Sadi Mohammad, Author at Dhaka Today

dt008782.jpg

প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা আমজাদ হোসেন গেল রোববার নিজ বাসায় ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এরপর থেকেই ইমপালস হসপিটালে ভর্তি আছেন। কিন্তু তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন, এজন্য গতকাল গণমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সাহায্যর জন্য আবেদন জানান।
এরপর মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন আমজাদ হোসেনের বড় ছেলে সাজ্জাদ হোসেন দোদুল, ডিরেক্টরস গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক এস এ হক অলীকসহ আরো কয়েকজন। সেসময় প্রধানমন্ত্রী আমজাদ হোসেনের চিকিৎসার সব দায়িত্ব নেয়ার আশ্বাস দেন।

মঙ্গলবার দুপুরে গণমাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছেন আমজাদ হোসেনের ছেলে সোহেল আরমান।

তিনি বলেন, বাবার অসুস্থতার খবর পত্রিকায় পড়ে সকালবেলা প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরপর আমাদের পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বিস্তারিত জানিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের বলেছেন, আমজাদ হোসেনর চিকিৎসার খরচ রাষ্ট্র বহন করবে। দেশে হোক আর বিদেশে হোক, তার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সোহেল আরমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায় আমরা মুগ্ধ। তিনি নিজ থেকেই পত্রিকায় খবর পড়ে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমরা তার কাছে কৃতজ্ঞ।

প্রসঙ্গত, গোলাপী এখন ট্রেনে ও ভাত দে চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। শিল্পকলায় অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক (১৯৯৩) ও স্বাধীনতা পুরস্কারেও ভূষিত করে। এছাড়া সাহিত্য রচনার জন্য তিনি ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে দুইবার অগ্রণী শিশু সাহিত্য পুরস্কার ও ২০০৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

dt008781.jpg

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির নেতা মোস্তফা আল মাহমুদের মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তার স্ত্রী নুজহাতুন নেছা। মঙ্গলবার সকালে ক্রাইম রিপোর্টার্স বহুমূখী সমবায় সমিতি লিমিটেড কার্যালয়ে আযোজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।
নুজহাতুন নেছা বলেন, ১৯৯৯ সালের ৬ আগস্ট পরিবারিকভাবে মোস্তফার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পরই মা হয়ে যাওয়ায় মোস্তফার পরিবারের পক্ষ থেকে তার অন্য ভাই বোনদের দেখা শোনার দায়িত্ব পড়ে তার উপরই। প্রথম কন্যা সন্তানের পর ২০০৩ সালে ছেলে সন্তানের মা হন নুজহাত। এর ৬ মাসের মাথায় মোস্তফা হঠাৎ চায়না চলে যান। পরে শ্বশুর বাড়ির লোকেরা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। বাধ্য হয়ে টাঙ্গাইলে একটি কুড়ে ঘর তুলে সন্তানদের নিয়ে বসবাস শুরু করেন। সেখানে কৃষি কাজ করে চলে তার সংসার।

