Ashraful Islam, Author at 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

s3fc.jpg

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, আমরা এ পর্যন্ত ২ হাজার জুয়ার সাইট বন্ধ করেছি। একই সঙ্গে বন্ধ করা হয়েছে ২৪ হাজার পর্নো সাইট।

শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে খেলাঘর জাতীয় সম্মেলন ২০১৯-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি। ইমেরিটাস অধ্যাপক প্রফেসর ড. আনিসুজ্জামান ওই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

তিনি বলেন, আগামী দিনগুলো ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবের দিন। শিশু-কিশোরদের আগামী দিনের ডিজিটাল বিপ্লবের উপযোগী সৈনিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষক অভিভাবসহ শিশু কিশোর সংগঠনগুলো আরো সচেষ্ট হতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ডিজিটাল বিপ্লবের শক্তিশালী হাতিয়ার হচ্ছে মেধা। বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা খুবই মেধাবী। তারা এক মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন রোবট বানাতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। খেলাঘর জাতীয় কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর চেয়ারম্যান অধ্যাপক পান্না কায়সারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আখতারুজ্জামান এবং বরগুনার ৭ বছরের শিশু মনিরা বক্তৃতা করেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী প্রাচীন প্রতিষ্ঠান খেলাঘরের স্বাধীনতার আগে অসাম্প্রদায়িকতাবিরোধী ভূমিকাসহ নানা ক্ষেত্রে খেলাঘরের ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, খেলাঘরকে আবারো জাগ্রত হতে হবে। বঙ্গবন্ধু যে জাতিসত্তার জন্ম দিয়েছেন তা টিকিয়ে রাখতে আগামী দিনগুলোতেও খেলাঘরকে কাজ করতে হবে।

মন্ত্রী ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবের হাতিয়ার হিসেবে দেশের নতুন প্রজন্মকে অত্যন্ত মেধাবী উল্লেখ করে বলেন, দেশের শিশু-কিশোরদের ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবের উপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার প্রচলিত শিক্ষাকে ডিজিটাল রূপান্তর শুরু করেছে।

২০১৮ সাল থেকে আমরা শিশু-কিশোরদের জন্য কম্পিউটার প্রোগ্র্রামিং শুরু করেছি। আমাদের সন্তানরা এখন এক মাস প্রশিক্ষণ নিয়ে রোবট বানাতে পারে। ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে দেশে অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী ছেলেমেয়েদের জন্য ডিজিটাল শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হলে ডিজিটাল শিক্ষা অপরিহার্য। অনেক অভিভাবক মনে করেন, ছেলেমেয়েদের কম্পিউটার স্পর্শ করতে দেওয়াই উচিত না। এই ভ্রান্ত ধারণার বৃত্ত থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। কারণ সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

মোস্তাফা জব্বার বাংলাদেশের জাতীয় প্রবৃদ্ধি, শিক্ষার হার, নারী উন্নয়নসহ উন্নয়নের প্রতিটি সূচকে গত ১০ বছরের সফলতার চিত্র তুলে ধরে বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ আমাদের এগিয়ে যাওয়ার হাতিয়ার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা বিশ্বে এগিয়ে যাওয়ার দৃষ্টান্ত হিসেবে উঠে আসছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে যে অশুভ শক্তি বাংলাদেশকে ধ্বংসের চেষ্টা করেছিল সেই অপশক্তির এখনো শেষ হয়ে যায়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

bal33.jpg

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ পদের কয়েকজন নেতাও দলীয় পদ থেকে বাদ পড়ার আতঙ্কে আছেন। আগামী ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে নানা কারণে বিতর্কিত ও অভিযুক্তদের বাদ পড়ার বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলে আলোচনা আছে। কেন্দ্রীয় কমিটিতে আগামীতে পরিবর্তন আসছে- এমন আভাস ইতোমধ্যে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে দেওয়া হয়েছে।

দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি সপ্তাহে দলের যে কারো বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে আরো কঠোর অবস্থানে থাকার বার্তা দেওয়ার পর থেকে দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অনেকের মধ্যে বাদ পড়ার আতঙ্ক বেড়েছে। শুধু কেন্দ্রীয় কমিটিই নয়, দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় কয়েক নেতাও পদ হারানোর ভয় ও আতঙ্কে আছেন।

শুধু দলীয় পদ থেকে বাদ পড়া নয়, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগে সাংগঠনিক ব্যবস্থার মুখোমুখি হওয়ার পাশাপাশি গ্রেপ্তার আতঙ্কেও আছেন কেউ কেউ। টানা সাড়ে দশ বছরের বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত এমন কয়েকজনকেও গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে দলে গুঞ্জন আছে। বিতর্কিত কারো পাশে আইনি লড়াইয়ের জন্য দলীয়ভাবে না দাঁড়াতে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে নির্দেশ দেওয়া আছে। ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সূত্র এসব তথ্য জানায়।

সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দুই নেতাকে চাঁদাবাজি, পদবাণিজ্য ও মাদকসেবনের অভিযোগে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে দল ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতৃত্বের প্রতি হুশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন। ছাত্রলীগের দুই নেতাকে সরানোর পর যুবলীগের কয়েক নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

দলের দুই থেকে তিনটি সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও বলেছেন, প্রচলিত আইনে সবাইকে সমান দেখতে হবে। এরপর থেকে সংগঠনগুলোর নেতাদের মধ্যে গ্রেপ্তার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

সূত্রমতে, চলতি বছরের ২০ ও ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের সময় দলের সভাপতি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা দলের শীর্ষপদে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারেন। সভাপতি ছাড়া দলের অন্যান্য পদে পরিবর্তন আসতে পারে বলে আলোচনা আছে। দলকে যথাসম্ভব বিতর্কমুক্ত করে আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে এমন পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা চলছে।

আগামী সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নতুনদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন পদে জনপ্রিয় নেতাদের দায়িত্ব দিয়ে চমক সৃষ্টির পরিকল্পনা চলছে দলটিতে। ফলে তখন কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ পড়তে পারেন বেশ কয়েকজন। এর জন্য কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত তদারকি করছে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার গঠিত আটটি বিভাগীয় টিম।

দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে আরো গতি আনতে নতুন পরিকল্পনা করছে আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুর গড়া ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া এ দলকে সাংগঠনিকভাবে আরো শক্তিশালী করতে চায় দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব।

আগামী ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবে এ দলের নেতৃত্বের সরকার। এর আগেই দলকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দলকে নতুন সরকার থেকে যতটুকু সম্ভব আলাদা করার পরিকল্পনা আছে দলটির। আগামী ২৩ অক্টোবর শেষ হচ্ছে সরকারি দলের তিন বছরমেয়াদি বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ।

দলীয় সূত্রমতে, রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে ছাত্রলীগের সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়াকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতারা দেখছেন ‘কড়া বার্তা’ হিসেবে। টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগের নেতাদের কেউ কেউ নিজেদের আইন-আদালতের ঊর্ধ্বে মনে করছেন উল্লেখ করে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের আশা, দলের প্রধান শেখ হাসিনার কঠোর অবস্থান ওইসব নেতার ‘কাজে’ লাগাম টানবে।

এরপর কার বা কোন সংগঠনের পালা— দল ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাদের অনেকের মধ্যে এখন এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। এরই মধ্যে বেশি আলোচনায় রয়েছে যুবলীগ। গত শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে শেখ হাসিনা ঢাকা মহানগর যুবলীগের কয়েকজন নেতার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। যুবলীগসহ দলের অন্য সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতার বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ প্রসঙ্গে গতকাল বুধবার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অপরাধ করে পার পাবার প্রবণতা আওয়ামী লীগে নেই। দলের যারা দুর্নীতিতে জড়িত, তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই আমলে অপকর্ম হয় না, এটা আমরা বলি না; কিন্তু অপকর্ম হলেই আওয়ামী লীগে শাস্তির ব্যবস্থা আছে। এটা অন্য দলে নেই।’

দলের আসন্ন কেন্দ্রীয় সম্মেলন প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে ১২টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্মেলন ২০ ও ২১ ডিসেম্বর। প্রস্তাবিত ১২টি উপ-কমিটি দলীয় সভাপতির অনুমোদন পেলে তখন তালিকা প্রকাশ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘আগামী সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন মুখ এলে স্বাগত জানাব। এ পদে আরেকবার আমি থাকব কি-না, তা নির্ভর করে নেত্রীর ওপর। তিনি নতুন কিছুও ভাবতে পারেন বা নতুন কিছু চাইতে পারেন। তিনি যেটা চাইবেন, সেটাই হবে। আমাকে যদি বলেন, তুমি নতুন দায়িত্ব পালন করো, তাতে আমার কোনো অসুবিধা নেই।’

shamim-gk-20190922142958.jpg

বিপুল অস্ত্র-মাদক ও কোটি টাকাসহ আটক হওয়া নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জি কে শামীম শত শত কোটি টাকার মালিক। অথচ জানেন না প্রতিবেশীসহ তার আত্মীয়-স্বজনরা।

