Ashraful Islam, Author at 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

balish-h-1-700x386.jpg

আজকাল বালিশ নিয়ে অনেক কথাই হচ্ছে। কিন্তু নিজের ঘুমানোর বালিশটি আরামদায়ক ও শরীরের জন্য ভালো তো? জানেন তো, ঘুমানোর বালিশ ঠিক না হলে অনিদ্রা, মাথাব্যথা, ঘাড়ে ব্যথা-ক্লান্তি-অবসাদ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, মাথার আকারের ওপর নির্ভর করে আপনার জন্য সঠিক বালিশ কোনটি। যেমন মাথার বড় বলে কিং বা কুইন সাইজের বালিশ নিন। আর মাথা ছোট হলে বালিশও হবে ছোট।

অনেকেই ফোমের বালিশ ব্যবহার করেন, কিন্তু তা শরীরের জন্য উপকারী নয়। কার্পাস বা শিমুল তুলার বালিশ শরীরের সুস্থতা ও ঘুমের জন্য ভালো।

বালিশ বেশি উঁচু হবে না আবার খুব নিচুও হবে না। খুব শক্ত বা নরম বালিশও কিন্তু ব্যবহারে বারণ করেন বিশেষজ্ঞরা।

পাশ ফিরে শোওয়ার সময় কাঁধের সঙ্গে গলার যতটা দূরত্ব, বালিশের সঙ্গেও কাঁধের যেন ততটাই হয়। অর্থাৎ ঘাড়ের ওপরের দিকের সঙ্গে বালিশের শেষ ভাগ যেন স্পর্শ করে থাকে। কেনার সময় এই বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।

বালিশের ওপর একটা আলাদা সুতির কাপড়ের পরিষ্কার কভার ব্যবহার করুন। এতে বালিশ কম ময়লা হবে, দীর্ঘ দিন নতুনের মতো থাকবে।

এবার আসুন দরদামে, একটি ভালো তুলার বালিশ বানাতে বা রেডিমেট কিনতে এক হাজার কিছু কম বেশি প্রয়োজন হয়। তবে ফাইভারের বা পাখির পালকের বালিশের দাম আরও একটু বেশি হতে পারে।

khaleda-20190204124344.jpg

বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে অংশ নেবেন না বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়া।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার কাছে তার জন্য বিএনপির কেনা মনোনয়নপত্র বুধবার নিয়ে গেলে তিনি তাতে স্বাক্ষর করেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খালেদা জিয়ার একজন আইনজীবী  এ কথা জানিয়ে বলেন, ‘তিনি বলেছেন- আমি উপনির্বাচন করব না। যারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারাই করুক।’

গত ৩০ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসনে জয়ী হন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় গত ৩০ এপ্রিল আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুসারে, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন আজ ২৩ মে, বাছাই আগামী ২৭ মে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ৩ জুন, প্রতীক বরাদ্দ ৪ জুন এবং ভোট ২৪ জুন।

দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন ১৯৯৬ সাল থেকে এই আসনে টানা তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দুবার উপনির্বাচনেও আসনটি বিএনপির হাতেই থাকে। তবে ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করায় আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে চলে যায়। ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছিল। ১৯৮৬ সালে বিএনপিবিহীন নির্বাচনে আসনটি পেয়েছিল জামায়াতে ইসলামী।

ওই আইনজীবী আরও জানান, গত মঙ্গলবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বগুড়া জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠক হয় বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে।

এ সময় বগুড়া জেলা বিএনপির নেতাদের অনুরোধে এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে খালেদা জিয়ার জন্য ফরম কেনা হয়। পরে সেই ফরমে স্বাক্ষরের জন্য খালেদা জিয়ার কাছে নেওয়া হলে তিনি তাতে স্বাক্ষর করেননি। এ সময় তিনি উপনির্বাচনে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে তার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন। পরে জেলা নেতারা লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানকে বিষয়টি জানালে খালেদা জিয়ার ফরম বাদে বাকি চারজনকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে বলা হয়।

ওই আইনজীবী জানান, বৃহস্পতিবার বাকি চারজন মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। তারা হলেন- বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক এমপি জি এম সিরাজ, সাবেক জেলা সভাপতি ও বগুড়া পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান, সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন।

উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক টি জামান নিকেতা। জাতীয় পার্টির প্রার্থী জেলার সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম ওমর। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র তুলেছেন সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুর রহমান রাজ ভাণ্ডারী, শ্রমিক নেতা সৈয়দ কবির আহমেদ মিঠুসহ চারজন।

Haleem-1-5ce51d4127009.jpg

হালিম খুবই জনপ্রিয় একটি খাবার। বিশেষ করে রমজানে এই খাবারটির জনপ্রিয়তা অনেক গুণ বেড়ে যায়। গরু, মুরগী কিংবা খাসী –সব ধরণের মাংস দিয়েই হালিম রান্না করা যায়।রোজার সময় অনেক রেস্টুরেন্টেই হালিম পাওয়া যায়। চাইলে বাড়িতেও তৈরি করতে পারেন মজাদার এই খাবারটি।

