Ashraful Islam, Author at 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

chittagong.jpg

দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সতর্কতা হিসেবে চট্টগ্রামে বের হওয়া বা ঢোকার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে নগর পুলিশ (সিএমপি)।

জরুরি সেবার লোকজন ও যানবাহন এর আওতামুক্ত থাকবে।

সোমবার রাত ১০টা থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।

সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান বলেন, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া চট্টগ্রাম নগরে কেউ ঢুকতে পারবেন না। আবার কেউ বের হতে পারবেন না।

প্রত্যেককে ঘরে থাকতে হবে। এ জন্য চট্টগ্রাম নগরের পাঁচটি প্রবেশপথে নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছে।

এর আগে চট্টগ্রাম নগরে সন্ধ্যা থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল পুলিশ। সন্ধ্যার পর ওষুধের দোকান ছাড়া নগরের কোনো দোকানপাট ও বিপণিবিতান চালু রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম নগরের প্রবেশপথ সিটি গেট, অক্সিজেন মোড়, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, কালুরঘাট সেতু এবং শাহ আমানত সেতুর মুখে পুলিশ আজ নিরাপত্তা চৌকি বসিয়েছে। এই পাঁচটি পথ দিয়ে চট্টগ্রাম নগরে প্রবেশ ও বের হওয়া যায়।

labourf.jpg

বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস সংকটের মধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে অভিবাসী ফেরত নিতে চাপ বাড়ছে বাংলাদেশের উপর। এর মধ্যে তিন উপসাগরীয় দেশ বাহরাইন, কাতার ও কুয়েত সরকার জানিয়েছে, তারা প্রায় ৩৮ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাতে চায়।

একইসঙ্গে সিঙ্গাপুর, কোরিয়া ও মালদ্বীপ থেকেও অভিবাসী ফেরত নেয়ার চাপ বাড়ছে বাংলাদেশ সরকারের উপর। সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। বৈঠকটিতে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং প্রবাসী কল্যাণ বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রী ইমরান আহমেদ।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সকল দেশ থেকে অভিবাসীদের ফেরত নিতে চাপ দিলে জোরপূর্বক ফেরত আসার ঝুঁকিতে পড়বেন ১ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী।

সোমবার বৈঠক শেষে ইমরান আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, মধ্যপ্রাচ্যীয় দেশগুলো বেশকিছু সময় ধরেই অনিয়মিত ও বিভিন্ন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত নেয়ার চাপ দিচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারকে এসব অভিবাসীদের চার্টার্ড ফ্লাইটে করে ফিরিয়ে আনতে হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিমানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

তিনি আরো জানান, বাংলাদেশ প্রত্যেক দেশের কাছে তারা যেসব বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাতে চান, তাদের তালিকা চেয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, আমাদের তাদেরকে ফিরিয়ে আনতে হবে। তবে তার আগে আমরা তালিকাটি খুঁটিয়ে দেখতে চাই।

বৈঠকে বলা হয়, কুয়েত ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ৩৫০ জনের তালিকা পাঠিয়েছে। দেশগুলো থেকে এত বিশাল সংখ্যক অভিবাসীদের আনতে মিত্রদের কাছ থেকে সহায়তা চাওয়ার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ।

veg4.jpg

প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রাজধানীর কাঁচাবাজার ও সুপারশপসহ সব ধরনের দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

তবে ওষুধের দোকানসহ জরুরি সার্ভিসগুলো এ নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে সব ইউনিটকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান বলেন, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে যাতে সুপারশপ এবং কাঁচাবাজার বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে পুলিশ কমিশনার কার্যালয় থেকে।

এরই মধ্যে ডিএমপির সব বিভাগকে নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে জানানো হয়েছে।

পুলিশ কমিশনার কর্তৃক নির্দেশনা পাওয়ার পর এর মধ্যে মহানগর পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তারা সুপারশপগুলোতে গিয়ে বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছেন।

