Ashraful Islam, Author at 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

Mossadek-samakal-5d3073008aa86.jpg

শ্রীলংকার বিপক্ষে সাতটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। জিততে পারেনি একটা সিরিজও। দুটি সিরিজ অবশ্য ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে। একটায় বাংলাদেশ হেরেছে ২-১ ব্যবধানে। বাকি চারটি সিরিজেই (৩-০) ধবলধোলাই হয়েছে বাংলাদেশ। তবে টাইগাররা এখন বদলে যাওয়া এক দল। সর্বশেষ শ্রীলংকা বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতা করেন মাশরাফিরা। এবার শ্রীলংকায় সিরিজ জয়ের লক্ষ্য ধরে যাবে টাইগাররা। সিরিজ জয়ের বড় সম্ভাবনাও দেখছেন মোসাদ্দেক হোসেন।

বিশ্বকাপে শ্রীলংকার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি বৃষ্টির পেটে চলে যায়। বিশ্বকাপে ওই ম্যাচটায় জয় ধরে রেখেছিল বাংলাদেশ। দু’দলের ভক্তদের কাছে ওই ম্যাচ তাই আক্ষেপ হয়ে আছে। বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানো বাংলাদেশ তাই লংকা সিরিজ খেলতে মুখিয়ে আছে। শ্রীলংকাও খারাপ করেনি বিশ্বকাপে। ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছে তারাও। পয়েন্ট টেবিলে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশের চেয়ে। আভিস্কা ফার্নান্দো-কুশল পেরেরারা দারুণ ব্যাটিং করেছেন। ঘরের মাঠে ছেড়ে কথা বলবেন না তারাও।

তবে অভিজ্ঞতার এগিয়ে বাংলাদেশ। যদিও মাশরাফি মর্তুজার সময় ফুরিয়ে এসেছে। ফর্মে নেই তামিম। শ্রীলংকা সফরে যাবেন না সাকিব আল হাসান। তারপরও বাংলাদেশের ভালো সুযোগ দেখছেন মোসাদ্দেক, ‘ব্যাটিং এবং বোলিংয়ে আমরা তাদের চেয়ে এগিয়ে। অভিজ্ঞতার কথা ধরলেও তাদের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। শ্রীলংকার বিপক্ষে তাই ফেবারিট আমরা।’

দলে সাকিব না থাকা এবং ইনজুরির কারণে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ বোলিং করতে না পারায় অলরাউন্ডার হিসেবে দলে জায়গা আরও পোক্ত করার ভালো সুযোগ বলে মনে করেন মোসাদ্দেক, ‘আমি নিজেকে ব্যাটিং অলরাউন্ডার মনে করি। অভিষেকের পরে প্রায় প্রতি ম্যাচেই বোলিং করেছি। এমনও হয়েছে রিয়াদ ভাই বোলিং করার পরও আমি পাঁচ-ছয় ওভার বোলিং করেছি। এটা সত্য রিয়াদ ভাইয়ের ইনজুরি আমাকে বোলিংয়ে বেশি ভালো করার সুযোগ এনে দিয়েছে। অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেকে প্রমাণের ভালো সুযোগ এটা।’

আর সাকিব না থাকায় দলে সুযোগ পেলে দ্রুত বল হাতে নিতে হবে মোসাদ্দেকের। বেশি ওভার বোলিং করতে হবে। এগুলোও মাথায় আছে তার। একাদশে থাকলে সুযোগটা তিনি কাজে লাগাতে চান। এছাড়া বিশ্বকাপে মোসাদ্দেককে সাতে ফিনিশার হিসেবে ব্যাট করতে হয়েছে। শ্রীলংকা সিরিজেও তাকে ওই জায়গায় ব্যাটিং করতে হবে বলেই মনে করেন মুসা। তিনি ওই জায়গায় অভ্যস্ত হয়ে গেছেন বলেও মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ দল দুই ভাগে শ্রীলংকা সফরে যাবে। প্রথম গ্রুপটি ২০ এবং পরের গ্রুপটি ২২ জুলাই শ্রীলংকার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়বে।

lotuskamal.jpg

শেয়ারবাজারের চলমান দুরবস্থায় বিনিয়োগকারীরা যখন রাস্তায় বিক্ষোভ করছে, তখন আশার বাণী শোনালেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, পুঁজিবাজারকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে চায় সরকার। এবারের বাজেটে নানা প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। পুঁজিবাজার চাঙ্গা করতে আগামীতে যা কিছু করা দরকার, সরকারের তরফ থেকে তা করা হবে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট পাসের পর দুই সপ্তাহ দেশের বাইরে ছিলেন অর্থমন্ত্রী। পুঁজিবাজার প্রসঙ্গ ছাড়াও অর্থপাচার, বাজেট বাস্তবায়নসহ অর্থনীতির অন্যান্য বিষয়ে কথা বলেন তিনি।

বাজেটে পুঁজিবাজার উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পরও বাজারে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং গত ৩০ জুন বাজেট পাসের পর থেকে দেশের শেয়ারবাজার ক্রমশ পতনের দিকে যাচ্ছে। এ অবস্থায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। শেয়ারবাজারে লাভ-লোকসান আছে- এ কথা উল্লেখ করে মুস্তফা কামাল বলেন, এর সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। পুঁজিবাজারে সরকারের শেয়ার খুব কম রয়েছে। ফলে এখান থেকে সরকারের শেয়ার বিক্রি করে বের হয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, যারা এখানে বিনিয়োগ করবেন তারা শুধু লাভবান হবেন- এটা জোর দিয়ে বলা যায় না। লাভও হতে পারে আবার লোকসানও হতে পারে। এমন মানসিকতা নিয়েই বিনিয়োগ করতে হবে। প্রত্যেক দেশেই পুঁজিবাজারে শেয়ারের দামে ওঠানামা করে। ক’দিন আগে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটা সমস্যার কারণে ৪ থেকে ৫ শতাংশ ট্রেড কমে গেছে। এসব বিষয় অনেক সময় শেয়ারবাজারে প্রভাব ফেলে। তবে সমস্যা দ্রুত সমাধান হয়ে আসছে।

পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা করা হলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই। ভারতে পুঁজিবাজারের ইনডেপ চলে এসেছিল ১৮ হাজার থেকে সাত হাজারে। সেখানে কমেছে আবার বেড়েছে। আমাদের এখানেও বেড়েছে আবার কমেছে। আমাদের পুঁজিবাজারে এখন খুব বেশি ওঠানামা নেই। স্থিতিশীল রয়েছে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতি খুব শক্তিশালী। এটা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। তাহলে অর্থনীতির প্রভাব পুঁজিবাজারে পড়ছে না কেন? পুঁজিবাজারে এর প্রভাব আসা উচিত। পুঁজিবাজারে শক্তিশালী বা বড় বিনিয়োগকারী ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী থাকা দরকার। তবে আমাদের পুঁজিবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর সংখ্যাই বেশি।

তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিলে এর প্রভাব বাংলাদেশে পড়ে। আমাদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীরা শুধু লাভ করতে চান। ট্রেড করে ছোট্ট লাভ করে বেরিয়ে যেতে চায়। এটা কিন্তু পুঁজিবাজার নয়। পুঁজিবাজারের দুটি বিষয় আছে। একটা হচ্ছে, আপনি ট্রেড করবেন, লাভ করবেন। আবার আপনি ইনভেস্টমেন্ট ধরে রাখবেন, যাতে ক্যাপিটাল গেইন পেতে পারেন। এটা দুঃখজনক যে, আমাদের এখানে ক্যাপিটাল গেইনের চিন্তা করা হয় না।

অর্থমন্ত্রী জানান, পুঁজিবাজারের জন্য সরকারের তরফ থেকে যা যা করা দরকার তা করা হবে। কারণ, হাজার হাজার মানুষ পুঁজিবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সুতরাং তাদের বাদ দিয়ে দেশের অর্থনীতি চিন্তা করা যায় না।

টাকা পাচারকারী রক্ষা পাবেন না : এসবি গ্রুপ টেরাকোটা টাইলসের নামে দেশে থেকে টাকা পাচার করেছে- এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তার নজরে আসেনি। তবে যেই করুক বা, তিনি যতই শক্তিশালী হোন, তার নিজের পরিবারের সদস্য হলেও শাস্তি পেতে হবে তাকে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সব ব্যবসায়ীকে চেনেন তিনি। ব্যবসায়ীদেরও তাকে চিনতে হবে। ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে দেশ এগোবে। শতভাগ ব্যবসায়ী সৎ হবেন না। শতভাগ মানুষ সৎ হবেন না; কিন্তু সৎ মানুষও আছে। এ সংখ্যাও কম নয়। অর্থমন্ত্রী এ সময় সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান, ওই প্রতিষ্ঠানের যিনি টাকা পাচার করছেন, তার সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য আছে কি-না? সাংবাদিকরা এ সময় অর্থমন্ত্রীকে জানান, এসবি এপিম নামের একটি প্রতিষ্ঠান এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। শাহজাহান বাবলু নামে এক ব্যবসায়ী ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান। শাহজাহানের বাড়ি কুমিল্লায়। জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, যদি তিনি (শাহজাহান বাবলু) করে থাকেন, তিনি যেই হোন, যত শক্তিশালী হন, তার বাড়ি যেখানেই হোক, তিনি যদি আমার পরিবারের সদস্যও হন তবু তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় আসতে হবে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অপর এক প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বছর বাংলাদেশকে ১০০ কোটি ডলার ঋণ দেবে এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি)। এরই মধ্যে ৫০ কোটি ডলার সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে সংস্থাটি। বছরশেষে এ সহায়তা ১০০ কোটি ডলারে উন্নীত হবে। বেসিক ব্যাংকের বাচ্চুর বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, অনেক অনেক পুরনো হিসাব নিয়ে এলে আমি পারব না। অতীতেরগুলো টেনে এনে আমাকে জরাজীর্ণ করবেন না। বর্তমানগুলোর দায়িত্ব আমার।

মশা আতঙ্কে অর্থমন্ত্রী : রসিকতা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু জ্বরে ভোগার পর মশা নিয়ে আতঙ্কে আছি। এ জন্য তিনি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে যেতেও ভয় পাচ্ছেন। সেখানে (পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে) মশা বেশি। এ পর্যন্ত দু’বার কামড় দিয়েছে। একবার চিকুনগুনিয়া, আবার ডেঙ্গু। ভয়ে ওখানে আপাতত যাচ্ছি না। এখন থেকে সচিবালয়ে অফিস করবেন কি-না জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় দুই জায়গায়ই অফিস করব।

taslima22.jpg

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি খোলা চিঠি লিখেছেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকালে তসলিমা নাসরিন তার নিজের ফেসবুক পেইজে এ লেখাটি প্রকাশ করেন। তসলিমা নাসরিনের সেই খোলা চিঠি পাঠকদেরন জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো।

মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,

আর ক’দিন পর আমার নির্বাসনের ২৫ বছর পূর্ণ হবে। ২৫ বছর! আপনি কি কল্পনা করতে পারেন এই ২৫ বছর কতটা দুঃসহ? আপনি আপনার পরিবারের সকলকে হারিয়েছেন, বিশ্বসুদ্ধ লোক সে কারণে দুঃখ করে, চোখের জল ফেলে আজও। আমিও এই দীর্ঘ নির্বাসনে আমার বাবা মা ভাই দাদা কাকা মামা খালা সবাইকে হারিয়েছি, যাদের কাছে যাওয়ার আমার কোনও অধিকার ছিল না গত ২৫ বছর। আজও নেই আমার নিজের দেশে ফেরার অধিকার। আমার এই বেদনার কথা বিশ্বের মানুষ জানে না, আমার জন্য তাই কেউ দুঃখও করে না, চোখের জলও ফেলে না।

অচেনা মানুষ হিসেবে এই চিঠি আপনাকে লিখছি না। আমাকে চেনেন আপনি। দেশে থাকাকালীন বেশ কয়েকবার দেখা হয়েছিল আপনার সঙ্গে। তখন, নব্বই-একানব্বই সালে আপনাকে শুভাকাঙ্খী হিসেবেই আমি বিশ্বাস করতাম। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে মৌলবাদীদের মিছিল হওয়া, আমার মাথার দাম ঘোষণা হওয়া, লোকের ধর্মানুভূতিতে আঘাত করেছি এই অভিযোগে আমার বিরুদ্ধে খালেদা-সরকারের মামলা করা, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া, দেশ ত্যাগ করতে আমাকে বাধ্য করার পর আমি অপেক্ষা করতাম আপনি কবে প্রধানমন্ত্রী হবেন।