উপকরণ : ১ কেজি গরুর মাংস , আধা কাপ পোলাওয়ের চাল ( এর মধ্যে অর্ধেক অংশ গুড়া করা এবং বাকী অর্ধেক গোটা), এক কাপের এক চতুর্থাংশ করে মাসকলাই , মুগ, মসুর ডাল

মাংস রান্নার জন্য যা লাগবে : ১ টেবিল চামচ পেঁয়াজ বাটা, দেড় চামচ আদা বাটা, ২ চা চামচ রসুন বাটা, ১ চামচ হলুদ গুঁড়া,২ চামচ মরিচের গুঁড়া, আধা চামচ জিরা গুঁড়া, ২ টা দারুচিনি, ৪টি এলাচ, ২ টি তেজপাতা, কয়েকটা , কয়েকটা লবঙ্গ, ২ চামচ গরম মসলার গুঁড়া, তেল, লবণ স্বাদমতো

ডাল রান্নার জন্য যা প্রয়োজন : ২ চামচ আদা বাটা, ২ চামচ রসুন বাটা, ১ চামচ হলুদের গুড়া, লবণ স্বাদমতো

এছাড়া আরও যা লাগবে : বেরেস্তা ভাজার জন্য এক কাপ কুঁচি করে কাটা পেঁয়াজ, ২ চামচ ঘি, তেল, কুচি করে কাটা আদা, ধনে পাতা, কয়েকটি শুকনো মরিচ, লেবু

প্রস্তুত প্রণালী : সব ধরনের ডাল পানিতে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। মাংসের মসলা দিয়ে সাধারণভাবে মাংস রান্না করুন। এবার ডাল পানি থেকে তুলে ভালভাবে ধুয়ে পর্যাপ্ত পানি দিয়ে পোলাওয়ের চালসহ সেদ্ধ করুন।ডাল-চাল প্রায় সেদ্ধ হয়ে এলে চালের গুঁড়া, হলুদের গুঁড়া, এলাচ যোগ করুন। সবগুলো মিশ্রণ গলে ঘন হয়ে না যাওয়া পর্যন্ত কিছুক্ষণ আবার সিদ্ধ করুন। এবার মিশ্রণটিতে রান্না করা মাংসগুলো দিন। আবার কিছুক্ষণ রান্না করুন। এখন এতে ঘি যোগ করুন।

আরেকটা ফ্রাই পেনে তেল দিয়ে বেরেস্তার জন্য রাখা পেঁয়াজগুলো ভাজুন। বাদামী হয়ে এলে হালিমে দিয়ে দিন।

পরিবেশনের সময় হালিমের সঙ্গে আদা কুচি, ধনে পাতা , শুকনো মরিচ ,লেবুর টুকরা যোগ করুন।

mash-20190506220231.jpg

আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল জিতে দেশে ফেরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি। চারদিনের ছুটি শেষ করে ধরেছেন ইংল্যান্ডের বিমান। যাওয়ার সময় তিনি দলের জন্য দোয়া চেয়ে গেছেন। সঙ্গে ভক্তদের বলে গেছেন আবেগ নিয়ন্ত্রনে রাখতে। কারণ রাউন্ড রবিন লিগ ভিত্তিতে হওয়া এবারের বিশ্বকাপ বড্ড কঠিন।

বুধবার দেশ ছাড়ার আগে মাশরাফি বলেন, ‘গত পাঁচ-সাত বছর মানুষ আমাদের খেলা দেখতে আসে জয় দেখার প্রত্যাশা নিয়ে। কিন্তু ইংল্যান্ডে এবারের বিশ্বকাপ হবে ভিন্ন। স্বাগতিক ইংল্যান্ডের উইকেটে প্রচুর রান হচ্ছে। সেজন্য দলকে সবকিছু আলাদাভাবে নিতে হবে।’

মাশরাফি এবার শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নামবেন। ২০১৫ বিশ্বকাপ এবং ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মতো শেষটাও দারুণভাবে রাঙাতে চাইবেন অধিনায়ক। তিনিও জানেন সর্বশেষ দুই আসরে তাদের ভালো পারফরম্যান্স ভক্তদের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছে। সেটা মাথাই নিয়েই তাদের খেলতে হবে। ওদিকে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম তিন ম্যাচই পড়েছে বিশ্বকাপের তিন ফেবারিট দলের বিপক্ষে।

বাংলাদেশ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে গেল আসরের রানার্সআপ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। মাশরাফিদের পরের ম্যাচ আসরের টপ ফেবারিট, র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষ দল স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। শুরুর তিন ম্যাচে তাই ইতিবাচক ফল পাওয়া কঠিন। আবার নকআউটে যেতে জয়ও দরকার।

