Ashraful Islam, Author at 24/7 Latest bangla news | Latest world news | Sports news photo video live - Page 2 of 3192

kader32.jpg

তদন্তের মাধ্যমে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর রহস্য উন্মোচিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) আয়োজিত সেবা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। এতে সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন ওবায়দুল কাদের।

লেখক মুশতাক আহমেদের কারাগারে মৃত্যুর বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মনে করেন তিনি বলেন, এই দুঃখজনক মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্তাধীন। তদন্তাধীন ইস্যুতে একটি কুচক্রী মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা করছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে লেখক মুশতাকের মৃত্যুর রহস্য উন্মোচিত হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য একদিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা যেমন জরুরি, তেমনি এ আইনের অপপ্রয়োগ যাতে না হয় সে বিষয়ে সরকার সচেষ্ট।

তিনি বলেন, সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী, স্বাধীনতা মানে এই নয়, যে যার মতো যা খুশি বলার নিরঙ্কুশ বা একচেটিয়া অধিকার থাকবে। অন্যের মতামতকে সম্মান জানানোও স্বাধীন মতপ্রকাশের সীমানাভুক্ত। সরকার অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে এই আইনের ব্যবহার নিয়ে। কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা যাতে এ আইনের অপব্যবহার করতে না পারে সেদিকে নজর থাকা জরুরি।

সেতুমন্ত্রী বলেন, আজ হতে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। অবসান হতে যাচ্ছে দীর্ঘ অপেক্ষার। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বিভাগীয় পর্যায়েও লাইসেন্স প্রদানের কাজ শুরু করা হবে। লাইসেন্স সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে হবে।

যানবাহনে ফিটনেস গ্রহণের বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে সরকার সেবা সহজীকরণে এবং গ্রাহকদের সুবিধার্থে দেশের যে কোনো সার্কেল অফিস হতে যানবাহনের ফিটনেস সনদ গ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছে।

বিআরটিএকে একটি সঠিক সেবামুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের সেবা পেতে এখনও গ্রাহক ভোগান্তি আছে। তবে এ ভোগান্তি প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে কমে আসছে। ডিজিটাল সেবার আওতা বাড়ানা গেলে দুর্নীতি ও অনিয়ম অনেকটা কমে যাবে।

বিআরটিএতে দালালের দৌরাত্ম্য এখনো আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অফিসের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে, তাদের সখ্যতায় গড়ে উঠেছে এ চক্র।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বিভাগীয় কমিশনারদের নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, পরিবহন বিষয়ক যে কোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা নিয়ে কাজ করতে হবে এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।

মন্ত্রী সড়ক-মহাসড়কে বেপরোয়া গাড়ি চালানো বন্ধ করতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দিয়ে বলেন, ইতোমধ্যেই সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সভায় এ বিষয়ে কৌশল নির্ধারণে একটি সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে দলটির কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত যথাযোগ্য মর্যাদায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা ও ভাষণ প্রচারের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালনের আহ্বান জানান। তিনি আওয়ামী লীগের সকল সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলেকেও দিবসটি পালনের আহ্বান জানান।