আমি ভাবতাম আপনি প্রধানমন্ত্রী হলেই আমি দেশে ফিরতে পারবো। ঠিকই একদিন আপনি প্রধানমন্ত্রী হলেন। আমি অধীর আগ্রহে আপনার দিকে তাকিয়ে আছি, কিন্তু দেশে তো আমাকে ঢুকতে দিলেনই না, উল্টে ভয়ংকর একটি কাজ করলেন। নামে আমার আত্মজীবনী গ্রন্থ ‘আমার মেয়েবেলা’ নিষিদ্ধ করলেন। নিষিদ্ধ করার কারণ, আপনি জানালেন, বইটি অশ্লীল। আমার মেয়েবেলা আমার শৈশবের কাহিনী। এটিকে আপনি ছাড়া আর কেউ অশ্লীল বলেনি। বিদেশের অনেক ভাষায় বইটি ছাপা হয়েছে। গ্রন্থ-সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে, পাঠকপ্রিয়তাও প্রচুর পেয়েছে, এমনকী বইটি বাংলা ভাষার অন্যতম একটি সাহিত্য পুরস্কারও পেয়েছে। বইটি আজও বাংলাদেশে নিষিদ্ধ।

সাধারণত যেসব সরকার মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, তারা বই নিষিদ্ধ করে। তখন বাক স্বাধীনতায় বিশ্বাসী মানুষেরা সেইসব সরকারের বই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে মামলা করে। গণতান্ত্রিক দেশে মানুষ তাই করে। কিন্তু বাংলাদেশের গণতন্ত্র এমনই অদ্ভুত যে, আমার বই থেকে নিষিদ্ধকরণ তুলে নেওয়ার জন্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করার সাহস কারওর নেই। নাৎসিরা যখন বই পোড়াতো, তাদের বই পোড়ানোয় কেউ বাধা দিতে পারতো না। নাৎসি সরকারের বিরুদ্ধে কারও বুকের পাটা ছিল না মামলা করে। কিন্তু আপনি তো নাৎসি সরকার নন, কেন মানুষ আপনার সরকারকে ভয় পায়!

আপনি সম্ভবত বই নিষিদ্ধ করাটা শিখেছেন খালেদা জিয়ার কাছে। আপনি বই নিষিদ্ধ করার আগে খালেদা জিয়া আমার ‘লজ্জা’ বইটি নিষিদ্ধ করেছিলেন। খালেদা জিয়ার মতো আপনিও আমার বই পড়ার অধিকার থেকে বাংলাদেশের পাঠকদের বঞ্চিত করছেন। আপনি ‘আমার মেয়েবেলা’ বইটি নিষিদ্ধ করার পর খালেদা জিয়াও ক্ষমতায় এসে পরম উৎসাহে আমার আত্মজীবনী সিরিজের অনেকগুলো বই পর পর নিষিদ্ধ করলেন।

লক্ষ করার বিষয় যে, অন্য কারও বই নিষিদ্ধ করলে সরকারকে সামান্য হলেও ঝামেলা পোহাতে হয়। অন্যরা মামলা করে, হাইকোর্ট থেকে বইকে মুক্ত করিয়ে আনে। কিন্তু আমার বই নিষিদ্ধ করলে আপনাদের কোনও ঝামেলা পোহাতে হয় না। এই একটি মানুষ যাকে নিয়ে যা ইচ্ছে তাই করা যায়, যাকে অকারণে অপবাদ দেওয়া যায়, যাকে যত খুশি অসম্মান করা যায়, জঘন্য অপমান করা যায়—নিশ্চিত, কেউ টুঁ শব্দটি পর্যন্ত করবে না।

আমার বেলায় দেশের অমৌলবাদীরাও মুহূর্তে মৌলবাদী হয়ে ওঠে। আমাকে কখনও আর দেশে ফিরতে না দিলেও, আপনি ভালো জানেন, খালেদা জিয়াও জানেন, আপনাদের কোনও অসুবিধে হবে না, আপনাদের জনপ্রিয়তায় কোনও আঁচড় পড়বে না।

আমি দেশে ফিরতে চেয়েছি। আপনি সোজা বলে দিয়েছেন, দেশে যেন না ফিরি। কেন নিজের দেশে আমি ফিরতে পারবো না, তার কোনও কারণ আপনি অবশ্য দেননি। ঠিক খালেদা জিয়া যেভাবে আমাকে দেশে ফিরতে দেননি, একই পদ্ধতিতে আপনিও আমাকে দেশে ফিরতে দেননি। আমার মা’ যখন মৃত্যুশয্যায়, আমি কত যে অনুরোধ করেছি মা’র শেষ দিনগুলোয় মা’র পাশে যেন কিছুদিন আমাকে থাকার অনুমতি দেন। আপনি অনুমতি দিলেন না।

শেষ পর্যন্ত আপনার রক্তচক্ষু অমান্য করে আমি দেশে ফিরেছিলাম। ভাগ্যিস আমার পাসপোর্টের তখনও বৈধতা ছিল। আমি দেশে ফিরেছি জানতে পেরে আপনি আমার ওপর এত ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন যে ঠিক খালেদা জিয়ার মতো আমার বিরুদ্ধে মামলা করে, আমার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে, একইরকম নাটক করে আমাকে দেশ থেকে তাড়ালেন। খালেদা জিয়া আর আপনার মধ্যে চুলোচুলি থাকলেও আমাকে লাঞ্ছিত করার ব্যাপারে আপনারা দু’জন কিন্তু একশ’ ভাগ এক।

আমার বাবা যখন দেশে মৃত্যুশয্যায়, তখন তাঁকে অন্তত দু’দিনের জন্য হলেও দেখতে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে কেঁদেছি, কিন্ত আপনি অনুমতি দেননি, আমার পাসপোর্ট পূনর্নবীকরণ করেননি। আমি ভেবেছিলাম, যেহেতু নিজের বাবাকে আপনি খুব ভালোবাসেন, আপনি হয়তো বুঝবেন, কোনও কন্যাকে একবার শেষবারের মতো তার বাবাকে দেখতে বাধা দেওয়া কতবড় অন্যায় কাজ। আমার বাবা মারা গেছেন, আমাকে তাঁর কাছে যেতে দেওয়া হয়নি।