এর আগে পুলিশ সদর দফতরের পক্ষ থেকে (রোববার ৫ এপ্রিল) ঢাকাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়।

বলা হয় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকা থেকে কেউ বাইরে যাবে না এবং ঢাকায় কেউ প্রবেশ করবে না।

boris3d.jpg

হাসপাতালে আইসিইউতে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়েছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে। এর আগে গত শুক্রবার আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় টুইটারে এক ভিডিও বার্তায় বরিস জনসন জানিয়েছিলেন যে, তার শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেশি।

আইসোলেশনে থাকার ১০ দিন পরেও তার শরীরে করোনার লক্ষণ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এক সপ্তাহের বেশি কারও শরীরের তাপমাত্রা বেশি থাকলে তা থেকে নিউমোনিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বেশ কয়েকজন দাবি করেছেন যে, কনফারেন্স কলের সময় বরিস জনসনকে প্রচণ্ড কাশতে দেখা গেছে। ব্রিটেনের আবাসনমন্ত্রী রবার্ট জেনরিক জানিয়েছেন, করোনা পজেটিভ আসার পরেও গত কয়েক দিন ধরে কঠোর পরিশ্রম করে গেছেন জনসন।

দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাদিন দোরিস প্রথম কোনো মন্ত্রী হিসেবে করোনায় আক্রান্ত হলেও তিনি এখন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। নাদিনের মতে, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ঘুমানো প্রয়োজন এবং সুস্থ হওয়া দরকার। ১০ দিন আগে করোনার উপস্থিতি ধরা পড়ার পর থেকেই আইসোলেশনে ছিলেন জনসন।

তবে কয়েকদিন ধরে তার শরীরে ক্রমাগত করোনার লক্ষণ দেখা দেয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডাউনিং স্ট্রিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী অসুস্থ হলেও সরকারের প্রধান হিসেবে তিনিই দায়িত্ব পালন করবেন।

ব্রিটিশ সরকারের একটি সূত্র বলছে, রোববার রাতে হাসপাতালেই ছিলেন প্রধানমন্ত্রী জনসন। আরও কয়েকদিন তাকে হাসপাতালেই থাকতে হচ্ছে। গত মাসের শেষের দিকে করোনা পজেটিভ হওয়ায় আইসোলেশনে ছিলেন জনসন।

কিন্তু রোববার রাতে তার শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক বলছেন যে, জনসনের আরও বেশ কিছু শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।

রোববার ডাউনিং স্ট্রিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। করোনা পজেটিভ ধরা পড়ার ১০ দিন পরে তার শরীরে করোনার লক্ষণ বাড়তে শুরু করেছে বলে জানানো হয়েছে।

গত ২৭ মার্চ বরিস জনসনের শরীরে করোনার উপস্থিতি ধরা পড়ে। ব্রিটিশ সরকারের প্রথম কোনো শীর্ষস্থানীয় নেতা হিসেবে তিনিই প্রথম করোনায় আক্রান্ত হন।

এরপর ডাউনিং স্ট্রিটের একটি অ্যাপার্টমেন্টেই আইসোলেশনে ছিলেন ৫৫ বছর বয়সী জনসন। এদিকে, বরিস জনসনের করোনায় আক্রান্তের কথা জানতে পেরে তাকে শুভ কামনা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক বিবৃতিতে জনসনকে শক্ত মনোবলের মানুষ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, সব আমেরিকান তার জন্য (বরিস জনসন) প্রার্থনা করছেন। তিনি আমার বন্ধু, তিনি একজন ভদ্রলোক এবং মহান নেতা। আপনারা জানেন যে, তিনি আজ হাসপাতালে গেছেন। তবে আমি আশাবাদী যে, তিনি শিগগিরই সুস্থ হয়ে উঠবেন।