তিনি আরও বলেন, ২০০৪ সালে খবর পান তার স্বামী চায়নায় বিয়ে করতে যাচ্ছে। নিজের গয়না বিক্রি করে সন্তানদের নিয়ে চায়না গিয়ে স্বামীর সঙ্গে থাকা শুরু করেন। কিন্তু সেখানে স্বামীর সকল অপকর্মের প্রতিবাদ করে প্রায়ই মারধরের শিকার হন। মোস্তফা কোথাও স্থায়ীভাবে ব্যবসা করেনি। পরে সে বাংলাদেশে চলে আসে। আর তিনি সন্তানসহ ৮ বছর চায়না থেকে যান। সেখানেই চলে সন্তানদের পড়াশোনা। তার স্বামী মাঝেমধ্যে কিছু টাকা পয়সা দিলেও তাতে সংসার না চলায় সেখানকার কয়েকজন বাংলাদেশি তাদের আর্থিক সহায়তা করেন। এক পর্যায়ে তাকে সেকেন্ড হোমের কথা বলে মেস্তফা তাকে মালয়েশিয়া নেয় যায়। সেখানে বসবাসতো দুরের কথা তাকে শারীরিকবাবে নির্যাতনই ছিল প্রধান কাজ। চেয়ার ছুড়ে মেরে তার মাথা ফাটিয়ে দেন মোস্তফা। পরে পুলিশের সহায়তায় তিনি রক্ষা পান। দেশে ফিরে টাকা পাঠানো বন্ধ করে দেন মোস্তফা। পরে নুজহাত সন্তানদের নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। বর্তমানে উত্তরায় থাকছেন। তাদের কোন খোঁজ খবর নিচ্ছেননা মোস্তফা।
নুজহাত বলেন, তিনি জানতে পেরেছেন শাহিনা নামের এক মেয়ের মোস্তফার চাচাতো বোন) সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করবেন। যিনি নিজের স্ত্রী সন্তানদের খোঁজ রাখেননা। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে কিভাবে এলাকার মানুষের খোঁজ খবর রাখবেন। তিনি সরকারের কাছে নিজের সন্তানদের অধিকার আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও মোস্তফার মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানান।

dt008780.jpg

বিশ্বের উন্নত দেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও চলবে ইলেকট্রনিক ট্রেন। প্রতিদিন এ ট্রেনে গড়ে যাতায়াত করবে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার মানুষ।

মঙ্গলবার (২০ নভেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এতে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ প্রকল্প পিপিপি পদ্ধতিতে যৌথভাবে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুর সরকার বাস্তবায়ন করবে। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সরকার টু সরকার ভিত্তিতে পিপিপি পদ্ধতিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে লাইট র‌্যাপিড ট্রানজিট (এলআরটি) স্থাপনের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে প্রতিদিন গড়ে এক লাখ ২০ হাজার যাত্রী এ ট্রেনে যাতায়াত করতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে পাঠানো প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে-এ ট্রেন চলবে দুই রুটে। একটি নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জ থেকে চাষাড়া হয়ে সাইনবোর্ড পর্যন্ত। অন্যটি চট্টগ্রাম রোড থেকে পঞ্চবটি পর্যন্ত। তবে এ জন্য কত টাকা ব্যয় হবে তা তিনি জানাতে পারেননি।

তিনি বলেন, এটা সবে মাত্র নীতিগত অনুমোদন দেয়া হলো। বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুর সরকার যৌথভাবে ফিজিবিলিটি স্টাডি করার পর ব্যয়ের বিষয়টি ঠিক করবে।

dt008779.jpg

ভূমি থেকে ১৮ হাজার ফুট উঁচুতে ইসলাম গ্রহণ করেছেন এক পাইলট। সৌদি আরবের আকাশে প্লেনটি প্রবেশ করার পর ব্রাজিলিয়ান পাইলট অ্যামালো ইসলামধর্ম গ্রহণ করেন।

এসময় তার সহকারী পাইলট প্লেনটি নিয়ন্ত্রণ করেন এবং নওমুসলিম অ্যামালোকে স্বাগত জানান। ইসলাম গ্রহণকালে অ্যামালোর কালেমা শাহাদাত পাঠের ভিডিওটি বিশ্বব্যাপী অল্প সময়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশ আলোচনা ও খবরের জন্ম দেয়। সংবাদ রাশিয়া টুডের।

সৌদি আরবের আল-বালাদ নিউজ অনলাইন জানায়, একটি বিমান সংস্থার ব্রাজিলীয় পাইলট অ্যামালো কালেমা শাহাদাত পড়ে ইসলামধর্ম গ্রহণ করেন।