আমাকে ২৫ বছর দেশে ফিরতে দিচ্ছেন না। সম্ভবত ফিরতে দেবেনও না কোনওদিন। বিদেশ বিভুঁইয়েই আমাকে বাকি জীবন পার করতে হবে। দেশে ফেরার আশা আজকাল আর করিও না। আমার সমস্ত আশা চূর্ণ হতে হতে হতে এখন অবশিষ্ট কিছু নেই। বিদেশে কী করে বাস করতে হচ্ছে আমাকে, তা, আমি জানি না, কতটুকু জানেন। তবে নিশ্চয়ই অনুমান করতে পারেন যে, আমি ভালো নেই। বাংলাভাষার একজন লেখক বাংলার বাইরে বসে বাংলা ভাষায় বই লিখে বেঁচে থাকতে পারে না।

বিশেষ করে, সেসব বই যখন একের পর এক নিষিদ্ধ হয়, সরকারের ভয়ে যখন প্রকাশকরা বই ছাপানো বন্ধ করে দেয়, যখন বই ছাপায় জাল-বইএর প্রকাশকেরা অর্থাৎ চোরেরা, বই বিক্রির কোনও সম্মানী যখন লেখকের হাতে পৌঁছোয় না। আমার জায়গায় আপনি হলে, ধরুন আপনি কোনও বাঙালি লেখক হলে, আপনাকে যদি জোরজবরদস্তি নির্বাসন দেওয়া হতো, আপনারও অবস্থা কিন্তু আমার অবস্থার মতোই করুণ হতো। কখনও কি আমার জায়গায় আপনাকে কল্পনা করে দেখেছেন? মনে হয় না।

আপনি নিজে নারী, নারীর অধিকারের কথা আপনিও বলেন, আর আপনার শাসনামলেই কত নারীর মানবাধিকার কতভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে! উত্তরাধিকার দাবি করতে গেলে, যেহেতু আমাকে দেশে যেতে দিচ্ছেন না, কাউকে আম-মোক্তারনামা নিয়োগ করতে হয়। কিন্তু সেটি কি করতে দিচ্ছেন? শান্তিনগরে আমার নিজের কেনা বাড়িটি বিক্রি করে বিদেশে থাকার খরচ চালানোর চেষ্টা আজ অনেক বছর ধরে করছি কিন্তু পারছি না। না পারার কারণ হলো সরকারি বাধা।

আমার ছোট বোনকে আম-মোক্তার নামা দিয়ে — আম-মোক্তার নামার জন্য যেসব নথিপত্র চাওয়া হয়, তার সব কিছু নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ দূতাবাসে নিজে গিয়ে ডেপুটি কনসুলার জেনারেল শহিদুল ইসলামের হাতে দেওয়ার পরও তিনি কিছুই প্রত্যয়ন করেননি। না করার কারণ, আমার নাম। আমার নামটি ওঁর পছন্দ নয় অথবা আমার নামে ওরঁ ভয়। আপনার অনুমতি না নিয়ে উনি কোনও সই করবেন না। একই ঘটনা ঘটেছে দিল্লির বাংলাদেশ দূতাবাসেও। স্টকহোমের বাংলাদেশ দূতাবাসেও। প্যারিসের বাংলাদেশ দূতাবাসেও। সর্বত্র। দূতাবাসের লোকেরা আপনার ভয়ে তটস্থ। আমার কোনও রকম কাজ করলেই তাঁরা ভেবে নেন, আপনি তাঁদের চাকরি খেয়ে নেবেন , বা প্রমোশন দেবেন না।

দূতাবাস থেকে অ্যটেস্টেড বা প্রত্যয়ন করা না হলে আমার আম-মোক্তারনামার কোনও মূল্য বাংলাদেশে নেই, দেশে আমার বাড়ি বিক্রি করা যাবে না। মুশকিল হল, আমার নামটি দেখে দূতাবাসের কোনও প্রাণী আমার কোনও ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত নেন না। সিদ্ধান্তের জন্য আমার আবেদনপত্র পাঠিয়ে দেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র বা স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ে, যেসব মন্ত্রণালয় থেকে কখনও কোনও উত্তর আসে না। গত কুড়ি বছর আমাকে উপেক্ষা করার মন্ত্র ছাড়া আর কোনও মন্ত্র উচ্চারিত হয়নি বাংলাদেশের কোনও মন্ত্রণালয়ে। আমার পাসপোর্ট পূনর্নবীকরণের এবং আমার আমমোক্তারনামার অগুনতি আবেদনপত্র পড়ে আছে মণ্ত্রণালয়ের ময়লা ফেলার বাক্সে।

আমার দেশে ফেরার অধিকার থেকে আমাকে বঞ্চিত করছেন। আপনার বিবেক কী করে বলছে আমি যেন আমার দেশের সম্পত্তি থেকেও বঞ্চিত হই? এতটা অমানবিক কী করে হতে পারে মানুষ! কী অন্যায় করেছিলাম, কার কী ক্ষতি করেছিলাম যে আমাকে জীবনভর ভুগতে হবে, ঘুরতে হবে এক দেশ থেকে আরেক দেশে শুধু একটু আশ্রয়ের আশায়? আমার আজ পায়ের নিচে মাটি নেই। আমার মাথার ওপর ছাদ নেই।

জানিনা এসব খবর আপনাকে কোনও আনন্দ দেয় কি না। আমি আজ এই কথা বলতেই চিঠিটি লিখছি, যে, আমার দেশের বাড়িটি বিক্রি করার দায়িত্ব যে আমি আমার বোনকে দিতে চাইছি, তা যদি না দিতে পারি, তবে বাড়িটি যে কেউ এসে যে কোনওদিনই দখল করে নিতে পারে, যেমন নিচ্ছে গত কয়েক বছর। আপনার মনে হতে পারে সম্পত্তি হিসেবে ঢাকার ঘিঞ্জি এলাকা শান্তিনগরে বহুতল বাড়ির ভেতর পুরোনো একটি অ্যাপার্টমেন্ট বা বাসা নিতান্তই তুচ্ছ এবং মূল্যহীন। আমার কাছে কিন্তু ওটি তুচ্ছ এবং মূল্যহীন নয়। আমার বাড়িটি বেদখল হয়ে গেলেও আমি জানি আপনার কিছু যাবে আসবে না। আমি যে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছি, তাতেই বা কার কী যায় আসে!

