Ashraful Islam, Author at 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live

n4yh.jpg

চিতাবাঘ শিকার করে, কেটে মাংস রান্না করে পিকনিক করেছিল চোরাকারবারীরা। পরিকল্পনা ছিল আরও বড়। ১০ লাখ টাকায় ওই চিতার চামড়া বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। তবে শেষ রক্ষা হলো না।

স্কুল ব্যাগ থেকে কয়েকদিন আগেই শিকার করা চিতাবাঘের রক্তমাখা চামড়া উদ্ধার হয়েছিল ভারতের জলপাইগুড়ির  গরুমারা অভয়ারণ্যের কাছ থেকে। চিতার মাংস দিয়ে বনভোজন, এ কথা ভারতের বন দফতরেরও ভাবনার অতীত ছিল। এই ঘটনায় চিতা বাঘের চামড়াসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেন বন দফরের কর্মকর্তারা।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, কিষান তামাং(৩৭), মোহন মুন্ডা (২৮), সঞ্জয় অধিকারী (২২), রঞ্জিত মোহন্ত (২৪) এবং বিকাশ রাই (৩০)।

এর আগে গরু মারার ভিতরে গন্ডার শিকার করে কেটে নেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছিল।

জলপাইগুড়ি বৈকুণ্ঠপুর বনবিভাগের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স-এর রেঞ্জার সঞ্জয় দত্তের নেতৃত্বে চিতার চামড়াটি উদ্ধার করা হয়। মোটরবাইকে করে এটি পাচার করা হচ্ছিল নেপালে। এর আগেই চিতার মাংস রান্না করে খাওয়ার কথা স্বীকার করেন অভিযুক্তরা। ১০ ফুট দৈর্ঘ্যের চামড়াটি আনুমানিক ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল  চোরাকারবারীদের।-এবেলা

mahbub5.jpg

রাজনীতি থেকে অবসরের চিন্তাভাবনা করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান। এরই মধ্যে দলের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও যোগদান থেকে বিরত রয়েছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজে থেকেই সরে দাঁড়ান তিনি। বিএনপির এই দুঃসময়ে কেন অবসরের কথা চিন্তা করছেন জানতে চাইলে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বয়স তো কম হলো না। শারীরিকভাবেও আমি অসুস্থ। তা ছাড়া বাংলাদেশে সুরাজনীতির ভবিষ্যৎও অন্ধকার। তরুণদেরও তো রাজনীতিতে জায়গা করে দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। তাই এখন আমার অবসর নেওয়াই উচিত।’

তবে রাজনীতি থেকে অবসরের জন্য বিএনপিকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি দেননি তিনি। দেশের বর্তমান রাজনীতি সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে জেনারেল মাহবুব বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘দেশে তো এখন রাজনীতি নেই। বিশেষ করে বিএনপির কোনো রাজনীতি দৃশ্যমান নয়। বাংলাদেশের সুরাজনীতির কোনো ভবিষ্যৎ অন্ধকার। সৎ রাজনীতি নেই। দুর্নীতির বিরুদ্ধে, মানুষের কল্যাণের রাজনীতি এমনকি দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নের রাজনীতি নিয়েও আমার মনে সন্দেহ চলে এসেছে। সুশাসন, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এগুলোর অভাব স্পষ্ট। বাংলাদেশে যারা সত্যিকারার্থে রাজনীতি করতে চান, তারাই এখন সন্দেহ অবিশ্বাসে ভুগছেন। দেশে চরম রাজনৈতিক অবক্ষয় ঘটছে। রাজনৈতিক সচেতনতাবোধ বা সৌজন্যতাবোধ নেই। প্রতিহিংসা আর জিঘাংসার রাজনীতি বিদ্যমান। নীতির প্রশ্নে আদর্শের প্রশ্নে রাজনীতি এখন দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে।’

বিএনপির রাজনীতি সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেন, ‘বর্তমান বিএনপির কঠিন দুঃসময় চলছে। এই সময় তাদের ধৈর্য ও সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। মন খারাপ করা যাবে না। দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আদর্শ, ভাবাদর্শ ও তার চেতনাকে পাথেয় হিসেবে নিতে হবে বিএনপিকে।’ বিএনপির রাজনীতি কোন পথে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতি সঠিক পথে নেই। অতীতে অনেক ভুলত্রুটি হয়েছে। এগুলো শুধরাতে হবে। এটা থেকে উত্তরণে সবাইকে জিয়ার আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তার চেতনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। বিএনপিতে অনেক ভালো নেতা রয়েছেন। দল থেকেই সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে। তাদের খুঁজে বের করে আনতে হবে।’

লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান ১৯৯৬ সালের ২০ মে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কঠিন দুঃসময়ে ১০ম সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৯৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর মাহবুবুর রহমান বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনয়নে দিনাজপুর-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য হওয়ার পর ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।  বিএনপির পঞ্চম ও ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে পরপর দুইবার তিনি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য পদে অলংকৃত হন। এখনো ওই পদে বহাল রয়েছেন তিনি।

5ne.jpg

ঠিকানা ও পদবি একই। শুধু বদলেছেন পরিচয়। আগে ছিলেন ‘শহীদ জিয়া একতা ক্লাব’-এ, এখন হয়েছেন ‘বঙ্গবন্ধু একতা ক্লাব’-এর সভাপতি। বলছি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীর খুরশিদ আলমের কথা। কয়েক দিন ধরে দুটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পৌর এলাকার গনিপুরের খুরশিদ আগে বিএনপি করলেও এখন রাতারাতি আওয়ামী লীগার হয়েছেন। সেই সঙ্গে স্থানীয় ঠেলাগাড়ির শ্রমিকদের সংগঠনের নেতাও তিনি।

শুধু খুরশিদ আলমই নন, এমন অনেক ‘খুরশিদ’ই এখন রাতারাতি খোলস পাল্টে ‘আওয়ামী লীগার’ হয়ে যাচ্ছেন। গ্রাম থেকে শহর সবখানেই এখন আওয়ামী লীগার হওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে। কেউ কেউ মুজিব কোট লাগিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন পাড়া-মহল্লা-ওলিগলি। আবার রাজধানীর অভিজাত এলাকায় নামীদামি ব্র্যান্ডের কাপড় দিয়ে মুজিব কোট বানানোর হিড়িক পড়েছে। শুধু রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীই নন, অনেক পেশাজীবীও  এখন টক শোতে মুজিব কোট পরা শুরু করেছেন। নিজেকে ‘আওয়ামী লীগার’ প্রমাণ করতে প্রাণপ্রণ চেষ্টা করছেন। শুধু টক শোই নয়, সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে তারা মুজিব কোট পরে হাজির হচ্ছেন। অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে চলছে দল ও পরিচয় পাল্টানোর প্রতিযোগিতা। সচিবালয়ে ভিড় বাড়ছে তাদের। কেউ কেউ আওয়ামী লীগের নেতা উল্লেখ করে ভিজিটিং কার্ডও বিলি করছেন, যারা বিএনপির পরিচয়ে ভিজিটিং কার্ডের মালিক ছিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি শ্রেণি আছে, যারা সব সময়ই সরকারি দলের লোক। সে কারণেই ক্ষমতাসীন দলে অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা বাড়ে। আর এ মুহূর্তে আওয়ামী লীগ সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। নিকট অতীতে উপমহাদেশে এত বিশাল জয় নিয়ে কেউ ক্ষমতায় আসতে পারেনি। তাই আওয়ামী লীগে আসতে চাইছে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর লোকজন। সে কারণে রাতারাতি দল বদল করে বিএনপি-জামায়াত থেকে আওয়ামী লীগ ‘তকমা লাগানো’র প্রতিযোগিতা শুরু করেছেন তারা। আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের পক্ষে অন্য দল থেকে যোগদানে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অনেক এমপি-মন্ত্রী ও নেতা নিজ বলয় ভারী করতে যোগদান করাচ্ছেন বা করিয়েছেন খোলস পাল্টানো ব্যক্তিদের। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান শুরু হয়। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপি ও কেন্দ্রীয় নেতাদের হাত ধরে জামায়াত-বিএনপির বহু নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এদের অনেকেই হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ ও নাশকতা মামলার আসামি। মামলা থেকে রেহাই পেতে তারা যোগ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগে। একইভাবে ৩০ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় আবার আওয়ামী লীগে যোগদান শুরু হয়েছে। এসব ব্যক্তির আওয়ামী লীগে যোগদানকে ভালোভাবে দেখছেন না দেশের বিশিষ্টজনেরা। তারা বলছেন, এটা শুধু আওয়ামী লীগের জন্যই নয়, দেশের জন্যও ভয়ংকর খারাপ। এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক টেলিফোনে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘পত্রপত্রিকায় দেখলাম একটি জেলায় গণধর্ষণকারী আওয়ামী লীগে যোগদান করেছে। আমি বলব, আওয়ামী লীগে এমন কাউয়া দরকার নেই। এরা শুধু আওয়ামী লীগেরই নয়, দেশের জন্যও ক্ষতিকর। এখন অনেকেই আওয়ামী লীগে আসতে চাইবে বা আওয়ামী লীগার সাজার চেষ্টা করবে। কারণ অনেকেই ফৌজদারি মামলা থেকে বাঁচার জন্য, অপরাধ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য দল বদলাবে। এসব কর্মীর দরকার নেই। এটাই শেষ নয়, আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতায় আসতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি প্রায় শেষ। তাই সবাই এখন আওয়ামী লীগ হতে চাইবে। কাজেই দলকে সতর্ক থাকতে হবে।’