ভিডিও ক্লিপটিতে অ্যামালোর সহকর্মী ও মুসলিম পাইলটকে বলতে শোনা যায়, আমরা ইসলামের জন্য এক অপরের ভাই। তার মন্তব্যের প্রতি উত্তরে অ্যামালও বলেন, হ্যাঁ আমরা ইসলামে ভাই ভাই।

dt008778.jpg

বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মনোনয়ন বিতরণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদসহ সংশ্লিষ্টদের বিচার দাবি করেছে বিএনপি। নির্বাচন কমিশন থেকে আচরণবিধি পালন সংক্রান্ত চিঠির পরই এই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে দলটি।
শুধু সচিব নয়; ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, সংশ্লিষ্ট জোনের উপ-কমিশনার আরও সচিবালয়ের যুগ্ম সচিবেরও শাস্তি চাওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে এ-সংক্রান্ত চিঠি দেয়।
বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে এই বিচার চাওয়া হয়। চিঠিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা ছাড়াও নির্বাচন কমিশন সচিবের কাছে দেয় প্রতিনিধি দল।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন তড়িঘড়ি করে ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পর পরেরদিন থেকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ রাস্তা বন্ধ করে যানজট সৃষ্টি করে মনোনয়নপত্র বিতরণ করে । মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ঢাক- ঢোল পিটিয়ে মোটরসাইকেল, গাড়ি, পিকআপে করে বিভিন্ন স্থান থেকে ধানমন্ডি যায় এবং রাস্তাঘাট বন্ধ করে মনোনয়ন সংগ্রহ করে। এ ছাড়া নিজেদের প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের জের ধরে দুইজন নিহত হয়। এ সময় পুলিশি তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি। অথচ বিএনপির মনোনয়নপত্র বিতরণের সময় বিএনপির কার্যালয়ের সামনে স্বতস্ফূর্ত জনগণের ঢল দেখে নির্বাচন কমিশন সচিব ও ডিএমপি কমিশনারের গায়ে জ্বালা ধরে। কমিশন নড়েচড়ে বসে। ‘কথিত আচরণবিধি’-এর নামে খড়গ নেমে আসে বিএনপির ওপর। ইসি সচিব গণমাধ্যমে আচরণবিধি পালনের কঠোর হুমকি নিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন বলে চিহ্নিত করে। এটি একটি পক্ষপাতমূলক আচরণ।
১৩ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি প্রতিপালনের নির্দেশনা নেতাকর্মী, সমর্থকসহ জনগণের অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্থ করেছে। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের দেয়া বক্তব্য বিভ্রান্তিমূলক এবং ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামানের বক্তব্যে ঘটনা সংগঠনের স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায় বলেও মন্তব্য করা হয়েছে চিঠিতে।
চিঠিতে প্রশ্ন রাখা হয়- আওয়ামী লীগের জনসমাগমে এই ঘটেনি কিন্তু বিএনপির সময় ১৪ নভেম্বর এ ঘটনা কীভাবে ঘটল?
চিঠিতে দাবি করা হয়, এই ‘সন্ত্রাসী’ হামলায় বিএনপির অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছে ও তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলায় ৪৭২ জন নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করেছে। ৭০ জনকে গ্রেফতার করেছে এবং ৩৮ জন নেতাকর্মীকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।
এমতাবস্থায় ‘নির্বাচন কমিশনের সচিব, ঢাকা মেট্রাপলিটন পুলিশের কমিশনার, সংশ্লিষ্ট জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার এবং জারিকৃত পত্রের স্বাক্ষরকারী নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২) এর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে চিঠিতে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে আইনের আশ্রয় নেয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, পুনর্নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৮ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন ২ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বর এবং ভোটের দিন ৩০ ডিসেম্বর।

dt008777.jpg

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তলব করে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বৈঠক করতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে একটি চিঠিও দিয়েছে দলটি।

আজ মঙ্গলবার দুপুর বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগের চিঠি দেন। চিঠিটি গ্রহণ করেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৮ নভেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন থেকে সকল রিটার্নিং অফিসারকে ঢাকায় ডেকে পাঠানো হয়। পরে ১৩ নভেম্বর কমিশনে তাদের নির্বাচন বিষয়ে ব্রিফ করা হয়। ইসি থেকে যখন রিটার্নিং কর্মকর্তারা স্ব স্ব জায়গায় ফেরত যাচ্ছিলেন, তখন জরুরি ভিত্তিতে তাদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তলব করা হয়। তখন তারা সেখানে গিয়ে বৈঠক করেন।