জি কে শামীম ঢাকায় ব্যবসা করে টাকা কামায় সেটা জানলেও তিনি এত টাকার মালিক কীভাবে হলেন সেটা ভেবে কূল পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। কোনো শিল্প কারখানা নেই, বড় ধরনের কোনো কোম্পানি নেই, শুধুমাত্র টেন্ডারবাজি করে শত শত কোটি টাকার মালিক কীভাবে হলেন সেই প্রশ্ন এখন এলাকার মানুষের মুখে মুখে।

রোববার সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের চর বলুয়া এলাকায় যুবলীগ নেতা জি কে শামীমের বাড়িতে গিয়ে এমন তথ্য পাওয়া যায়।

ওই ইউনিয়নের চর বলুয়া সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফসার উদ্দিনের তিন ছেলে, চার মেয়ে। এদের মধ্যে বড় মেয়ে লুৎফুনেছা মারা যায়। বাকি তিন মেয়ে বেলি, গোলাপী ও ইমামী সংসার নিয়ে ব্যস্ত। তিন ছেলে হলো, গোলাম হাফিজ নাসির, জিকে শামীম ও হোসাইন।

এদিকে জিকে শামীমের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাবা মৃত মো. আফসার উদ্দিন উপজেলার হরহরদী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তিনি প্রায় ৪ বছর পূর্বে মারা গেছেন। আর বাবার স্মৃতি ধরে রাখতে পৈতৃক সম্পত্তি ৫/৬ শতাংশ জায়গার উপর করা প্রায় ২/৩ কোটি টাকা ব্যয় করে তিন তলা ভবন করলেও বাড়িতে কেউ থাকে না। তবে বাড়িটিতে দামি দামি আসবাবপত্র রয়েছে। বাড়িতে বিশাল বৈঠকখানা রয়েছে।

বাড়িতে মাঝে মধ্যে এলে অচেনা লোকদের নিয়ে বৈঠক খানায় সময় দিতো। আর এত টাকা খরচ করে তিনতলা বিল্ডিং করলেও বাড়িতে শুধুমাত্র একজন কেয়ারটেকার থেকে বাড়িটি দেখা-শোনা করে। কিন্তু জি কে শামীম ঢাকায় আটক হওয়ার পর টিভিতে সংবাদ দেখে বাড়ির মূলফটকে তালা লাগিয়ে কেয়ারটেকারও আত্মগোপনে চলে গেছে। তবে শামীমের বাড়ির পাশের চায়ের দোকানগুলোতে টেলিভিশনের সংবাদ দেখার জন্য বেশির ভাগ সময় এলাকার লোকজন ভিড় জমায়।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জি কে শামীম ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। প্রাইমারি কেটেছে বাবার স্কুলে। এরপর সোনারগাঁ বারদী আলিয়া মাদরাসা থেকে এসএসসি (দাখিল) পাস করেন। এরপর উপজেলার পঞ্চমীঘাট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে। ১৯৮৮ সালে লেখাপড়ার উদ্দেশ্যে সোনারগাঁ ত্যাগ করে ঢাকায় চলে যান। ঢাকায় গিয়ে প্রথমে একটি মেসে উঠেন শামীম। সেখান থেকে তার বড় ভাই গোলাম হাফিজ নাসিরের মাধ্যমে ঠিকাদারির একটি লাইসেন্স করেন। একপর্যায়ে জড়িয়ে পড়েন রাজনীতিতে। প্রথমে বিএনপির রাজনীতি করতেন। ওই সময় জি কে শামীম ঢাকা থেকে বিএনপির বড় বড় নেতাদের নিয়ে আসতো সোনারগাঁয়ে।

জি কে শামীম শুধুমাত্র ঈদের সময় গ্রামের বাড়িতে আসেন। দিনের বেলা এসে রাতেই ঢাকায় চলে যেতেন। অনেক দামি দামি গাড়ি নিয়ে আসেন যান তিনি। তার সিকিউরিটির জন্য সঙ্গে কয়েকজন গানম্যানও থাকতো। যখন গ্রামের বাড়িতে আসতো তখন জি কে শামীমের সঙ্গে এলাকার নিরীহ লোকজন পিছু ছুটে। জি কে শামীমের চলাফেরায় মনে হয় তিনি একজন নেতা।

শামীমের বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়া বিলের উপর দিয়ে সরকারিভাবে একটি নতুন রাস্তা করা হলে সেই রাস্তাটি নিজের বাবার নামে নামকরণ করলে রাস্তাটি পাকা করার প্রস্তাব দিলেও স্থানীয় চেয়ারম্যান তা মেনে নেননি। জি কে শামীমের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের সখ্যতা থাকলেও নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত হননি।