সূূত্রমতে, গত ১০ বছরে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিএনপি, জামায়াত ও শিবিরের লোকেরা আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশের সুযোগ পেয়েছে তাদের অর্থবিত্তের সাহায্যে এবং আওয়ামী পরিবারের সঙ্গে কৌশলে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করে। বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালে তারা বৈধ ও অবৈধ পথে ব্যবসা-বাণিজ্য করে অঢেল অর্থের মালিক হয়। এখন বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতাহারা হওয়ার পর তারা এই অর্থ, ব্যবসা-বাণিজ্য রক্ষার জন্য নতুন কৌশল গ্রহণ করে। তারা আওয়ামী লীগের একশ্রেণির নেতা-কর্মীকে প্রলোভন দেখিয়ে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের পার্টনার করে ডিরেক্টর, ম্যানেজিং ডিরেক্টরের পদে বসায়। তখন এই পার্টনারদেরই দায়িত্ব হয় তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থসম্পদ রক্ষা এবং তা পাহারা দেওয়ার।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগকে এখন হাইব্রিড বা কাউয়া পরিহার করতে হবে। দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। কারণ যারা নিজেদের প্রয়োজনে আওয়ামী লীগে ভিড়ছে তারা সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কেটে পড়বে। দুর্দিনে থাকবে না। গত ১০ বছরকে ভুলে যেতে হবে। বড় বিজয়ে বড় শঙ্কা থাকে। সতর্কভাবে পথ চলতে হবে। জামায়াত-বিএনপি থেকে নেতা-কর্মীকে দলের টানা যেমন বন্ধ করতে হবে, যারা খোলস পাল্টে মুজিব কোট পরে আওয়ামী লীগার হওয়ার চেষ্টা করছে তাদেরও চিহ্নিত করতে হবে। টানা হ্যাটট্টিক জয়ে ক্ষমতায় আসার পর মুজিব কোট পরা পেশাজীবীদের চিনে রাখতে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘রাতারাতি সাইনবোর্ড পরিবর্তন করে অন্য দল থেকে আওয়ামী লীগে আসতে চাইলে তাকে নেওয়া যাবে না। আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনার নাম ব্যবহার করে কোনো সংগঠন তৈরি করতে দেওয়া যাবে না। কারণ তারা আদর্শ নিয়ে দল করতে আসে না। তারা আসে ক্ষমতা ভোগ করতে। পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, এরাই হত্যা, অপহরণ, খুন ও ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটায়। ফলে দায়ভার আওয়ামী লীগের ওপর পড়ে। এখন দল টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায়। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগকে সতর্ক থাকতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘যারা জীবনে এক দিনও আওয়ামী লীগ করেনি, বা দলের জন্য ঝুঁকি নেয়নি, টক শোতে কথা বলেনি, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। তারা এমপি-মন্ত্রীদের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করবে। তবে সতর্কভাবে তাদের হ্যান্ডলিং করতে হবে।’ এদিকে রাজনীতিতে ‘অতিথি পাখি’র আগমনে দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা-কর্মীরা অভিমান করে রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার কথা ভাবছেন। একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে অভিনেত্রী থেকে শুরু করে দল করেন না এমন ব্যক্তিরাও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করায় ক্ষোভ ঝাড়ছেন কেউ কেউ। এদের একজন সাবিনা আকতার তুহিন। দলের দুর্দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে স্লোগানকন্যা হিসেবে পরিচিত ছিলেন তুহিন। তিন দিন আগে তিনি তার ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘রাজনীতি থেকে মনে হয় বিদায় নিতে হবে। নায়ক-নায়িকাদের এত ভিড়ে আমাদের আর দেখা পাওয়া কঠিন। আন্দোলন-সংগ্রামে রোদে পোড়া শরীর এখন কিছুটা ভালো দেখতে হলেও নায়িকাদের রূপে বিলীন।’ তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকতে এত লোক, বিরোধী দলে থাকতে তো দেখি নাই। মেয়েদের রাজনীতিতে কেবলই জ্বালা, নায়িকাজ্বালা। আবার মেয়ে হওয়ার জন্য পুরুষের চেয়ে বেশি কাজ করলেও সাধারণ আসনে নমিনেশন দেওয়া যাবে না। সরকারি দলের চেয়ে তো বিরোধী দলেই ভালো ছিলাম, নিজেদের দল নিজেদের ছিল। এখন মহাবিপদ। আমাদের দল ছিনতাই করছে বিএনপি থেকে আমদানি হওয়া হাইব্রিড নায়িকারা।’