ইসির উদ্দেশে চিঠিতে বলা হয়, ‘আমরা বিশ্বস্ত সূত্রে জানাতে পেরেছি সেখানে আসন্ন নির্বাচনে সরকারি দলের পক্ষে ভূমিকা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাদের ব্রিফ করা হয়।’

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, তফসিল ঘোষণার পর রিটার্নিং অফিসাররা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণাধীন থাকার পরও কিভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তাদের ডেকে পাঠানো হয়। এ ধরনের আচরণ একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিরাট অন্তরায়। এটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের জন্য অশনিসংকেত।’

চিঠিতে আরও বলা হয়, ইসির অনুমতি ছাড়া টেলিফোনে রিটার্নিং অফিসারদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে সভা করা ‘আরপিও অধ্যায়-৬ এর আটিকেল ৭৩/২বি’ এর বিধানমতে ‘করাপ্ট প্যাকটিস’, যা শাস্তিযোগ্যে অপরাধ। এমন অবস্থায় বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট রিটানিং কর্মকর্তাদের বিচার করা দাবি জানানো হয় বিএনপির পক্ষ থেকে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, রিটার্নিং অফিসারদের ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের টেলিফোন কললিস্ট যাচাই করে, এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওইদিনের সিটিটিভি ফুটেজ যাচাই করলেই বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করা যাবে।

dt008775.jpg

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সঙ্গে ড. কামাল হোসেন ও মাহমুদুর রহমান মান্না হাত মিলিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন ১৪ দলের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে ১৪ দলের মতবিনিময় শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. কামাল-মান্নারা স্বাধীনতার পক্ষ শক্তি, কিন্তু আপনারা বলছেন বিপক্ষের শক্তি; এটি কি আওয়ামী লীগের জন্য দুর্ভাগ্যের নয়-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে নাসিম বলেন, ড. কামাল হোসেনরা একসময় আওয়ামী লীগে ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য পেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু মন্ত্রীও করেছিলেন। সেই কামাল হোসেন এখন স্বাধীনতাবিরোধীদের জোটসঙ্গীদের সঙ্গে ঐক্য করেছেন। এটি আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যের নয়, জাতির জন্য দুর্ভাগ্যের।
তিনি বলেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ এসব বর্ণচোরা ভণ্ডদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে ব্যালটের মাধ্যমে।
নির্বাচন সামনে রেখে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানান ১৪ দলের এ মুখপাত্র।
নাসিম জানান, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, ডিসেম্বরে বিজয়ের মাসে প্রতিটি জেলা-উপজেলায় বিজয় মঞ্চ করা হবে।
এ সময় ১৪ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

dtEC-6.jpg

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে একই দিনে দুই জোটের শীর্ষনেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করলেন ঢাকায় নিযুক্ত দুই হাইকমিশনার। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেনের বাসায় যান ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেইক। একই দিন দুপুরে যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বাসায় বৈঠক করেন ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। আজ মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন ভারতীয় হাইকমিশনার।

এর আগে গত রবিবার দায়িত্বভার গ্রহণ করতে ঢাকায় এসেই নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার জানান, তিনি পূর্বসূরিদের দেখানো পথেই হাঁটতে চান। মিলারের পূর্বসূরি মার্সিয়া স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাট বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিষয়ে সরব ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন এ নীতিতে নতুন রাষ্ট্রদূত কোনো পরিবর্তন আনবেন না।

গতকাল দুপুরে বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে তার বারিধারার বাসায় বৈঠক করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। তার সঙ্গে ছিলেন দূতাবাসের শীর্ষ কর্মকর্তা রাজেশ উইকি। বৈঠকে বি. চৌধুরী ছাড়াও বিকল্পধারার মহাসচিব আবদুল মান্নান, প্রেসিডিয়াম সদস্য শমসের মবিন চৌধুরী, যুক্তফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিকল্পধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহী বি. চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে শ্রিংলা সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এটি বাংলাদেশের জনগণ এবং রাজনৈতিক দলের বিষয়। তবে নির্বাচনের আগে তাদের (বিকল্পধারা) আদর্শ ও চিন্তা কেমন, তা জানতে চেয়েছি।