সনমান্দি ইউনিয়নের চর বলুয়া এলাকার নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক চা দোকানদার বলেন, বাবার রেখে যাওয়া ১০ কানি (৩০০ শতাংশ) জমি ছাড়া এখানে আর তাদের কোনো সম্পত্তি নেই। শামীম ঢাকায় ব্যবসা করে সেটা আমরা জানি। কিন্তু কীভাবে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছে তা বিশ্বাস হচ্ছে না। এত টাকার মালিক হলেও এলাকার জন্য তেমন কিছুই করেনি। এলাকায় আসলে কিছু গরিব মানুষকে একটু সাহায্য সহযোগিতা করলেও এলাকার কাউকে কোনো ধরনের সুযোগ সুবিধা করে দেয়নি। ব্যবসা করে কীভাবে এত টাকার মালিক হলো বুঝতে পারছি না। আলাদিনের চেরাগ পাইলো নাকি?

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফজলুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা যতটুকু জানতাম শামীম ঢাকায় বসবাস করে ঠিকাদারী ব্যবসা করে। তারা বহু আগেই এলাকা ছেড়ে ঢাকায় বসবাস করে। আর যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা সে। কিন্তু টিভিতে যখন দেখি জি কে শামীম কোটি কোটি টাকা নিয়ে আটক হয়েছে। তারপর দেখি শামীমের সব তথ্য বের করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে আমরা যতটুকু উনাকে চিনি উনি ব্যক্তি হিসেবে খারাপ না। এলাকার সবাইকে সম্মান দিতো এবং মুরুব্বীদের সম্মান দিয়ে কথা বলতো।

minni-big-3-20190922154745.jpg

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী ও চার্জশিটভুক্ত আসামি আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি সুপ্রিম কোর্টে তার আইনজীবী জেড আই খান পান্নার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন।

রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট বারে আইনজীবী পান্নার চেম্বারে সাক্ষাতের সময় মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরও উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী পান্না বলেন, ‘আগাগোড়াই বলেছি এটা (চার্জশিট) একটা মনগড়া উপন্যাস। মূলত মূল আসামিদের এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য এ ধরনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নতুন কিছু নয়, জজ মিয়া ও জাহালমের আরেকটা সংস্করণ।’

আদালতে মিন্নির দেওয়া জবানবন্দি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেটাও (১৬৪ ধারার জবানবন্দি) একটা উপন্যাস। সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি কোর্টকে বলেছেন-এতো সুন্দর করে লেখা যা চিন্তার বাইরে। সুস্থ মাথায় এতো সুন্দরভাবে লেখতে পারে না!’

তাহলে সেই জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে সুপ্রিম কোর্টে সিনিয়র এ আইনজীবী পান্না বলেন, ‘আগেই করা হয়েছে। মিন্নি নিজে জেলখানা থেকে করেছে।’

আরেক প্রশ্নে আইনজীবী বলেন, ‘এটাতো (জবানবন্দি) পুলিশের কাছে ছিল। সেখানটা বাদে তো আর আসতে পারে না। ইতির্পূবেও আমরা দেখেছি এটা গণমাধ্যমে এসেছে। কোর্টের কাছে দেয়ার পূর্বে এটা প্রকাশিত হয়েছে। এটা ঠিক হয়নি। এটা আদালত অবমাননা।’

সাক্ষাতের পর মিন্নির বাবা সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেন, আমাদের ঢাকায় আসার উদ্দেশ্যে হলো-সিনিয়র আইনজীবী জেড আই খান পান্না স্যারের সাথে দেখা করা এবং তার সাথে আইনি পরামর্শ নেয়া।

‘দ্বিতীয়ত হলো মিন্নি অসুস্থ। তাকে রিমাণ্ডের নামে যে নির্যাতন করা হয়েছে, তারই ভয়াবহতায় আজকে মিন্নি ভুগতেছে। ওর হাঁটুতে ব্যথা, ওকে মারধর করা হয়েছে। ওকে জয়েন্টে জয়েন্টে পেটানো হয়েছে। এ কারণে আমরা চিকিৎসকের পরামর্শ নিবো। চিকিৎসার একান্ত প্রয়োজন। ওর জয়েন্টে জয়েন্টে আঘাত করছে। তারপর মাথায় পিস্তল ধরেছে। ভয়ভীতি দেখাইছে। এরপর থেকেই ও বিষন্নতায় ভূগতেছে। ওর চিকিৎসা একান্ত প্রয়োজন এজন্যই ঢাকায় আসা।’

প্রসঙ্গত, ২৬ জুন প্রকাশ্য দিবালোকে বরগুনা সরকারি কলেজ রোডে স্ত্রী মিন্নির সামনে কুপিয়ে জখম করা হয় রিফাত শরীফকে। পরে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত নয়ন বন্ড ২ জুলাই ভোরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। এর মধ্যে মামলার অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তার করা হয়।

