administrator, Author at 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

4-neta.jpg

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দৌড়ে বাদ পড়েছেন আওয়ামী লীগের চার হেভিওয়েট নেতা। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবীর নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং দলটির অপর সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক।

জাহাঙ্গীর কবীর নানকের আসন ছিল ঢাকা-১৩। এ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান।

দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন ফরিদপুর-১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহমান। এ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও সাবেক সিনিয়র সচিব মঞ্জুর হোসেন বুলবুল।

মাদারীপুর-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন পাননি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ।

শরীয়তপুর-১ আসনে দলীয় মনোনয়ন পাননি আওয়ামী লীগের অপর সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কাযনির্বাহী কমিটির সদস্য মো. ইকবাল হোসেন অপু।

রোববার সকাল থেকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নের চিঠি বিতরণ শুরু হয়। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, ৩০০ আসনের মধ্যে এদিন ‘২৩০টির মতো’ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীতদের চিঠি দেয়া হচ্ছে। আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীতদের নাম ঘোষণা করা হবে সোমবার।

নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল ও জাতীয় পার্টি মহাজোট করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিল ২৬৪ জন, জাতীয় পার্টি প্রার্থী দিয়েছিল ৪৯টি আসনে। আওয়ামী লীগ জিতেছিল ২৩০টি আসনে, জাতীয় পার্টি ২৭টিতে।

dt008716.png

মশা বেশ কয়েকটি মারাত্মক রোগের জন্য দায়ী। এর মধ্যে জিকা ভাইরাস, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু ইত্যাদি অন্যতম। বাংলাদেশে অবশ্য ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি। এবার তো ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অন্য যেকোনও বারের চেয়ে বেশি।
মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে আতঙ্কে থাকেন সবাই। তবে এই আতঙ্ক হয়তো বেশিদিন থাকবে না। কেননা, বিজ্ঞানীরা নতুন এক ধরনের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন যার সাহায্যে মশার ডিম পাড়া বন্ধ করে দেয়া যাবে। ফলে কমবে মশার উৎপাত।
সিএনএনের বরাত দিয়ে ভার্জিনিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ব্লুফিল্ড ডেইলি টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষকরা মশার জিন পরিবর্তনের একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন যার সাহায্যে মশাকে বন্ধ্যা করে দেয়া যাবে। এতে মশা ডিম পাড়বে না। ফলে নতুন করে মশা জন্মাবেও না।
জানা গেছে, একটি মশা পুরুষ নাকি নারী হবে তা নির্ধারণ করে ‘ডাবলসেক্স জিন’। আর এই জিন পরিবর্তন করলে পুরুষ মশা স্বাভাবিক থাকলেও নারী মশা হারাবে ডিম পারার ক্ষমতা। চাইলেও তারা ডিম পাড়তে পারবে না।
সম্প্রতি এ সম্পর্কিত একটি গবেষণা জার্নাল নেচার বায়োটেকনোলজিতে প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয় গবেষণাগারে বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। এতে মশার উৎপাদন কমাতে শতভাগ সফলতা পাওয়া গেছে।