পরে বিকল্পধারার মহাসচিব আবদুল মান্নান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। হাইকমিশনারের সঙ্গে আমরা অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা করেছি। নির্বাচনের বিষয়ে তারা বলেছেন, এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

তবে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেইক গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি। সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় যান অ্যালিসন ব্লেইক। ৬টা ২৩ মিনিটে তিনি বেরিয়ে যান।

পরে আলোচনার বিষয়ে ড. কামাল গণমাধ্যমকে বলেন, তারা মাঝেমধ্যে দেখা করতে আসেন। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিষয়ে তারা জানতে চেয়েছেন। বিশেষ করে আগামী নির্বাচন আমরা কীভাবে দেখছি এবং কী ধরনের নির্বাচন হতে যাচ্ছে, হাইকমিশনার তা জানতে চেয়েছেন। আমরা বলেছি, আমরা অবাধ ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই। এখনো আমরা একই দাবি জানাচ্ছি। সেই লক্ষ্যে সাত দফাও দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, আগে আমাদের নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ছিল। তার পর একটি জাজমেন্ট দিয়ে তা সরিয়ে দেওয়া হয়। এর পর থেকেই সমস্যা হচ্ছে।

হাইকমিশনারের কাছে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ১৫৪ জন বিনা ভোটে নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে জানিয়ে ড. কামাল বলেন, ৫ জানুয়ারির পর নির্বাচিত সরকার না থাকার কারণে দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে। তারাই (বর্তমান সরকার) বলেছিল, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি নির্বাচন দেওয়া হবে। সেই দ্রুততম সময় পাঁচ বছরে শেষ হয়েছে।

কামাল হোসেন আরও বলেন, নিরপেক্ষ সরকার মানেই হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী কোনো ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন না। প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী যদি রেফারির ভূমিকা পালন করেন, পুলিশ প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ না থাকে, তা হলে ফেয়ার ইলেকশন হয় না।

dt008774.jpg

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় তৃতীয় দিনের মতো বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা। গত দুদিন স্কাইপে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাক্ষাৎকারে যোগ দিয়েছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে গতকাল সোমবার বিকেল থেকে স্কাইপ বন্ধ থাকায় আজ অন্য অ্যাপের ভিডিও কলের মাধ্যমে যোগ দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার সাক্ষাৎকার দিয়ে আসা মনোনয়নপ্রত্যাশীরা এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে সকাল ৯টার কিছু সময় পর থেকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের ফেনী জেলার মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরু হয়। বেলা আড়াইটার পর কুমিল্লা ও সিলেট বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার হবে।
সকালে সাক্ষাৎকার শুরুর আগে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘স্কাইপ বন্ধ, তবে অন্য অ্যাপের মাধ্যমে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এই সাক্ষাৎকার থাকার চেষ্টা করবেন।’
পরে সাক্ষাৎকার দিয়ে বেরিয়ে এসে ফেনী-৩ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী আবদুল লতিফ জনি বলেন, তারেক রহমান অন্য অ্যাপের ভিডিও কলের মাধ্যমে মনোনয়নপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘পৃথিবীতে অনেক মাধ্যম আছে। পানির স্রোত যেভাবে আটকে রাখা যায় না, আমাদের এই আবেগ আটকে রাখবেন কীভাবে?’
বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগের আট জেলার ৩৬টি সংসদীয় আসন, কুমিল্লা বিভাগে তিন জেলার ২২টি আসন এবং সিলেট বিভাগে চার জেলার ১৯টি আসনের জন্য প্রায় ছয় শতাধিক প্রার্থীর এই সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
মনোনয়ন বোর্ডে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও রয়েছেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মাহবুবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ছাড়াও দলের সংশ্লিষ্ট জেলা ও মহানগর কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং বিভাগীয় সাংগঠনিক ও সহ সাংগঠনিক সম্পাদকরা উপস্থিত রয়েছেন সাক্ষাৎকারে।
রোববার সাক্ষাৎকারের প্রথম দিন রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং সোমবার বরিশাল ও খুলনা বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি পার্লামেন্টারি বোর্ডের সদস্যরা।
প্রথম দুদিন স্কাইপে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়ায় যোগ দিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দেন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, যিনি দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছর এবং ২১ অগাস্ট গ্রেনেড মামলায় যাবজ্জীবন সাজার রায় মাথায় নিয়ে লন্ডনে বসবাস করছেন।
দণ্ডিত তারেক রহমান লন্ডন থেকে স্কাইপে এই সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়ায় যোগ দেওয়ায় নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নালিশ করেছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কিছু করতে অপারগতা প্রকাশ করলে সোমবার রাতে বাংলাদেশে স্কাইপ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