১৬ জুলাই সকালে বরগুনার মাইঠা এলাকায় বাবার বাসা থেকে মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বরগুনার পুলিশ লাইনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রিফাত হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় ওই দিন রাত ৯টার দিকে মিন্নিকে গেপ্তার দেখায় পুলিশ।

পরদিন ১৭ জুলাই বিকেলে মিন্নিকে আদালতে হাজির করে সাত দিন রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। বিকেল সোয়া ৩টার দিকে শুনানি শেষে বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সিরাজুল ইসলাম গাজী পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডের দ্বিতীয় দিন ১৯ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে বরগুনা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মিন্নি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

২২ জুলাই বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রথমবার মিন্নির জামিনের আবেদন করা হলে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। এরপর ৩০ জুলাই জেলা ও দায়রা জজ আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করেন।

পরবর্তীতে ২৯ আগস্ট হাইকোর্ট তাকে জামিন দেন। জামিনের শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, মিন্নি তার বাবার জিম্মায় থাকবে এবং মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর ২ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের অবকাশকালীন চেম্বার আদালত ‘নো অর্ডার’ আদেশ দেন।

পরদিন ৩ সেপ্টেম্বর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কারাগার থেকে মুক্তি পান মিন্নি।

এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচার মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী এ মামলায় চার্জশিট গ্রহণ করে পলাতক নয় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এছাড়া চার্জ গঠনের জন্য আগামী ৩ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী মিন্নিসহ ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির।

hair3c.jpg

আজকাল অনেকেরই অল্প বয়সে চুল পেকে যায়। দীর্ঘদিন ধরে হজম বা লিভারের সমস্যা থাকলে অনেক সময় অকালে চুল পাকে। কখনও আবার মাথার ত্বকে পর্যাপ্ত ভিটামিন আর খনিজের অভাব হলে এটা হতে পারে। কিন্তু কারণ যা-ই হোক না কেন, অল্প বয়সে চুল পাকা কারও কাম্য নয়। দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কয়েকটি খাবার রাখলে অকালে চুল পাকা রোধ করা যায়। যেমন-

বাদাম: আখরোট, আমন্ড বা যে কোনও ধরনের বাদামেই প্রচুর পরিমাণে কপার থাকে, যা চুলের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। অকালে চুল পাকা সমস্যা প্রতিরোধে নিয়মিত মাথায় বাদাম তেল লাগাতে পারেন।

সবুজ শাক-সবজি: সবুজ সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ফলিক এসিড থাকে। এটি চুলের স্বাস্থ্য রক্ষার পাশাপাশি অকালে চুল পাকা সমস্যা কমাতেও সাহায্য করে।

ছোলা: ছোলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন বি-৯ বা ফলিক এসিড থাকে। অকালে চুল পাকা প্রতিরোধে নিয়মিত ছোলা খেতে পারেন।

মুরগীর মাংস: মুরগীর মাংসে উপস্থিত ভিটামিন বি-১২ এবং ফলিক এসিড অকালে চুল পেকে যাওয়া প্রতিরোধ করে।

কলিজা : কলিজায় থাকা ভিটামিন বি-১২ চুল পাকা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।

চিংড়ি: অকাল চুলে পাকা সমস্যা দূর করতে চিংড়ি খেতে পারেন। এতে থাকা জিঙ্ক চুলের গোড়া শক্ত রাখতে সহায়তা করে।

স্যামন মাছ: এ মাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড রয়েছে, যা চুলের স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী।

সূত্র : জি নিউজ

Dhoni-samakal-5d8743de13b88.jpg

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হারের পর আর মাঠে নামেননি ভারতের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মাহেন্দ্র সিং ধোনি। খেলেননি কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ভারতীয় সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেলের মর্যাদা পাওয়া ধোনি বিশ্বকাপের পরে সেনা ক্যাম্পে যোগ দেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে এবং টি-২০ সিরিজের দল থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন। এরপর ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-২০ সিরিজেও ফেরেননি ধোনি।

বিশ্রামে থাকা ধোনি তার ছুটির মেয়াদ আরও বাড়িয়েছেন। আগামী নভেম্বর পর্যন্ত ক্রিকেটের বাইরে থাকবেন তিনি। বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজেও তাই দেখা যাবে না ধোনিকে। সূচি অনুযায়ী, আগামী ৩ নভেম্বরে ভারতে প্রথম টি-২০ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-২০ ম্যাচে বাংলাদেশ ১০ নভেম্বর ভারতের মুখোমুখি হবে। এরপর ১৪ নভেম্বর থেকে শুরু হবে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ।