জনসনের প্রধান স্বাস্থ্য উপদেষ্টাও সেলফ আইসোলেশনে আছেন। তার অন্তঃসত্ত্বা হবু স্ত্রী ৩২ বছর বয়সী কেরি সিমন্ডসের শরীরে করোনার লক্ষণ দেখা দিলেও শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন যে, আগের চেয়ে ভালো অনুভব করছেন।

Mosque-Namaj.jpg

করোনাউদ্ভুত পরিস্থিতিতে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম ছাড়া অন্যান্য সাধারণ মুসল্লিদের ঘরে নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা জরুরি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শুধু মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা মসজিদে নামাজ আদায় করবেন।

সোমবার (৬ এপ্রিল) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাখাওয়াৎ হোসেন স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, ভয়ানক করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে মসজিদের ক্ষেত্রে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা ছাড়া অন্য সব মুসল্লিকে সরকারের পক্ষ থেকে নিজ নিজ বাসায় নামাজ আদায় করতে নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে।

জুমার জামাতে অংশগ্রহণের পরিবর্তে ঘরে জোহরের নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে।

মসজিদে জামাত চালু রাখার প্রয়োজনে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা মিলে পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ অনধিক পাঁচ জন এবং জুমার জামাতে অনধিক ১০ জন শরিক হতে পারবেন। বাইরের মুসল্লি মসজিদে জামাতে অংশ নিতে পারবেন না।

একইসাথে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদেরও উপসনালয়ে সমবেত না হয়ে নিজ নিজ বাসস্থানে উপসনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই নির্দেশনা সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালকদের মানতে নির্দেশ দিয়ে তা লঙ্ঘন হলে আইনের আওতায় আনা হবে জানানো হয়েছে ওই বিজ্ঞপ্তিতে।

Poultry-Farm.jpg

করোনাভাইরাসের প্রভাবে পটিয়ার দুগ্ধ খামারের উৎপাদিত দুধ বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে উপজেলার প্রায় ৪ শতাধিক খামারি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

পটিয়া প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, পটিয়ায় প্রতিদিন ২০ হাজার লিটার দুধ উৎপাদন হয়ে থাকে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সবখানে চলছে অঘোষিত লকডাউন।

যে কারণে বেকারি, মিষ্টির দোকান ও চায়ের দোকান বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রতিদিন অর্ধেক দুধ অবিক্রিত ও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। টানা লোকসানের কারণে এমন ভরা মৌসুমেও খামারিদের মাথায় হাত।

এদিকে করোনাভাইরাসের কারণে দুধ বিক্রয় কমতে থাকায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, জেলা সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে মিলে পটিয়া প্রাণিসম্পদ অফিস প্রচারণায় নেমেছে।

বলা হচ্ছে- মাছ, মাংস, ডিম, দুধ খেলে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু সবদিকে কিছু বন্ধ থাকায়েএমন প্রচার-প্রচারণাও কাজে দিচ্ছে না।

বেশ কয়েকজন খামারির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সপ্তাহখানেক আগে করোনাভাইরাস নিয়ে পটিয়ার বিভিন্ন এলাকায় গুজব ছড়ানোর ঘটনা ঘটে।

এই গুজবের কারণে দুধ, ডিম, মাছ, মাংস বিক্রিতে ধস নামে। দুধের দাম লিটারপ্রতি ৫০ থেকে ৩০ টাকায় নেমে আসে। অনেক এলাকায় প্রতি লিটার ২০ টাকায়ও বিক্রি করতে বাধ্য হয় খামারিরা।

তবে প্রশাসন এই গুজব ঠেকাতে পদক্ষেপ নেওয়ায় দুধ, মাছ, মাংস, ডিম বিক্রি কিছুটা বাড়লেও আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেনি।

প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে দুধ অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে। যদিও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের পক্ষ থেকে খামারিদের দুধ নষ্ট না করে ক্রিম তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে পটিয়া ডেইরি এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এইউএম রাসেল জানান, করোনাভাইরাসের প্রভাবে অফিস, আদালত, যানবাহনসহ হোটেল, রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পটিয়ায় দুধের দাম এবং পোলট্রি মুরগির দাম কমে গেছে।