তারপরও আমি আপনার ওপর ছেড়ে দিচ্ছি বিষয়টি। মৌলবাদীরা চায় না বলে আমাকে আমার নিজের দেশে ফিরতে দেবেন না জানি। এখন প্রশ্ন, আমার আম-মোক্তারনামা বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে প্রত্যয়ন বা সত্যায়িত করার জন্য আপনি কি অনুমতি দেবেন নাকি আমাকে বুঝে নিতে হবে কাউকে আম-মোক্তারনামা নিয়োগ করার অধিকার দুনিয়ার আর সবার থাকলেও আমার থাকতে পারে না, কারণ আমার অপরাধ আমি কিছু বই লিখেছিলাম, যেসব বই দেশের মৌলবাদীর পছন্দ হয়নি!

মৌলবাদীদের দোসর হিসেবে আপনাকে দেখতে চাই না বলেই এই চিঠিটি লিখলাম। আমি এখনও বিশ্বাস করতে চাই ওই নারীবিদ্বেষী মৌলবাদীদের মতো আপনি নন। এখনও মনুষ্যত্ব বলে আপনার কিছু অবশিষ্ট আছে।

NID.jpg

জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করতে বুধবার নতুন একটি মোবাইল অ্যাপের উদ্বোধন করা হয়েছে, যার নাম রাখা হয়েছে ‘পরিচয়’। ‘পরিচয়’ নামের এই গেটওয়ে সার্ভারটি নির্বাচন কমিশনের জাতীয় ডেটাবেসের সঙ্গে সংযুক্ত।

এই অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে সরকারি, বেসরকারি বা ব্যক্তিগত যেকোন সংস্থা তাদের গ্রাহকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য যাচাই করে সহজে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সেবা দিতে পারবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক সচিব এস এম জিয়াউল আলম।

তবে এখনও এককভাবে কোন ব্যক্তি এই অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবেন না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই অ্যাপ থেকে কী তথ্য যাচাই করা যাবে?

পরিচয় অ্যাপের মাধ্যমে মূলত এনআইডি কার্ডের নাম্বারটি থেকে গ্রাহকদের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রাথমিকভাবে গ্রাহকের নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম, বয়স ও ঠিকানা যাচাই করা যাবে। গ্রাহকের এসব তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা এই অ্যাপে সুরক্ষিত থাকবে বলে জানান তিনি।

তবে সামনে আরও কী কী তথ্য যাচাই করা যাবে এবং অ্যাপটি কিভাবে পরিচালনা করা হবে – সে বিষয়ে শিগগিরই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে একটি নীতিমালা প্রণয়নের কথা জানান তিনি।

সামনের মাসেই এই পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।

“অ্যাপটা ছাড়া হয়েছে। কিন্তু সম্পূর্ণ ডাটা এখনও পাওয়া যাবে না। এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক কাজেই ব্যবহার করা যাবে, ব্যক্তিগত পর্যায়ে ব্যবহারের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

তিনি জানান, “বলা যায় আমরা শুধুমাত্র শুরু করেছি। এটাকে ধীরে ধীরে আরও ডেভেলপ করা হবে। ক্রমান্বয়ে সব ডাটা অ্যাড করা হবে।”

কেন এই ‘পরিচয়’ অ্যাপের উদ্যোগ?

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক সচিব এস এম জিয়াউল আলম জানান, এই অ্যাপের মাধ্যমে একদিকে যেমন জাল আইডিগুলো শনাক্ত করা যাবে, তেমনি জালিয়াতি প্রতিরোধ করে পরিসেবাগুলোকে আরও নিরাপদ করা যাবে। আর এজন্য আর আগের মতো ৪/৫ কর্মদিবস অপেক্ষা করতে হবে না। ভোগান্তিও পোহাতে হবে না।

এতদিন, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে লগ ইন করে সংস্থাগুলো জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ম্যানুয়ালি যাচাই করতে হতো। আবার নির্বাচন কমিশনের এনআইডি ডাটাবেসে প্রবেশের কোন সুযোগ না থাকায় অনেক সংস্থা এনআইডি যাচাইও করতে পারতেন না।

কিন্তু ‘পরিচয়’ অ্যাপের মাধ্যমে এনআইডি যাচাইয়ের জন্য বাড়তি জনবলের প্রয়োজন না হওয়ায় যেকোন প্রতিষ্ঠান ‘শুধুমাত্র পরিচয় গেটওয়ে’ সার্ভারের সাথে সংযোগ স্থাপন করে এনআইডি তথ্য যাচাই করতে পারবেন।

তাই এখন থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ডিজিটাল ওয়ালেট অ্যাকাউন্ট খোলা, আর্থিক লেনদেন বা যেসব কাজে, জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধনের প্রয়োজন হয়, সেখানে খুব সহজে এবং কম সময়ে পরিচয় যাচাই করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে তিনি বলেন, “আমাদের কাছে কোন ক্লায়েন্ট যদি প্রোপার [সঠিক] সেবাটা নিতে আসে, যদি তার সাথে আর্থিক লেনদেন, সোশ্যাল বেনেফিট [সামাজিক সুযোগ-সুবিধা] দেয়ার প্রয়োজন হয়, তখন ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করাটা বেশ জরুরি হয়ে পড়ে। এখন এই অ্যাপের মাধ্যমে সেটাই করা সম্ভব হবে। এতে গ্রাহকরাও কম সময়ে সেবা পাবেন আর আমাদেরও কোন ঝুঁকির মুখে পড়তে হবে না।… কোথাও কোন দুই নম্বরির সুযোগ নেই।”

বুধবার তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ‘পরিচয়’ অ্যাপ উদ্বোধন করে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “সরকারি সেবা সাধারণ মানুষের কাছে সহজে এবং সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে এই অ্যাপটি বড় ধরণের ভূমিকা রাখবে। সরকারি সেবা পেতে জনগণকে যেন সরকারি অফিসগুলোতে যেতে না হয় সেজন্যই আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।”

billal-1.jpg

আসাদুল ইসলাম (৪০) নামে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মহেশ্বরচাঁদা গ্রামে এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছে। জামাই শাশুড়ির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক জানাজানি হওয়ায় অপমান সইতে না পেরে শ্বশুর আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আসাদুল ইসলাম উপজেলার মহেশ্বরচাদা গ্রামের সবের আলী মন্ডলের ছেলে। এ ঘটনায় গ্রামবাসী বৃহস্পতিবার দুপুরে জামাতা বিল্লাল হোসেন (২০) ও শাশুড়ি সুফিয়া খাতুনকে আটকে রাখে।