ধোনি যেহেতু নভেম্বর পর্যন্ত ছুটিতে থাকবেন তাই বাংলাদেশের বিপক্ষে আপাতত তার খেলার সম্ভাবনা নেই। তবে ওই সিরিজের ঢের সময় বাকি এখনও। ধোনি তাই পরে তার সিদ্ধান্ত বদলে খেলতেও পারেন। এর আগে ধোনির সঙ্গে কোহলি তার ব্যাটিংয়ের এক স্মৃতি তুলে টুইট করেন, ‘ধোনি আমাকে ক্রিজে ফিটনেস টেস্টে যেভাবে দৌড়াতে হয় সেভাবে দৌড়ানি দিয়েছিল। ওই স্মৃতি আমি কোনদিনই ভুলব না।’ এই টুইটে অনেকে ধারণা করেছিলেন ধোনি অবসর ঘোষণা করবেন।

কিন্তু ধোনি তা করেননি। ধোনির অবসর নিয়ে সুনীল গাভাস্কার তাই বলেন, ‘ধোনির মনে কি চলছে তা কেবল ধোনিই বলতে পারবে। একমাত্র ধোনিই পারে তার অবসরের বিষয়টি পরিষ্কার করতে। তবে তার বয়স হয়ে গেছে ৩৮ বছর। ভারতীয় বোর্ডের উচিত এখন সামনে তাকানো। দলে তার ভূমিকা সবসময়ই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে নয়। উইকেটরক্ষক হিসেবেও। কিন্তু আগামী বিশ্বকাপ আসতে আসতে তার বয়স হয়ে যাবে ৩৯ বছর। সেটা মাথায় রাখতে হবে।’

tinu-20190923011928.jpg

চট্টগ্রাম নগরীর শুলকবহরে অভিযান চালিয়ে চকবাজার এলাকার যুবলীগ নেতা নুর মোস্তফা টিনুকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরীর শুলকবহর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব)। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক স্কোয়াড্রন লিডার সাফায়েত ফাহিমের নেতৃত্বে এ সময় যুবলীগ নেতা নুর মোস্তফা টিনুর চকবাজারের বাসা ঘিরে ফেলা হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তার বাসা ঘিরে রেখে অস্ত্র উদ্ধারে তল্লাশি চালাচ্ছে র‌্যাব।

Imran-Khan-Saudi-Prince.jpg

সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমানের পাঠানো বিশেষ বিমানে যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছালেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

জানা যায়, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার জন্য ইমরানকে বাণিজ্যিক বিমান ধরতে নিষেধ করেছিলেন সালমান।

ইমরানকে তিনি বলেছেন, আপনি আমাদের বিশেষ অতিথি। আপনি আমার বিশেষ বিমানে চড়ে যুক্তরাষ্ট্র যাবেন।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি সাংবাদিকদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছেছেন। কাশ্মীরে কী হচ্ছে, আগামী সাতদিনের সফরে সেটা বিশ্বকে জানানোই তার মূল লক্ষ্য।

যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে দেই দিনের সফরে সৌদি আরব গিয়েছিলেন ইমরান খান। কাশ্মীর নিয়ে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সমর্থন পেতে তার ওই সফর।

সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের সঙ্গে বৈঠকও করেন ইমরান খান। কাশ্মীর ছাড়াও বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আর্থিক সম্পর্ক নিয়ে কথা হয় তাদের মধ্যে।

Nationa-ID-Card-Correction-Rules-e1521591769536.jpg

জাতীয় পরিচয় পত্রের ভুলভ্রান্তি বা হারিয়ে যাওয়া নিয়ে আমাদের অনকেকেই অনেক সময় সমস্যায় পড়তে হয়। নতুন যারা জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরি করবে তারও করনীয় অনেক নিয়মাবলী সম্পর্কে জ্ঞাত নয়। কোথায় করবে, কীভাবে করবে, কি কি লাগবে ইত্যাদি।

আসুন জেনে নেই এই সমস্যা গুলো সমাধানের নিয়মসমুহ:
পরিচয় পত্রে নিজের নাম, পিতা, মাতা, স্বামী, স্ত্রী, অভিভাবকের নাম, রক্তের গ্রুপ, জন্মতারিখ এবং সংশোধন করার প্রয়োজন হতে পারে। আবেদন প্রর্থীকে অবশ্যই সাদা কাগজে “ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান প্রকল্প”- এর পরিচালকের কাছে আবেদন করতে হবে।