smartphone.-1.jpg

চোরাইপথে মোবাইল ফোন আমদানির কারণে বৈধ আমদানিকারকরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।ক্ষতির হাত থেকে মোবাইল শিল্প রক্ষায় নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার মোবাইল ফোনের ডাটাবেজ (তথ্যভাণ্ডার) উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছে বিটিআরসি। ডাক, টেযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বিটিআরসিতে আইএমইএ ডাটাবেজ উদ্বোধন করবেন।এ সময় তিনি একটি শর্টকোর্ডও চালুর ঘোষণা দেয়ার কথা রয়েছে।

বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে,শুধুমাত্র একটি এসএমএসের মাধ্যমে আসল মোবাইল ফোনটি যাচাই করা হবে। এ জন্য মোবাইল ফোনের ডাটাবেজ (তথ্যভাণ্ডার)সংরক্ষণের কাজ চলছে।

নিয়ম অনুযায়ী মোবাইল ফো্ন আমদানির জন্য বিটিআরসি থেকে অনুমোদন ও একটি নমুনাও নিতে হয়। তবে অসাধু ব্যবসায়ীরা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধপথে মোবাইল আমদানি করে থাকেন। তাদের অবৈধ ব্যবসা ঠেকাতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক জানান, ২০১৭ সালে ৩ কোটি ৪৬ লাখ হ্যান্ডসেট থাকলেও ২০১৮ সাল শেষে তা হয়েছে ৩ কোটি ৩৫ লাখ। এক বছরে কমেছে ১১ লাখ।

২০১৭ সালে মোবাইল গ্রাহক ছিল ১৪ কোটি ৫১ লাখ; এক বছর পর তা বেড়ে হয়েছে ১৫ কোটি ৬৯ লাখ

বিএমপিআইএ এর সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া শহীদ বলেন, অসাধুভাবে মোবাইল আমদানির কারণে আমার বন্ধের জন্য পরিকল্পনার দাবি জানিয়েছি। এছাড়া তথ্যভাণ্ডার চালুর ফলে গ্রাহকরা জানতে পারবেন মোবাইল ফোনটি আসল না নকল।

yabawhite3.jpg

দেশে প্রথম বারের মতো সাদা ইয়াবা উদ্ধার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একই সঙ্গে গ্রেফতার হয়েছে মো. ইদ্রীস (২২) নামের এক কিশোর।

রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরের ফিরিঙ্গীবাজার এলাকা থেকে এক হাজার পিস ইয়াবাসহ ওই কিশোরকে গ্রেফতার করা হলেও সোমবার সন্ধ্যায় এক বার্তায় গণমাধ্যমে খবরটি জানানো হয়।

ওই বার্তায় বলায়, লাল ও হলুদ রঙের ইয়াবার পর এবার মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ‘সাদা ইয়াবা’ ঢুকছে। তবে লাল ইয়াবার অবয়বে আকারে সামান্য ছোট করে তৈরি এসব ইয়াবা। বালতির তলানিতে ইয়াবা রেখে উপরে আরো একটি তলার আবরণ লাগিয়ে সেখানে ইয়াবার এ চালান লুকানো ছিল।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা আগে লাল ও হলুদ রঙের ইয়াবা দেখেছি। সম্প্রতি পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে নতুন রঙের ইয়াবা তৈরি শুরু করেছে মাদক কারবারিরা।’

এদিকে নারকেলের ভেতর লুকিয়ে আনা ১ হাজার ৬৬৩ পিস ইয়াবাসহ রাকিব হোসেন বাবু (৩০) নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশের অপর একটি টিম।

সোমবার ভোরে নগরের লালদীঘি জেলা পরিষদ মার্কেটের সামনে ঢাকা মুখি ইউনিক পরিবহনের একটি বাস থামিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
রাকিব হোসেন বাবু লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর এলাকার আবু তাহেরের ছেলে। তবে ঢাকার মিরপুরে তার অবস্থান। নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আসিফ মহিউদ্দীন খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