স্থানীয়রা জানায়, গত ৪ মাস আগে ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ উপজেলার মহেশ্বরচাঁদা গ্রামের আসাদুল ইসলামের মেয়ের সাথে পার্শ্ববর্তী শালিখা গ্রামের বিল্লাল হোসেনের বিয়ে হয়।

বিয়ের পর থেকে শাশুড়ি সুফিয়া খাতুনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন বিল্লাল। বিষয়টি গত কয়েক দিন আগে ফাঁস হয়ে পড়ে। এ নিয়ে আসাদুল ও স্ত্রী সুফিয়ার মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

এক পর্যায়ে বুধবার দুপুরে আসাদুল পাশ্ববর্তী মাঠে গিয়ে কীটনাশক পান করে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মহেশ্বরচাদা গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুল গনি জানান, জামাই বিল্লাল হোসেন ও শ্বাশুড়ির সুফিয়ার সাথে প্রেমের সম্পর্কের কারণে বুধবার বিকালে কীটনাশক পান করে আসাদুল। এর পর সে মারা যায়। এ ঘটনার পর জামাই বিল্লাল হোসেন ও সুফিয়াকে গ্রামবাসী আটক করে রেখেছে।

GM-Quader.jpg

সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির নতুন চেয়ারম্যান হলেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সহোদর জি এম কাদের। দায়িত্ব নিয়ে বললেন,দলের কর্তৃত্ববাদী নীতির লাগাম টানতে চান তিনি।

দলের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলেন জি এম কাদের। তিনি জানান, দলের সাংগঠনিক ভিত মজবুত করতে চান৷ তার দাবি, নানা কারণে সংগঠন দুর্বল হয়ে গেছে৷ তাই সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়ানোর কাজটি দিয়েই শুরু করতে চান জিএম কাদের।

‘রাজনীতি এখন অনেকটা ব্যবসায়ে পরিণত হয়েছে’ জানিয়ে এটাকেই দেশের রাজনীতির সবচেয়ে নেতিবাচক দিক হিসেবে চিহ্নিত করেন কাদের। বলেন, মানুষ এখানে (রাজনীতি) ইনভেস্ট করে, তার বিনিময়ে কিছু লাভ করবে সেই আশায় রাজনীতি করে। দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাজ করা, দেশপ্রেম, দেশের জন্য ত্যাগ—এগুলোর যে মূল্যায়ন, তা প্রকৃত হচ্ছে না৷ টাকা পয়সা, অর্থ, শক্তি—এসবের মূল্যায়ন হচ্ছে।

এ ধারার বিপরীতে, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করার ইচ্ছে পোষণ করেন দলটির নতুন চেয়ারম্যান। জাতীয় পার্টিকে এগিয়ে নিতে দলের সদস্যের মূল্যায়ন করা, ক্ষমতাকে তাদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি। দলে গণতান্ত্রিক চর্চাটা থাকলে তা বাস্তবায়ন সম্ভব বলেও মত তার। বললেন, নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে কর্মসূচি প্রণয়ন করা হবে, বাস্তবায়নও তারাই করবে।

জি এম কাদের মনে করেন, দলের ক্ষমতা একক ব্যক্তি বা শ্রেণির হাতে থাকলে মনোনয়ন বাণিজ্য, পদ-পদবী নিয়ে বাণিজ্য হয়৷ তাই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চান তিনি।

বিরোধী দলের নেতা?

সংসদে কে হবেন বিরোধী দলের নেতা?—এমন প্রশ্নের উত্তরে জিএম কাদের বললেন, দলীয় ফোরাম আলাপ আলোচনা করে ঠিক করা হবে।’ আগে আমার ভাবী এবং সাবেক ফার্স্ট লেডি বেগম রওশন এরশাদ ছিলেন, উনার কাজের অভিজ্ঞতাও আছে। উনি এখনও দ্বিতীয় পজিশনে আছেন, কাজ করছেন। আমি মনে করি দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এটা হওয়া উচিত।

দলে কোনো কোন্দল আছে মনে করেন না জিএম কাদের। তার কথা হলো, প্রতিযোগিতা থাকলে প্রত্যাশা থাকেই৷ প্রতিযোগিতা শেষ হলে সেটাও শেষ হয়ে যায়। নিজেদের মধ্যে বড় ধরনের কোনো দ্বিমত আছে মনে হয়নি।

জি এম কাদের বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতির প্রধান তিনদলই নেতা কেন্দ্রিক হয়ে গেছে৷ নেতাই সর্বেসর্বা। এটার বড়ো ডিফেক্ট হলো, কোনো কারণে নেতা বিপদে পড়ে গেলে বা ধাক্কা পেলে, দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তাই রাজনীতির এই সংস্কৃতি ভেঙে দিতে চান কাদের। তিনি বলেন, স্যার বলা বা না বলা কোনো কথা নয়৷ কথা হলো নেতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা থাকা উচিত, হি ইজ ওয়ান অব আস (তিনি আমাদের একজন)।

তাই সম্বোধনকে বড় করে দেখছেন না জাতীয় পার্টির নতুন কান্ডারি। তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কর্তৃত্ববাদী নীতি যেটা ছিল এতোদিন, সেটাকে আমি সীমিত করতে চাচ্ছি।

sojib-1.jpg

নেত্রকোনা জেলা শহরের নিউটাউন পদ্মপুকুর পাড় এলাকায় শিশুর গলাকাটা মাথা ব্যাগে করে নিয়ে যাওয়ার সময় আটক এক যুবক গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। কাটা মাথা ও যুবকের লাশ নেত্রকোনা থানা পুলিশ উদ্ধার করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

