়া মসজিদের পাশের ওই বাসা থেকে গ্রেফতার হয় সে।

গ্রেফতার অন্য আসামি শরিফ হত্যা পরিকল্পনায় সর্বশেষ বৈঠক ও হত্যার সময় গেট পাহারায় ছিল। বুধবার বিকেল ৪টায় ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সরাফ উদ্দিন আহম্মেদের আদালতে ১৬৪ ধারায় শরিফের জবানবন্দি গ্রহণ শুরু হয় বলে জানান পিবিআই পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ আলম। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে শরিফকে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

Download WordPress Themes Free
Download Premium WordPress Themes Free
Premium WordPress Themes Download
Download Best WordPress Themes Free Download
udemy course download free