ACC.jpg

রাজধানীতেই ৫টি বাড়ি, গাজীপুরে একরের পর একর জমি। জন্মভূমি কুমিল্লাতেও একই অবস্থা। পিছিয়ে নেই স্ত্রীও। তার নামেও রয়েছে জমাজমি আর পুঁজিবাজারে বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ।

তবে সম্পদের এই ‘কুমির’ ঢাকা পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী মো. রমিজ উদ্দিন সরকার বলেন, আমাকে হ্যারাসমেন্ট করার জন্য, এটা ভুয়া। চাকরি করি কিছু সম্পত্তি তো আছে, তবে ইনকাম ট্যাক্সে ফাইলে যা আছে। তার বাইরে আমার কিছু নেই।’

বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পত্তির সন্ধান পেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করেছে। এরই প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে রমিজ উদ্দিনকে তার সম্পদের বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গতকাল রোববার দুদকের উপ-পরিচালক ঋত্বিক সাহা স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ নির্দেশ দেয়া হয়।

দুদক সূত্র জানায়, রমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্তে গিয়ে তারা প্রাথমিকভাবে অবৈধ সম্পদের পাহাড় পেয়েছেন।

জানা গেছে, রমিজ উদ্দিনের নামে রাজধানীর উত্তরা ৫নং সেক্টরের ২নং রোডে সাততলা, মিরপুরের পূর্ব মনিপুর ১৩০৭/ডি ছয়তলা, মিরপুরের ২৮ মল্লিকা মিল্কভিটা রোডে চারতলা ফ্ল্যাট, রামপুরা মহানগর হাউজিংয়ে ৮নং রোডের ২০২ ব্লক-ডি তে ৪.৫ কাঠা জমির উপর ৫টি দোকান ও টিনসেড বাড়ি, পূর্ব রামপুরা ১৭৭/৫/১ এলাকায় ৯.৪৮ শতাংশ জমি ওপর বাড়ির তথ্য পেয়েছে।

টঙ্গী ও গাজীপুরে নামে-বেনামে ৩০ একর জমি রয়েছে। কুমিল্লায় গ্রামের বাড়িতেও রয়েছে একরে একরে জমি। জেলার মুরাদনগরে স্ত্রী সালমা পারভীনের নামে রয়েছে ৫০ বিঘা জমি।

পুঁজিবাজারে এই দম্পতির নামে বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ ছাড়াও নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ রয়েছে।

এ ছাড়া রমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে গাজীপুরে জমি বিক্রি করে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার এবং পরে বাংলাদেশে ফেরত আনার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুদক।

তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফেনে বিস্তারিত কথা হয়। অবৈধ সম্পদের কথা তিনি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার যা কিছু সম্পদ আছে। সবকিছু ইনকাম ট্যাক্সে ফাইলে আছে। এর বাইরে কিছু নেই।’

ঢাকায় ৫টি বাড়ির বিষয়ে জানতে বলেন, আমার ঢাকাতে ৫টি বাড়ি নেই। দুটি বাড়ি আছে- একটা মিরপুরের পূর্ব মনিপুর ১৩০৭/ডি ছয়তলা ও উত্তরা ৫নং সেক্টরের ২নং রোডে সাততলা বাড়ি যেখানে আমি থাকি।

মিরপুরের ২৮ মল্লিকা মিল্কভিটা রোডে চারতলা ফ্ল্যাট সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, না। সেখানে কোনো বাড়ি নেই আমার।

তার কাছে রামপুরা মহানগর হাউজিংয়ে ৮নং রোডের ২০২ ব্লক-ডি তে ৪.৫ কাঠা জমির উপর ৫টি দোকান ও টিনসেড বাড়ি সম্পর্কে জনতে চাইলে বলেন, এসব কিছু নেই। যা আছে আমার ইনকাম ট্যাক্সের মধ্যেই রয়েছে।

আর পূর্ব রামপুরা ১৭৭/৫/১ এলাকায় ৯.৪৮ শতাংশ জমি ওপর বাড়ি সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, এটা ডেভেলপার কোম্পানিকে দেওয়া আছে, আমার স্ত্রীর নামে।

অন্যদিকে টঙ্গী-গাজীপুর জমির কথা বললে তিনি বলেন, এটা ভুয়া।

তার স্ত্রীর নামে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের বিষয়ে বলেন। হ্যাঁ শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ আছে। সেটা আমার ইনকাম ট্যাক্স ফাইলে আছে।

আর জন্মভূমি কুমিল্লাতে সম্পদের কথা জানতে চাইলে বলেন, পৈত্রিক সম্পত্তি কিছু আছে আমার।