নেশাগ্রস্ত ঐ বখাটে যুবকের নাম রবিন (২৮) । রবিন শহরের পূর্ব কাটলি এলাকার এখলাছুর রহমানের ছেলে। তিনি পেশায় রিকশাচালক ছিলেন। অন্যদিকে নিহত সজীবের পরিবারও একই এলাকার একটি বাসায় ভাড়া থাকে। সে আরেক রিকশাচালক রইছ উদ্দিনের ছেলে। রইছের গ্রামের বাড়ি জেলার বারহাট্টা উপজেলার সাহতা গ্রামে। সজীব বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে কাটলি এলাকার ভাড়াবাসা থেকে নিখোঁজ ছিল।

নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তাজুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আজ দুপুর ১টার দিকে শহরের কাটলি এলাকা দিয়ে রবিন হাতে ব্যাগ নিয়ে দৌঁড়াচ্ছিলেন। এলাকায় তাঁকে নতুন মনে করে স্থানীয় লোকজন তাঁর নাম-পরিচয় জানতে চান। রবিন আমতা আমতা করতে থাকলে লোকজন জিজ্ঞাস করেন, তাঁর ব্যাগের ভেতরে কী আছে? রবিন বলেন, তাঁর ব্যাগের ভেতরে ভাঙারির জিনিস আছে। তাঁকে সন্দেহ হলে ওই ব্যাগটি দেখতে চায় স্থানীয়রা। কিন্তু তিনি ব্যাগটি না দেখাতে চাইলে স্থানীয়রা ব্যাগ নিয়ে টানা-হেঁচড়া করতে থাকে। একপর্যায়ে ব্যাগের ভেতর থেকে শিশুর কাটা মাথা ছিটকে পড়ে।

এর পরই রবিনকে ধাওয়া দেয় লোকজন। একপর্যায়ে শহরের নিউটাউন এলাকার অনন্তপুকুর পাড়ে তাঁকে পিটুনি দেয় এলাকাবাসী। এতে ঘটনাস্থলেই রবিনের মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সজীবের কাটা মাথা ও রবিনের লাশ উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠায়।

এদিকে বিকেলে কাটলি এলাকায় নির্মাণাধীন তিনতলা একটি ভবনের নিচতলা থেকে শিশু সজীবের বাকি দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল আলম জানান, শিশুটিকে কোথায় হত্যা করা হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কতজন এই হত্যায় জড়িত তাও জানা যায়নি। কেন এই হত্যাকাণ্ড তা বের করতে পুলিশ তদন্তে নেমেছে। এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

dhaka-city-02-big-20190304133258.jpg

উত্তরা এবং মিরপুর এলাকা রাজধানী ঢাকাতে বসবাসের জন্য নগরবাসীর প্রথম পছন্দ। সম্প্রতি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাড়ি কিংবা অ্যাপার্টমেন্ট কেনাবেচার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান বি-প্রপার্টি’র কাছে গত অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত আসা গ্রাহকদের চাহিদা বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানা যায় বলে বিবিসি বাংলার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বি-প্রপার্টির ওই সমীক্ষা অনুসারে, বসবাসের জন্য ঢাকাবাসীর প্রথম পছন্দ উত্তরা। বি-প্রপার্টির গ্রাহকদের ২৪% বিমানবন্দর সংলগ্ন উত্তরা এলাকায় বসবাসের জন্য ফ্ল্যাট কিংবা বাড়ি খুঁজেছেন।

উত্তরাকে বসবাসের জন্য গ্রাহকদের সবচেয়ে বেশি পছন্দ করার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বি-প্রপার্টির প্রধান নির্বাহী মার্ক নুসওয়ার্দি বলেন, “পরিকল্পিত একটি উপশহরের বিভিন্ন উপকরণ থাকার কারণে উত্তরা এখন বসবাসের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় এলাকা হয়ে উঠেছে।

আমি মনে করি উত্তরা এখন ঢাকার হৃৎস্পন্দন। পরিকল্পিত একটি উপশহর এটি। এখানকার চলাচলের রাস্তাগুলোও বেশ প্রশস্ত। এছাড়াও এমন সব অবকাঠামো এখানে গড়ে উঠেছে যেগুলো ।”

“আগামী দশ বছরের মধ্যে ঢাকা স্থানান্তরিত হবে পূর্বাচলে যেটা উত্তরার খুব কাছে। কয়েকবছরের মধ্যে শুরু হবে মেট্রো-রেল যেটা উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত যাবে। এছাড়া, এলাকাটি বিমানবন্দরের কাছে। অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও উত্তরের দিকে চলে যাচ্ছে”, যোগ করেন তিনি।

বসবাসের জন্য পছন্দের এলাকার এই তালিকায় ২য় স্থানে রয়েছে মিরপুর। বি-প্রপার্টি’র ২০% গ্রাহক এই এলাকাকে বসবাসের জন্য পছন্দ করেছেন। বসবাসের এলাকা হিসেবে মিরপুরের এই জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ এই এলাকার ফ্ল্যাটগুলোর অপেক্ষাকৃত কম মূল্য।

বিবিসি’র ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, মিরপুর এলাকার কোনো কোনো জায়গায় এখনও আনুমানিক ২০ লাখ টাকার মধ্যেই ৯০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট পাওয়া যায়। ফলে ফ্ল্যাটের মূল্য আয়ত্তের মধ্যে থাকায় মধ্যবিত্তরা এই এলাকায় বসবাসের ঠিকানা খুঁজে থাকেন।

এই তালিকার ৩য় স্থানে আছে মোহাম্মদপুর এলাকা। বি-প্রপার্টির গ্রাহকদের মধ্যে ১৪% মোহাম্মদপুর এলাকাকে বসবাদের জন্য পছন্দ করে থাকেন। এই তালিকা পরের এলাকাগুলো হলো যথাক্রমে ধানমন্ডি এবং বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা। এর মধ্যে ধানমন্ডি এলাকাকে পছন্দ করেছেন ১১% গ্রাহক এবং বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাকে বসবাস করার জন্য পছন্দ করে করেছেন ১০% গ্রাহক।

pm-evening-20190718215439.jpg

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় আছি বলে দেশের উন্নয়ন আজ দৃশ্যমান হচ্ছে। মানুষ আজ উন্নয়নের ছোঁয়া উপলব্ধি করতে পারছে। অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের এ উন্নয়নের ভাগিদার আপনারাও। কারণ মাঠ প্রশাসনে আপনারা কাজ করেছেন। দেশের উন্নয়নে আরো নতুন নতুন উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