এ নিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘ইতিবাচক ফল পাওয়া আমাদের জন্য কঠিন হবে। কারণ আমাদের শুরুর তিন প্রতিপক্ষ খুবই শক্তিশালী। তাদের বিপক্ষে ভালো ফল পাওয়া আমাদের জন্য সহজ হবে না।’ বাংলাদেশ লিগ পর্বের চতুর্থ ম্যাচ খেলবে শ্রীলংকার বিপক্ষে, পঞ্চম ম্যাচে মুখোমুখি হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের।

nial-5ce53253531a1.jpg

আট বছর বয়সে ১০৬টি ভাষা রপ্ত করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে ভারতের চেন্নাইয়ের এক শিশু। এ বয়সে সে ১০৬টি ভাষায় লিখতে পড়তে ও বলতে পারে।

তাক লাগানো এই বিস্ময় বালক এখন চেন্নাইয়ের সুপারহিরো। নাম তার নিয়াল থগুলুভা।

এনডিটিভি জানায়, শুধু ভাষা রপ্ত করেই থেমে থাকেনি নিয়াল। ইন্টারনেট আর ইউটিউবের সাহায্যে নিয়ে ইতিমধ্যেই সে ১০৬টি ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারে। শুধু  কথা বলায় নয়; এসব ভাষায় নিজের মাতৃভাষার মতো লিখতেও পারে সে।

এ বিষয়ে নিলালের ভাষ্য, ‘আমি নিজেই জানি না। ধীরে ধীরে নেট আর ইউটিউব ঘাঁটতে ঘাঁটতই বোধহয় আগ্রহী হলাম ভাষা সম্বন্ধে। এভাবেই একসময় দেখলাম, ১০৬টি ভাষা শিখে ফেলেছি। এর মধ্যে ১০ ভাষা ঠোঁটস্থ। আপাতত আরও পাঁচটি ভাষা শিখছি।’

ছেলের এই বিরল প্রতিভার জন্য সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাবা শঙ্কর নারায়ণন। নিয়াল পড়াশুনার পাশাপাশি এখন ভাষা নিয়েই মজে আছে। তার লক্ষ্য, পৃথিবীর সব ভাষা রপ্ত করা।

london-5ce5953d96594.jpg

ব্রিটেনের ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে শহীদ মিনার নির্মাণে ৬৬ হাজার পাউন্ড দান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত মঙ্গলবার বিকেলে সেন্ট্রাল লন্ডনের তাজ হোটেলে শহীদ মিনার কমিটির নেতাদের হাতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ৬৫ হাজার ৯৮১ পাউন্ডের চেক তুলে দেন ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম।

কার্ডিফ ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ মনুমেন্ট কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও মনুমেন্টের ফাউন্ডার মকিস মনসুরের পরিচালনায় চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ জুলকারনাইন, মিনিস্টার প্রেস আসেকুন্নবী চৌধুরী, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নইম উদ্দিন রিয়াজ।

কার্ডিফ শহরের বে এলাকার ঐতিহ্যবাহী গ্রেইঞ্জমোর পার্কে ১৩ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে ও কমিউনিটির প্রচেষ্টায় শহীদ মিনারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। গত বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠান পালন করার মাধ্যমে শুরু হয় এই শহীদ মিনারের যাত্রা।

মনুমেন্ট ফাউন্ডার ট্রাস্ট কমিটির সেক্রেটারি মকিস মনসুর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুবিধাজনক সময়ে শহীদ মিনারটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন— এমনটিই প্রত্যাশা করছি আমরা।’

estern.jpg

জ্বালানি তেলের চাহিদা মেটাতে সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির (ইআরএল) দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নকালে চার বছরে ৮৭৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের বিদেশে প্রশিক্ষণ ও স্টাডি ট্যুরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ জনপ্রতি গড়ে ব্যয় হবে প্রায় ১৬ লাখ টাকা। তিন দিন থেকে শুরু করে ১৮০ দিনের এসব বিদেশ ‘ট্যুর’ ও ‘প্রশিক্ষণে’ অংশগ্রহণকারী প্রতিজন সর্বনিম্ন ৮০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ সাতাশ লাখ টাকা ভাতা পাবেন। মোট প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা। প্রকল্পের উন্নয়ন প্রস্তাবনা (ডিপিপি) বিশ্নেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে। শিগগিরই এই ডিপিপি জ্বালানি বিভাগ থেকে পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন, জ্বালানি বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও ইআরএলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ‘ট্যুর’ ও ‘প্রশিক্ষণে’ অংশ নেবেন। তবে ৩০ দিন ও ১৮০ দিনের প্রশিক্ষণে মূলত ইআরএলের জনবল থাকবে। কর্মীদের জন্য এত ব্যয়বহুল প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই ডিপিপি তৈরিতে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্ডিয়া লি. এর সহযোগিতা নিয়েছে ইআরএল।