তিনি বলেন, কিছু সম্পদ তো থাকবে, মানুষ কি সম্পদ ছাড়া থাকবে।

তার বেতন সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, আমার আড়াই লাখ টাকা বেতন।

তার স্ত্রীর পেশা সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, আমার স্ত্রী গৃহিণী প্লাস শেয়ার ব্যবসায়ী।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি ৩৭ বছর ধরে ডিপিডিসিতে চাকরী করি। এসময় আরও কিছু (বিদ্যুৎ নিয়ে) কাজ করতে চেয়েছিলাম। সেটা বাধাগ্রস্ত করতে হ্যারাসমেন্ট করা হচ্ছে।

মিথ্যা অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো আইনি পদক্ষেপ নিবেন কিনা জানতে চাইলে বলেন, দুদক ডাকলে আমার জায়গা সেভাবে তার উত্তর দিবো।

দুদক সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে রমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ আসে। এরপর অনুন্ধান কর্মকর্তা উপ-সহকারি পরিচালক শহিদুর রহমানের নেতৃত্বে দুদক প্রাথমিকভাবে রমিজের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমে এসব সম্পদের তথ্য পায়।

Finance-1.jpg

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে লস করতে হলে পরিকল্পনার প্রয়োজন হবে। আর লাভ করতে চাইলে পরিকল্পনার প্রয়োজন নেই, বিনিয়োগ করলেই হবে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য উত্তম জায়গা।

সোমবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের অর্থমন্ত্রীর সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন কোইকার প্রেসিডেন্ট লি মি কিউং। এসময় বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আগামীতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার জন্য জায়গা পাওয়া যাবে তাই এখনই বিনিয়োগের উত্তম সময়।

স্পেশাল ইকোনোমিক জোন করে কাইকো খুবই লাভজনক ব্যবসা করতে পারবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন,  বাংলাদেশে স্পেশাল ইকোনোমিক জোনের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল। দিনে দিনে শুধু সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে  বাংলাদেশ। অগ্রগতির সকল খাতে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে।

এসময় কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির প্রেসিডেন্ট লি মি কিউং বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ ভালো। আমি দেশে ফিরে বাংলাদেশকে তুলে ধরবো, যাতে বিনিয়োগকারিরা এদেশে আসেন।

ঢাকার যানজট ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন ও বাংলাদেশে বিনিয়োগে ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়ে তিনি বলেন, এক সময় তাদের দেশেরও এ অবস্থা ছিল। এটা সমাধানযোগ্য। তাই তিনি দেশে ফিরে কোরিয়ার যারা এই সমস্যা নিয়ে কাজ করেন তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা দেবেন।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় যেভাবে বাঙালিরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। সেই অবস্থা বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। এজন্য সাময়িক সমস্যা হলেও আশা করছি এ সমস্যার সমাধান হবে।

এসময় অর্থমন্ত্রী বলেন, কোরিয়া ক্যাপাসিটি বিল্ডিং, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, আইসিটি, মানবসম্পদ উন্নয়ন ইত্যাদি খাতে সহায়তা দিয়ে আসছে। ঢাকায় আন্ডাগ্রাউন্ড সাবওয়ে তৈরি হচ্ছে। এটি হলে যানজট কমবে। তাছাড়া ঢাকা শহরকে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রামের যাতায়াতের সময় কমাতে দ্রুতগতির ট্রেন চালু করা হবে। যাতে ১ ঘণ্টা ৫ মিনিটে যাতায়াত করা যাবে। এছাড়া গ্রামগুলোকে শহরে রূপান্তরিত করা হচ্ছে, যাতে গ্রামের মানুষকে আর শহরে আসতে না হয়।

অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল জানান, বাংলাদেশের সমুদ্রসৈকতকে দুই ভাগে ভাগ করা হবে। একদিকে থাকবে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য আর অন্যদিকে থাকবে দেশীয় পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত।

ishant-20190121213619.jpg

হাসি-কান্না মিলিয়েই ক্রীড়াবিদদের জীবন। আজ হাসবেন তো কাল কাঁদতে হবে না এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। কোন দিন জয়ীর হাসি কিংবা কোন দিন পরাজিতের গ্লানি সঙ্গী হবে তা বলতে পারে না কেউই। সাফল্যের পাশাপাশি ব্যর্থতাকে সত্য মেনে নিয়েই এগিয়ে যায় ক্রীড়াবিদদের জীবন।

কোন দিন খেলায় হেরে গেলে সে ম্যাচের দুঃখ বা হতাশা ঠিক কতদিন পোড়াতে পারে একজন খেলোয়াড়কে? কতদিনই বা অশ্রুসিক্ত হতে পারে একজন খেলোয়াড়ের চোখ? স্বাভাবিকভাবে হয়তো ৩-৪ দিন কিংবা বড়জোর এক সপ্তাহ তাড়িয়ে বেড়ায় সে গ্লানি।