আজ (বৃহস্পতিবার) রাতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের ‘বার্ষিক সম্মিলন ২০১৯’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলাল উদ্দিন আহমেদ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব শেখ ইউসুফ হারুন। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা দুর্নীতি, মাদক ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখবো। যিনি ঘুষ নেবেন শুধু তিনি নন, যিনি দেবেন তিনিও দোষী হবেন। দুর্নীতিকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। মাদকের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানে থাকবেন। যারা এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।

তিনি বলেন, আমাদের সম্পদ সীমিত। এই সীমিত সম্পদ দিয়েই আমরা ভালোভাবে দেশ পরিচালনা করছি। এবার ইতিহাসের স্মরণকালের বাজেট দিয়েছি। অনেক দিন আগে থেকেই ভাবতাম ৫ লাখ কোটি টাকার বাজেট কবে দিতে পারবো। তাছাড়া আরো ভাবতাম প্রবৃদ্ধি কবে ৮ ভাগ হবে। এবার সে আশা পূরণ হয়েছে। বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিন বছর শাসনামলে প্রবৃদ্ধি ৭ ভাগে নিয়ে গিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, জাতির পিতা এ দেশের মানুষের সমৃদ্ধ জীবন চেয়েছিলেন। কিন্তু সে আশা তিনি পূরণ করতে পারেননি। আমরা তার সেই আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে কাজ করছি।

প্রশাসন ক্যাডারের সদস্যদের তিনি বলেন, দেশের আরো উন্নয়নের জন্য কীভাবে কী করা যায় সে বিষয়ে আপনারা চিন্তা করবেন। আপনাদের বেতন বাড়িয়েছি, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করেছি। তিন বছর পরপর বেতনসহ বিনোদন ছুটি দিচ্ছি। এসবের বিনিময়ে আমরা চাই দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। এ জন্য আপনারা কাজ করবেন। একদিন যারা এ দেশকে বটমলেস বাসকেট বলেছিল তাদের দেশে যে দারিদ্র্যের হার তার চাইতে কম হলেও আমাদের দেশে এক ভাগ কমাতে চাই।

im-20190718212234.jpg

দিন কয়েক আগে পাকিস্তান ক্রিকেটের প্রধান নির্বাচকের পদ থেকে অব্যহতি নিয়েছেন ইনজামাম উল হক। তার সময়কালে পাকিস্তান দলের বড় বড় সাফল্যও ছিল, তবে সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে ব্যর্থতাটাই চোখে পড়ছে বেশি।

বিশ্বকাপে এবার গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে পাকিস্তান। যে ব্যর্থতার ময়নাতদন্ত শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে। ম্যানেজম্যান্ট নিয়ে নতুন করে ভাবা হচ্ছে, পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সও।

যেহেতু ইনজামাম প্রধান নির্বাচক ছিলেন, ভাতিজা ইমাম উল হককে দলে নেয়া নিয়ে কথা ছিল সবসময়ই। চাচার জোরেই কি ইমাম দলে জায়গা পেয়েছিলেন কি না, সেই বিতর্ক কাটেনি আন্তর্জাতিক আঙিনায় পাকিস্তানি এই ওপেনার দুর্দান্ত পারফর্ম করার পরও।

বিদায়বেলায় আরও একবার এই বিষয়টি উঠে আসলো ইনজামামের সামনে। পাকিস্তান দলের বিদায়ী প্রধান নির্বাচক তার ভাতিজার উত্থান নিয়ে যা বললেন, সেটি শুনলে হয়তো অনেকের চোখ কপালে উঠবে।

ইনজামাম জানালেন, তিনি প্রধান নির্বাচক হলেও ২৩ বছর বয়সী ইমামকে জাতীয় দলে আনার পেছনে তার কোনো রকম প্রভাবই ছিল না। এই প্রস্তাবটি প্রথম তুলেন দলের ব্যাটিং কোচ গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার।

ইনজামাম বলেন, ‘যখন সে আন্তর্জাতিক দলে ঢুকে অনেকেই হয়তো জানেন না, প্রস্তাবটা কে দিয়েছিলেন। প্রথম গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার এসে আমাকে বলেন, ইমামকে ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি রান করতে দেখেছেন। তারপর প্রধান কোচ মিকি আর্থার সিলেকশন কমিটিতে ইমামের প্রসঙ্গটি তুলেন।’

পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক যোগ করেন, ‘অনেকেই তার দলে আসা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। কিন্তু যখন দল নির্বাচনে তার নামটি আসে, আমি চুপ করেই ছিলাম। সিদ্ধান্ত নেয়ার ভারটা অন্যদের উপর ছেড়ে দিয়েছিলাম। তাই আপনারা যখন বলেন, আমার জন্য সে দলে এসেছে, এটা পুরোপুরিই অযৌক্তিক। কেননা দল আমি একা বাছাই করি না। এতে প্রধান কোচ, অধিনায়কও থাকেন, তাদের কেন প্রশ্ন করেন না!’

২০১২ সালে পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে ছিলেন ইমাম। ২০১৪ সালে এই দলের সহ-অধিনায়কও নির্বাচিত হন। ইনজামাম সেই উদাহরণ টেনে বলেন, ‘আমার জন্য সে দলে এসেছে, এটা শুনলে আমার এবং তার দুজনেরই খারাপ লাগে। একটা কথা বলি, ২০১২ সালে তো আমি পিসিবিতে ছিলাম না। কিন্তু সে তখন অনূর্ধ্ব-১৯ দলে জায়গা পায়। ২০১৪ সালে সে যুব বিশ্বকাপ দলে সহ-অধিনায়কও হয়। এই পথ ধরেই তো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসেছে সে।’

দলে আসার পর ইমাম নিজের যোগ্যতা দিয়েই জায়গা থিতু করেছেন, মনে করিয়ে দিলেন ইনজামাম। ভাতিজার পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি বলেন, ‘সে রান করেই দলে জায়গা করে নিয়েছে। ৩৬ ওয়ানডেতে এখন পর্যন্ত ওপেনার হিসেবে সে ভালোই করেছে। গড় ৫০-এর উপরে। এখন পর্যন্ত কেউ সেটা পারেনি। তাই আমি মনে করি, সবার উচিত ইমামকে আর দশজন খেলোয়াড়ের মতোই দেখা।’