শুধু প্রশিক্ষণেই শতাধিক কোটি টাকা ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, সরকারি প্রকল্পে প্রশিক্ষণের নামে প্রহসন চলে। প্রতিযোগিতাহীন প্রকল্পে কিছু খাতে বেশি বেশি বরাদ্দ রাখা হয়। আর এই প্রকল্প প্রস্তাবগুলো যেসব কর্মকর্তা প্রস্তুত করেন, তারাই প্রশিক্ষণে অংশ নেন। এতে জনস্বার্থ কতটুকু রক্ষিত হয় তা ভাবার বিষয়। এসব ডিপিপি মন্ত্রণালয়গুলো নামেমাত্র যাচাই-বাছাই করে। পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্প ব্যয় কমাতে তেমন ভূমিকা রাখে না। তিনি বলেন, স্টাডি ট্যুরের নামে বিদেশ গমনে অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশনসহ সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি থাকেন। ফলে তাদের প্রকল্প ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেখা যায় না। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি প্রকল্পে এ ধরনের প্রশিক্ষণের নামে প্রচুর জনবল বিদেশে ঘুরে এসেছেন; কিন্তু খনি নিয়ে তারা কতটুকু জ্ঞান অর্জন করেছেন তা বড়পুকুরিয়ার বর্তমান চিত্র দেখলে স্পষ্ট হয়।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, একটি প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন ও পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষিত জনবল জরুরি। কিন্তু দেশের প্রকল্পগুলোতে দেখা যায় যাদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন, তারা সুযোগ পান না। তদবির ও দুর্নীতির মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় লোকজন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। যা প্রকল্পের উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে। তাই যাদের দরকার, তারাই যেন প্রশিক্ষণে সুযোগ পান সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আখতারুল হক বলেন, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও ঠিকাদারের সুপারিশ ও চাহিদা অনুসারে ডিপিপি প্রস্তুত করা হয়েছে। খাত অনুসারে যৌক্তিক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, এই প্রকল্প অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর হবে। যা পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষিত জনবল প্রয়োজন। প্রশিক্ষণ খাতের ব্যয় যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর পরও জ্বালানি বিভাগ ও পরিকল্পনা কমিশন যাচাই করে দেখবে অর্থ বরাদ্দ ঠিক আছে কি-না।

জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। এটি যাচাই করে প্রয়োজনে তা পুনর্বিবেচনা করা হবে।

দেশে জ্বালানি পণ্যের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশে জ্বালানি পণ্যের চাহিদা ছিল ৬৯.৮ লাখ মেট্রিক টন। যা ২০২১-২২ অর্থবছরে বেড়ে হবে ৭৮.৫ লাখ মেট্রিক টন। কিন্তু ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ইআরএলের উৎপাদন ক্ষমতা মাত্র ১২ লাখ মেট্রিক টন। বাকি চাহিদা আমদানির মাধ্যমে মেটাতে হয়। এতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। এ জন্য সরকার ইআরএলের শোধনক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়। ২০১০ সালেই ৩০ লাখ মেট্রিক টন পরিশোধন ক্ষমতার ইআরএল দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এরপর প্রায় নয় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়নি। এখন পর্যন্ত শুধু নকশা প্রণয়ন, ঠিকাদার নিয়োগ আর ডিপিপি প্রস্তুত হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ বিশেষ আইনের আওতায় প্রতিযোগিতাহীনভাবে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে চার হাজার ৪৭২ কোটি টাকা ঋণ, দুই হাজার ৯৮১ কোটি টাকা সরকারি অর্থ এবং বিপিসির নিজস্ব অর্থায়ন ১১ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা। ইউনিটির লাইফটাইম ধরা হয়েছে ২০ বছর।

এই ইউনিট থেকে বছরে ১১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল, ৫ লাখ মেট্রিক টন জেট ফুয়েল, চার লাখ মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল, দুই লাখ মেট্রিক টন লুববেজ অয়েল ও ছয় লাখ মেট্রিক টন গ্যাসোলিনসহ অন্যান্য পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য পাওয়া যাবে। দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পর দেশের পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের আমদানি ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ হ্রাস পাবে।

প্রকল্পের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে ফরাসি কোম্পানি টেকনিপ। ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর কোম্পানিটির সঙ্গে এমওইউ সই হয়। স্বাধীনতার আগে ১৯৬৮ সালে টেকনিপই ইআরএল শোধনাগার নির্মাণ করে দেয়।