dt008773.jpg

তুরস্কের সৌদি কনসুলেটের ভেতর সাংবাদিক জামাল খাশুগজিকে খুনের ঘটনায় পশ্চিমা দেশগুলোর চাপ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি সৌদি রাজপরিবারের কিছু সদস্যও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরোধিতায় সরব হচ্ছেন।

আল-সৌদ পরিবারের ওই সদস্যরা ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদের বাদশা হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার প্রস্তৃতি নিচ্ছেন বলে রাজপ্রাসাদ সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

রাজপরিবারের বিভিন্ন শাখার প্রিন্স ও মোহাম্মদের জ্ঞাতি ভাইদের অনেকেই সিংহাসনের উত্তরাধিকার প্রশ্নে পরিবর্তন দেখতে চান। তবে ৮২ বছর বয়সী বাদশা সালমান বেঁচে থাকা অবস্থায় এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ তারা নেবেন না বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।

পশ্চিমা বিশ্বে এমবিএস (মোহাম্মদ বিন সালমান) নামে পরিচিত ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ এখনো বাদশার প্রিয়পুত্র হওয়ায় তাকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি উঠলেও সালমান তাতে কান দেবেন না বলেই অনুমান করা হচ্ছে।

রাজপরিবারের সদস্যরা এখন বাদশার মৃত্যুর পর তার ছোট ভাই ৭৬ বছর বয়সী প্রিন্স আহমেদ বিন আবদুলআজিজকে সিংহাসনে বসাতে আগ্রহী। বাদশা হলে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদের এ চাচা পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থা এবং কিছু পশ্চিমা দেশেরও সমর্থন পাবেন বলে সৌদি একটি সূত্র জানিয়েছে।

আড়াই মাস বিদেশে কাটিয়ে প্রিন্স আহমেদ গত মাসে রিয়াদে ফিরেছেন। বিদেশে থাকাকালে লন্ডনে তার বাসভবনের সামনে সৌদ সাম্রাজ্যের পতন চেয়ে বিক্ষোভকারীদের স্লোগানের প্রতিক্রিয়ায় সৌদি আরবের বর্তমান নেতৃত্বের সমালোচনাও করেছিলেন বাদশা সালমানের এ ছোটভাই।

২০১৭ সালে উত্তরাধিকার নির্ধারণ কমিটির যে তিন জ্যেষ্ঠ সদস্য এমবিএসকে ক্রাউন প্রিন্স বানানোর বিরোধিতা করেছিলেন, আহমেদ তাদের একজন ছিলেন বলেও দুটি সূত্র সেসময় নিশ্চিত করেছিল।

এ বিষয়ে প্রিন্স আহমেদ কিংবা তার প্রতিনিধিদের কারও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রিয়াদের কোনো কর্মকর্তাও উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে রয়টার্সের যোগাযোগে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি।