শিক্ষার উন্নয়ন ও প্রসারে সরকারের নানা উদ্যোগের চিত্র তুলে ধরে এ ক্ষেত্রে বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাসহায়তা ট্রাস্ট থেকে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপবৃত্তি, টিউশন ফি, ভর্তি সহায়তা ও চিকিৎসা অনুদান বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শিক্ষাসহায়তা ট্রাস্টের মাধ্যমে সারাদেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাসহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। আমরা শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। এ ক্ষেত্রে বিত্তশালীরাও এগিয়ে আসবেন। আমাদের শিক্ষাসহায়তা ট্রাস্ট ফান্ডে সহায়তা করবেন বা নিজ নিজ এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহায়তা করবেন। নিজে যে প্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনা করেছেন, সেটার উন্নয়নে ও সেখানকার শিক্ষার্থীদের সহায়তায় এগিয়ে আসলেই তো হয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এক কোটি ৬৩ লাখ ৮০০ শিক্ষার্থীর মাঝে ৮৭ কোটি ৫২ লাখ টাকার শিক্ষা সহায়তা প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন ঘোষণা করছি। ২০১০ থেকে ২০২১ পর্যন্ত ৩৬৬ কোটি বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। করোনার মধ্যে এ বছরও এটি বন্ধ হয়নি। এজন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ৩০ মার্চের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়ারও ব্যবস্থা করছি। আমরা শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বদ্ধ পরিকর।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘২০০৯ সালে সরকার গঠন করে এই ট্রাস্ট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। ২০১২ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করি। এর মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে উপবৃত্তি, টিউশন ফি, ভর্তি সহায়তা ও চিকিৎসা অনুদান দেয়া হচ্ছে। উচ্চশিক্ষায় ফেলোশিপ দেয়া হচ্ছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৯৬ এ সরকার গঠন করে সারাদেশে শিক্ষা প্রসারে উদ্যোগ নিই। নিরক্ষরতামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন শুরু করি। সেটাতে সাফল্যও পেয়েছি। শিক্ষাকে বহুমুখী করার পদক্ষেপ নিই। প্রযুক্তির শিক্ষারও গুরুত্ব দিয়েছি। বাংলাদেশের প্রথম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ও আওয়ামী লীগ সরকার করে।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট চায়নি এদেশের মানুষ শিক্ষিত হোক। ৯৬-এ আমাদের নেয়া উদ্যোগগুলো তারা বন্ধ করে দেয়।

গণভবন প্রান্ত থেকে এ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব আমিনুল ইসলাম খান প্রমুখ।

Ashraful-Alam-Khokan.gif

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন নিজ পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন। অব্যাহতির কারণ জানিয়ে রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে আবেগঘন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন আশরাফুল আলম খোকন।

ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘যাত্রাটা শুরু হয়েছিল ১৮ আগস্ট ২০১৩। বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদের মাত্র ৫ মাস বাকি তখন। যুক্তরাষ্ট্রের আয়েশি জীবন ছেড়ে অনিশ্চয়তার পথে এসে হেঁটেছিলাম। কারণ তখন সবেমাত্র আওয়ামী লীগ ৫টা সিটি করপোরেশনে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে হেরেছে। হেফাজত, বিএনপি, জামাতের বাঁশেরকেল্লা বাহিনীর অপপ্রচারে ত্রাহি অবস্থা। ওই সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে সুযোগ দিয়েছেন তার উপ-প্রেস সচিব হিসেবে কাজ করার। সরকারের কাজের প্রচার-প্রচারণা, গুজব প্রতিরোধ ও মিডিয়া সেক্টর নিয়ে কাজ করেছি। তবে তখনো সরকারের ব্যাপক উন্নয়নের সুনাম ছিল। আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তি ইমেজ ছিল এখনকার মতোই প্রতিদ্বন্দ্বিহীন।’

তিনি আরও লেখেন, ‘ছোট সময় থেকে এই দলটির সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার কারণে এই দায়িত্ব ছিল আমার জন্য বিশাল প্রাপ্তি ও সম্মানের। একে তো দেশের প্রধানমন্ত্রী আবার তিনি যদি হন বঙ্গবন্ধু কন্যা। পরপর তিন তিনবার নিয়োগ পাবার মত ভাগ্যবান একজন আমি। ১৭ কোটি মানুষের দেশে এই সৌভাগ্য কয়জনের হয়। আমি সেই ভাগ্যবানদের একজন। অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি। আমৃত্যু এই ঋণ শোধ হবে না। জীবনে যখন যেখানে যেভাবে থাকবো, শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও দল ও নেত্রীর জন্য কাজ করে যাব।’