প্রশিক্ষণ ও ট্যুরে ১৩১ কোটি টাকা :প্রকল্প প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নের বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনে অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন ও এনবিআরের একজন করে, বিপিসির দু’জন এবং জ্বালানি বিভাগ ও ইআরএলের তিনজন করে ১১ জন প্রতিনিধি বিদেশে তিন দিনের স্টাডি ট্যুরে অংশ নেবেন। ২০২০ সালে জুলাই অথবা আগস্ট মাসে বাস্তবায়নের সম্ভাব্য সময় ধরে এই ট্যুরে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ লাখ ২৯ হাজার টাকা। এই ট্যুরের সব খরচ প্রকল্প ব্যয় থেকে মেটানো হবে। পাশাপাশি প্রতিজন দৈনিক ১৮ হাজার ৩০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। এ ছাড়া অন্যান্য ভাতা হিসেবে একবারে আরও ২৫ হাজার টাকা পাবেন। অর্থাৎ তিন দিনের এই বিদেশ ট্যুর শেষে প্রতিজন প্রায় ৮০ হাজার টাকা ভাতা পাবেন। এই প্রকল্প চলাকালে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিদেশে তিন দিন থেকে শুরু করে ৩০ দিনের এমন ট্যুর বা প্রশিক্ষণের সংখ্যা ১৪টি। এর মধ্যে তিন থেকে ১০ দিনের তিনটি স্টাডি ট্যুরে মোট ৩২ জন অংশ নেবেন। যারা মূলত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি। তারা বিভিন্ন দেশে এ ধরনের রিফাইনারি দেখতে যাবেন। এসব ট্যুরে ব্যয় হবে ২৫ লাখ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। ৩০ দিনের প্রশিক্ষণ রয়েছে ৯টি। প্রতি দলে ৩১ থেকে ৬০ জন প্রতিনিধি থাকবেন। মোট অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা হবে ৪৪১ জন। তারা হবেন ইআরএলের কর্মী। দলের আকার অনুসারে এই প্রশিক্ষণে দুই কোটি ২৫ লাখ থেকে সর্বোচ্চ চার কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ত্রিশ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে একজন কর্মকর্তা প্রায় পৌন ছয় লাখ টাকা ভাতা পাবেন। এ ছাড়া সাত দিনের দুটি প্রশিক্ষণ ট্যুরে যাবেন ২০ জন। এ ছাড়া বিদেশে ঠিকাদারের কার্যালয়ে ১৮ মাসের নকশা-সংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। যাতে চার ভাগে পাঁচজন করে মোট ২০ জন অংশ নেবেন। যেখানে প্রতিজন ভাতা হিসেবে পাবেন প্রায় ২৭ লাখ টাকা। এসব প্রশিক্ষণে কর্মকর্তারা রিফাইনারি ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, পণ্য পরীক্ষণ ও প্রযুক্তিগত বিষয়ে শিক্ষা লাভ করবেন বলে ডিপিপিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশে ঠিকাদারের অফিস ও যন্ত্রপাতি পরিদর্শন এবং বিদেশে সভার সুযোগ পাবেন সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা। ১৫ জনের একটি দল ঠিকাদারের সঙ্গে ১০ দিনের সভায় অংশ নিতে বিদেশ গমন করবে। এমন সভা হবে ২৪টি। এতে মোট খরচ হবে ১৬ কোটি টাকা।

সব মিলিয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় বিদেশে প্রশিক্ষণ ও ট্যুরে ৮৭৩ জনের জন্য ১৩১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয় হবে বলে ডিপিপিতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ মাথাপ্রতি ব্যয় হবে প্রায় ১৬ লাখ টাকা। চার বছর মেয়াদি এই প্রকল্পে প্রতিবছরের জন্য বিদেশে ট্যুর ও প্রশিক্ষণ খাতে খরচ ধরা হয়েছে ৩২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

অন্যান্য ব্যয় :এই প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভবন, সড়ক, ভূমি উন্নয়নসহ অবকাঠামো নির্মাণের জন্য রাখা হয়েছে সাত হাজার ১৯০ কোটি টাকা। কাস্টমস শুল্ক্ক খাতে দিতে হবে ৬৬০ কোটি টাকা। ভ্যাটে যাবে এক হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা। বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য কিনতে খরচ হবে ২২৫ কোটি টাকা। যানবাহন ও জমি নিবন্ধনে ২৭ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয় হবে। ব্যাংকের বিভিন্ন চার্জ বাবদ খরচ হতে পারে ৩৭৮ কোটি টাকা। যানবাহন কেনার খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি ৮৭ লাখ টাকা। টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম কিনতে লাগবে ৮৩১ কোটি টাকা। বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬১৮ কোটি টাকা। প্রকৌশল খাতের পণ্যসেবার জন্য খরচ হবে তিন হাজার ৬০৭ কোটি টাকা। গবেষণাগারের জন্য রাখা হয়েছে ১৬৭ কোটি টাকা। যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কিনতে ব্যয় হবে ৬০০ কোটি টাকা। ভূমি লিজে ২৪৫ কোটি টাকা দিতে হবে। ঠিকাদারের জন্য খরচ হবে এক হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ফিজিক্যাল কন্টিনজেন্সি খাতে ২৭২ কোটি টাকা এবং প্রাইস কন্টিনজেন্সি খাতে ৭৫৭ কোটি টাকা রাখা হয়েছে ডিপিপিতে।

lalsalu-cover-2017091412584-20190522200706.jpg

বিরিয়ানি পছন্দ করেন না এমন লোক বাংলাদেশে খুঁজে পাওয়া কষ্ট হয়ে যাবে। যারা বিরিয়ানির ভক্ত, তারা কি কখনো একটি বিষয় খেয়াল করেছেন- বিরিয়ানির হাঁড়িতে লাল কাপড় পেঁচানো থাকে কেন? হয়তো খেয়াল করেও বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামাননি। আসুন তবে জেনে নেই লাল কাপড়ের রহস্য কী?