কিন্তু ভারতের ৩০ বছর বয়সী পেসার ইশান্ত শর্মা নিজ দেশ ভারতকে এক ম্যাচে হারিয়ে কেঁদেছেন টানা ১৫ দিন। স্থানীয় এক সংবাদমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ তথ্য নিজেই জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনা ২০১৩ সালের। পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল তখন অবস্থান করছে ভারতে। সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার সামনে ৩০৪ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছিল স্বাগতিকরা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৪৭ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেট হারিয়ে ২৬০ রান।

ম্যাচ জিততে হলে শেষের ১৮ বল করতে হতো ৪৪ রান। অধিনায়ক ধোনি বোলিংয়ে ডাকেন তখনো পর্যন্ত ৭ ওভারে ৩৩ রান খরচ করা ইশান্ত শর্মাকে। কিন্তু সে ওভার করতে গিয়ে বিপত্তি বাঁধান ইশান্ত। অসি অলরাউন্ডার জেমস ফকনারের কাছে ৪টি ছক্কা ও ১টি চারের মারে মোট ৩০ রান দিয়ে বসেন তিনি।

৭ ওভার শেষে মাত্র ৩৩ রান খরচ করা ইশান্তের বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৮ ওভার শেষে ৬৩ রান। শেষপর্যন্ত ভারতও ম্যাচটি হেরে যায় ৪ উইকেটের ব্যবধানে। মাত্র ২৯ বলে ৬৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে জেতান ফকনার।

সে ম্যাচে ৪৮তম ওভারে দেয়া সেই ৩০ রানের কথা দীর্ঘদিন তাড়িয়ে বেড়িয়েছে ইশান্তকে। নিজ দেশকে হারানোর অনুতাপে টানা ১৫ দিন কেঁদেছেন তিনি। সে সময়ের কথা মনে করে ইশান্ত বলেন, ‘আমি শুধু একদিনই কান্না করিনি…অন্তত ১৫ দিন কেঁদেছি সেই ম্যাচের পর। আমি সবসময় ভালো করার জন্য দৃঢ়প্রত্যয়ী। আমি অন্য কাউকে দায়ী করে পালিয়ে বেড়ানোর মানুষ নই। সেদিন সবকিছু আমার বিপক্ষে গিয়েছিল। আমি ভারতের পক্ষে একটি ম্যাচ হেরে গিয়েছিলাম।’

সেসময় ইশান্তকে এমন অবস্থায় দেখে হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন তার স্ত্রী প্রতিমা সিংও। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমি সেদিনের আগে কখনো তার (ইশান্ত) চোখ ভিজতেও দেখিনি। কিন্তু তখন সে রীতিমতো কাঁদছিল, আমি কখনো কল্পনাও করিনি এমন দৃশ্য দেখবো। আমি তাকে বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম যে ক্রিকেটই জীবনের সব নয়। জীবন আরও অনেক বড়।’

food-20190121190843.jpg

ভোক্তা ও ভোজনরসিকদের স্বার্থ রক্ষায় রোববার ঢাকার ৫৭টি রেস্টুরেন্টকে মান বিবেচনায় ‘এ-প্লাস’ (উত্তম) ও ‘এ’ (ভালো) গ্রেডের স্বীকৃতি দিয়েছিল বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। তবে স্বীকৃতি পাওয়ার পরদিন ‘ভালো’ তিনটি রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে পাওয়া গেল বাসি খাবার আর নোংরা পরিবেশ!

রেস্টুরেন্টগুলো হচ্ছে সেগুনবাগিচা এলাকার ভোঁজ বাংলার স্বাদ, বাগিচা রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি সেন্টার, ইনজয় রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ফাস্ট ফুড।

সোমবার এই তিন রেস্টুরেন্টে অভিযান চালায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। রেস্টুরেন্টের ‘দুর্দশা’ দেখে তাদের ১ লাখ টাকা করে মোট ৩ লাখ জরিমানা করা হয়েছে।