dt008640.jpg

নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পরদিন থেকেই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ তাদের মনোনয়নপত্র বিক্রির কাজ শুরু করে। এরপর থেকেই দলটির ধানমন্ডি কার্যালয় ও আশপাশ এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এখন ধানমন্ডি অভিমুখী। ঢাকা-ঢোল বাজিয়ে তারা মনোনয়নপত্র কিনছেন। এসব মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি বিনোদন জগতের তারকারাও রয়েছেন। এরইমধ্যে বর্তমান সরকারের মন্ত্রী ও অভিনেত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিম ও সংসদ সদস্য কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম মনোনয়নপত্র কিনেছেন। এছাড়া নতুনদের মধ্যে রয়েছেন চিত্রনায়ক নায়ক শাকিল খান, অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী ও অভিনেতা সিদ্দিক। আগামীকাল রোববার চলচ্চিত্র অভিনেতা ফারুকও মনোনয়নপত্র কিনবেন বলে জানা গেছে।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন অভিনেত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিম। সরকার তার ওপর অর্পণ করেছিল তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও। এবার সিলেকশনে নয়, ভোটারদের রায়েই নির্বাচিত হয়ে সংসদে আসতে চান এই অভিনেত্রী। এরইমধ্যে আসন্ন সংসদ নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র তুলেছেন তারানা হালিম। তিনি টাঙ্গাইল-৬ (দেলদুয়ার নাগরপুর) আসন থেকে নির্বাচন করবেন। শনিবার (১০ নভেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এসে ফরম সংগ্রহ করেন তিনি।
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনেছেন ফোকসম্রাজ্ঞী মমতাজ। আজ শনিবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ের পাশে নির্বাচনী অফিস থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন তিনি। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ (সিঙ্গাইর-হরিরামপুর) আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম। এবারও তিনি একই আসন থেকে নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
এদিকে ফেনী-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র কিনেছেন অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী। ফেনী জেলার সোনাগাজী-দাগনভূঞা উপজেলার নৌকার হাল ধরতে চান কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক রোকেয়া প্রাচী। গতকাল শুক্রবার বিকেলে ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে স্বশরীরে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তিনি।
আজ শনিবার বাগেরহাট-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন চিত্রনায়ক শাকিল খান। তিনি অনেক দিন ধরেই তার নির্বাচনী এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। শোনা যাচ্ছে নেত্রীর গ্রিন সিগন্যাল পেয়েই তিনি মনোনয়নপত্র কিনেছেন।
এছাড়া টাঙ্গাইল-১ আসন থেকে নির্বাচন করার জন্য অভিনেতা সিদ্দিক আজ শনিবার মনোনয়নপত্র কিনেছেন।
এদিকে আগামীকাল রোববার গাজীপুর-৫ আসন থেকে নির্বাচনের লক্ষ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করবেন ঢাকাই সিনেমার মিঞাভাই খ্যাত গ্রাম-বাংলার মানুষের প্রিয় নায়ক ফারুক। বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য সাবেক এই ছাত্রনেতা আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় রণাঙ্গনে অস্ত্র হাতেও যুদ্ধ করেছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের এই কিংবদন্তি অভিনেতা।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৩ ডিসেম্বর (রোববার)। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১৯ নভেম্বর (সোমবার)। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন ২২ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার)। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ নভেম্বর

dt008615.jpg

চিকিৎসা ও অসহায়ত্ব দূর করতে দেশের চার গুণী শিল্পীর পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। এরা হলেন অভিনেতা প্রবীর মিত্র, রেহানা জলি, নূতন ও কণ্ঠশিল্পী কুদ্দুস বয়াতি।

বৃহস্পতিবার এই চার গুণী শিল্পীকে সকাল ১০ টার দিকে গণভবনে ডেকে ৯০ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চার শিল্পী উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে এই অনুদান গ্রহণ করেছেন।

প্রবীণ অভিনেতা প্রবীর মিত্র ও অসুস্থ অভিনেত্রী রেহানা জলি পেয়েছেন ২৫ লাখ করে অন্যদিকে অভিনেত্রী নূতন ও শিল্পী কুদ্দুস বয়াতি ২০ লাখ টাকা করে পেয়েছেন। সকলকে উক্ত মূল্যের সমমান সঞ্চয়পত্র তুলে দেয়া হয়েছে।

শিল্পী ঐক্য জোটের সভাপতি ও অভিনেতা ডি এ তায়েবের পরামর্শে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও নাট্য নির্মাতা জিএম সৈকতের তত্ত্বাবধানে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন কুদ্দুস বয়াতি বাদে বাকি তিনশিল্পী। অনুদান গ্রহণের সময় শিল্পী ঐক্য জোটের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন নির্মাতা জিএম সৈকত।

অর্থের কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল রেহেনা জলির চিকিৎসা। টাকা পেয়ে আবার চিকিৎসা শুরু করবেন এবং সুস্থ হয়ে খুব তাড়াতাড়ি কাজে ফিরবেন বলেও জানান রেহেনা জলি

dt008588.jpg

সালমান খানের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিল ক্যানসার আক্রান্ত এক শিশু। আর তা জানতে পেরে সালমান খান নিজেই তার সঙ্গে দেখা করতে চলে যান মুম্বাইর টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে। এখন অনলাইনে ঘুরছে শিশুটির সঙ্গে সালমানের সাক্ষাতের একটি ভিডিও। শিশুটির সঙ্গে আলাপচারিতার এক ফাঁকে মাথা নিচু করে কি চোখের জল লুকিয়েছেন সালমান খান?

জনহিতকর কাজে সুনাম আছে মারকুটে নায়ক সালমান খানের। তবে তাঁর এসব কাজ প্রচার পাক, তা কখনোই চাননি তিনি। শিশুদের প্রতি এই অভিনেতার রয়েছে অন্য রকম মমতা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়ানো ওই ভিডিওটি দেখে তা আবারও মনে পড়ে যায়। ইনস্টাগ্রামের ওই ভিডিওটি শেয়ার করেছে সালমান খানের ফ্যান ক্লাব। সেখানে দেখা যায়, টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে ছোট্ট একটি শিশুর সঙ্গে গল্প করছেন তিনি। ক্যানসারে আক্রান্ত শিশুটি চিকিৎসাধীন ওই হাসপাতালে। সালমানকে দেখতে চেয়েছিল সে। সালমানও সাড়া দিয়েছেন। কেবল শিশুটিই নয়, ওই ওয়ার্ডের সবার সঙ্গেই কথা বলেছেন তিনি।