এতে চরম লোকসান গুণতে হচ্ছে খামারিদের। অথচ গোখাদ্য ও পোল্ট্রি খাদ্যের দাম বেড়েছে প্রতিকেজিতে ৫-১০ টাকা।

পটিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জপু চক্রবর্তী জানান, পৌর এলাকাসহ উপজেলার সতেরটি ইউনিয়নে ডেইরি খামার ৪০৮টি, ব্রয়লার খামার ৮৯৪টি, লেয়ার খামার ২৩৬টি, হাঁসের খামার ১৭টি, ছাগলের খামার ৮টি।

এসব খামারে প্রায় ৪০ হাজার বিদেশি গাভী রয়েছে। করোনার কারণে সবাই বিপাকে পড়েছেন।

এএল এগ্রো ডেইরি ফার্মের মালিক রবিন দাশ জানান, তার খামারে ১৫টি দুধের গাভি রয়েছে। যা হতে প্রতিদিন গড়ে ১০০ হতে ১৪০ লিটার দুধ উৎপাদন হয়।

শহরের হোটেল রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় সময়মতো এই দুধ তিনি বাজারে বিক্রি করতে পারছেনা।

এতে করে তাকে প্রতিদিন ছয় থেকে সাত হাজার টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে। তার ছোট খামারে যদি এ অবস্থা হয়, তবে বড় খামারিদের লোকশান আরও বেশি বলে জানান তিনি।

lockdown5.jpg

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার শিলাইগড়া গ্রামের রাজা মিয়া বাড়ির মৃত আবুল কালামের পুত্র মোহাম্মদ শরীফের (২০) মৃত্যুর পর করোনা সন্দেহে ওই এলাকার ১০ পরিবারকে সাময়িক লকডাউন করেছেন প্রশাসন।

জানা যায়, রবিবার সন্ধ্যায় গলা ব্যাথা ও সর্দি কাশিতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হলে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে করোনায় মৃত্যু হয়েছে।

খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ করোনা সন্দেহে ওই এলাকার ১০টি পরিবারকে সাময়িকভাবে লকডাউন করে দিয়েছে।

এঘটনায় স্থানীয়রা গ্রামের আশপাশ এলাকার সকল সড়ক ও যানচলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জোবায়ের আহমেদ ও আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ দুলাল মাহমুদ রাত ১২টা পর্যন্ত অবস্থান করে আশপাশের লোকজনকে এলাকায় ভীড় না জমানোর জন্য সর্তক করেন।

আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ দুলাল মাহমুদ জানায়, যুবকের মৃত্যুর ঘটনা জানার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়।

ছুটে যাওয়ার পর পুলিশ অবস্থান নিয়ে করোনা সন্দেহে ১০টি ঘর সাময়িক লকডাউন করা হয়। এব্যাপারে হাসপাতালসহ উদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

তিনি আরো জানান, মৃত যুবকের রক্তের নমুনা পরীক্ষার কাজ চলছে। বিকালের মধ্যে রির্পোট পাওয়ার পর সিন্ধান্ত নেওয়া হবে।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জোবায়ের আহমেদ বলেন, খরব পেয়ে আমরা ওই এলাকার ১০ পরিবারকে সাময়িকভাবে লকডাউন করে দিয়েছি। এই পরিবারগুলো প্রশাসনের নজরদারীতে রয়েছে।

aa.jpg

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশনে থাকা সীতাকুণ্ড উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলিম উল্লাহ মারা গেছেন। তিনি শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন।

সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি।

তিনি বলেন, ‘প্রায় ৬০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি ছিলেন।

আজ বিকেল ৩টায় তার মৃত্যু হয়। তার নমুনা পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রামের বিশেষায়িত হাসপাতাল বিআইটিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