অভিযানটি পরিচালনা করেন অধিদফতরের ঢাকা জেলা অফিসের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডল ও জান্নাতুল ফেরদাউস।

southeast

আব্দুল জব্বার মণ্ডল বলেন, সেগুনবাগিচা এলাকায় তিনটি নামি-দামি রেস্টুরেন্টে অভিযান চালানো হয়। রেস্টুরেন্টগুলো ‘এ’ ক্যাটাগরির (ভালো মানের স্বীকৃতি) স্টিকারপ্রাপ্ত। বাগিচা রেস্টুরেন্টে অভিযানে গিয়ে নোংরা অপরিছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরির চিত্র দেখা যায়। এছাড়াও তাদের ফ্রিজে কয়েকদিনের বাসি খাবার রাখা ছিল। তারা সেসব খাবার ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছে। এছাড়াও তারা ১৬ টাকার সফট ড্রিংকস ২৫ টাকায় বিক্রি করছে। আইন অনুযায়ী এটি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।

তিনি আরও বলেন, একইভাবে ভোঁজ বাংলার স্বাদ (রেস্টুরেন্ট)-এ গিয়ে নোংরা অপরিছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি ও পুরনো বোতলে বোরহানি বিক্রির চিত্র দেখা যায়। ইনজয় রেস্টুরেন্টে মেয়াদোত্তীর্ণ দই বিক্রির প্রমাণ মিলেছে । এছাড়াও তাদের কোনো পণ্যের মূল্য তালিকা ছিল না। এসব অভিযোগে তিন প্রতিষ্ঠান প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

এ সময় তিনটি প্রতিষ্ঠানই তাদের ভুল স্বীকার করে। একই সঙ্গে আগামী দুই এক দিনের মধ্যে সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দেয় বলে জানান জব্বার মন্ডল।

এছাড়াও অভিযানে প্রেসলি বেকারিকে ৩৫ হাজার টাকা এবং তওফিস ফ্যামিলি কর্নারকে ১০ হাজার টাকা জারিমানা করা হয়।

southeast

ভোক্তার সহকারী পরিচালক বলেন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ তাদের মান দেখে স্টিকার দিয়েছে। এখন তারা নিয়ম না মানলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাদের আমরা তদারকি করবো। এরই অংশ হিসেবে আজকে তিনটিকে জরিমানা করা হয়েছে। আগামীতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

এর আগে রোববার রাজধানীর মতিঝিল, দিলকুশা, পল্টন ও সচিবালয়সহ কয়েকটি এলাকায় পাইলট প্রকল্প ১৮টি এ-প্লাস এবং ৩৯টি এ গ্রেডের স্টিকার দেয়া হয়।

গ্রেডিং সিস্টেমের আওতায় খাবারের মান, বিশুদ্ধতা, পরিবেশ, ডেকোরেশন, মনিটরে রান্না ঘরের পরিবেশ দেখা যাওয়ার ব্যবস্থা ও ওয়েটারদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ভিত্তিতে রেস্তরাঁগুলোতে চার ক্যাটাগরিতে চিহ্নিত করা হবে। এসব বিচারে ৯০ নম্বরের বেশি স্কোর হলে সবুজ বর্ণের স্টিকার ‘এ+’, স্কোর ৮০’র ঊর্ধ্বে হলে নীল বর্ণের স্টিকার বা ‘এ’, ৫৫ থেকে ৭৯ পর্যন্ত স্কোর হলে হলুদ বর্ণের ‘বি’ এবং ৪৫ থেকে ৫৫ স্কোর হলে কমলা বর্ণের ‘সি’ ক্যাটাগরির স্টিকার দেয়া হবে।

ershad-20190122003635.jpg

সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ শারীরিকভাবে ভীষণ দুর্বল। সম্প্রতি তার হার্টের ভাল্ব লাগানো, লিভারের সমস্যা ও রক্তে ইনফেকশনসহ বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি ঘনঘন অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

দেশে থাকলে সিএমএইচে ও দেশের বাইরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এরশাদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী দু-একদিনের মধ্যে চিকিৎসায় কোনোপ্রকার উন্নতি হয়েছে কি না- সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সোমবার রাতে বেসরকারি একাত্তর টেলিভিশনের একাত্তর জার্নাল অনুষ্ঠানে উপস্থাপিকা ও আলোচকদের প্রশ্নের জবাবে এরশাদের সহোদর জাতীয় পার্টির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের এরশাদের ঘনঘন অসুস্থ হওয়া ও বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে এসব কথা বলেন।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া ও দলে রওশনের অবস্থান সম্পর্কে জিএম কাদের বলেন, ভাই পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে তার অনুপস্থিতিতে আমাকে দলের চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে গেছেন। বেগম রওশন এরশাদের অবস্থান দলে আগে যেমন ছিল এখনও তেমনি আছেন।

এরশাদের অনুপস্থিতিতে তিনিই বিরোধীদলীয় উপনেতার দায়িত্ব হয়তো পালন করে যাবেন বলে তিনি জানান।