গ্রাফিক চিত্রে সৌদি রাজপরিবার। ছবি: রয়টার্স গ্রাফিক চিত্রে সৌদি রাজপরিবার। ছবি: রয়টার্স সৌদি বংশে কয়েকশ প্রিন্স আছে। ইউরোপীয় রাজপরিবারের মতো এখানে রাজার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার জ্যেষ্ঠ পুত্র সিংহাসনের উত্তরাধিকার হতে পারেন না। সৌদি রাজপরিবারের ঐতিহ্য অনুযায়ী, বাদশা এবং পরিবারের বিভিন্ন শাখার জ্যেষ্ঠ সদস্যরা মিলে তাদের দৃষ্টিতে সিংহাসনের জন্য সবচেয়ে বেশি যোগ্য ব্যক্তিকেই উত্তরাধিকার হিসেবে মনোনীত করেন।
তবে ওই মনোনয়নই শেষ কথা নয়। বাদশার মৃত্যু কিংবা তিনি রাজকাজ পরিচালনায় অক্ষম হলে ৩৪ সদস্যের কাউন্সিলই নতুন বাদশা ঠিক করবেন। আগে থেকে ঠিক করে রাখা উত্তরাধিকারের বাদশা হতে হলেও কাউন্সিলের সম্মতি লাগবে। এমবিএসের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়া প্রভাবশালীরা এখন সেই ক্ষণেরই অপেক্ষা করছেন।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সৌদি রাজপরিবারের উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রিন্স আহমেদকে পরবর্তী বাদশা বানালে সমর্থন দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক আছে এমন বেশ কয়েকটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে।

প্রায় চার দশক সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা আহমেদ দায়িত্ব পেলে এমবিএসের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারে কোনো রকম বদল আনবেন না বলেও আস্থাশীল সূত্রগুলো। সালমানের এ ভাই পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে রিয়াদের সামরিক চুক্তিগুলো বহাল রাখার পাশাপাশি রাজপরিবারের মধ্যে একতাও ফিরিয়ে আনবেন বলে মত তাদের।

যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, খাশুগজি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতাদের চাপ ও সিআইএর মূল্যায়নের পরও হোয়াইট হাউস এখনই এমবিএসের সঙ্গে দূরত্ব তৈরিতে আগ্রহী নয়।

তবে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ অবস্থান বদলেও যেতে পারে।

সোমবার রিয়াদে বাদশা সালমান তার ছেলের সমর্থনে যে ভাষণ দিয়েছেন হোয়াইট হাউস সেটিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে বলেও মত ওই মার্কিন কর্মকর্তার। সোমবারের ভাষণে সৌদি সরকারি কৌঁসুলির প্রশংসা ছাড়া খাশুগজি হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরাসরি কিছু বলেননি সালমান।

খাশুগজি হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদের কাছ থেকেই এসেছিল বলে সিআইএর মূল্যায়নকে শনিবার ‘অসম্পূর্ণ, তবে হতে পারে’ বলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মঙ্গলবার এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়া যাবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে ‘নতুন কিছু যোগ করার নেই’ বলে সোমবার হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

কেবল খাশুগজি হত্যাকাণ্ডের জড়িত সন্দেহভাজন হওয়ার কারণেই নয়, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স রাশিয়ার কাছ থেকে অস্ত্র কেনায় আগ্রহ দেখানোতেও ওয়াশিংটন তার ওপর ক্ষেপেছে বলে ধারণা সৌদি সূত্রগুলোর।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে চলতি বছরের ১৫ মে লেখা মোহাম্মদের এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেখার কথাও জানিয়েছে রয়টার্স। চিঠিতে ক্রাউন প্রিন্স রাশিয়ার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাপনাসহ অত্যাধুনিক অস্ত্র ও যুদ্ধে ব্যবহৃত সরঞ্জাম কেনার ওপর জোর দিতে বলেছিলেন।

এ প্রসঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা রিয়াদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।


About us

DHAKA TODAY is an Online News Portal. It brings you the latest news around the world 24 hours a day and 7 days in week. It focuses most on Dhaka (the capital of Bangladesh) but it reflects the views of the people of Bangladesh. DHAKA TODAY is committed to the people of Bangladesh; it also serves for millions of people around the world and meets their news thirst. DHAKA TODAY put its special focus to Bangladeshi Diaspora around the Globe.


CONTACT US

CALL US ANYTIME


Newsletter