বিরিয়ানি
বিরিয়ানি মোগলাই খাবার। বিরিয়ানির প্রথম প্রচলন হয় দিল্লি এবং লক্ষ্মৌতে। এখন তা ভারত-বাংলাদেশের মফস্বল থেকে শুরু করে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। চিকেন বিরিয়ানি, মাটন বিরিয়ানি, ডিম বিরিয়ানি, আলু বিরিয়ানি বা ভেজ বিরিয়ানি রয়েছে পছন্দের তালিকায়। কিন্তু কথা হচ্ছে বিরিয়ানির হাঁড়ি লাল কাপড়ে পেঁচানো থাকে কেন?

বিরিয়ানিতে লাল কাপড়
মুঘল আমলের রীতি অনুযায়ী খাবার পরিবেশনে লাল কাপড় ব্যবহারের কারণে এখনো বিরিয়ানির হাঁড়িতে লাল কাপড় ব্যবহার করা হচ্ছে। সুতরাং বলা যায় আভিজাত্য বা ঐতিহ্য রক্ষার জন্যই বিরিয়ানির হাড়িতে লাল কাপড় ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

লাল কাপড়
মুখের ভাষার মতো রঙেরও ভাষা আছে। মানুষের চিন্তায় রঙ প্রভাব ফেলে। পৃথিবীর সব দেশেই রঙের ভিন্ন ভিন্ন অর্থ ও ব্যবহার রয়েছে। লাল রঙের ব্যবহার একেক দেশে একেক রকম। বিদেশি অতিথি যখন আসেন তখন তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়। মাজার, উরস শরিফে বাঁশের মাথায় লালসালুর পতাকা ঝোলে। বিরিয়ানি, হালিমের ডেগেই লাল কাপড়। পান ও পনিরওয়ালারাও লালসালু ব্যবহার করেন।

লাল রঙের অর্থ
কোনো দেশে লাল শৌর্য, আক্রমণ, বিপদ অর্থে ব্যবহৃত হয়। আবার ট্রেনে বা রাস্তার সিগনালে লাল ব্যবহার করা হয়। ফুটবল খেলার মাঠে রেফারি প্রথমে সতর্কতা হিসেবে হলুদ পরে বিপজ্জনক আচরণের জন্য লাল কার্ড ব্যবহার করেন। তবে লাল রঙকে সাধারণত ধরা হয় সৌভাগ্য, উষ্ণতা, আনন্দ-উৎসব ও ভালোবাসার আবেগের প্রতীক। হৃদয়ের রঙ লাল। উষ্ণ অভ্যর্থনা প্রকাশের ক্ষেত্রেও হৃদয়ের লাল রঙ ব্যবহার হয়।

ইতিহাস
মুঘল সম্রাট হুমায়ুন যখন রাজ্য হারিয়ে ইরানে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তখন তাকে পারস্য সম্রাট লালগালিচার উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন। খাবার পরিবেশনে দরবারি রীতিগুলোতে রূপালি পাত্রের খাবারগুলোর জন্য লাল কাপড় আর ধাতব ও চিনামাটির জন্য সাদা কাপড় দিয়ে ডেকে নিয়ে আসা হতো, যা মুঘলরাও তাদের দরবারে চালু করেন। শুধু তাই নয়, সম্মানিত ব্যক্তি বা আধ্যাত্মিক সাধকদের জন্য ছিল লাল পাগড়ির ব্যবস্থা।

শেষকথা
বিরিয়ানি ভারতবর্ষে পা রাখে মুঘল আমলে। খাবার পরিবেশনে এই প্রথা ও রঙের ব্যবহার শহর লক্ষ্মৌয়ের নবাবরাও অনুসরণ করতেন। সমাজ জীবনে তাই অভিজাত্য, বনেদি, উষ্ণতা প্রকাশে লাল বা লালসালুর ব্যবহার চলে আসছে যুগ যুগ ধরে।

hotta-na-mittu-20190522214355.jpg

রাজধানীর ফার্মগেটে আবাসিক হোটেল থেকে দুই শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধারের পর এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কোনো ক্লু উদ্ঘাটন করতে পারেনি। অথচ লাশ উদ্ধারের পরপরই পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট সেবন করে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাদের হত্যা করে তা ধামাচাপা দিতেই যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট সেবনের কথা বলা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, যৌন উত্তেজক ওষুধ সেবনে তারা মারা গেছে। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলছেন, পুরুষের সেবন করা যৌন উত্তেজক ওষুধে নারীর মৃত্যুর কোনো নজির নেই।