এমন ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগে অভিনেতা কুমার আজাদের চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন সালমান খান। যদিও কুমার আজাদকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই মারা যান তিনি। তবে সালমান খানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিল কুমার আজাদের পরিবার।

সালমান খান এখন কাজ করছেন আলী আব্বাস জাফর পরিচালিত ‘ভারত’ ছবিতে। এ ছবিতে আরও অভিনয় করছেন ক্যাটরিনা কাইফ, টাবু, দিশা পাটানি, জ্যাকি শ্রফ প্রমুখ। ছবিটি আগামী বছর ঈদে মুক্তি পাবে। টাইমস অব ইন্ডিয়া

ঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী: শনিবার ছিল ৩ নভেম্বর জাতির ইতিহাসে এক নির্মমতম শোকের দিন। পৃথিবীর ইতিহাসে রাজনৈতিক নেতাদের হত্যার অসংখ্য ঘটনা আছে। কিন্তু ওভাবে জেলখানার ভিতর নিষ্ঠুর হত্যার কোনো ঘটনা নেই। ৩ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধের দিশারি চার জাতীয় নেতাকে নিউ জেলে হত্যা করা হয়। সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী, এ এইচ এম কামারুজ্জামান সব থেকে নিরাপদ আশ্রয় জেলে নিহত হন। তার আগে ধানমন্ডিতে সপরিবারে হত্যা করা হয় দেশের পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। সেখানেও আকাশ-পাতাল ব্যতিক্রম। পৃথিবীর ইতিহাসে বহু রাজা, বাদশাহ, সম্রাট শত্র“র হাতে নিহত হয়েছে। অনেক প্রাসাদ তছনছ করা হয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর পরিবারের মতো নির্মম হত্যা কোথাও হয়নি। তেমন কোথাও নেতার সঙ্গে নেতার স্ত্রীকে হত্যা করা হয়নি। সন্তান, আত্মীয়স্বজনকে হত্যা করা হয়নি। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ক্ষেত্রে হয়েছে। পাকিস্তানফেরত কর্নেল জামিলকে ব্রিগেডিয়ার পদে উন্নীত করে এক ব্রিগেড সৈন্য দিয়ে রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের প্রধানকে রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। অস্ত্রশস্ত্র, এক ব্যাটালিয়ান সৈন্যসহ হেলিকপ্টার কর্নেল জামিলের নিয়ন্ত্রণে গণভবনেই ছিল। ভদ্রলোক এত অদক্ষ, ব্যর্থ, বঙ্গবন্ধুকে যেদিন হত্যা করা হয় সেদিন একজন সৈন্যও ব্যবহার করতে পারেননি। বঙ্গবন্ধুর ফোন পেয়ে লাল জামা গায়ে ভদ্রলোক ঘর থেকে ছুটেছিলেন। কর্নেল জামিলের স্ত্রী চিৎকার করছিলেন, ‘তুমি একা গিয়ে কী করবে? আর রিভলবারটাও নিলে না!’ এমন অদক্ষ লোককে বঙ্গবন্ধু তার সরকার এবং তাকে রক্ষার দায়িত্ব দিয়েছিলেন যে, নিজের ব্যক্তিগত অস্ত্র নিতেও ভুলে যায়। রাস্তায় গুলি খেয়ে তিনি মরেছেন। তিন দরজার গাড়িসহ তার লাশ এনে ফেলা হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর বাড়ির পেছনে। বীর মহাবীর আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের মতো বা নেপোলিয়ান বোনাপাটের মতো ব্যর্থ লোকটিকে ব্যর্থতার জন্য কোনো শাস্তি পেতে হয়নি বরং বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সঙ্গে তার ছবি শোভা পায়- এই হলো বিবেচনা। বিমানবাহিনীর প্রধান এ কে খন্দকার মোশতাক সরকারের প্রতি অনুগত্য জানিয়েছিলেন। রক্ষীবাহিনী থেকে আনোয়ারুল আলম শহীদ, ফরিদপুরের মোল্লা, সেনাবাহিনী প্রধান শফিউল্লাহ, পুলিশের আইজি নুরুল ইসলাম, নৌবাহিনীর এম এইচ খান হুমড়ি খেয়ে পড়েছিলেন মোশতাক সরকারকে সমর্থন ও সহযোগিতা করতে। এমনি ব্যর্থদের আওয়ামী লীগ পুরস্কৃত করেছে। ঠিক তেমনি বঙ্গবন্ধু হত্যার তো উপযুক্ত বিচার হয়নিই, অনেক আসামিকে আড়াল করা হয়েছে। যারা হত্যার নকশা করেছে তাদের খবর নেই। জেলহত্যাও তেমনি। যেদিন জাতীয় চার নেতা নিহত হন, সেদিন জেলের তালা কে খুলে দিয়েছিল, কার কথায় খুলে দিয়েছিল। জেলের আইজি, ডিআইজি, সুপার, জেলার তারা কী করেছিলেন? জাতীয় নেতাদের গুলি করে ঝাঁঝরা করে দুষ্কৃতিকারীরা যখন ফিরে যাচ্ছিল তখনো তাজউদ্দীন আহমদ জীবিত ছিলেন। পানি পানি করছিলেন। কে ছুটে গিয়ে বলেছিল, ‘স্যারেরা একজন মারা যায়নি, পানি পানি করছে।’ খবর পেয়ে ফিরে গিয়ে বেয়নেট খুঁচিয়ে তাজউদ্দীন আহমদকে হত্যা করেছিল। কেন কীভাবে কী কারণে কে ঘাতকদের এত প্রিয় ছিল, ‘স্যারেরা একজন পানি পানি করছে’, পানি না দিয়ে তাকে বেয়নেটে খুঁচিয়ে মারার জন্য ঘাতকদের কাছে গিয়েছিল? কারা সেদিন নিউ জেলে ডিউটি করেছিল, এসবে আগে থেকে কারও কোনো হাত ছিল কিনা এসব কি দেখার দরকার ছিল না? তাই বঙ্গবন্ধু অথবা জেলহত্যার বিচার এসব অনেকটাই লোক দেখানো। অনেক কিছু দেশের মানুষের কাছ থেকে আড়াল করা হয়েছে। হয়তো যেদিন আমরা থাকব না, সেদিন সবই পরিষ্কার হবে। মৃত্যুর পর লাশ, মায়ের পেটের বাচ্চা আর সত্যকে কখনো আড়াল করা যায় না। সেদিন গিয়েছিলাম যেখানে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছিল সেখানে, সেটা এখন জাদুঘর। একসময় যারা বন্দী ছিলেন তাদের সেই বন্দীশালা আজ দেশবাসীর শ্রদ্ধা নিবেদনের স্থান। আজ অনেক বড় বড় নেতা আছে, বঙ্গবন্ধুপ্রেমিক আছে, জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রেমিক তো অগণিত। কিন্তু দুর্ভাগা আমি বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে সঙ্গে বলেছিলাম, ‘খুনিরা কামাল-জামাল-রাসেলকে হত্যা করতে পারলেও বঙ্গবন্ধুকে নির্বংশ করতে পারেনি। আমি কাদের সিদ্দিকী বঙ্গবন্ধুর চতুর্থ সন্তান। পিতৃহত্যার বদলা নেবই নেব।’ চেষ্টা করে চলেছি দীর্ঘদিন।
’৯০-এর ১৬ ডিসেম্বর লাখ লাখ মানুষের ভালোবাসায় যখন দেশে ফিরি অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের আমলে আওয়ামী লীগের সম্মতিতে আমাকে জেলে নেওয়া হয়েছিল। ঝিনাইদহ থেকে গ্রেফতার করে যশোর জেলে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ঢাকা জেলে এসেছিলাম ‘৯১ সালের মার্চের ১৯ বা ২০ তারিখ। প্রথম রাখা হয়েছিল নিউ জেলে ১৫ সেলে। সেখানে শেখ শহীদ, কাজী ফিরোজ রশীদ, মাহমুদুল হাসানসহ আরও অনেকে ছিলেন। দুই মাস ছিলাম যেখানে জাতীয় নেতাদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল সেই ভবনের মাঝের সেলে। প্রকা- ঘর। থাকতে বেশ ভালো লাগত। গভীর রাতে মাঝে মাঝে জাতীয় নেতাদের সান্নিধ্য পাওয়ার মতো মনে হতো। গত ৩ তারিখ শনিবার সকালের দিকে জাতীয় নেতাদের সেই বন্দীগৃহ দেখতে গিয়েছিলাম, শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলাম। ১৫ সেল এখন অকেজো। চলার মতো নেই। জঙ্গলে ভরে গেছে। এমনই হয়। কখনো কখনো রাজপ্রাসাদ জঙ্গলে পরিণত হয়। নিউ জেল নেতাদের নিহত হওয়ার সেল যেহেতু মিউজিয়াম করা হয়েছে সেহেতু কিছুটা ঝকঝকে তকতকে। জাতীয় চার নেতার ঘর দেখে ভারাক্রান্ত মনে গিয়েছিলাম পিতার গৃহে। তার কাপ-পিরিচ-টেবিল-চেয়ার কাচের ঘরে সযতেœ রাখা হয়েছে। ‘৯১-এ যখন ছিলাম তখন প্রায় দিনই বঙ্গবন্ধুকে বন্দী রাখার ওয়ার্ডে যেতাম। তার বোনা গাছে আম ধরেছে, তার গাছে ফুল ফুটেছে দেখে বেশ ভালো লাগত। অস্থায়ী সরকারের আমলেও বঙ্গবন্ধুর থাকার জায়গা মোটামুটি আলাদা করে সযতেœর সঙ্গে রাখা ছিল। আগে ছিল এরশাদের সরকার, তার আগে জিয়াউর রহমানের, তারও আগে আরও কয়েকজনের। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর কারাবাসের স্মৃতি মনে হয় না কেউ মুছে ফেলতে চেয়েছে। জাতীয় চার নেতার স্মৃতিগৃহ দেখে পিতার স্মৃতিতে গিয়েছিলাম। এমনই হয়। আজ যে অনাদ্রিত কাল সেই মহাদ্রিত। কবি নজরুল তাই লিখেছিলেন, ‘ও কে? চন্ডাল? চম্কাও কেন? নহে ও ঘৃণ্য জীব!/ওই হ’তে পারে হরিশচন্দ্র, ওই শ্মশানের শিব।/আজ চন্ডাল, কাল হ’তে পারে মহাযোগী-সম্রাট,/তুমি কাল তারে অর্ঘ্য দানিবে, করিবে নান্দী-পাঠ।’ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ধারণ ক্ষমতা দুই-আড়াই হাজারের বেশি নয়। কিন্তু সেখানে ৫-৭ হাজার দোষী-নির্দোষ মানুষ থাকত। আমি যেমন ঢাকা জেলে জেল খেটেছি, বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকী খেটেছেন, আরও কত অগণিত নেতা-কর্মী, সাধারণ মানুষ জেল খেটেছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এখন পরিত্যক্ত। সেখানে কোনো আসামি-কয়েদি নেই। এখন একমাত্র বিএনপি-প্রধান সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন। কদিন আগে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আনা হয়েছে। আমার ধারণা, আমি যেমন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘৯১ সালের ১৮ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের ফুল বেঞ্চের আদেশে মুক্তি পেয়েছিলাম, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও জনগণের আদালতের রায়ে মুক্তি পাবেন। নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত জেলে একক কয়েদি বেগম খালেদা জিয়াকে রাখা মানবতাবিরোধী, সভ্যতাবিরোধী।