আগারগাঁও ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভবনের সপ্তম তলায় প্রকল্প কার্যালয়ে এর কাছ থেকে পাওয়া ফরমে করা যায় এবং এই ফরম পূরণ পূর্বক নিদিষ্ট কাউন্টারে জমা দিতে হবে। ফরম জমা দেওয়ার পর প্রকল্প কার্যালয় এর কাছ থেকে একটি স্বীকারপত্র (নম্বর সহ)পাওয়া যাবে। এতে সংশোধিত জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান এর তারিখ উল্লেখ থাকবে। আর এই তারিখের এক সাপ্তাহ এর মধ্যে কাউন্টার থেকে সংশোধন করা জাতীয় পরিচয় পত্রটি নিতে হবে।

কোনো ধরনের সংশোধনের জন্য কী কী কাগজপত্র লাগবে, তা অনেকেই জানেন না। এসব না জানার কারণেও অনেকে হয়রানির শিকার হন। এনআইডির কোনো সংশোধনের জন্য কী ধরনের কাগজপত্র লাগবে, নির্বাচন কমিশনের দেয়া তথ্যগুলো বাংলাদেশ টুডে’র পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

১. জাতীয় পরিচয়পত্রধারীর নাম (বাংলা/ইংরেজি) এবং জন্মতারিখ সংশোধন

এই ধরনের সংশোধনের জন নিচে বর্ণিত কাগজপত্র/তথ্যাদি জমা দিতে হবে-

ক. শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম এসএসসি/সমমান হলে এসএসসি/সমমান সনদপত্র;

খ. শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম এসএসসি/সমমান না হলে এবং তিনি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত কিংবা সংবিধিবদ্ধ কোনো সংস্থায় চাকরিরত হলে, চাকরি বই/মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও);

গ. অন্যান্য ক্ষেত্রে, জাতীয় পরিচয়পত্রধারীর পাসপোর্ট/জন্মনিবন্ধন সনদ/ড্রাইভিং লাইসেনস/ট্রেড লাইসেনস/কাবিননামার সত্যায়িত অনুলিপি;

ঘ. নামের আমূল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে, প্রার্থিত পরিবর্তনের যথার্থতা সম্পর্কে গ্রহণযোগ্য দলিলাদি [এসএসসি সনদ/পাসপোর্ট/চাকরি বই/মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও)/ড্রাইভিং লাইসেনস, যার ক্ষেত্রে যেটি প্রযোজ্য] ছাড়াও ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পাদিত হলফনামা ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির কপি;

ঙ. ধর্ম পরিবর্তনের কারণে নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পাদিত হলফনামা ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির কপি এবং আবেদনের যথার্থতা সম্পর্কে গ্রহণযোগ্য দলিলাদি (শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র/পাসপোর্ট/ড্রাইভিং লাইসেনস/জন্মনিবন্ধন সনদ, ইত্যাদি যাহার ক্ষেত্রে যেটি প্রযোজ্য)।

২. বিবাহ বা বিবাহবিচ্ছেদ বা অন্য কোনো কারণে কোনো নারী তার নামের সঙ্গে স্বামীর নামের অংশ (টাইটেল) সংযোজন বা বিয়োজন বা সংশোধন করতে চাইলে, তাকে কাবিননামা/তালাকনামা/মৃত্যু সনদ/ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পাদিত হলফনামা/বিবাহবিচ্ছেদ ডিক্রির সত্যায়িত অনুলিপি জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, প্রয়োজনে, সরেজমিন তদন্ত করতে পারবেন।

৩. পিতা/মাতার নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে, জাতীয় পরিচয়পত্রধারীর এসএসসি, এইচএসসি বা সমমান সনদপত্র (যদি তা বাবা/মায়ের নাম উল্লিখিত থাকে) এবং জাতীয় পরিচয়পত্রধারীর পিতা, মাতা, ভাই ও বোনের জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, প্রয়োজনে, সরেজমিন তদন্ত করতে পারবেন।

৪. বাবা/মায়ের নামের আগে ‘মৃত’ অভিব্যক্তিটি সংযোজন বা বিয়োজন করতে চাইলে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, পিতা/মাতার মৃত্যু সনদের সত্যায়িত অনুলিপি বা তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি ও জীবিত থাকবার সমর্থনে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান/পৌর মেয়র/কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে।

৫. ঠিকানা (বাসা/হোল্ডিং/গ্রাম/রাস্তা/ডাকঘর) সংশোধনের ক্ষেত্রে, সঠিক ঠিকানার স্বপক্ষে বাড়ির দলিল/টেলিফোন, গ্যাস বা পানির বিল/বাড়িভাড়ার চুক্তিপত্র/বাড়িভাড়া রশিদের সত্যায়িত অনুলিপি জমা দিতে হবে।