গত ২ এপ্রিল ফার্মগেটের আবাসিক হোটেল সম্রাটের ৮০৮ নম্বর কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্রী মরিয়ম চৌধুরী (২০) ও তেজগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র আমিনুল ইসলাম সজলের (২২) মরদেহ।

সজলের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট থানার হরিপুর গ্রামে। আর মরিয়মের গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলায়। লাশ উদ্ধারের সময় পুলিশ ও হোটেল কর্তৃপক্ষ দাবি করে, যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট সেবন করে দুই জন মারা গেছেন।

সজলের পকেটে ডুমেক্স-৬০ নামে দুটি যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট পাওয়া গেছে। তা দেখেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছে পুলিশ। পুলিশের করা সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুজনের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। আত্মহত্যাও করেননি তারা।

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্রী মরিয়ম চৌধুরী (২০) ও তেজগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র আমিনুল ইসলাম সজলের (২২) ২ এপ্রিল রহস্যজনক মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর থেকে পুলিশ ও হোটেল কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক আচরণ করছে। হোটেলের ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজ মরিয়ম ও সজলের পরিবারকে দেখানো হয়নি।

হোটেলের এক কর্মকর্তা বলেছেন, সব ফুটেজ পুলিশ নিয়ে গেছে। অন্যজন আরেক কর্মকর্তা বলেছেন, সব সিসি ক্যামেরা নষ্ট ছিল। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, এ ঘটনায় তারা হত্যা মামলা করতে চাইলেও পুলিশ অপমৃত্যুর মামলা নিয়েছে। এমনকি ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দিতে চেয়েছিল পুলিশ। এ নিয়ে তারা অনেক প্রশ্নেরই উত্তর পাচ্ছেন না।

পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে ডুমেক্স নামের একটি যৌন উত্তেজক ট্যাবলেটের পাতা পাওয়া গেছে। ওই পাতায় দুটি ট্যাবলেট ছিল না। পুলিশ বলছে, ওই ট্যাবলেট সেবনের কারণেই মরিয়ম ও সজলের মৃত্যু হয়েছে। তাদের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে পরিবারের দাবি, মরিয়ম তৃতীয় কারও লালসার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনার সাক্ষী না রাখতেই হয়তো সজলকেও খুন করা হয়েছে। পুলিশ ও হোটেল কর্তৃপক্ষ সেই ঘটনা ধামাচাপা দিতে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট সেবনের নাটক সাজিয়েছে।

এদিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেছেন, দুটি ডুমেক্স ট্যাবলেট সেবন করলে কারও মৃত্যু হয় না। পুরুষের যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট সেবনের কারণে নারীর মৃত্যু হওয়ার ঘটনাও নজিরবিহীন। এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, তাদের মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর এবং যৌন ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার গণমাধ্যমকে বলেন, দুটি ডুমেক্স সেবন করলে সাধারণত কারও মৃত্যু হওয়ার কথা নয়। যদি অন্য কোনো রোগ না থাকে। দুটি কেন, তিনটি সেবন করলেও কারও মৃত্যু হওয়ার কথা নয়। আর এটি সেবন করলে নারীর মৃত্যু হবে না। অন্য কোনো কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ এটা বললে তা অতি উৎসাহী হয়ে বলেছে।

গত ২ এপ্রিল ফার্মগেটের আবাসিক হোটেল ‘সম্রাট’-এর ৮০৮ নম্বর কক্ষ থেকে দুই শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ যে বক্তব্য দিয়েছিল এখন সেখান থেকে সরে এসেছে। ওই সময় তেজগাঁও থানার এএসআই আলমগীর হোসেন গণমাধ্যমে বলেছিলেন, সজলকে খাটে শোয়া অবস্থায় পাওয়া গেছে। আর মরিয়ম মেঝেতে পড়েছিল। হয়তো যৌন উত্তেজক কোনো ট্যাবলেট খেয়ে তারা মারা গেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তেজগাঁও থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, এএসআই আলমগীর যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটা তার নিজস্ব বক্তব্য। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও ভিসেরা প্রতিবেদন না পেলে পুলিশ কোনোভাবেই এটা বলতে পারে না।

মামলার তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়টি এখনও রহস্যজনক। তাদের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। কিভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে বলা যাবে। তবে অন্যসব বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত করা হচ্ছে।

মরিয়ম চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের কোলা গ্রামে। তার বাবা মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী বলেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় মেয়েকে লেখাপড়ার জন্য পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু আমার মেয়েটাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ লাশের ময়নাতদন্তও করতে চায়নি। থানায় তিন ঘণ্টা বসিয়ে রেখেছিল। ঢাকা থেকে মেয়ের লাশ আর কলঙ্ক নিয়ে বাড়ি ফিরেছি।