খোকন আরও লেখেন, ‘সুখবর হচ্ছে, আমি সাংবাদিকতার ওপর আরো পড়াশোনা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের Hofstra University -তে একটি স্কলারশিপ পেয়েছি। গত সেপ্টেম্বরেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিশ্চিত করা হয়। সুযোগটি আমি হাতছাড়া করতে চাইনি। কারণ আমি মিডিয়াতে কাজ করা মানুষ। এই সেক্টরেই কাজ করে যেতে চাই। আর উচ্চশিক্ষার প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দুর্বলতা সবাই জানেন। তাদের পরিবারের সকলকেই তিনি উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে আমাকেও তিনি সেই সুযোগটি দিয়েছেন। কৃতজ্ঞতা নেত্রীর প্রতি।’

তিনি লেখেন, ‘আজ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, আমি আমার পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য আবেদনপত্র দিয়েছি। কারণ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে শিক্ষাছুটির কোনো বিধান নাই। খারাপ সময়ে যোগদান করে ভালো সময়ে এসে সাড়ে সাত বছরের জার্নি আপাতত শেষ করতে যাচ্ছি। হয়তো আবার দেখা হবে। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে যাদের সহযোগিতা পেয়েছি, তাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ। বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, ব্যক্তিগত অনুবিভাগ, দলের নেতাকর্মী এবং সর্বোপরি দেশের সকল মিডিয়ার আলোকিত মানুষেরা। যাদের সহযোগিতা পাইনি, ক্রমাগত বিরোধিতা ও প্রতিবন্ধকতা পেয়েছি তাদের প্রতিও অনেক কৃতজ্ঞতা। কারণ তাদের কারণে আমি এই বয়সেই অনেক কিছু শিখেছি যা বাকি জীবন পথ চলতে অনেক সহায়ক হবে। সবাই ভালো থাকবেন। জয়বাংলা…’

tunnel6z.jpg

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে দেশের প্রথম নির্মাণাধীন সরকারের অন্যতম মেগা প্রকল্প বঙ্গবন্ধু টানেলের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যেই প্রকল্পের প্রায় ৬৪ ভাগ কাজ সমাপ্ত হয়েছে।

টানেলের প্রথম টিউবের ভেতরে গাড়ি চলাচলের জন্য পিচঢালা রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে দ্বিতীয় টিউব তৈরির কাজও চলছে পুরোদমে। ইতোমধ্যে দ্বিতীয় টিউবের প্রায় ২২৪ মিটার বোরিং কাজ শেষ হয়েছে।

আগামী বছরের শেষ নাগাদ বহুল প্রত্যাশার এই টানেলের ভিতর দিয়ে গাড়ি চলাচল শুরু হতে পারে। আর প্রথম বছরে টানেল দিয়ে চলাচল করবে ৬৩ লাখ গাড়ি।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, এই টানেল দিয়ে প্রথম বছরে ৬৩ লাখ গাড়ি চলাচল করবে। কয়েক বছরের মধ্যে গাড়ি চলাচলের পরিমাণ ১ কোটি ৪০ লাখে পৌঁছবে। এসব গাড়ির প্রায় ৫১ শতাংশ কন্টেইনারবাহী ট্রেইলর, বিভিন্ন ধরণের পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান। বাকি ৪৯ শতাংশের মধ্যে ১৩ লাখ বাস, মিনিবাস ও মাইক্রোবাস। ১২ লাখ কার, জিপ ও বিভিন্ন ধরনের ছোট গাড়ি।

৩ দশমিক ৪০ কিলোমিটার মূল টানেলের সঙ্গে উভয় প্রান্তে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মিত হবে। নদীর তলদেশে এর গভীরতা হবে ১৮ থেকে ৩১ মিটার। চারলেনের টানেলে দুটি টিউব থাকবে। টানেলের ভেতরে দুটি টিউবে ওয়ানওয়ে গাড়ি চলবে। একটি দিয়ে শহর থেকে আনোয়ারামুখী গাড়ি যাবে, অপরটি দিয়ে আনোয়ারা থেকে শহরমুখী গাড়ি আসবে। একটি টিউব ১০ দশমিক ৮ মিটার বা ৩৫ ফুট চওড়া এবং উচ্চতায় হবে ৪ দশমিক ৮ মিটার বা প্রায় ১৬ ফুট।