এদিকে, করোনার উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এতে ওই যুবকের বাড়ি লকডাউন করেছে আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমেদ জানান, নিউমোনিয়ার লক্ষণ নিয়ে আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে এক রোগীকে চমেক হাসপাতালে পাঠনো হয়েছিল। রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই যুবকের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ওই যুবকের বারখাইন ইউনিয়নের শিলাইগড়ে বাড়িসহ কয়েকটি বাড়ি লকডাউন করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

চমেক হাসপাতাল থেকে তার নমুনা পরীক্ষার জন্য বিআইটিআইডিতে পাঠানো হয়েছে, রিপোর্ট পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

উল্লেখ্য, সারাদেশে এখন পর্যন্ত ১২৩ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে তিনজন রোগী শনাক্ত হয়েছে।

coronappe.jpg

সারা বিশ্বেই এখন পিপিই (ব্যক্তিগত সুরক্ষাসরঞ্জাম) সংকট। করোনাভাইরাস রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্বাস্থ্যকর্মীদের পিপিই সংকটের এ খবর বারবারই সামনে আসছে বিশ্ব গণমাধ্যমে।

করোনার অন্যতম হটস্পট স্পেন-ব্রিটেনও এর ব্যতিক্রম নয়। যেভাবে দ্রুতগতিতে দেশ দুটিতে ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রমণ, তাতে পরিস্থিতি সামাল দেয়া যথেষ্ট মুশকিল হচ্ছে।

কিন্তু তারপরও থেমে থাকছেন না চিকিৎসকরা। ময়লা ফেলার প্লাস্টিকের ব্যাগ দিয়ে নিজেদের গা-মাথা-পা মুড়ে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন রোগীদের।

শুধু ব্রিটেন নয়, একই উপায়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন স্পেনের ডাক্তার-নার্সরাও। স্পেনে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে ১৫ হাজার ডাক্তার-নার্স সংক্রমিত হয়েছেন, যা মোট আক্রান্তের প্রায় ১৫ শতাংশ।

ইতালিতে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন চার হাজারের বেশি স্বাস্থ্যকর্মী। রোববার চিকিৎসক-নার্সদের ক্রান্তিকালীন স্বাস্থ্যসেবার এ দৃশ্য তুলে ধরেছে বিভিন্ন গণমাধ্যম।

লন্ডনের খ্যাতনামা চিকিৎসক ডা. রবার্টসের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, প্রতিটি হাসপাতালের আইসিইউ এখন কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীতে পরিপূর্ণ।

তার কথায়, ‘এই অবস্থায় ময়লা ফেলার প্লাস্টিকের ব্যাগ (বিন ব্যাগ) দিয়ে বানানো পিপিই পরতে হচ্ছে আমাদের। অনেক হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

অনেক ক্যান্সার ক্লিনিকও বন্ধ। শুধু যে হাসপাতালগুলোয় করোনার চিকিৎসার পরিকাঠামো রয়েছে, সেগুলোই খোলা। তারপরেও সেগুলোর বেশির ভাগেই স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব আছে। রয়েছে বেডের অভাব। একদম সাধারণ মানের ভেন্টিলেটরও সব জায়গায় নেই।’

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ১৪ থেকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে ব্রিটেনে বড় আঘাত হানবে করোনাভাইরাস। এই সময়টাকেই বিশ্লেষকদের ভাষায় বলা হচ্ছে ‘পিক টাইম’।

আর চিকিৎসাকর্মীরা এখনই হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন, কী তীব্র সংকটময় সময় আসছে সামনে। এখনই প্রত্যেক চিকিৎসক ১৩-১৪ ঘণ্টা করে কাজ করছেন প্রতিদিন।

সেটাও করতে হচ্ছে ময়লা ফেলার পলিথিন, প্লাস্টিকের এপ্রোন ও স্কিইং করার চশমা পরে। কোনো রকমে কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন তারা।

যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই করোনা আক্রান্ত রোগীদের থেকে কয়েক সেন্টিমিটার দূরত্বে থেকে কাজ করছেন ডাক্তাররা।

যেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইনে সাধারণ মানুষকে বলা হচ্ছে- ১ থেকে ২ মিটার ন্যূনতম দূরত্ব বজায় রাখতে। চিকিৎসকদের তো তেমন উপায় নেই। এর ফলে যে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে তাদের জীবনে, সেটা এখনই ভাবাচ্ছে ব্রিটেনের স্বাস্থ্যকর্মীদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক চিকিৎসক বিবিসিকে জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে তার তিনজন সহকর্মী ভেন্টিলেশনে আছেন, যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

কিন্তু তাদেরও অবস্থা একই। ওই চিকিৎসকের কথায়, ‘আমরা অসুস্থ চিকিৎসকদেরও সেরা ভেন্টিলেটর দিতে পারছি না, সর্বোচ্চ নার্সিং কেয়ার দিতে পারছি না।

নার্সরাও অমানবিকভাবে খেটে চলেছেন, তারাও যে কোনো সময় অসুস্থ হয়ে পড়বেন।’ ব্রিটেনের ‘ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস’ অবশ্য দাবি করেছে, স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিতরা করোনাভাইরাসে কর্মক্ষেত্রে সংক্রমিত হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য নেই তাদের কাছে।

কিন্তু স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিযোগ, সঠিক সুরক্ষার অভাবে অনেক কর্মীই ভুগছেন সংক্রমণে, মারাও যাচ্ছেন কেউ কেউ।

একই অবস্থা চলছে স্পেন-ইতালিতেও। ইউরোপে এ দুটি দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও এর ফলে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। স্পেনে যেখানে সরকারি হিসেবে রোববার পর্যন্ত ১৫ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীর করোনাভাইরাস পজিটিভ শনাক্ত করা হয়েছে।

এ সংখ্যা দেশটিতে মোট আক্রান্তের প্রায় ১৫ শতাংশ। এদিকে ইতালিতে আক্রান্ত হয়েছেন চার হাজারের বেশি স্বাস্থকর্মী। এরপরেই জীবনবাজি রেখে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তারা।

স্পেনে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৩০ হাজারের বেশি। মারা গেছেন ১২ হাজার ৪১৮ জন। ইতালিতে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ২৫ হাজারের বেশি। মারা গেছেন ১৫ হাজার ৩৬২ জন।

corona467.jpg

কানাডার রাজধানী অটোয়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দুই বাংলাদেশি মারা গেছেন। তারা হলেন-শরিয়ত উল্লাহ ও আব্দুল বাছিত।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়েছে।

এরমধ্যে শনিবার স্থানীয় কুইন্সওয়ে কার্লটন হাসপাতালে মারা যান শরিয়ত উল্লাহ।

আর রোববার টরেন্টোর এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আব্দুল বাছিত।

এছাড়া আক্রান্ত হয়ে স্থানীয় হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি আছেন ফরিদপুর জেলা অ্যাসোসিয়েশন অব কানাডার সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সালাম শরীফ ও সমাজকর্মী তুতিউর রহমান।

আব্দুল বাছিত মৌলভীবাজার জেলা অ্যাসোসিয়েশন, টরন্টোর উপদেষ্টা ছিলেন।

সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ মার্চ বিকালে অসুস্থ অবস্থায় শরিয়ত উল্লাহকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার তার মৃত্যু হয়।

প্রসঙ্গত কানাডায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

এখন পর্যন্ত ১৪ হাজার ৪২৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ২৫৮ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সেরে উঠেছেন ২৬০৩ জন।

এদিকে করোনাভাইরাসে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ৬৯ হাজার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ সময় সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ৪৭৯ জনে।

যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত বিশ্বে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১২ লাখ ৭৪ হাজার ৯২৩ জন।

চিকিৎসা নেয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২ লাখ ৬০ হাজার ২৪৭ জন।