মোস্তাক আহমেদ আরও বলেন, হয়তো তৃতীয় কারও লালসার শিকার হয়েছে তার মেয়ে। কোনো সাক্ষী যেন না থাকে সেজন্য সজলকেও হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, গ্রামে থাকতে মরিয়মের সঙ্গে একটি ছেলের সম্পর্ক ছিল। পরে ওই ছেলে মরিয়মকে হত্যার হুমকিও দিয়েছিল। জমিজমা সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে আমাদের। এসব বিষয় পুলিশ তদন্ত করে দেখতে পারে। জিগাতলার মুন্সীবাড়ী রোডের একটি নারী হোস্টেলে মরিয়ম ভাড়া থাকতেন।

ওই নারী হোস্টেলের পরিচালক আমেনা বেগম জানান, গত ১ এপ্রিল রাতে মরিয়ম তার খালার বাসায় যাওয়ার কথা বলে হোস্টেল থেকে বের হন। তখন সে জানিয়েছিল, রাতে বাসায় ফিরবে না। এদিকে সজলের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের হরিপুর গ্রামে। তার বাবা মোশারফ হোসেন বলেন, তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। অথচ পুলিশ অপবাদ দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। জিগাতলার হাজী আবদুল হাই রোডের একটি মেসে সজল ভাড়া থাকতেন। সজলের সহপাঠী ও রুমমেট কামরুল হাসান জানান, গত ১ এপ্রিল রাতে আত্মীয়ের বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে সে বের হয়। পরের দিন তারা মৃত্যুর সংবাদ পান।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়ে লুকোচুরি করছে সম্রাট হোটেল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ। সিসি ক্যামেরার ফুটেজের বিষয়ে জানতে চাইলে হোটেলের ব্যবস্থাপক রাসেল আহমেদ সুমন বলেন, সব ফুটেজ পুলিশ নিয়ে গেছে। অপরদিকে হোটেলের তত্ত্বাবধায়ক আহাম্মদ হোসেন বলেন, সিসি ক্যামেরাগুলো নষ্ট ছিল। তবে পুলিশের দাবি, ৯ তলা ভবনের টাইলসের দোকানে শুধু সিসি ক্যামেরা সচল ছিল। ওই ক্যামেরায় সজল ও মরিয়মের প্রবেশের দৃশ্য দেখা গেছে।

সম্রাট হোটেলের ৮০৮ নম্বর কক্ষ থেকে সজল ও মরিয়মের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই কক্ষের টয়লেটের ওপরের ফাঁকা জায়গা দিয়ে খুব সহজে ৮০৮ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করা যায়। ওই ফাঁকা জায়গা দিয়ে খুনিরা বেরিয়ে গেছে কিনা এ নিয়ে স্বজনরা প্রশ্ন তুলেছেন।

মরিয়মের বাবা মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী বলেন, সজল ও মরিয়ম স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে হোটেলে উঠল কিভাবে? তাদের কাছে তো বিবাহের কোনো কাগজপত্র ছিল না।

এ বিষয়ে হোটেলের তত্ত্বাবধায়ক আহাম্মদ হোসেন বলেন, তারা সব ডকুমেন্ট দেখিয়ে হোটেল ভাড়া নিয়েছিল। এগুলো পুলিশকে দেয়া হয়েছে।

sayem-20190522215917.jpg

কুড়িগ্রামের ছেলে আবু সায়েম। বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় যাওয়ার মতো ভালো কোনো পোশাক ছিল না তাঁর। এক বন্ধু তখন পাশে এসে দাঁড়ায়। আর চাকরি পাওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো দিন সকালে নাশতা করেননি। শুধু দুপুরের দিকে পাঁচ টাকা দামের একটা পাউরুটি খেয়ে দিন পার করতেন। আর আজ তিনিই বিসিএস ক্যাডার।

আবু সায়েমের বাবা অন্যের জমিতে কাজ করতেন। সে আয়ে তিনবেলা ভাত জুটত না। বাড়তি আয়ের জন্য মা কাঁথা সেলাই করতেন। তারপর সে কাঁথা বাড়ি বাড়ি বিক্রি করতেন। কত দিন কত রাত সায়েম যে না খেয়ে কাটিয়েছেন, সে হিসাব নিজেও জানেন না।

আজ সায়েমের কষ্টের দিন ঘুচেছে। ৩৫তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সমাজকল্যাণে মেধাতালিকায় দ্বিতীয় হয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে সায়েম বলেন, ‘মা অন্যের কাঁথা সেলাই করে দিতেন। প্রতি কাঁথা হিসেবে মজুরি পেতেন ৭০ থেকে ১০০ টাকা। মায়ের ১০টি আঙুলে জালির মতো অজস্র ছিদ্র। আজ আমার মায়ের জীবন সার্থক।’


About us

DHAKA TODAY is an Online News Portal. It brings you the latest news around the world 24 hours a day and 7 days in week. It focuses most on Dhaka (the capital of Bangladesh) but it reflects the views of the people of Bangladesh. DHAKA TODAY is committed to the people of Bangladesh; it also serves for millions of people around the world and meets their news thirst. DHAKA TODAY put its special focus to Bangladeshi Diaspora around the Globe.


CONTACT US

Newsletter