৬. রক্তের গ্রুপ সংযোজন বা সংশোধনের ক্ষেত্রে, এটার স্বপক্ষে চিকিৎসকের সনদপত্র জমা দিতে হবে।

৭. শিক্ষাগত যোগ্যতা সংশোধনের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রধারীর সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি জমা দিতে হবে।

৮. টিআইএন/ড্রাইভিং লাইসেনস নম্বর/পাসপোর্ট নম্বর সংশোধনের ক্ষেত্রে, প্রয়োজনে, টিআইএন সনদ/ড্রাইভিং লাইসেনস/পাসপোর্টের সত্যায়িত অনুলিপি জমা দিতে হবে।

৯. অন্য যেকোনো সংশোধনের ক্ষেত্রে, এ-রকম সংশোধনের স্বপক্ষে উপযুক্ত সনদ, দলিল ইত্যাদির সত্যায়িত অনুলিপি জমা দিতে হবে।

আবেদনপত্রের সঙ্গে দাখিল করা অনুলিপিগুলো নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিরা সত্যায়িত করতে পারবেন: সংসদ সদস্য, স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, গেজেটেড সরকারি কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান। অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।

amit-shah.jpg

পাকিস্তান অধিকৃত আজাদ কাশ্মীরের জন্য ভারতের প্রথম প্রাধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকে দায়ী করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

রবিবার এক অনুষ্ঠানে সংবিধানের ৩৭০ ধারা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বলেন বিজেপি এই নেতা।

কাশ্মীরের একটি ভাগ পাকিস্তান পাওয়ার জন্য নেহরুকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে যদি নেহরু অসময়ে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা না করতেন, তাহলে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের অস্তিত্ত্ব থাকত না…নেহরু সামলানোর চেয়ে কাশ্মীর সামলাতে পারতেন সর্দার প্যাটেল…রাজাদের অধীনে থাকা রাজ্যগুলি সামলেছেন সর্দার প্যাটেল এবং সেগুলি ভারতের অংশ হয়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, জওহরলাল নেহেরু জম্মু ও কাশ্মীরে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছিলেন, এবং তার পর থেকেই উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদ বাড়তে থাকে।

এসময় সন্ত্রাসবাদের চিত্র তুলে ধরতে তিনি বলেন, ‘৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, এবং কাশ্মীরী পণ্ডিত, সুফি, এবং শিখদের, ১৯৯০ থেকে ২০০০ –এই ১০ বছরে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’

৫ আগস্টে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা বা ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করে ভারত সরকার। পাশাপাশি রাজ্যটিকে ভেঙে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করা হয়। তারপর থেকেই সেখানে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয় এবং যে কোনরকম অবাঞ্চিত ঘটনা এড়াতে রাজনৈতিক নেতাদের গৃহবন্দি করে রাখা হয়।

এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিজেপি-বিরোধীরা। বিষয়টিকে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে পাকিস্তান। এছাড়া বেশ কয়েকটি দেশ ও সংস্থাও কাশ্মীর বিষয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য ভারতকে তাগাদা দেয়।

সংবিধানের ৩৭০ ধারা নিয়ে বিজেপির অবস্থান ব্যাখা করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ‘৩৭০ ধারা প্রত্যাহারে রাজনীতি দেখছে কংগ্রেস, আমরা এভাবে দেখি না…আমাদের কাছে, এটা জাতীয়তাবাদের বিষয়। “এক দেশ, এক প্রধানমন্ত্রী, এক সংবিধান” নীতিতে বিশ্বাস করে আমার দল।’

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে উদ্দেশ্য করে বিজেপি এই নেতা বলেন, ‘রাহুল গান্ধী বলেন, ৩৭০ ধারা একটি রাজনৈতিক ইস্যু। বাবা রাহুল, আপনি এখন রাজনীতিতে এসেছেন, কিন্তু ৩৭০ ধারা বিলুপ্তির জন্য কাশ্মীরে তিন প্রজন্ম ধরে জীবন দিয়েছে বিজেপি। আমাদের কাছে এটা রাজনৈতিক ইস্যু নয়। ভারত মাকে অখণ্ড রাখতে এটা আমাদের লক্ষ্য।’

আজাদ কাশ্মীর (পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর অংশ) সৃষ্টির ব্যাপারে ১৯৪৭ এর দেশভাগের ইতিহাস টেনে অমিত শাহ বলেন, ‘১৯৪৭-এ অসময়ে যুদ্ধবিরতির জন্য এটা হয়েছ। কাশ্মীরের গঠনহীনতার জন্য দায়ী জওহরলাল নেহরু এবং সমস্যাটি সমাধান করতে পারতেন দেশের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল।’