জানা যায়, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর আনোয়ারা প্রান্ত থেকে টানেলের দ্বিতীয় টিউব নির্মাণের কাজ শুরু হয়। প্রথম টিউব থেকে ১২ মিটার দূরে নির্মাণ করা হচ্ছে শেষ টিউবটি। মাটির ১৮ মিটার থেকে ৪৩ মিটার নিচ দিয়ে যাবে টানেল বোরিং মেশিন। এছাড়া টানেলের শক্ত দেয়াল হিসেবে ২০ হাজারের বেশি সেগমেন্ট স্থাপন করা হবে দুটি টিউবে।

চীনের জিয়াংসু প্রদেশের জিংজিয়ান শহরে টানেলের সেগমেন্টগুলো তৈরি হচ্ছে। ওখান থেকে সেগমেন্ট জাহাজে করে এনে তলদেশে স্থাপন করে টানেল নির্মাণ করা হচ্ছে। ৮টি সেগমেন্টে দুই মিটারের একটি রিং তৈরি করে। বর্তমানে টানেল নির্মাণে দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ কার্যক্রম চালাচ্ছেন। চীন থেকে সেগমেন্টসহ আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্র আনার স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছে। ইতোমধ্যে ১০ হাজারের বেশি সেগমেন্ট স্থাপন করে প্রথম টিউব তৈরি করা হয়েছে।

কর্ণফুলী টানেলের প্রকল্প পরিচালক হারুনুর রশিদ চৌধুরী বলেন, ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে সড়ক তৈরির কাজ চলছে। ইতোমধ্যে টানেলের পতেঙ্গা থেকে আনোয়ারা প্রান্ত পর্যন্ত একটি টিউবের নির্মাণ শেষ হয়েছে। আনোয়ারা থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত আরেকটি টিউবের কাজ চলছে।

‘এছাড়া প্রথম টিউবের ভেতরে পতেঙ্গা অংশে আরসিসি ঢালাই দিয়ে ইন্টারনাল স্ট্রাকচারের কাজ চলছে। ইন্টারনাল স্ট্রাকচার (অবকাঠামো) তৈরির পাশাপাশি আনোয়ারা থেকে পতেঙ্গা প্রান্তে টিবিএম মেশিন দিয়ে দ্বিতীয় টিউব বোরিংয়ের কাজ পুরোদমে চলছে।’

প্রকল্প পরিচালক আরও বলেন, কাজের গতি বাড়াতে জনবল ও যন্ত্রপাতি বাড়ানো হয়েছে। দ্রুতগতিতে চলছে কাজ। প্রকল্পের সার্বিক কাজের অগ্রগতি ৬৪ শতাংশ। আগামী বছরের শেষ দিকে যাতে টানেল দিয়ে গাড়ি চলাচল করে, সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি।

এদিকে বঙ্গবন্ধু টানেল প্রকল্পে দ্রুতগতিতে চলছে আনোয়ারা অংশের সংযোগ সড়কের কাজ। সড়ক ও টানেলকে ঘিরে নতুন করে স্বপ্ন দেখছে আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার মানুষ। কর্ণফুলীর শিকলবাহা ওয়াই জংশন (ক্রসিং) থেকে আনোয়ারা কালাবিবির দীঘি পর্যন্ত সড়কটি ৬ লাইনে প্রশস্ত হচ্ছে। বর্তমানে দুই লাইনের ১৮ ফুটের সড়কটি হবে ১৬০ ফুট। সাড়ে ১১ কিলোমিটার এই সড়ক নির্মাণে ব্যয় হবে ২৯৫ কোটি টাকা।