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের পক্ষ থেকে ঢাকা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। বাসা থেকে বেরিয়েছিলাম বেলা পৌনে ৩টায়। রাস্তা ফাঁকা থাকলে ১৫ মিনিট লাগে। ৪টা অথবা ৪টার ১০ মিনিটের আগে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে পৌঁছতে চেয়েছিলাম। বাসা থেকে বেরিয়েই দেখি রাস্তা জ্যাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা খামারবাড়িতে জেলহত্যা দিবসে এক আলোচনায় অংশ নিতে যাবেন। গণভবন আর খামারবাড়ি খুব একটা দূরে নয়। কিন্তু চারদিকে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় সে এক মহা কেলেঙ্কারি। মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খুবই গুরুত্বপূর্ণ পদ, খুবই সম্মানি ব্যক্তি তারা। কিন্তু তাদের নিয়ে রাস্তাঘাটে কী যে বিড়ম্বনা বলেকয়ে শেষ করা যাবে না। ৪টা ১০ মিনিটে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে পৌঁছেছিলাম। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান দেশের বিবেক সাধারণ মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীক প্রবীণ আইনজীবী বর্ষীয়ান নেতা ড. কামাল হোসেন ৫-৬ মিনিট আগে পৌঁছেছিলেন। কারণ তিনি আমাদের জেলহত্যা দিবসের আলোচনায় ছিলেন প্রধান অতিথি। আর বিশেষ করে ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবসের আলোচনা সভায় বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে চেয়েছিলাম। ২০ সেপ্টেম্বর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বর্ধিত সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল আওয়ামী ও বিএনপি জোটের সমদূরত্বে ড. কামাল হোসেন ও ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর জাতীয় ঐক্যে আমরা আমাদের দলীয় সমস্ত শক্তি, মেধা ও মনন যুক্ত করব।
কিন্তু এত দিনে বাস্তব পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আমি যখন দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও সিদ্ধান্ত ঘোষণার কথা জানাতে যাচ্ছিলাম তখন অনেক নেতা-কর্মী আবার তাদের কথা বলার ইচ্ছা করল। আমাদের দল খুবই ছোট। কিন্তু আমরা আমাদের দলকে বিশুদ্ধ একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তাই দলীয় কর্মীদের ইচ্ছাকে সম্মান দিয়ে ৩ নভেম্বর আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত ঘোষণা না করে ৫ নভেম্বর ঐক্যফ্রন্টে যোগদানের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছি।
১৩ অক্টোবর ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পরও দুই প্রবীণ নেতাকে একত্র রাখার চেষ্টা করেছি। এমনকি জেলহত্যা দিবসের আলোচনায় ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারাকে পেতে চেয়েছি। তারা আমাদের সভায় আসতে রাজিও ছিলেন। কিন্তু ড. কামাল হোসেন প্রধান অতিথি হওয়ায় ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী সাড়া দেননি এবং তিনি ২ নভেম্বর সরকারের সঙ্গে যে আলোচনা করেছেন সেখানে একটি সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবি তেমন প্রাধান্য পায়নি। যেটা দিবালোকের মতো সত্য হয়ে উঠেছে সেটা হলো, যুক্তফ্রন্ট মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী দেখতে চায়, মাহী বি. চৌধুরীকে সংসদে চায়। সত্যিই এ যদি চাওয়া হয় তাহলে এর সঙ্গে তো জাতীয় চাওয়ার কোনো মিল নেই। আবার এসব দেখেও বড় বেশি বিস্মিত হয়েছি যে, যুক্তফ্রন্টের কে কী খাবেন জানতে চাইলে জনাব বদরুদ্দোজা চৌধুরী অথবা তার পক্ষ থেকে খাবার মেন্যু দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্ট যথার্থই বলেছিলেন, তারা খেতে নয় দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে চান। খাবার খেয়ে সময় নষ্ট করার ইচ্ছা তাদের নেই। কিন্তু তার পরও আলোচনার মাঝে তাদের শরবত দেওয়া হয়েছে, খাবার দেওয়া হয়েছে। সৌজন্য রক্ষা করে তা খেয়েছেন। কিন্তু সরকার তার বিশ্বস্ততা ভঙ্গ করে খাওয়ার ছবি বাইরে ছেড়েছে। এমনিতেই অনেক সময় মানুষ খেতে বসলে তার ছবি তোলা হয় না। খাওয়ার ছবি তোলা খুব একটা ভালোও না। জাতীয় সংলাপ বা আলোচনায় খাবার টেবিলের ছবি তুলে বাইরে ছড়িয়ে দিয়ে সরকার বড় বেশি অবিশ্বাসের কাজ করেছে। ভাবীকালে এসবের