মূলত কর্ণফুলীর তলদেশে বাস্তবায়নাধীন টানেলের সংযোগ সড়ক হিসাবে ব্যবহার ও গাড়ির অতিরিক্ত চাপ সামলানোর জন্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে প্রশস্ত এই সড়ক। বাস্তবায়ন হলে পাল্টে যাবে আনোয়ারা-কর্ণফুলীর চিত্র।

আনোয়ারা উপজেলার বারশত ইউপি চেয়ারম্যান এম.এ কাইয়ূম শাহ্ বলেন, দেশের জন্য বঙ্গবন্ধু টালেন বড় প্রকল্প। এটির কাজ শেষ হলে আনোয়ারার মানুষ উপকৃত হবে। তেমনি উন্নয়নের ছোঁয়া লাগবে বারশত ইউনিয়নের মানুষদেরও।

তিনি বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের বড় পর্যটনকেন্দ্র পারকি সমুদ্র সৈকত। সৈকতের পর্যটকদের জন্য যদি টালেন সড়ক ব্যবহারের জন্য একটি সংযোগ সড়ক করে দেয়া যায়, তবে ঢাকাগামী পর্যটকদের সৈকতে আসা সহজ হবে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ পরিচালিত বঙ্গবন্ধু টানেলের চারলেইন ১০ কি.মি. সড়কের প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ শেষ পর্যায়ে। টানেলের টিউবসহ ৩০ মিটার প্রস্থ এ সড়কে কাফকো সেন্টার-কান্তিরহাট থেকে জেলেঘাটা পর্যন্ত ৭৫০ মিটার ফ্লাইওভার হবে। এ সড়কের দু’পাশে ড্রেন নির্মাণের পাশাপাশি সবুজায়নের ব্যবস্থাও রয়েছে।

৩০ মিটার প্রস্থ সড়কের মূল অংশ হবে ২৪ মিটার। এ সড়কের প্রথম অংশ হতে ৪ মিটার উচ্চতা হয়ে পরবর্তীতে ২ মিটার পর্যন্ত উচ্চতা থাকবে। সড়কটি তৈরিতে প্রথম লেয়ার বালি ফিলিং, পিভিডি ওয়াড, সেন্ট ফিলিং ও পাইলিং, এরপর ওপরের স্তরে জিও গ্রেড বেড বসানো হবে। এরপর একইভাবে ২য় স্তরের কাজও চলবে।

তথ্যমতে, কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে আনোয়ারায় গড়ে উঠেছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড)। এ টানেলের মধ্যদিয়ে দুই পাড়ের সেতুবন্ধন রচিত হবে। শিল্পায়নের ফলে এ অঞ্চলের লাখো মানুষের ভাগ্য বদলে যাবে। টানেলের সঙ্গে সংযুক্ত করতে টানেলের পূর্ব প্রান্তে প্রায় ৫ কিলোমিটার ও পশ্চিম প্রান্তের ৭২৭ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে আনোয়ারা উপজেলার যোগাযোগ রক্ষা পাবে।

চাতরী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইয়াছিন হিরু বলেন, আনোয়ারা উপজেলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাজার চাতরী চৌমুহনী। টালেন সংযোগ সড়ক ও ক্রসিং থেকে ‘সিক্সলাইন’ সড়কের কাজ শেষ হলে পাল্টে যাবে এলাকার মানুষের ভাগ্য।

প্রসঙ্গত, চীনের সাংহাই শহরের আদলে বন্দরনগর চট্টগ্রাম শহরকে ‘ওয়ান সিটি, টু টাউন’ মডেলে গড়ে তুলতে নগরের পতেঙ্গা ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর এই টানেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু টানেলের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন।

৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার টানেল নির্মাণ প্রকল্পটি ২০১৫ সালের নভেম্বরে অনুমোদন পায়। বাংলাদেশ সরকার ও চাইনিজ এক্সিম ব্যাংক যৌথভাবে অর্থায়ন করছে। চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কোম্পানি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি নির্মাণ করছে। ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা। ২০২২ সালের মধ্যে টানেলটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

দুই টিউবের এই টানেল নির্মাণকাজ শেষ হলে চারলেন দিয়ে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি চলাচল করতে পারবে। কর্ণফুলী নদীর পূর্ব প্রান্তের প্রস্তাবিত শিল্প এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত চট্টগ্রাম শহর, চট্টগ্রাম বন্দর ও বিমানবন্দরের সঙ্গে উন্নত ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হবে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে সিটি আউটার রিং রোড দিয়ে পতেঙ্গা প্রান্তে টানেলে প্রবেশ করে আনোয়ারা প্রান্তে পটিয়া-আনোয়ারা-বাঁশখালী সড়কের চাতুরী চৌমুহনী পয়েন্টে ওঠা যাবে। ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে এবং এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হবে।

এতে ভ্রমণ সময় ও খরচ কমবে। এছাড়া পূর্ব প্রান্তের শিল্পকারখানার কাঁচামাল, প্রস্তুতকৃত মালামাল চট্টগ্রাম বন্দর, বিমানবন্দর ও দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে পরিবহন প্রক্রিয়া সহজ হবে। কর্ণফুলী নদীর পূর্ব প্রান্তের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনের ফলে পূর্ব প্রান্তে পর্যটনশিল্প বিকশিত হবে।

visaUSA.jpg

খাশোগি ব্যান’ নামে একটি ভিসা নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় যেসব সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট তাদের লেখা ও কাজের জন্য দেশ ছাড়তে বাধ্য হবেন, কোনো দেশের সরকারের হয়ে তাদের নির্যাতন, ক্ষয়ক্ষতি বা হুমকি দিলে সেই সব ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকা বন্ধ হয়ে যাবে। খবর রয়টার্স ও সিএনএনের।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন শুক্রবার এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দিয়েছেন। দুই বছর আগে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি দূতাবাসে নির্বাসিত সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যায় সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের অনুমোদন ছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে হত্যাকাণ্ডের জন্য সৌদি যুবরাজের অনুমোদন দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হলেও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় তার নাম রাখা হয়নি। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সেই সব ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবে, যারা কোনো দেশের সরকারের পক্ষে সাংবাদিক, অ্যাক্টিভিস্টদের ওপর নির্যাতন ও হয়রানি করবেন।

ananta12.jpg

অনন্ত জলিলের নতুন সিনেমা ‘নেত্রী দ্য লিডার’ ছবির শিল্পীদের পরিচয় ও ‘দিন দ্যা ডে’ সিনেমার টিজার প্রকাশ অনুষ্ঠানে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে এ ঘটনা ঘটে।

এদিন সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন অনন্ত জলিল। ‘নেত্রী দ্য লিডার’ ছবিতে বাংলাদেশ, ভারত, ইরানসহ চার দেশের শিল্পীরা কাজ করছেন। সেই অনুষ্ঠানেই ঘটে আপত্তিকর ঘটনা। যার জেরে ক্ষমা চাইতে হয়েছে অনন্ত জলিলকে।

অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়- ছবি দুটি সম্পর্কে সাম্যক ধারণা ও অভিনয় শিল্পীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য। আমন্ত্রণপত্র না নিয়ে আসায় একজন গণমাধ্যমের সঙ্গে দায়িত্বরত এক কর্মী বাজে ব্যবহার করে ও ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেন। এতে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দেন। এরপর অনন্ত জলিল নিজেই ছুটে আসেন। ভুক্তভোগী গণমাধ্যমকর্মীদের ‘সরি’ বলেন।

অনন্ত জলিল দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, ‘আপনারা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট-এর লোকদের ওপর রাগ করে চলে যাবেন এটা হতে পারে না। ওরা ইভেন্টের দায়িত্বে ছিল, ওরা আমাদের পার্টনার নয়, ওরা ছবির মালিকও নয় প্রোডিউসারও নয়। আমি সবচেয়ে বেশি সাংবাদিকদের সম্মান করি। এটা সবাই জানে অনন্ত ভাই কত শ্রদ্ধা করে সাংবাদিকদের। আমি কোনো অনুষ্ঠানে গেলে কখনো আগে বসি না, আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করি। আমি এতোটাই শ্রদ্ধা করি সাংবাদিকদের। একটা ইভেন্ট কম্পানির জন্য তো আমি দায়ী হতে পারি না।’

drone-20191008141604.jpg

মশা মারতে এবার ড্রোন ব্যবহারের কথা ভাবছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। এরই মধ্যে চলছে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম। রাজধানীর যেসব জলাশয়ে সনাতন পদ্ধতিতে ওষুধ ছেটানো সম্ভব হচ্ছে না সেসব জয়গায় কীটনাশক দিতেই এই আয়োজন। দেশে তৈরি এই ড্রোনের সাহায্যে প্রতি দুই মিনিটে ১০ লিটার লার্ভিসাইড ছেটাতে সক্ষম।

প্রবাদে আছে মশা মারতে কামান। আর গত কয়েক সপ্তাহে নগরজুড়ে মশার যে উৎপাত তাতে মশাকে বশে আনতে এমন বড় আয়োজনের বিকল্প নেই। তাই হয়তো রাজধানীর বনানী লেকে চলছে মশক নিধনের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম। তবে কামান নয় উড়ানো হচ্ছে ড্রোন।

নগরজুড়ে যখন কিউলেক্সের রাজত্ব তখন এই মশার উৎপত্তিস্থল বিশেষ করে লেক কিংবা খাল। চাইলেই যেখানে সনাতনী পদ্ধতিতে ওষুধ ছেটানো যায় না সেসব জলাশয় অর্থাৎ খাল কিংবা লেকে লার্ভিসাইড ছেটাতেই এই উদ্যোগ ডিএসসিসির। দেশেই তৈরি ড্রোনের মাধ্যমে এই উদ্যোগ সফল হলে বাঁচবে শ্রম বাঁচবে সময়।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জোবায়েদুর রহমান বলেন, যে জায়গায় মানুষ পৌঁছাতে পারছে না সে ড্রোনের মাধ্যমে যাতে আমরা মশার ওষুধ স্প্রে করতে পারি। মোট কথা আমরা অল্প সময়ে যাতে অনেক জায়গা স্প্রে করতে পারি এটাই হলো আমাদের মূল উদ্দেশ্য।

একটি ব্যাটারিতে ২৫ মিনিট আর ডাবল ব্যাটারিতে ৫০ মিনিট উড়তে পারে এই ড্রোন। প্রতি মিনিটে ছেটাতে পারবে পাঁচ লিটার কীটনাশক। প্রাথমিকভাবে তৈরি এই ড্রোন ২০ লিটার পর্যন্ত বহন করতে সক্ষম।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফল হলে শিগগিরই রাজধানীর লেকে মশক নিধনের কাজ করবে এই যন্ত্র।

vua1.jpg

কখনো বিসিএস ক্যাডার, কখনো কাস্টমস কর্মকর্তা, কখনো বা সিভিল অ্যাভিয়েশনের বড় কর্মকর্তা। অথচ তিনি একজন বেকার। আর এসব পরিচয়ে বন্দর থেকে গাড়ি, বিমানবন্দর থেকে স্বর্ণের বার এবং ইলেকট্রনিকস ডিভাইস দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা।

দুটি গাড়ি এবং আটটি পাসপোর্টসহ জাবের হোসাইন নামে ওই যুবককে আটকের পর বেরিয়ে আসছে প্রতারণার নানা তথ্য। জাবেরকে আটকের পর রাত থেকেই হালিশহর থানায় ভিড় করে প্রতারণার শিকার অসংখ্য মানুষ।

হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, গাড়ি দেওয়ার নাম করে প্রতারণার মাধ্যমে সাত লাখ টাকা আদায়ের পর শনিবার রাতে আরও চার লাখ টাকা নিতে এলে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আটটি পাসপোর্ট। যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর নামে তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে বলেও জানান পুলিশের কর্মকর্তা।

ওসি আরও জানান, প্রতারণার মাধ্যমে দুটি বিয়ে করলেও নানা পরিচয়ে অসংখ্য নারীর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখত জাবের। এমনকি একজনের গাড়ি আরেকজনের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ধরনের দুটি গাড়িও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

জাবের হোসাইনের বিরুদ্ধে হালিশহর থানায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অবশ্য তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে ফেনী থানায় দায়েরকৃত একটি মামলা তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে।

বিশ্বের সেরা ধনী দেশ, না কি সেরা শক্তিশালী? আমেরিকার দাবি দু’টিই। আসলেই যে দেশটির ভেতরে এক ধরণের অস্থিরতা, তা দিনে দিনে ফুটে উঠছে। কংগ্রেসম্যান অ্যালেক্স মুনি সম্প্রতি এমন এক তথ্য তুলে ধরে বলেন, আমারা যাদের বন্ধু ভাবিনা, তারাই বেশি অর্থ পায় আমাদের কাছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসম্যান অ্যালেক্স মুনির বক্তব্য তুলে ধরে ‘আজকাল’ জানিয়েছে, দেশটির সব মিলিয়ে দেনার হিসাব ২.৯ লাখ কোটি ডলার। সামগ্রিক দেনার যা পরিমাণ তা দেশের মানুষের গড় দেনার চেয়েও অনেক বেশি। সবচেয়ে বেশি ঋণ রয়েছে চীন ও জাপানের কাছে।

মুনি বলছনে, আমরা চীনের সঙ্গে ব্যবসায়িক লড়াইতে আছে হরদম। ওদের কাছেই রয়েছে বিস্তর দেনা। চীন ও জাপান, দুই দেশের কাছেই ১০,০০০ হাজার কোটি ডলারের ওপর করে দেনা রয়েছে।’

জানুয়ারি মাসে কোভিড নিয়ন্ত্রণে ১.৯ ট্রিলিয়ন ডলার ত্রাণের ব্যবস্থা করেছিল বাইডেন প্রশাসন। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার সিনেটর মুনি ও আরো অনেকে এই বিপুল অর্থপ্রকল্পের বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি বলছেন, ‘এই টাকা আমাদের ফেরত দিতে হবে তাদের, যারা ঠিক মন থেকে আমাদের ভালোবাসে না। ব্রাজিল পায় ২৫৮ বিলিয়ন, ভারত পায় ২১৬ বিলিয়ন।

oic3.jpg

রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখতে ভাসানচর পরিদর্শনে যাচ্ছেন ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) একটি প্রতিনিধি দল। রোববার সকালে ওআইসির সহকারী মহাসচিব ইউসেফ আলডোবেয়া নেতৃত্বে ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলটির হেলিকপ্টার যোগে সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

ভাসানচর ছাড়াও প্রতিনিধি দলটি কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবে।

ওআইসি অফিস থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিনিধি দলটি ২৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে এসেছে। ২ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করবেন। সফরকালে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন তারা। একইসঙ্গে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তারা।

এদিকে ভাসানচরে বর্তমানে ৯ হাজার ৭০৭ জন রোহিঙ্গা বসতি শুরু করেছেন। এছাড়া এরও আগে অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়া যেতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসা ৩০৬ জন রোহিঙ্গাকে গত বছরের মে মাসে ভাসানচর নেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা ও নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন সাড়ে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। আগে আশ্রয় নেওয়াসহ বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে ঘিঞ্জি পরিবেশে বসবাস করছেন।