জন্য ইতিহাসের কাছে অবশ্যই জবাব দিতে হবে এবং সে জবাবে বর্তমান সরকার কোনো প্রশংসা নয়, শুধু নিন্দাই পাবে। কোনো কোনো কাজে বড় খারাপ লাগে আত্মযন্ত্রণা হয়। তাই মুখ বুজে থাকতে পারি না। যা বুঝি তা বলে বুক হালকা করার চেষ্টা করি। যদিও চারদিকে এত অসংগতি, শত চেষ্টা করেও কখনো তেমন ভারী বুক হালকা করতে পারি না। বড় খারাপ লাগে, বড় কষ্ট লাগে। আজ থেকে ২০ বছর আগে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ গঠন করেছিলাম। আওয়ামী লীগের বেপরোয়া কারবার আমাকে অসন্তুষ্ট করে। দল গঠন করতে গিয়ে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলাম। তার পরও ‘৯৯-এ সখীপুরে ভোট ডাকাতি, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানি, এক কোটি বেকারের চাকরি, পাটের ন্যায্যমূল্য, বিনা পয়সায় সেচ ও কৃষকের ঘরে ঘরে বিনামূল্যে সার পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্র“তি পালন না করায় আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ গঠন করেছিলাম। অনেক কষ্ট করেছি। কত চেনা মানুষ অচেনা হয়েছে। একসময় যারা আমার বোচকা টেনে ধন্য হতো সময় সময় তারা না চেনার ভান করত। কত অপমান-অবহেলা কত ঔদ্ধত্য সহ্য করেছি। দীর্ঘদিন জাতীয় ঐক্যের কামনা করেছি, চেষ্টা করেছি শেষ পর্যন্ত ড. কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের পক্ষ থেকে আন্তরিক সমর্থন জানিয়েছি। প্রতিশ্র“তি দিয়েছি পায়ে পায়ে হাতে হাত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলব এবং দেশের জনমানুষের কাক্সিক্ষত মালিকানা ফিরিয়ে দেব। আজ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রথম জনসভা। সেখানে অংশ নেব এবং জাতিকে বিভাজনের হাত থেকে ‘৭১-এর মতো ইস্পাতকঠিন জাতীয় ঐক্যে ফিরিয়ে আনার আপ্রাণ চেষ্টা করব।
আজ কদিন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির কথা নিয়ে দেশ সরগরম। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করতে হবে।’ আসলে এখন আর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কথার কোনো মূল্য নেই। যে কারও কথার মূল্য দেওয়া যায় কিন্তু ওবায়দুল কাদের নয়। এই তো পাঁচ-সাত দিন আগেও ভীষণ হেলেদুলে সাত দফা নিয়ে কটূক্তি করছিলেন, ‘সাত দফার এক দফা নিয়েও কোনো কথা নয়, কোনো আলোচনা নয়।’ অথচ এক দফা আলোচনা হয়েছে, কাল আবার হবে। খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি। কে সরকারের কাছে প্যারোল চেয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া প্যারোল গ্রহণ করবেন, আমার তো মনে হয় না? বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ়তাই বিএনপির জিয়নকাঠি প্রাণশক্তি। তিনি কারাগারে যাওয়ার আগে তেমন জনপ্রিয় ছিলেন না। ৮ ফেব্র“য়ারি থেকে আজ ৬ নভেম্বর তিনি বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের হƒদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়ার চাইতে জনপ্রিয় নেতা এখন বাংলাদেশে নেই। আগরতলা মামলায় যেমন আইয়ুব খান বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে পশ্চিম পাকিস্তানে নিতে চেয়েছিলেন জনসাধারণ মানেনি, তাঁকে নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে গোলটেবিলে নিতে হয়েছিল। নির্বাচনের পরে সেরকম পরিস্থিতি যে হবে, সেটা গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি। কিন্তু নির্বাচনের আগেও তেমন হয় কিনা সেটাই এখন বড় কথা। আর বিএনপি নেতা-কর্মীদের বলি ধৈর্য এবং সাহসের চাইতে এ পৃথিবীতে বড় কিছু নেই। মানুষকে বিব্রত ও বিভ্রান্ত না করে সাধারণ মানুষকে গায়ের জোর না দেখিয়ে মনের জোর এবং প্রসারতা দেখাতে পারলে জনতার জয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। ড. কামাল হোসেনের মতো একজন নেতা জাতির বিবেক তাকে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করা আজ আমাদের সবার জাতীয় দায়িত্ব। যাব সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের আহ্বানে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন করতে চাই। দেশ থেকে অবিচার-অনাচার, দুর্নীতি চিরতরে দূর করতে চাই। গরিবের সম্পদ যাতে লুটেরা লুটতে না পারে তার জন্য দলমতনির্বিশেষে দৃঢ় পায়ে অগ্রসর হতে চাই। দয়াময় আল্লাহ জনতার বিজয় দিন।

bandarban.jpg

আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বান্দরবান পার্বত্য জেলার ৩০০নং আসন। এ আসন আবারও ধরে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ। তবে নিজেদের কোন্দল মিটিয়ে আওয়ামী লীগের দূর্গে হানা দিতে চায় বিএনপি। এছাড়াও আঞ্চলিক সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিসহ অন্য সংগঠনগুলোও একক প্রার্থী দিয়ে ছিনিয়ে নিতে চায় বিজয়।

এদিকে, আওয়ামী লীগ থেকে টানা পাঁচবার নির্বাচিত সাংসদ বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপির দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হলেও বিএনপির মনোনয়ন কে পাচ্ছেন, আর কোন দল কাকে সমর্থন দিচ্ছেন তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। আর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে বান্দরবানে রাজনৈতিক অঙ্গন জমে উঠেছে ।

সংসদীয় এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৪০ হাজার ৬৫০ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার সংখ্যা এক লাখ ১৪ হাজার ৬৯৩ জন। আর পুরুষ ভোটার এক লাখ ১৫ হাজার ৯৫৭ জন ।

১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হন সাচিং প্রু জেরী। পাল্টা হিসেবে রাজ পরিবারের আরেক অংশ তার বিপক্ষে মাঠে নামে। ২০০১ সালে সাচিং প্রু জেরী ও মাম্যাচিং দুজনই সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন এবং দুজনই আওয়ামী লীগের বীর বাহাদুরের কাছে পরাজিত হন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পান মাম্যাচিং। তখন সাচিং প্রু নির্বাচন না করলেও পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ার কারণে মাম্যাচিং মাত্র ৮৫৩ ভোটে বীর বাহাদুরের কাছে হেরে যান।

২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দলের বহিষ্কৃত সাবেক সভাপতি প্রসন্ন কান্তি তংচঙ্গ্যা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে রাজনীতির মাঠে ক্লিন ইমেজের কারণে বীর বাহাদুর পঞ্চমবারের মতো তার ধারাবাহিক বিজয় অক্ষুণ্ন রাখতে সক্ষম হন।

২০১৪ সালের নির্বাচনের পরেও বিএনপির অন্তঃকোন্দল এখনও থামেনি। দুই নেতাকে কেন্দ্র করে বিভক্ত অবস্থায় বিএনপির কর্মীবাহিনী। কোন্দলে বান্দরবান জেলাজুড়ে নাজুক অবস্থা বিএনপির। সাবেক সভাপতি সাচিং প্রু জেরী আর বর্তমান সভাপতি মাম্যাচিং সমর্থকরা কেন্দ্রীয় কর্মসূচিগুলো পালন করেন আলাদা আলাদাভাবে। একে অপরকে ঘায়েল করার জন্য দুই পক্ষই জড়িয়েছে সংঘাত আর মামলায়। আর আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই দ্বন্দ্ব দেখা দিতে পারে প্রকাশ্যে। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব মেটাতে না পারলে আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হতে পারবে না বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

লামা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আমির হোসেন জানান, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বিষয়ে কেন্দ্রে জানানো হয়েছে । দ্রুত উভয়কে নিয়ে বসে সমাধান করার আশ্বাস দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব।

এদিকে, বিএনপি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, মাম্যাচিং যেহেতু জেলা বিএনপির সভাপতি সেক্ষেত্রে ক্ষোভ প্রশমনে এবার সাচিং প্রু জেরীর মনোনয়ন অনেকটা নিশ্চিত। যদিও সাচিং প্রু জেরী মনোনয়ন পান এরপরও মাম্যাচিং গ্রুপ বিদ্রোহী প্রার্থী দিয়ে তার বিপক্ষে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

বান্দরবান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রেজা বলেন, যদি বিএনপি নির্বাচনে যায় তাহলে প্রার্থী যাকেই দেয়া হোকনা কেন, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো, কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী থাকবে না।

এদিকে, ২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর সংগঠন বিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগ এনে বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রসন্ন কান্তি তংচঙ্গ্যাকে বহিষ্কার করা হয়। সর্বশেষ দলীয় সংসদীয় কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।

আর ২০১৫ সালের জুন মাসে জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে হামলার অভিযোগে কাজী মুজিবুর রহমানসহ ২২ নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। আর এই দুই নেতা দুই মেরুর হলেও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় নেতারা ।

এই ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লক্ষী পদ দাশ বলেন, প্রসন্ন, মুজিব দলে থাকা অবস্থায় আমরা একটি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়ী হতে পারিনি। তাদের যদি কেউ প্রার্থী হয় তাহলেও বীর বাহাদুরের আগামী নির্বাচনে জয়ী হতে কোনো প্রভাব পড়বেনা।

বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের সহ- সভাপতি একে এম জাহাঙ্গীর বলেন, দলে কোনো সংকট নেই, অতীতে দলের সঙ্গে বেঈমানি করে অনেকে প্রার্থী হলেও তারা পারেনি। তারা সাকসেস হয়নি। সামনেও কেউ নির্বাচনে দাঁড়ালে হবে না এবং আগামী নির্বাচনে বীর বাহাদুর এই নির্বাচিত হবেন।

এ দিকে বান্দরবান পার্বত্য জেলায় আওয়ামী লীগ নেতা মংপ্রু মার্মা অপহরণ মামলায় বান্দরবান জেলা জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এর শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা ঘরছাড়া হয়। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী নির্বাচনের বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি জেএসএস। তবে জনসংহতি সমিতির বিরোধিতার কারণে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া আওয়ামী লীগের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়াবে, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক জলি মং মার্মা বলেন, রাজনীতিতে শেষ বলে কিছুই নেই। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমাদের দূরত্ব কমেছে।

অন্যদিকে, জেলায় জাতীয় পার্টি ও ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এর রাজনীতি থাকলেও ইউপিডিএফ থেকে ছোটন কান্তি তংচঙ্গ্যাকে প্রার্থী হিসেবে আর জাতীয় পার্টি থেকে কেশৈঅং মার্মাকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিতে পারে ।

এদিকে, একসময়ের রাজনৈতিক মিত্র পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। এর পাশাপাশি দলটির নেতাকর্মীরা বীর বাহাদুরের ক্লিন ইমেজ, রুমা সাঙ্গু সেতু নির্মাণ, থানচি সাঙ্গু সেতু নির্মাণ ও থানচি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহসহ স্থানীয়দের স্বপ্নের শত শত উন্নয়ন কাজগুলো এলাকার হোম টু হোম দৃশ্যমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে তুলে ধরে এখন থেকেই নির্বাচনে নিজেদের ঘাঁটি অক্ষুণ্ন রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।